মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

এল নিনোর সতর্কবার্তা: বাংলাদেশসহ ৬ দেশে বন্যা, খরা ও রোগের আশঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
এল নিনোর সতর্কবার্তা: বাংলাদেশসহ ৬ দেশে বন্যা, খরা ও রোগের আশঙ্কা

দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশসহ পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ভয়াবহ বন্যা, খরা, ভূমিধস ও রোগব্যাধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) সতর্ক করে বলেছে, জলবায়ুজনিত এ সংকট এমন এক সময়ে দেখা দিচ্ছে, যখন বহু দেশ আগে থেকেই খরা, সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরসি জানায়- কেনিয়া, উগান্ডা, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের লাখো মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে চলতি মৌসুমি বৃষ্টিতে প্রাণহানি, বন্যা ও বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে।

আইআরসির জরুরি পরিস্থিতি-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বব কিচেন বলেন, আমরা একসঙ্গে কয়েকটি জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখছি। যেসব এলাকার আরেকটি ধাক্কা সামলানোর মতো ন্যূনতম সক্ষমতা নেই, মূলত তারাই এখন সবচেয়ে বড় বিপদের মুখে।

সংস্থাটির মতে, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় আবহাওয়ার বৈরিতা আরও বাড়তে পারে। বাংলাদেশে ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকি অব্যাহত থাকবে এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা
গত ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার জানিয়েছে, এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে এবং ১৯৫০ সালের পর এটি অন্যতম শক্তিশালী রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা ৮১ শতাংশ। এর সর্বোচ্চ প্রভাব অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেখা যেতে পারে।

এর আগে, জুলাইয়ের শুরুতে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছিল, এল নিনো পরিস্থিতি ইতোমধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি আরও শক্তিশালী হতে পারে।

পূর্ব আফ্রিকায় বাড়ছে উদ্বেগ
আইআরসি জানিয়েছে, পূর্ব আফ্রিকার পরিস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। সোমালিয়ার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৬০ শতাংশ। দীর্ঘস্থায়ী খরা ও বাস্তুচ্যুতির কারণে দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৪৮ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এমন পরিস্থিতিতে এল নিনোজনিত বন্যা সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

 

সংস্থাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০২৩ সালের বন্যায় সোমালিয়ায় প্রায় ১৩ হাজার টন ফসল নষ্ট হয়েছিল এবং বহু শহর ও জনপদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এবার একই ধরনের বন্যা হলে ক্ষয়ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে, কারণ দেশটির মানুষ ইতোমধ্যেই খরা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা কমার কারণে চরম দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

বাংলাদেশে কেন এত বৃষ্টি
দেশে ৫ জুলাই থেকে ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মাসের প্রথম ১১ দিনেই জুলাই মাসের মোট বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭৫ শতাংশ হয়ে গেছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এর প্রধান কারণ ছিল সক্রিয় মৌসুমি বায়ু। এ বছর মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত সাত দিন দেরিতে এলেও জুলাইয়ের শুরুতেই তা সক্রিয় হয়ে ওঠে, ফলে অল্প সময়ের মধ্যে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়।

আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদের মতে, এ বৃষ্টিপাতের আরও দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ স্বাভাবিক গতিপথ অনুসরণ না করে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল বা চট্টগ্রাম বিভাগের দিকে অগ্রসর হয়েছে। ফলে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস ওই অঞ্চলে বেশি বৃষ্টি ঘটিয়েছে। দ্বিতীয়ত, এল নিনোর একটি বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্য হলো স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি। এতে সাময়িকভাবে তাপপ্রবাহের প্রশমন ঘটলেও দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বেড়ে যায়।

তার মতে, চলতি বছরের ভারী বৃষ্টিপাতকে এল নিনোর এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

এল নিনো কী
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রার একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন, যা সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর ঘটে। স্বাভাবিক অবস্থায় বাণিজ্যিক বায়ু উষ্ণ পানিকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এ বায়ু দুর্বল হয়ে পড়লে উষ্ণ পানি মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। ফলে কোথাও অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত, কোথাও আবার তীব্র খরা দেখা দেয়। পূর্ব আফ্রিকায় সাধারণত বছরের মাঝামাঝি শুষ্ক আবহাওয়া এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের প্রবণতা তৈরি হয়। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রাজনিত আরেকটি পরিবর্তনের কারণে চলতি বছর এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।

কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি
চলতি বছরের বৃষ্টিতে দেশে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে বলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এল নিনো পুরোপুরি বিকশিত হলে দক্ষিণ এশিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে ধানের ফলন ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। যেহেতু এসব অঞ্চলের কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা ধানের ওপর নির্ভরশীল, তাই খাদ্যসংকট ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও বাড়বে।

বিশ্বব্যাংক আরও ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন এক সময়ে এ জলবায়ুগত সংকট তৈরি হচ্ছে যখন ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তেহরানের পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জ্বালানি ও সারের বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়েছে এবং সার উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কৃষি উৎপাদন আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আগাম প্রস্তুতির আহ্বান
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আইআরসি দাতা সংস্থা ও বিভিন্ন সরকারের প্রতি এখনই আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছে নগদ সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি এবং কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া গেলে প্রাণহানি, সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক দুর্ভোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে। তাই শুধু দুর্যোগ-পরবর্তী ত্রাণ নয়, বরং আগাম প্রস্তুতি, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

