আষাঢ়ের সজল আবহে সাতক্ষীরায় রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ
পত্রদূত ডেস্ক: আষাঢ়ের সজল বিকেল। প্রকৃতির ক্যানভাসে তখন মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি। এমন এক বর্ষণমুখর মায়াবী আবহে বাংলা সাহিত্যের দুই ধ্রুবতারাÑরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সুর আর বাণীতে মুখরিত হয়ে উঠেছিল সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তন।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত অগ্নিবীণা সাতক্ষীরা জেলা সংসদের আয়োজনে উদ্যাপিত হয় এই রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী। সাহিত্য আলোচনা, কবিতা আবৃত্তি আর বর্ষার সজল হাওয়ার সঙ্গে বরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্র ও নজরুলসংগীতের মূর্ছনায় মেতে ওঠেন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে অনুষ্ঠানে ‘ধূমকেতু’ প্রকাশনার রবীন্দ্র-নজরুল জন্মজয়ন্তী বিশেষ সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুল শুধু বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের নয়, তাঁরা বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। নিজেদের অসামান্য মেধা ও সৃষ্টিকে তাঁরা অকাতরে বিলিয়ে গেছেন মানুষের কল্যাণে। অথচ বর্তমান সময়ে অনেক বুদ্ধিজীবীকে এই দুই মহান স্রষ্টাকে সাম্প্রদায়িকতার সংকীর্ণ গ-িতে আটকে রাখার অপচেষ্টা করতে দেখা যায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিল্পের কোনো বিভেদ নেই, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবতার মুক্তিতে এই দুই কবির সৃষ্টিই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
কবি সৌহার্দ্য সিরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. শাহেদ মন্তাজ। অগ্নিবীণা সাতক্ষীরা জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব সবুজের সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে নজরুলের জীবন ও কর্মের ওপর মুখ্য আলোচকের বক্তব্য দেন কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. জাকির হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা করেন সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাসুদেব বসু, অধ্যাপক আব্দুল হামিদ, জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষা, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম এবং অগ্নিবীণা জেলা সংসদের সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ সরকার। অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে সারগর্ভ আলোচনা করেন কবি ও প্রাবন্ধিক শুভ্র আহমেদ।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কিশোরী মোহন সরকার, কবি শহীদুর রহমান এবং দেবহাটার ফেয়ার মিশনের পরিচালক আব্দুল কাদের মহিউদ্দিন।
মননশীল আলোচনা পর্বের পর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। আষাঢ়ের মেঘমন্দ্রিত সন্ধ্যায় গুণী কণ্ঠশিল্পীদের পরিবেশনায় রবীন্দ্র ও নজরুলসংগীতের সুধায় সিক্ত হন উপস্থিত সাহিত্য ও সংগীতপ্রেমীরা। রাত দশটা পর্যন্ত চলা এই আয়োজন যেন বর্ষার স্নিগ্ধ প্রকৃতি আর সাহিত্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধন তৈরি করেছিল।








