শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনির জেলেপাড়ায় হাহাকার: সাগরে মানা, ঘরে অভাবের ৫৮ দিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির জেলেপাড়ায় হাহাকার: সাগরে মানা, ঘরে অভাবের ৫৮ দিন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: ঘাটে বাঁধা নৌকাগুলো জোয়ারের জলে দুলছে। সাগরে যাওয়ার জন্য নৌকাগুলোর এই ছটফটানি থাকলেও পাড়ে বসে থাকা মানুষগুলোর চোখেমুখে পাথরের মতো নিস্তব্ধতা। সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার উপকূলীয় জেলেপাড়াগুলোতে এখন এমনই গুমোট আবহাওয়া। সাগরে মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হতেই থমকে গেছে হাজারো জেলের জীবন ও জীবিকার চাকা। নেই জাল বোনার ব্যস্ততা, নেই রুপালি ইলিশের ঝিলিক; আছে শুধু অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দীর্ঘশ্বাস।
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সব ধরনের মাছ আহরণ ও বিপণন নিষিদ্ধ করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি ইতিবাচক হলেও তাৎক্ষণিকভাবে উপকূলের এই জনপদে নেমে এসেছে চরম হাহাকার। অনেক ঘরে এখন দুবেলা উনুন জ্বলা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
উপকূলের এক প্রবীণ জেলে বলেন, “সাগর আমাগো মা। মা তো অনেক দেয়, কিন্তু এই দুই মাস আমাগো ঘরে বসে থাকতে হয়। সাগরে যাওয়ার অনুমতি নেই, আবার হাত পাতারও জায়গা নেই। সরকার চাল দেবে বলছে, কিন্তু সেই চাল ঘরে আসতে আসতে ঋণের বোঝা পাহাড় হয়ে যাবে।”
নিষেধাজ্ঞার এই কঠিন সময়ে জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও শ্যামানন্দ কু-ুর সভাপতিত্বে ওই সভায় উপজেলার ৪ হাজার ৫৫৫ জন নিবন্ধিত জেলের প্রত্যেককে ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শফিকুল ইসলাম জানান, দ্রুততম সময়ে প্রকৃত জেলেদের হাতে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ইউএনও শ্যামানন্দ কু-ু বলেন, “আমরা কঠোর নজরদারি রাখছি যেন প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত না হন।”
তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বেশ রূঢ়। অনেক জেলের অভিযোগ, নিবন্ধনের জটিলতায় প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অনেকেই তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। আবার যারা তালিকায় আছেন, তাঁদের আশঙ্কাÑবরাদ্দ পৌঁছাতে দেরি হলে দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণের জালে আটকে পড়তে হবে তাঁদের। নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামের এই বাজারে শুধু চাল দিয়ে পরিবারের চিকিৎসা বা অন্যান্য খরচ মেটানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই নিষেধাজ্ঞা জরুরি হলেও বিকল্প কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে প্রান্তিক এই মানুষগুলোর টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
আশাশুনির জেলেপাড়ায় এখন এক অদ্ভুত স্তব্ধতা। নৌকা আছে, জাল আছে, সামনে অবারিত জলরাশিও আছে; নেই শুধু সেখানে যাওয়ার অনুমতি। প্রতিদিন বিকেলে নদীর তীরে অপলক চেয়ে থাকেন জেলেরা। তাঁদের এই দৃষ্টি যেন এক নীরব আর্তিÑকবে শেষ হবে এই প্রতীক্ষা? কবে আবার ঢেউয়ের মিতালি করে ফিরবেন রুপালি ফসলের পসরা নিয়ে?

 

Ads small one

সুন্দরবনে দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ; হতাহত-৩, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধ; হতাহত-৩, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: সুন্দরবনের ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের বন্দুকযুদ্ধে বাহিনী প্রধানসহ হ জনকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ জন। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র-গোলাবারুদ।
শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং বনজীবী, জেলে ও উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত দুলাভাই বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আটক করা হয়।

তিনি জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যরা খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে অবস্থান করছে। এ প্রেক্ষিতে গত ২৫ জুন ২০২৬ বিকাল ৫টা হতে টানা দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা, স্টেশন কয়রা এবং স্টেশন নলিয়ান কর্তৃক উক্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান চলাকালীন দস্যুদের বহনকারী দুটি বোট শনাক্ত করে কোস্ট গার্ড সদস্যরা থামার সংকেত প্রদান করে। সংকেত অমান্য করে বোটে অবস্থানরত ডাকাতদল কোস্ট গার্ড সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে ডাকাতদের একটি বোটে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে এবং অপর একটি বোট ডুবে যায়।

বন্দুকযুদ্ধ শেষে ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র প্রধান রবিউল ইসলাম এবং ডাকাত শওকত সরদারকে আটক করা হয়। তাদের দ্রুত কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শওকত সরদারকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

এদিকে, অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ডাকাতদের ধরতে কোস্ট গার্ড ও বাংলাদেশ পুলিশের সমন্বয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এরই অংশ হিসেবে মঠবাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনের এলাকায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পরিচালিত যৌথ অভিযানে ডাকাত ইসরাফিল হাওলাদারকে হাতের আঙুলে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এছাড়াও আরশিবসা নদীর বেসুখাল এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৬ টি একনলা বন্দুক, ৬৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ ১ টি দেশীয় অস্ত্র, ১টি মোবাইল ও ১ টি হাতঘড়ি উদ্ধার করা হয়।

আটককৃত রবিউল ইসলাম (৫০) ও নিহত ডাকাত শওকত সরদার (৫৫) খুলনা জেলার কয়রা থানার এবং ইসরাফিল হাওলাদার (২৬) সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি থানার বাসিন্দা।

আটককৃত ডাকাত ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিহত ডাকাতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কয়রা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করতে ডাকাত ও তাদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। দেশের স্বার্থে ও সুন্দরবনের নিরাপত্তায় স্থানীয় জনগণকে দস্যুদের বিষয়ে কোস্ট গার্ডের নিকট যেকোনো তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করা হলো। তথ্য প্রদানকারীর বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।

 

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের যুববিভাগের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‌্যালি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের যুববিভাগের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‌্যালি

সংবাদদাতা: আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের যুববিভাগের উদ্যোগে এ র‌্যালির আয়োজন করা হয়।

র‌্যালিটি শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক থেকে শুরু হয়ে পাকাপুল মোড়, নিউমার্কেট মোড় ও তুফান মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এসে শেষ হয়।

র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের যুববিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পৌর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম, সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবু তালেব, সদর যুববিভাগের সভাপতি আনিছুর রহমানসহ জেলা ও পৌর পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান দেন। বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে তরুণদের সচেতন করার পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে এ সচেতনতামূলক র‌্যালির আয়োজন করা হয়েছে।

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ছয় লক্ষ টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ছয় লক্ষ টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা ও হিজলদী বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার ভাদিয়ালী হতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

এছাড়াও, হিজলদী বিওপির আভিযানে বড়ালী হতে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।
আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।