মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইবতেদায়ি শিক্ষক যাচাই, বেতন স্থগিত ৩২১ মাদ্রাসার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
ইবতেদায়ি শিক্ষক যাচাই, বেতন স্থগিত ৩২১ মাদ্রাসার

অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের তথ্য যাচাই-বাছাই করছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষকের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই ও শুনানি এখনও শেষ হয়নি। এ কারণে তালিকাটি চূড়ান্ত নয়; যাচাই শেষে এ সংখ্যা কমবেশি হতে পারে।

যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হওয়া ৩১০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের বেতন স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি জনবল কাঠামোর বাইরে থাকা অতিরিক্ত শিক্ষককে অনুদান দেওয়ার ঘটনা ধরা পড়ায় আরও ১১টি প্রতিষ্ঠানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। মোট ৩২১টি মাদ্রাসার বেতন স্থগিত রয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠানের বেতন স্থগিত থাকবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

৪ হাজার ৩৪০ শিক্ষকের খসড়া তালিকা

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে ৪ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষকের একটি খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তালিকাটি প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের আপত্তি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

তবে এই ৪ হাজার ৩৪০ জনের তালিকাকে চূড়ান্ত তালিকা হিসেবে দেখছে না অধিদফতর। যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষ হওয়ার পর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে। যাচাইয়ের সময় কোনও শিক্ষক বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন কি না, প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর আছে কি না এবং শিক্ষকের নাম ও অন্যান্য তথ্য সঠিক কি না; এসব বিষয় দেখা হচ্ছে।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, ‘৪ হাজার ৩৪০ জনের তালিকাটি খসড়া। যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে। যাচাইয়ের একটি উদ্দেশ্য হলো, যেসব শিক্ষক মারা গেছেন, চাকরি ছেড়েছেন, অন্য কোথাও চাকরি নিয়েছেন বা অবসরে গেছেন, তাদের নামে এখনও বিল দেওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখা। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে চালু আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। অধিদফতরের এই উদ্যোগটি যথাযথ।’

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাচাইয়ের সময়সীমা ছিল। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর তারা মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেন। তখন পরীক্ষা নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজ চলমান থাকায় শিক্ষকদের জন্য আরও সময় চাওয়া হয়েছে। পরে যারা উপস্থিত হয়ে তথ্য দিতে পারবেন, তাদের শুনানি নেওয়া হবে এবং অনুপস্থিতদের পরবর্তী সময়ে বিবেচনা করার কথা জানানো হয়।

৩১০ মাদ্রাসার বেতন কেন স্থগিত

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার মধ্যে ৩১০টি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেতন যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। অর্থাৎ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা হিসেবে অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে। কোনও প্রতিষ্ঠান দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়ে থাকলে সেটি এখনও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা হিসেবে অনুদান পাওয়ার উপযুক্ত কি না, যাচাইয়ের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে।

চারজনের কাঠামোয় ৫ শিক্ষক

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যানুযায়ী, দেশের ১১টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় জনবল কাঠামোর বাইরে থাকা শিক্ষককে অনুদান দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর বেশিও থাকতে পারে। জনবল কাঠামো অনুযায়ী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় চারজন শিক্ষক অনুদান পাওয়ার কথা। কিন্তু ১১টি প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিক্ষককে অনুদান দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ অতিরিক্ত একজন শিক্ষক জনবল কাঠামোর বাইরে ছিলেন।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর ওই ১১টি প্রতিষ্ঠানের বেতন স্থগিত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের সময় এ ধরনের আরও কোনও অসংগতি পাওয়া যায় কি না, সেটিও দেখা হচ্ছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি তাজুল ইসলাম ফারাজী।

১৫১৯ প্রতিষ্ঠানের তালিকা, মাঠপর্যায়ে ১২৫৮

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার প্রকৃত সংখ্যার বিষয়টিও যাচাইয়ের আওতায় এসেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দীর্ঘদিন ধরে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার সংখ্যা ১ হাজার ৫১৯টি দেখানো হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক মাঠপর্যায়ের যাচাইয়ের তথ্যে ১ হাজার ২৫৮টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। দুই হিসাবের মধ্যে ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের পার্থক্য রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান পরবর্তী সময়ে দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হয়েছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালু না রাখায় তালিকায় থাকলেও বাস্তবে সক্রিয় নেই। ফলে অনুদান পাওয়া প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা এবং শিক্ষকসংখ্যা যাচাই করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

