বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: উপকূলের জলবায়ু উদ্বাস্তু ও পেশা বদল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: উপকূলের জলবায়ু উদ্বাস্তু ও পেশা বদল

জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখন আর কোনো দূরবর্তী আশঙ্কা নয়, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় মানুষের জীবনে তা এক নির্মম ও প্রাত্যহিক বাস্তবতা। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, আশঙ্কাজনক হারে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই অঞ্চলের প্রাতাষ্ঠানিক ও ঐতিহ্যবাহী জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সিডর, আইলা, আম্পানের মতো একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত শুকানোর আগেই নতুন নতুন দুর্যোগ এসে উপকূলের মানুষকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। এই বহুমুখী সংকটের সবচেয়ে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে মানুষের পেশা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর, যা অবিলম্বে জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের, বিশেষ করে কয়রা, পাইকগাছা, শ্যামনগর ও আশাশুনি এলাকার মানুষের প্রধান জীবিকা ছিল কৃষি ও মৎস্য চাষ। কিন্তু জমিতে ও মিষ্টি পানির উৎসে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করার ফলে ফসলি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী ধান চাষ বা মিষ্টি পানির মাছ চাষ এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, টিকে থাকার তাগিদে উপকূলের মানুষ বাধ্য হয়ে তাঁদের আদি পেশা পরিবর্তন করছেন। জেলেরা মাছ ধরার ঝুঁকি ও আকাল দেখে ঝুঁকছেন কাঁকড়া বা কুঁচে চাষে। কৃষকেরা সনাতন চাষাবাদ ছেড়ে লবণ-সহিষ্ণু জাতের ধান কিংবা তরমুজ চাষের চেষ্টা করছেন। এমনকি পুরুষেরা কর্মহীন হয়ে পড়ায় নারীরা বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ বা কাঁকড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো কঠিন পরিশ্রমে যুক্ত হচ্ছেন। কিন্তু জলবায়ুর এই আগ্রাসী পরিবর্তনের সামনে এই স্থানীয় অভিযোজন কৌশলগুলোও দীর্ঘমেয়াদে টিকতে পারছে না।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যখন স্থানীয়ভাবে জীবনধারণের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন মানুষ বাধ্য হয় নিজের ভিটেমাটি ত্যাগ করতে। গত দুই দশকে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে বিভাগীয় শহর ও ঢাকামুখী মানুষের স্রোত অভাবনীয় হারে বেড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া এই ‘জলবায়ু উদ্বাস্তুরা’ যখন শহরে আসছেন, তখন তাঁদের পূর্বপুরুষ থেকে পাওয়া কৃষিজ্ঞান বা মাছ ধরার দক্ষতা পুরোপুরি অর্থহীন হয়ে পড়ছে। গ্রামের একজন স্বাধীন ও দক্ষ কৃষক কিংবা খামারি শহরে এসে স্রেফ বেঁচে থাকার তাগিদে রিকশাচালক, ইটভাটার দিনমজুর কিংবা নির্মাণশ্রমিক হিসেবে অত্যন্ত কম মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। খুলনা, ঢাকা বা চট্টগ্রামের বস্তিগুলোতে তাকালে দেখা যাবে, সেখানকার বাসিন্দাদের একটি বিশাল অংশ এসেছেন এই উপকূলীয় অঞ্চল থেকে। জলবায়ুর এই মরণকামড় কেবল তাঁদের সম্পদই কেড়ে নেয়নি, তাঁদের পেশাগত পরিচয় ও সামাজিক মর্যাদাটুকুও ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
গবেষণা বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের চাল উৎপাদন ৮ শতাংশ এবং গম উৎপাদন ৩২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ও উপকূলের অর্থনীতিতে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে, যার অগ্রভাগে আছে এই উপকূলের বাসিন্দারা। অথচ বিশ্বমঞ্চে কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা নগণ্য হলেও এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে।
এই চরম সংকট মোকাবিলায় কেবল ত্রাণ বিতরণ বা সাময়িক পুনর্বাসন কোনো টেকসই সমাধান নয়। প্রথমত, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা প্রতিরোধী কৃষি ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সরকারি উদ্যোগে ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, টেকসই ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ফসলি জমিতে নোনা জলের প্রবেশ ঠেকানো যায়। তৃতীয়ত, জলবায়ু উদ্বাস্তুদের জন্য শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা জরুরি। বিশ্ব জলবায়ু তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে হবে। উপকূলের মানুষের এই নীরব কান্না ও পেশা হারানোর দীর্ঘশ্বাস বন্ধ করতে রাষ্ট্রকে এখনই সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

 

 

 

Ads small one

শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির উদ্বোধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় ‘সবুজ বিদ্যালয়’ কর্মসূচির আওতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
বুধবার সকালে উপজেলার হায়বাতপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক।
এ সময় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, শ্যামনগর সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান লাভলুসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আগে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক দেশব্যাপী প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শন করা হয়।

সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবিতে মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পর্যবেক্ষণ ও তীব্র জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ‘জলবায়ু শিক্ষা বিনিময় পরিদর্শন সিরিজ ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে শহরের ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘হেড’-এর উদ্যোগে ‘কমিউনিটি অ্যাকশন ফর ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড নেটওয়ার্কিং প্রজেক্ট’-এর আওতায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে ‘সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্লাইমেট জাস্টিস রেজিলিয়েন্স ফান্ড’।
ইটাগাছা পশ্চিমপাড়ার জলমগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ফেরদৌসী আরা ময়না। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আলী নূর খান বাবুল। তিনি বলেন, পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব ও প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটের কারণে ইটাগাছাসহ বিস্তীর্ণ এলাকা আজ জলমগ্ন। এ সময় তিনি দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ দফা দাবি পেশ করেন।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে পরিকল্পিত মাছ চাষ নিশ্চিত করা। জলবায়ু ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। ইটাগাছা পশ্চিমপাড়াসহ সব নি¤œাঞ্চলে টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। প্রাকৃতিক জলাশয় সংস্কার ও অবৈধ দখলমুক্ত করা। কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শরীফা ও রওশন আরা বলেন, বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে বসতবাড়িতে পানি উঠে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।
এর আগে সকালে শহরের কাটিয়া এলাকায় হেডের প্রধান কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় কমিউনিটিকে সঙ্গে নিয়ে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় টেকসই অভিযোজন কৌশল তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। সভায় সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্থার ইয়ুথ টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে তিন বেকারিতে জরিমানা, একটির উৎপাদন বন্ধ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার রাখার দায়ে তিনটি বেকারিকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে একটি বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্যামনগর সদর ও নূরনগর বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান কনক।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযানকালে শ্যামনগর বাজারের নিউ সুন্দরবন বেকারিকে ১০ হাজার টাকা, রয়্যাল ফুডস বেকারিকে ১০ হাজার টাকা এবং নূরনগর বাজারের সোনার বাংলা বেকারিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় রয়্যাল ফুডস ও সোনার বাংলা বেকারিতে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ নি¤œমানের ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সোনার বাংলা বেকারির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে এ ধরনের তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।