বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

বৃক্ষরোপণ অভিযানে সামাজিক দায়বদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
বৃক্ষরোপণ অভিযানে সামাজিক দায়বদ্ধতা

এম শফিকুল ইসলাম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর সন্ধিক্ষণে বসে বৃক্ষ আর সবুজ অরণ্যের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই হয়তো লিখেছেন “দাও ফিরিয়ে সেই অরণ্য, লও এ নগর লও এ নগর”। তারপর বহু সময় পেরিয়ে গেছে উজাড় হয়েছে অরণ্য ধ্বংস হয়েছে বৃক্ষ। এ প্রেক্ষাপটে সময়ের দাবি হিসেবে বৃক্ষরোপণ ও বনসৃজনের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেয়েছিল মানুষ। আর এ প্রয়োজনীয়তাকে অনুধাবন করতে পেরেই সরকার বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনের রূপ দিয়ে গ্রহণ করেছে বৃক্ষরোপন কর্মসূচি, পরিচালনা করেছে বৃক্ষরোপণ অভিযান ।

 

সাধারণভাবে বলা হয় প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সপ্তাহ, পক্ষ বা মাসব্যাপী) দেশকে সবুজ বৃক্ষে আচ্ছাদিত করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপনের যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় তাই বৃক্ষরোপণ অভিযান। আমাদের দেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ সপ্তাহে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে সারাদেশে পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়। বৃক্ষরোপনের উপকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়।

 

সাধারণত প্রতিবছর জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহকে (বর্ষাকাল) বৃক্ষরোপণ সত্তা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। পর্যাপ্ত মৌসুমী বৃষ্টিপাত হওয়ার এই সময়টাকেই বৃক্ষরোপনের উপযুক্ত সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এ সময় সরকার নিজে উদ্যোগে বিভিন্ন নার্সারি থেকে লক্ষ লক্ষ চারা গাছ বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে জনগণের মধ্যে বিতরণ করে। বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এনজিও ও অভিযান পরিচালনায় কার্যক্রম গ্রহণ করে। দেশকে সবুজ বৃক্ষাচ্ছিদ করে পরিবেশ বিপর্যয় রোধকল্পে সরকার গৃহীত বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি মহৎ প্রচেষ্টা হিসেবেই পরিগণ্য। বনজ সম্পদকে টিকিয়ে রাখা ও এর সম্প্রসারণের জন্য আমাদের দেশে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

সপ্তাহ,পক্ষকাল বা মাসব্যাপী এ অভিযান চলে। এ সময় পরিকল্পিত উপায়ে বৃক্ষরোপণ করা হয়। সাধারণত প্রতিবছর বর্ষাকালে সরকারের বনবিভাগের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ অভিযান চালানো হয়। এ সময় জনগণ নিকটস্থ নার্সারি থেকে বিনামূল্যে অথবা স্বল্পমূল্যে গাছের চারা সংগ্রহ করতে পারে। অভিযান চলাকালে আমাদের জীবনে বৃক্ষের প্রয়োজনীয়তা ও চারা রোপনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হয়। নিঃসন্দেহে বৃক্ষরোপণ অভিযান একটি মহৎ প্রচেষ্টা। বৃক্ষ রক্ষা মানে নিজেদের জীবনকে রক্ষা করা। বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সফল করতে হলে সরকারের পাশাপাশি জনগণ কেউ এগিয়ে আসতে হবে।

 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ বন বিভাগ বৃক্ষের চারা উৎপাদন করে বিনামূল্যে তা জনগণের মাঝে সরবরাহ করবে। গাছ লাগানোর জন্য জনমনে চেতনা সঞ্চার করতে হবে। এ ব্যাপারে রেডিও, টেলিভিশন, সিনেমা হল, মাইকে প্রচার, পোস্টার বিলি এবং সভা সমিতি ব্যাপক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমাদের দেশে বার কোটি সক্ষম লোক আছে। আমরা প্রত্যেকে যদি কমপক্ষে একটা করে গাছ লাগাই তাহলে সহসাই আমাদের এ অভিযান সফল হবে। প্রকৃতপক্ষে বনায়নকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে না পারলে এ থেকে সর্বতোভাবে সাফল্য পাওয়া সম্ভব নয়। সমাজে বসবাসরত মানুষকে যদি বিপন্ন পরিবেশের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা যায়, তাহলে অনেকেই বনায়নের কাজে এগিয়ে আসবে।