শিক্ষকদের খসড়া তালিকা তৈরির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থাও যাচাই করা হচ্ছে। এতে কোন প্রতিষ্ঠানে কতজন শিক্ষক কর্মরত, কারা অনুদান পাওয়ার যোগ্য এবং কোন প্রতিষ্ঠানের নামে এখনও অনুদান বা বেতনের বিল দেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয় স্পষ্ট হবে।

তাজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে যেসব শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান অনুদান পাওয়ার শর্ত পূরণ করছে না, তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যারা যোগ্য, তাদের তথ্য চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতর বলছে, যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষ হওয়ার পর শিক্ষকদের চূড়ান্ত তালিকা এবং অনুদানভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত অবস্থার বিষয়ে আরও স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান (যুগ্মসচিব) বলেন, ‘শিক্ষকদের যাচাই-বাছাইয়ের জন্য যে খসড়া তালিকা করা হয়েছে, সেটি এখনও চূড়ান্ত নয়। ইতোমধ্যে তালিকায় থাকা অনেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অধিদফতরে আসছেন। যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করে তালিকাটি চূড়ান্ত করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে ফাইনাল করার আগে সবাইকে বলছি, আপনারা আসেন। দেখে যদি কারও এমন কোনো তথ্য থাকে, যা আমাদের কাছে নেই বা আপডেট নেই, তাহলে সেটা জানাবেন। যারা তালিকায় রয়েছেন, তাদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হচ্ছে। এরপর সেগুলো যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

দাখিল মাদ্রাসায় রূপান্তরিত হওয়ার পরও কোনও কোনও প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা হিসেবে আলাদাভাবে অস্তিত্বশীল থাকার দাবি করছে; এমন তথ্যও যাচাইয়ে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাগজপত্র দিতে বলা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে স্থানীয়ভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা আবার যাচাই করা হবে।

মুহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন খান বলেন, ‘আমরা চাই, প্রকৃত প্রতিষ্ঠান এবং প্রকৃত শিক্ষকরা যেন অনুদান পান। যারা যোগ্য, তারা যাচাই-বাছাই করেই যেন পায়; এটাই আসল কথা। সময় একটু বেশি লাগলেও প্রকৃত চিত্রটা পাওয়া আমাদের মূল কাজ।’

অধিদফতরের এই কর্মকর্তা জানান, ‘কিছু শিক্ষক মারা গেছেন এবং তাদের তথ্যও হালনাগাদ করা হচ্ছে। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় কোনও শিক্ষক মারা যাওয়ার তথ্য অধিদফতরে পৌঁছাতে সময় লাগে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবে টাকা গেলেও মৃত ব্যক্তি তা উত্তোলন করতে না পারায় অর্থ ব্যাংকেই থেকে যায় এবং পরবর্তী সময়ে তা ফেরতও আসে। এসব তথ্যও যাচাই-বাছাইয়ের সময় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অনুদানভুক্তির জন্য আগে পাঠানো তালিকা প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তালিকাটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে ওই তালিকা নিয়ে কিছু অভিযোগ আসায় অধিদফতর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আবার যাচাই-বাছাই করছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার যাদের অনুদান দিতে চায়, তারা যেন প্রকৃতভাবে অনুদান পান, এটাই আমরা চাই। যাচাই-বাছাই করে যারা পাওয়ার যোগ্য, তারা পাবেন। সময় নিয়ে হলেও আমরা প্রকৃত চিত্রটা বের করতে চাই।’

যাচাই-বাছাইয়ের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘নিয়মিতভাবে লোকজন আসছেন, তাদের বক্তব্য শোনা হচ্ছে এবং শুনানি নেওয়া হচ্ছে। আরও কিছু সময় দিলে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। যাচাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, যাদের কোনও তথ্য দেওয়ার আছে, তারা দ্রুত আসুন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে হাজির হোন। আমরা তাদের বক্তব্য শুনছি এবং তথ্যগুলো যাচাই করছি। শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য যাচাইয়ের কাজ ধাপে ধাপে আরও করা হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর বর্তমান অবস্থা, শিক্ষকসংখ্যা ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ের জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Ads small one

গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে ইসরায়েল: সিআইএ’র গোপন প্রতিবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
গৃহযুদ্ধের ঝুঁকিতে ইসরায়েল: সিআইএ’র গোপন প্রতিবেদন

