বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

কলারোয়ায় পিটমোড়া দিয়ে বেঁধে তিন যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় পিটমোড়া দিয়ে বেঁধে তিন যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন
নিজস্ব প্রতিনিধি: অপরাধ ও অপরাধী জন্য আছে আইন। আইনকে তোয়াক্ত না করে, নিজের হাতেই আইন তুলে নিয়ে তিন যুবককে পিটমোড়া দিয়ে বেঁধে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) কলারোয়া পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ড ঝিকরা প্রাইমারি স্কুলের পাশে অমানবিক ওই ঘটনা ঘটে। এর একটি ভিডিও শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয় ও নিন্দার ঝড় উঠে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইজিবাইকের ব্যাটারি চুরির সন্দেহে ও অভিযোগে ঝিকরা গ্রামের (৫ নং ওয়ার্ড) তিন যুবককে ধরে নিয়ে এসে পিটমোড়া দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করেন ওই গ্রামের সাকিব নামে এক ব্যক্তি। লাঠি ও হাত দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ মারপিট করার একপর্যায়ে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি মারপিট থামানোর চেষ্টা করেন।
এমনই একটি ভিডিও শুক্রবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। একই সাথে ধিক্কার ও নিন্দার ঝড় উঠে। মারপিটের শিকার যুবকরা হলেন ওই গ্রামের নজরুলের ছেলে মামুন, মিজানুর ওরফে মেঙ্গলের ছেলে জুয়েল ও চৌধুরী বিল্লালের ছেলের সম্রাট।
এলাকাবাসী বলছেন, তিন যুবক যদি সত্যি অপরাধ করে থাকেন তাহলে সেই অপরাধে তাদেরকে পুলিশের সোপর্দ করা যেত অথবা আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া যেত। সেটা না করে স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে প্রকাশ্যে পিঠমোরা দিয়ে বেঁধে অমানুষিক মারপিট করাও বড় অপরাধ।
এ ঘটনায় কলারোয়া থানার ওসি এইচএম শাহিন জানান, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Ads small one

অবহেলার অন্ধকারে সাতক্ষীরার লোকজ অমৃত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
অবহেলার অন্ধকারে সাতক্ষীরার লোকজ অমৃত

আখলাকুর রহমান

বিকেলের ম্লান রোদটুকু যখন বাঁশবাগানের মাথার ওপর এসে থমকে দাঁড়ায়, তখন গ্রামীণ নিস্তব্ধতার বুক চিরে এক তীব্র উদাসীনতার সুর কানে বাজে। রূপসী বাংলার এই নিভৃত কোণে, যেখানে সুন্দরবনের নোনা বাতাস আর পলিমাটির সুবাস মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে, সেই সাতক্ষীরার মেঠোপথের ধারে কতশত অবহেলিত ইতিহাস লুকিয়ে আছে, তার খবর শহরতলির মানুষ কোনোদিন জানতেও পারে না। একসময় আমাদের শৈশবের দিনগুলো জড়িয়ে থাকত গ্রামের ঝোপঝাড়ে, সাপের উপদ্রব উপেক্ষা করে নিবিড় কোনো বাঁশবনের কোণে। সেখানে অযতেœ, অবহেলায় কত বিচিত্র ফলের মেলা বসত। টক-মিষ্টি স্বাদের টুকটুকে লাল বৈঁচি ফল, হলদেটে ডেউয়া, ডালপালার আড়ালে লুকিয়ে থাকা সুমিষ্ট কাউফল কিংবা উঠোনের কোণের সেই জীর্ণ আতা গাছটি—এরা তো কেবল ফল ছিল না, ছিল বাংলার শ্বাশত রূপের একেকটি চিরচেনা অবয়ব।