 

প্রয়োজনে বনবিভাগের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা মোটিভেশন কার্যে অংশ নিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাবেন এবং বনায়নে উৎসাহিত করবেন। ১৯৮২ থেকে বাংলাদেশের সামাজিক বনায়ন আন্দোলন শুরু হয়েছে। ১৯৮২ সাল থেকে রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় এ প্রকল্প ব্যাপক প্রসারতা লাভ করে। থানা বনায়ন ও নার্সারি উন্নয়ন পরিকল্পে বনায়নের কর্মসূচি তিনটি জেলা ছাড়া দেশের ৬১টি জেলার সর্বত্র চালু আছে। এ কার্যক্রমে গাছের চারা বিতরণ থেকে পরিশোধ কোন প্রদান প্রভৃতি কাজ চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায়, মসজিদ কিংবা অফিসের প্রাঙ্গনে, উপকূলীয় বাঁধের বাইরে প্রভৃতি পরিসরে বৃক্ষরোপণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

পরিবেশের অবক্ষয় ও পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার যে বিরূপ প্রভাব আমাদের বাংলাদেশে এসে পড়েছে, তা থেকে রক্ষা পেতে হলে বনায়নের বিকল্প নেই। কিন্তু বৃক্ষরোপণ ও বন সংরক্ষণ কার্যক্রম কেবল সরকারি পর্যায়ে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ কার্যক্রমে জনগণের সম্পৃক্তকরণ একান্ত ভাবে প্রয়োজন। ধর্ম, বর্ণ, মতবাদ নির্বিশেষে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে পরিবেশ সংরক্ষণের বৃক্ষরোপণ অভিযান বাস্তবমুখী হতে পারে। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসই আমাদের পরিবেশ উন্নয়ন, সংরক্ষণ ও প্রতিবেশকে বাস উপযোগী রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারে।

 

Ads small one

শ্যামনগরে ভেটেরিনারি স্বেচ্ছাসেবককে ৫দিনের প্রশিক্ষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে ভেটেরিনারি স্বেচ্ছাসেবককে ৫দিনের প্রশিক্ষণ

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন এ্যাকশন গাবুরা ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড এর ১৫টি গ্রামে কানাডিয়ান দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিনিউ-এর আর্থিক সহযোগিতায় জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
উক্ত প্রকল্প কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় ফেইথ ইন এ্যাকশনের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কারিগরি সহযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের প্রশিক্ষণ কক্ষে ২০ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ১৫জন ভেটেরিনারি স্বেচ্ছাসেবককে ৫ দিনের গবাদি প্রাণীর প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা ও টিকাদান কর্মসূচি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
প্রশিক্ষণে প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. সুব্রত কুমার বিশ্বাস, উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার মন্ডল, ভিএফএ সুদীপ্ত বিশ্বাস।
প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান ফেইথ ইন এ্যাকশনের মুন্সিগঞ্জে সিআরসি প্রকল্প অফিসে আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে সভাপতিত্ব করেন ফেইথ ইন এ্যাকশনের নির্বাহী পরিচালক নৃপেন বৈদ্য, আরও উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী তীমন বাড়ৈ, প্রকল্পের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মিল্টন বাড়ৈ, প্রকল্প হিসাব রক্ষক লরেন্স ঢালী, মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস, জেন্ডার অফিসার নওমী বিশ্বাস প্রমূখ। ৫দিনের প্রশিক্ষণ শেষে ১৫ জন অংশগ্রহণকারীর হাতে প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করা হয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