তীব্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও সামাজিক মেরুকরণের কারণে চরম অস্থিতিশীলতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এমনকি দেশটি গৃহযুদ্ধ বা অভ্যন্তরীণ ধসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি প্রতিবেদন। ড্রপ সাইট নিউজ-এর এক প্রতিবেদনে সোমবার সিআইএ’র গত আগস্টের এই গোপনীয় মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে আনা হয়।

‘ফ্র্যাকচার ফ্রম উইদিন’ (ভেতর থেকে ভাঙন) শীর্ষক প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসরায়েলে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলিদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিভাজনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কট্টর অর্থোডক্স খ্রিষ্টানদের সামরিক পরিষেবা থেকে ছাড় পাওয়ার বিষয়টি। গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে যুদ্ধের জন্য লাখ লাখ রিজার্ভ সেনাকে তলব করা হলেও ইয়েশিভায় ধর্মীয় শিক্ষার অজুহাতে আল্ট্রা-অর্থোডক্স পুরুষরা ঐতিহ্যগতভাবেই এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় এ ছাড় বাতিলের চাপ বেড়েছে। তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার তাদের সামরিক নিয়োগ সংক্রান্ত আইন পাসে ব্যর্থ হয়েছে, যা সামরিক পরিষেবা এড়ানোর অভিযোগে একাধিক তরুণকে আটক ও বিশাল বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এতে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) ও শাস পার্টি ক্ষুব্ধ হয়েছে।

সিআইএ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুদ্ধ শেষে হাজার হাজার সশস্ত্র সেনা ও রিজার্ভ সদস্যের বেসামরিক জীবনে ফিরে আসা অস্থিতিশীলতা বাড়াতে পারে। কারণ ইসরায়েলে রিজার্ভে থাকা সেনারা বাড়িতেও অস্ত্র রাখতে পারেন এবং প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন সেখানে স্বাভাবিক ঘটনা। এ ছাড়া দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি, খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি ও সামরিক ব্যয়ের কারণে অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে।

সিআইএ’র ‘রেড সেল’ নামে একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ইউনিট এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে, যার কাজ মূলধারার ধারণার বাইরে গিয়ে বিকল্প ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনে নেতানিয়াহু বা তার বিরোধী জোট কেউই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নাও পেতে পারে। বিদেশি প্রযুক্তি ও এআই প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কমানো কিংবা আঞ্চলিক দেশগুলোর ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

তবে প্রতিবেদনে ২০ শতাংশ ফিলিস্তিনি নাগরিকের ভেতরের অসন্তোষের বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এদিকে গত শুক্রবার ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট প্রার্থিতা বাতিলের আভাস দেওয়ায় এক ফিলিস্তিনি রাজনীতিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যদিও অন্য চারটি দলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে আদালত।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট ও বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাসে কী আছে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট ও বাবা ভাঙ্গার পূর্বাভাসে কী আছে?

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম অব্যাহতভাবে বেড়ে চলায় সাধারণ ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের নজর এখন এই মূল্যবান ধাতুর দিকে। বাজার বিশ্লেষকদের পাশাপাশি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে বুলগেরিয়ার প্রয়াত অন্ধ জ্যোতিষী বাবা ভাঙ্গার এক কথিত বার্তা। দাবি করা হচ্ছে, ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে চরম নগদ অর্থসংকট ও আর্থিক মন্দা দেখা দেবে, যার ফলে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে যাবে এবং বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের দিকে ঝুঁকবেন।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া পোস্ট অনুযায়ী, এই বৈশ্বিক সংকটকালে স্বর্ণের দাম ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ভারতভিত্তিক কয়েকটি অনলাইন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৭ সালে ভারতে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম হতে পারে ২ লাখ ৬২ হাজার থেকে ২ লাখ ৮২ হাজার রুপি (২,৭৩৩ থেকে ২,৯৪২ ডলার)। আরেকটি সংস্করণে এই দাম ২ লাখ ১০ হাজার রুপির কাছাকাছি হতে পারে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এগুলো কোনও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পূর্বাভাস নয়। বুলগেরিয়ার এই রহস্যদর্শীর নামে প্রচারিত আনুমানিক হিসাব মাত্র। কারণ বাবা ভাঙ্গা নিজে কোনও লিখিত নথি রেখে যাননি; তার অধিকাংশ ভবিষ্যতবাণীই দ্বিতীয় ব্যক্তির মাধ্যমে বা পরে প্রকাশিত বইয়ের মাধ্যমে সামনে এসেছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোও ২০২৭ সালের জন্য স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির আভাস দিয়েছে। জেপি মরগান গ্লোবাল রিসার্চ-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকে স্বর্ণের গড় দাম দাঁড়াতে পারে আউন্স প্রতি ৬,০০০ ডলারে (প্রতি ১০ গ্রামে ২,১১৬.৪৪ ডলার বা ১,৮৪,৮৮৩ রুপি)। আর ২০২৭ সালের শেষের দিকে তা আরও বেড়ে আউন্স প্রতি ৬,৩০০ ডলার (প্রতি ১০ গ্রামে ২,২২২ ডলার বা ২,১৩,১২৫ রুপি) ছুঁতে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর চাহিদাকে এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া ইউবিএস জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে স্বর্ণের দাম আউন্স প্রতি ৫,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে এবং ডয়চে ব্যাংক ২০২৬ সালের শেষ প্রান্তিকের জন্য আউন্স প্রতি ৪,৬০০ ডলারের লক্ষ্যমাত্রা ধরে রেখেছে।

