ঋতুপর্ণাদের খেলায় মুগ্ধ বাংলাদেশ কোচ
দুই কোরিয়ার কাছে হার। এরপরও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা মিয়ানমারের বিপক্ষে দুর্দান্ত লড়াই করে গোলশূন্য ড্র করেছে ঋতুপর্ণা চাকমারা। আর মেয়েদের এমন পারফরম্যান্সে মুগ্ধ বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার।
জাপানের ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে সোমবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে বেশ গোছানো ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে বল দখলেও খুব একটা পিছিয়ে ছিল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এমন পারফরম্যান্সের পর মেয়েদের নিয়ে গর্বিত কোচ।
ম্যাচ শেষে পিটার বাটলার বলেন, ‘মেয়েদের আজকের খেলায় আমি সত্যিই খুব গর্বিত ও সন্তুষ্ট। তারা দারুণ খেলেছে। আমাদের দলে বেশ কয়েকজন তরুণ ফুটবলার রয়েছে। ১৬ বছর বয়সী আইরিন দলে ফিরে এসেছে, আর মৌমিতাও অসাধারণ খেলেছে। সব মিলিয়ে এই মানের ফুটবলে আমাদের দলকে আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে।’
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে মিয়ানমার ৫০-এর কাছাকাছি, আর বাংলাদেশ ১০০-এর ওপরে। পার্থক্যটা এখানেই স্পষ্ট। কিন্তু মাঠে সেই ব্যবধান খুব একটা দেখা যায়নি। ম্যাচে ৪৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল বাংলাদেশ। রক্ষণেও হাইলাইন ধরে সাহসী ফুটবল খেলেছেন আফঈদা খন্দকাররা।
বাটলারও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন সেটি, ‘প্রতিপক্ষ হিসেবে এই মানের কথা আমি আলাদা করে বলছি, কারণ মিয়ানমারের ফিফা র্যাঙ্কিং ৫০-এর কাছাকাছি, আর আমরা ১০০-এর ওপরে। তা সত্ত্বেও আমরা কিছু চমৎকার ফুটবল খেলেছি এবং মাঠে গুছিয়ে খেলেছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘ডিফেন্সে আমাদের মেয়েরা যথেষ্ট শক্ত দেখিয়েছে। আমরা হাইলাইন নিয়ে খেলেছি, যা আমাদের মেয়েরা খুব ভালোভাবেই সামলেছে। দুটি পরাশক্তি দলের বিরুদ্ধে খেলাটা আমাদের জন্য বড় এক শিক্ষার অভিজ্ঞতা ছিল।’
শুধু ড্রতেই সন্তুষ্ট নন বাটলার। তার বিশ্বাস, নিজেদের খেলাটা ধরে রাখতে পারলে ভবিষ্যতে মিয়ানমারের মতো দলকেও হারাতে পারবে বাংলাদেশ। তার ভাষায়, ‘আমি আবারও বলছি, আমরা হয়তো এখনও ওদের পর্যায়ে পৌঁছাইনি। তবে একটি কথা বলতে পারি, ওদের হারানো সম্ভব। ম্যাচের ফল হিসেবে ড্র হওয়াটাই সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ছিল।’
কোচের মূল্যায়ন, ‘খেলার ফল যা-ই হোক না কেন, আমি মেয়েদের কাছ থেকে একটি ইতিবাচক খেলা দেখতে চেয়েছিলাম এবং তারা ঠিক সেটাই করে দেখিয়েছে। একটি ভালো নোট দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে পেরে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত।’
এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে বয়স ও ফিফা র্যাঙ্কিং দুই দিক থেকেই পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা মেয়েদের লড়াইয়ের মান কমাতে পারেনি বলেই মনে করেন বাটলার, ‘আমাদের দলে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতিশীল তরুণী উঠে আসছে। অনেকে হয়তো অনুধাবন করতে পারছেন না যে এই টুর্নামেন্টে আমাদের দলটি ছিল সবচেয়ে তরুণ এবং র্যাঙ্কিংয়েও সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা দল। এরপরও আমরা দারুণ দুটি দলের মুখোমুখি হয়েছি এবং আজকের ম্যাচে মিয়ানমারের মতো দলের বিপক্ষেও নিজেদের সেরাটা দিয়ে লড়েছি।’