সাতক্ষীরার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

চীফ রিপোর্টার: চলতি অর্থবছরে সাতক্ষীরার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। জেলায় চরমভাবে বালু সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির মধ্যেও গুণগত মান রক্ষা করে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে অন্তত ২৬ ভাগ বেশি কাজ সম্পন্ন করেছে দপ্তরটি।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দপ্তরটির কাজের সামগ্রিক গড় অগ্রগতির হার ছিল ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ। যা চলতি অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯.৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
সূত্র মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় গ্রামীণ সড়ক কার্পেটিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩৭ কিলোমিটার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৪৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান রয়েছে ৮৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার কাজ। যা আগামী শীত মৌসুমের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলমান কাজের অগ্রগতিসহ লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে দপ্তরটি। একই সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ছিল ৫২ শতাংশ।
এলজিইডি সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় ছয়টি বক্স কালভার্ট, ২৫০ মিটার ব্রিজ সংস্কার, ১৫টি হাট বাজারের উন্নয়ন, দুইটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, তিনটি স্কুলের প্রাচীর নির্মাণ, ১৩টি স্কুলের প্রধানশিক্ষকের কক্ষ নির্মাণ, আটটি স্কুল সংস্কার, তিনটি স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ এবং দুই হাজার ৩১১টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। যার শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া ১০টি ব্রিজ নির্মাণের মধ্যে চারটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান ছয়টির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৬ শতাংশ। ১৬টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ কাজের মধ্যে একটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান ১৫টির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৬৩ শতাংশ। ৩২টি মসজিদ ও মন্দির উন্নয়নের কাজের মধ্যে ২৮টির কাজ শেষ হয়েছে। চলমান চারটির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৮৮ শতাংশ। ৪০৫ মিটার ড্রেনের মধ্যে ২৯৭ মিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। চলমান কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৩ শতাংশ। পাঁচ দশমিক চার কিলোমিটার খালের মধ্যে চার দশমিক ২৪ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। চলমান কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৮ শতাংশ। ২৭টি পুকুরের মধ্যে ২০ খননের কাজ শেষ হয়েছে। চলমান ৭টির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৪ শতাংশ।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা জিসি টু প্রতাপনগর জিসির ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার, খাজরা ইউপি টু বড়দল সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার, তালার দলুয়া জিসি টু বুধহাটা জিসির ৪.১ কিলোমিটার, দেবহাটার সুর্বনবাদ জিসি টু কোমরপুর জিসির ছয় কিলোমিটার, দেবহাটা ইউপি অফিস টু ভাতশালা কোমরপুর সড়কের ২ কিলোমিটার, নাংলা বাজার টু পানির কল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার, বদরতলা টু গাজীরহাট ১.৮ কিলোমিটার, কালিগঞ্জের বাশতলা বাজার টু কাশিমাড়ি সড়কের ২ কিলোমিটার, কালিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড টু তারালী সড়কের দেড় কিলোমিটার, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হতে মথুরেশপুর ইউপি সড়কের ১.৩ কিলোমিটার, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কদমতলা টু কাথন্ডা জিসির ২.৫ কিলোমিটার, কলারোয়ার তুলসীডাঙ্গা হতে কুশোডাঙ্গা ইউপি অফিসের ৩.৭ কিলোমিটার, শ্যামনগরের গ্যারেজ বাজার থেকে হরিনগর বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি টু নীলডুমুর ঘাট সড়কের ৩.৩ কিলোমিটার সহ প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার গ্রামীণ শতাধিক সড়কের কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে লাখ লাখ মানুষ।