আজকের নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ইট-পাথরের খাঁচায় বসে ল্যাপটপের পর্দায় কত কী দেখে, কিন্তু বৈঁচি ফলের সেই অম্ল-মধুর স্বাদ কিংবা কাউফলের গন্ধ তাদের চেনা জগতের অনেক বাইরে রয়ে গেল। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই দেশীয় ফলগুলো ছিল গ্রামীণ মানুষের পুষ্টির এক অফুরন্ত এবং সহজলভ্য উৎস। অথচ বড় বেদনার সাথে লক্ষ্য করতে হয়, প্রকৃতির এই অমূল্য দানগুলোকে পরম যতেœ বাঁচিয়ে রাখার, কিংবা এদের বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি বা বেসরকারি প্রয়াস আজ চোখে পড়ে না। যেন এক অলিখিত নিয়মে আমরা আমাদের শেকড়কে ভুলে যাওয়ার উৎসবে মেতে উঠেছি।

শুধু কি বুনো ফল? এই জনপদের মানুষের হাতের ছোঁয়ায় কত কী যে অমৃত হয়ে উঠত, তা ভাবলে অবাক হতে হয়। বর্ষার জলে ভেসে আসা সাতক্ষীরার খাল-বিলের আদি খৈলশা কিংবা পারশে মাছের সেই সোঁদা গন্ধযুক্ত শুঁটকি, সুন্দরবনের গহীন অরণ্য থেকে মৌয়ালদের বুকভাঙা পরিশ্রমে সংগৃহীত খাঁটি পদ্মমধু, কিংবা গোয়াল ঘরের গরুর দুধ জ্বাল দিয়ে পরম যতেœ তৈরি করা খাঁটি গাওয়া ঘি—এসবের স্বাদে ও গুণে যে অনাবিল তৃপ্তি ছিল, তা আজকের নামী-দামী সুপারশপের চকচকে মোড়কের খাবারে মেলা ভার। কিন্তু বড় দুঃখ হয় যখন দেখি, সঠিক বিপণন ও আধুনিক ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে এই অসাধারণ পণ্যগুলো দেশের মূল ধারার বাজারে নিজেদের যোগ্য আসনটি আজও ফিরে পেল না। প্রচারের আলো থেকে বহুদূরে, গ্রামীণ হাটের ধুলোবালি আর অবহেলার অন্ধকারে এরা যেন নিজেদের অস্তিত্বের শেষ স্পন্দনটুকু টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।

ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে একটা দেশের প্রাণস্পন্দনও স্তিমিত হয়ে আসে। আমাদের মাটির এই সোঁদা গন্ধ, আমাদের এই নিজস্ব ফল আর লোকজ সম্পদগুলোকে যদি আমরা হারিয়ে যেতে দিই, তবে ভবিষ্যৎ এক চরম রিক্ততার মুখোমুখি দাঁড়াবে। এখনো সময় আছে, গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং আমাদের এই সুপ্ত গৌরবকে বাঁচিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সাতক্ষীরার এই নিজস্ব সম্পদগুলোর গায়ে আধুনিকতার রঙ চড়িয়ে যদি দেশ ও বিদেশের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবেই হয়তো প্রকৃতির এই পরম উপহারের সঠিক মূল্যায়ন হবে। মেঠোপথের ধারের ওই নামহীন কাউফল গাছটি কিংবা অবহেলিত শুঁটকির ডালি যেন ফিসফিসিয়ে আমাদের বিবেককে ডেকে বলছে, তোমরা আধুনিক হও, কিন্তু নিজেদের হারিয়ে ফেলে নয়।

 

 

আন্তর্জাতিক নাবিক দিবস: বিশ্ববাণিজ্যের অদৃশ্য নায়করা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক নাবিক দিবস: বিশ্ববাণিজ্যের অদৃশ্য নায়করা

সাকিবুর রহমান বাবলা

বিশ্ব অর্থনীতির সচল গতির পেছনে যে অদৃশ্য শক্তি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে, তার অন্যতম হলো নাবিক। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক পণ্য—বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশ পণ্য পরিবহনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সমুদ্রপথের এই সাহসী মানুষগুলো। প্রতি বছর ২৫ জুন পালিত ‘আন্তর্জাতিক নাবিক দিবস’-এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতির এই অকুতোভয় কর্মযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাঁদের পেশাগত অবদান ও ঝুঁকিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা।