১৯১১ সালে জন্ম নেওয়া ভাংগেলিয়া প্যান্ডেভা দিমিত্রোভা বা বাবা ভাঙ্গা ১২ বছর বয়সে এক টর্নেডোর কবলে পড়ে দৃষ্টিশক্তি হারান। ৯/১১ হামলা, চেরোনবিল দুর্ঘটনা, প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু, ২০০৪ সালের সুনামির মতো ঘটনার আগাম আভাস দেওয়ার জন্য তার সমর্থকরা দাবি করেন, তার ৮৫ শতাংশ ভবিষ্যতবাণীই সত্যি হয়েছে; যদিও এর কোনও স্বাধীন সত্যায়ন মেলেনি।

সূত্র: উইয়ন নিউজ

সম্পাদকীয়/ বেওয়ারিশ প্রাণীর উপদ্রব ও জলাতঙ্ক ঝুঁকি: কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বেওয়ারিশ প্রাণীর উপদ্রব ও জলাতঙ্ক ঝুঁকি: কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

খুলনার পাইকগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুর, বিড়ালসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় ও আঁচড়ে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মাত্র দুই মাসে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী প্রতিষেধক বা ভ্যাকসিন নিতে বাধ্য হয়েছেন ৭৩৯ জন লোক। প্রতিদিন গড়ে বেশ কয়েকজন মানুষÑবিশেষ করে শিশু ও প্রবীণরা বেওয়ারিশ প্রাণীর আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বাভাবিক চলাচলে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতি কেবল আতঙ্কজনকই নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকির ইঙ্গিত বহন করে। জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত মারণব্যাধি, যা সময়মতো প্রতিরোধ বা চিকিৎসা না করালে পরিণতি হতে পারে ভয়াবহ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আক্রান্তদের চিকিৎসা প্রদান এবং জলাতঙ্কের প্রতিষেধক সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করলেও মূল সমস্যার কোনো সমাধান হচ্ছে না। বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং এদের মাধ্যমে জলাতঙ্ক ছড়ানো রোধে কার্যকর উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেওয়ারিশ প্রাণীদের বন্ধ্যাত্বকরণ কিংবা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমন্বিত কর্মসূচি দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মতে, সরকারি পর্যায়ে প্রাণীদের প্রয়োগের জন্য জলাতঙ্ক প্রতিষেধক টিকা তৈরির সুযোগ না থাকায় পোষা প্রাণীর দায়িত্ব মালিকদের ওপরই বর্তায়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সড়ক বা পাড়া-মহল্লায় ঘুরে বেড়ানো হাজার হাজার বেওয়ারিশ প্রাণীর টিকার ব্যবস্থা কে করবেÑসেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।
এই সংকট কাটিয়ে উঠতে স্থানীয় পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতীয় জলাতঙ্ক নির্মূল কর্মসূচির আওতায় এনে বেওয়ারিশ কুকুরদের গণ-টিকা প্রদান এবং বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচি জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে গৃহপালিত ও পোষা প্রাণীদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

যেকোনো প্রাণীর আক্রমণের শিকার হলে অবহেলা না করে ক্ষতের স্থান অন্তত ১৫ মিনিট সাবান ও পানি দিয়ে ধোয়া এবং দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ মেয়াদের ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। পাইকগাছার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী পদক্ষেপে এগিয়ে আসবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।