যেখানে পূর্বে সড়ক উন্নয়নের নামে রাস্তা খুড়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হতো, সেখানে চলতি অর্থবছরে এলজিইডির কর্মতৎপরতায় কাজ সম্পন্নের হার ৮৯.৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এসব গ্রামীন সড়কের কাজ শেষ হওয়ায় একদিকে যেমন জনগনের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে অপর দিকে গ্রামীন অর্থনীতিতেও বিরাট ভূমিকা রাখবে।
শ্যামনগরের কচুখালী গ্রামের গৌর মন্ডল বলেন, আমার বয়স ৭০ বছর হয়েছে। এর আগে শ্যামনগরের গ্যারেজ বাজার থেকে হরিনগর বাজার রাস্তায় তিন বার কাজ হতে দেখেছি। কিন্তু এবারই প্রথম আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে কাজ হতে দেখলাম। আমার বাড়ি রাস্তার পাশেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি রাস্তার কাজ দেখেছি। এতো দ্রুত কাজটি শেষ হবে আমরা ভাবতেও পারিনি। সবচেয়ে বড় কথা কাজটি দ্রুত করায় সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি হয়নি। এতে আমরা খুশি। রাস্তাটি মেরামত হওয়ার ফলে এ অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হয়েছে।
হরিনগর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, পূর্বে এ রাস্তা দিয়ে মালামাল আনতে খুবই অসুবিধা হতো। তাছাড়া শ্যামনগর থেকে মুন্সিগঞ্জ হয়ে হরিনগর বাজারে আসতে কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হতো, তাতে আমাদের পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে যেতো। কিন্তু রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করার ফলে আমরা সহজে মালামাল পরিবহন করতে পারছি। এতে আমাদের খরচ অনেক কম হচ্ছে।
একই সাথে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি অর্জন না হওয়ায় কেবিএস (খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা) প্রকল্পের অনেক কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে দপ্তরটি।
কাজ বাস্তবায়নকারী কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলায় চরমভাবে বালু সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে কাজ বাস্তবায়ন করতে হিমসিম খেতে হয়েছে। তারপরও কাজের গুণগত মান রক্ষা করে প্রায় শতাধীক গ্রামীণ সড়কের কাজ শেষ করা হয়েছে। এসব কাজ শেষ করার ফলে জেলার উন্নয়নসহ গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
এ বিষয়ে এলজিইডি সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এস.এম তারিকুল হাসান খান বলেন, চলতি অর্থবছরে কাজ করা অনেক চ্যালেঞ্জের ছিল। জেলায় চরমভাবে বালু সংকট, জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পরও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
দাপ্তারিক নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলজিইডির উপজেলা অফিসগুলোতে জনবল সংকট রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীদের কোনো যানবাহন না থাকায় নিয়মিত তদারকির বিষয়টিও বিঘিœত হয়। কারণ অর্থের অংকে কম হলেও উপজেলাগুলোতে স্কিম সংখ্যা অনেক বেশি। তাই এলজিইডির কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির জন্য দপ্তরগুলোতে জনবল বৃদ্ধি এবং উপজেলা প্রকৌশলীদের যানবাহন সরবরাহ করা উচিত।
মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সাতক্ষীরায় এসেছি মাত্র ১১ মাস। যোগদানের পর প্রতিটি কাজই সর্বোচ্চ তদারকির মাধ্যমে শেষ নামানো হয়েছে। কিন্তু মানুষ বুঝে না বুঝে অপপ্রচার চালায়। বিশেষ করে রাস্তায় কার্পেটিংয়ের পর পিচ জমাট বাধতে স্বাভাবিক হতে একটা নিদিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ পিচ দেওয়ার এক দুই দিন পরেই তা তুলে ফেলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলে না। কিন্তু এমন অপপ্রচারে অহেতুক সরকারের দুর্নাম হয়।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মানবতার দেওয়াল স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মানবতার দেওয়াল স্থাপন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সমাজের অসহায়, ছিন্নমূল দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মানবতার দেওয়াল স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জে এম দুদায়েভ মাসুদ খান অর্ঘ্য’র দিক নির্দেশনায় স্টার বিডি’র পরিচালক উৎসব এর সহযোগিতায় সরকারি কলেজে মানবতার দেওয়াল স্থাপন এর উদ্ধোধন করেন কলেজ ছাত্রদল নেতা শেখ মিনহাজ আলম মুন।
মানবতার দেওয়াল স্থাপন বিষয়ে কলেজ ছাত্রদল নেতা শেখ মিনহাজ হোসেন মুন বলেন, এটি মুলত স্থাপন করা হয়েছে সমাজের অসহায়, ছিন্নমূল, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, এই মানবতার দেওয়ালে সমাজের বিত্তবানরা তাদের ব্যবহারযোগ্য অতিরিক্ত পোশাক এখানে রেখে যেতে পারবেন আর সেই পোশাক এখান থেকে গরীব, অসহায়, ছিন্নমূল মানুষেরা বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান রেখে আরো বলেন, এই মানবতার দেওয়াল এর কার্যক্রম চলমান থাকবে।