২০১০ সালে আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (IMO) উদ্যোগে প্রবর্তিত এই দিবসটি বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যথ “Carrying world trade. Carrying the risks.” নাবিকদের জীবন ও বিশ্ববাণিজ্যের মধ্যকার গভীর সম্পর্ককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে তুলে ধরে। আধুনিক প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগেও সমুদ্রপথের পেশা বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ কর্মক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত। পরিবার থেকে দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা, বৈরী আবহাওয়া, জলদস্যুতার হুমকি, সশস্ত্র সংঘাত এবং মানসিক একাকীত্বের সঙ্গে লড়াই করেই তাঁরা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিশ্ববাণিজ্যের চাকা সচল রাখছেন।

হরমুজ প্রণালীর মতো ভূ-রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি কিংবা বৈশ্বিক মহামারির সংকটময় সময়েও, যখন পৃথিবীর অনেক কিছু স্থবির হয়ে পড়েছিল, তখন নাবিকরাই সরবরাহব্যবস্থা সচল রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

বাংলাদেশের জন্যও এই দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। বিপুল জনগোষ্ঠীর একটি সামুদ্রিক সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে নৌখাতের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বিশ্ববাজারে দক্ষ নাবিকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা এবং নাবিকদের অধিকার ও কল্যাণ সুরক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ এ খাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

নাবিকদের অবদান কেবল পণ্য পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; তাঁরা বিশ্বশান্তি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়েরও অন্যতম বাহক। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার মাধ্যমে তাঁরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ও অর্থনীতিকে এক অদৃশ্য বন্ধনে যুক্ত করে রাখেন। অথচ তাঁদের জীবনের ঝুঁকি, স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক সুস্থতার বিষয়গুলো অনেক সময়ই আলোচনার আড়ালে থেকে যায়। তাই আন্তর্জাতিক নাবিক দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিতÑ নাবিকদের জন্য একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

খোলা আকাশের নিচে, উত্তাল সমুদ্রের বুকে তাঁদের এই অবিরাম যাত্রাই বিশ্ববাণিজ্যের প্রাণস্পন্দন। নাবিকদের নিষ্ঠা, সাহস ও ত্যাগের কারণেই বিশ্ব অর্থনীতির চাকা নিরবচ্ছিন্নভাবে চলেছে। আন্তর্জাতিক নাবিক দিবসে তাঁদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

 

বৃক্ষরোপণ অভিযানে সামাজিক দায়বদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
বৃক্ষরোপণ অভিযানে সামাজিক দায়বদ্ধতা

এম শফিকুল ইসলাম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বসে বৃক্ষ আর সবুজ অরণ্যের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই হয়তো লিখেছেন “দাও ফিরিয়ে সেই অরণ্য, লও এ নগর লও এ নগর”। তারপর বহু সময় পেরিয়ে গেছে উজাড় হয়েছে অরণ্য ধ্বংস হয়েছে বৃক্ষ। এ প্রেক্ষাপটে সময়ের দাবি হিসেবে বৃক্ষরোপণ ও বনসৃজনের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেয়েছিল মানুষ। আর এ প্রয়োজনীয়তাকে অনুধাবন করতে পেরেই সরকার বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিয়ে গ্রহণ করেছে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, পরিচালনা করেছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ।

 

সাধারণভাবে বলা হয় প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সপ্তাহ, পক্ষ বা মাসব্যাপী) দেশকে সবুজ বৃক্ষে আচ্ছাদিত করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপনের যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তাই বৃক্ষরোপণ অভিযান। আমাদের দেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ সপ্তাহে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সারাদেশে পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপনের উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।

 