Ads small one

হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন না

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
হ্যারি ও মেগান রাজপরিবারের উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন না

প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল ব্রিটিশ রাজপরিবারের দায়িত্ব ছেড়ে ২০২০ সালে স্বাধীন জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ছয় বছর পর গত আগস্টে তারা তাদের দুই সন্তান আর্চি ও লিলিবেটকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে বসবাস শুরু করেন।

রাজপরিবারে তাদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে চলছিল গুঞ্জন। রাজা তৃতীয় চার্লস সেই গুঞ্জনের সমাপ্তি টেনেছেন। সোমবার জারি করা এক চিঠিতে জানানো হয়, রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে হ্যারি ও মেগানকে বিবেচনা করা হবে না। রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লর্ড চেম্বারলেনের জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, হ্যারি-মেগানের যুক্তরাজ্যে ফিরে আসার পর তাদের অবস্থান নিয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে যেন কোনো ‘সন্দেহ বা বিভ্রান্তি’ না থাকে, সে কারণেই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।

রাজপরিবার থেকে জারি করা ওই চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘২০২০ সালের জানুয়ারিতে হ্যারি ও মেগান রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে তারা এখন আর রাজপরিবারের অফিসিয়ালি ‘এইচআরএইচ’ উপাধি ব্যবহার করতে পারবেন না।

জানা যায়, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ বা প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই হ্যারি ও মেগান আকস্মিকভাবে ২০২০ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করেন যে, তারা রাজপরিবারের ‘সিনিয়র’ সদস্যের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রানি এলিজাবেথ তখন একটি পারিবারিক বৈঠক ডাকেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় যে, হ্যারি-মেগান আর রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন না এবং সরকারি কোনো অনুদান পাবেন না।

বিমান নিয়ে মন্তব্য, নোরার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
বিমান নিয়ে মন্তব্য, নোরার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের মামলা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উড়োজাহাজ নিয়ে মন্তব্য করে আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি। ডুন এভিয়েশন নামের একটি চার্টার্ড বিমান সংস্থাকে নিয়ে অসম্মানজনক ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ৩০ মিলিয়ন দিরহাম ক্ষতিপূরণ দাবি করে মানহানির মামলা করা হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত বছরের ডিসেম্বরে। মুম্বাই থেকে জয়পুর যাওয়ার পথে সেসনা সাইটেশন সিজে-২ মডেলের একটি উড়োজাহাজে ওঠার সময় ভিডিও ধারণ করেন নোরা। পরে সেই ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেন তিনি। ওই অ্যাকাউন্টে তার প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ অনুসারী রয়েছে।

ভিডিওতে উড়োজাহাজটির আকার ও চেহারা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নোরা সেটিকে খেলনা কিংবা ‘লেগো বিমান’-এর সঙ্গে তুলনা করেন বলে অভিযোগ করেছে বিমান সংস্থাটি।

ডুন এভিয়েশনের দাবি, নোরার ওই মন্তব্য দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ভিত্তিহীন। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাণিজ্যিক সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজটি তার শ্রেণির একটি মানসম্মত বিমান।

এ ঘটনায় গত এপ্রিল মাসে গান্ধীনগরের একটি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটিতে ৩০ মিলিয়ন দিরহাম ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ‘দিলবার’ ও ‘ও সাকি সাকি’র মতো জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া নোরা ফাতেহি সম্প্রতি ‘সারকে চুনার তেরি সারকে’ নামের একটি কন্নড় গানের কথার কারণেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।

ওই বিতর্কের পর নোরা জানিয়েছিলেন, গানটির ভাষা তিনি বুঝতে পারেননি। ভাষাগত বিষয়টি না বোঝার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি তখন বিতর্কের অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেন।

বিশ্ববাজারে বেড়েই চলছে জ্বালানি তেলের দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
বিশ্ববাজারে বেড়েই চলছে জ্বালানি তেলের দাম

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জাতীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি আরামকোর কয়েকটি স্থাপনায় ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীরা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক দুই পক্ষের হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফিউচারস বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

ইয়েমেনের রিয়াদ-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সশস্ত্র সংঘাত তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সৌদির কৌশলগত তেল অবকাঠামোতে সরাসরি হামলা তেলের বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা তৈরি করেছে।

এর আগে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দর বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ০৬ ডলারে পৌঁছেছিল। তবে দিনশেষে তা ৯৭ ডলারে স্থির হয়। একই সময়ে মার্কিন টেক্সাসের মানদণ্ড অক্টোবর ডেলিভারির ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড অয়েল ফিউচারস দরপ্রতি ৯৪ দশমিক ৪৭ ডলারে লেনদেন হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কোনো মীমাংসা না হওয়া এবং হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক সামরিক তৎপরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানির দাম ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।

এদিকে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় এলাকায় সাম্প্রতিক কয়েক দিনের সংঘর্ষে ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানা গেছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালির আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে হুতিরা। সূত্র: আলজাজিরা