সাধারণত প্রতিবছর জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহকে (বর্ষাকাল) বৃক্ষরোপণ সত্তা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত মৌসুমী বৃষ্টিপাত হওয়ার এই সময়টাকেই বৃক্ষরোপনের উপযুক্ত সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এ সময় সরকার নিজে উদ্যোগে বিভিন্ন নার্সারি থেকে লক্ষ লক্ষ চারা গাছ বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে জনগণের মধ্যে বিতরণ করে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এনজিও ও অভিযান পরিচালনায় কার্যক্রম গ্রহণ করে। দেশকে সবুজ বৃক্ষাচ্ছিদ করে পরিবেশ বিপর্যয় রোধকল্পে সরকার গৃহীত বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি মহৎ প্রচেষ্টা হিসেবেই পরিগণ্য। বনজ সম্পদকে টিকিয়ে রাখা ও এর সম্প্রসারণের জন্য আমাদের দেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

সপ্তাহ,পক্ষকাল বা মাসব্যাপী এ অভিযান চলে। এ সময় পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়। সাধারণত প্রতিবছর বর্ষাকালে সরকারের বনবিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান চালানো হয়। এ সময় জনগণ নিকটস্থ নার্সারি থেকে বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে গাছের চারা সংগ্রহ করতে পারে। অভিযান চলাকালে আমাদের জীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা ও চারা রোপনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়। নিঃসন্দেহে বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি মহৎ প্রচেষ্টা। বৃক্ষ রক্ষা মানে নিজেদের জীবনকে রক্ষা করা। বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে হলে সরকারের পাশাপাশি জনগণ কেউ এগিয়ে আসতে হবে।

 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বন বিভাগ বৃক্ষের চারা উৎপাদন করে বিনামূল্যে তা জনগণের মাঝে সরবরাহ করবে। গাছ লাগানোর জন্য জনমনে চেতনা সঞ্চার করতে হবে। এ ব্যাপারে রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা হল, মাইকে প্রচার, পোস্টার বিলি এবং সভা সমিতি ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের দেশে বার কোটি সক্ষম লোক আছে। আমরা প্রত্যেকে যদি কমপক্ষে একটা করে গাছ লাগাই তাহলে সহসাই আমাদের এ অভিযান সফল হবে। প্রকৃতপক্ষে বনায়নকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে না পারলে এ থেকে সর্বতোভাবে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। সমাজে বসবাসরত মানুষকে যদি বিপন্ন পরিবেশের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা যায়, তাহলে অনেকেই বনায়নের কাজে এগিয়ে আসবে।

 

প্রয়োজনে বনবিভাগের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা মোটিভেশন কার্যে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাবেন এবং বনায়নে উৎসাহিত করবেন। ১৯৮২ থেকে বাংলাদেশের সামাজিক বনায়ন আন্দোলন শুরু হয়েছে। ১৯৮২ সাল থেকে রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় এ প্রকল্প ব্যাপক প্রসারতা লাভ করে। থানা বনায়ন ও নার্সারি উন্নয়ন পরিকল্পে বনায়নের কর্মসূচি তিনটি জেলা ছাড়া দেশের ৬১টি জেলার সর্বত্র চালু আছে। এ কার্যক্রমে গাছের চারা বিতরণ থেকে পরিশোধ কোন প্রদান প্রভৃতি কাজ চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায়, মসজিদ কিংবা অফিসের প্রাঙ্গনে, উপকূলীয় বাঁধের বাইরে প্রভৃতি পরিসরে বৃক্ষরোপণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

পরিবেশের অবক্ষয় ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার যে বিরূপ প্রভাব আমাদের বাংলাদেশে এসে পড়েছে, তা থেকে রক্ষা পেতে হলে বনায়নের বিকল্প নেই। কিন্তু বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ কার্যক্রম কেবল সরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্তকরণ একান্ত ভাবে প্রয়োজন। ধর্ম, বর্ণ, মতবাদ নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে পরিবেশ সংরক্ষণের বৃক্ষরোপণ অভিযান বাস্তবমুখী হতে পারে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসই আমাদের পরিবেশ উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও প্রতিবেশকে বাস উপযোগী রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারে।