শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

কালিগঞ্জে বিকাশ এজেন্টের টাকা ছিনতাই: প্রধান আসামিসহ দুজনের রিমান্ড মঞ্জুর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কালিগঞ্জে বিকাশ এজেন্টের টাকা ছিনতাই: প্রধান আসামিসহ দুজনের রিমান্ড মঞ্জুর

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিকাশ এজেন্টের তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় আন্তজেলা ডাকাত দলের কথিত প্রধান ইয়ার আলী ও তাঁর সহযোগী সাইফুল ইসলামের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে সাতক্ষীরার আমলি আদালত-১-এর বিচারক শফিকুল ইসলাম এই আদেশ দেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মার্চ বিকেলে কালিগঞ্জের কোমরপুর গ্রামের একটি নির্জন এলাকায় বিকাশ এজেন্ট মোখলেছুর রহমানের ওপর হামলা চালায় ছিনতাইকারীরা। তাঁর মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ১০ মার্চ কালিগঞ্জ থানায় একটি দস্যুতার মামলা করেন ভুক্তভোগী।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুবর রহমান ওই দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ইয়ার আলী (৪৪) কালিগঞ্জের শংকরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং সাইফুল ইসলাম বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা। গত ২৭ মার্চ র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে একটি পিস্তল, পাঁচ রাউন্ড গুলি ও ১০০ পিস ইয়াবাসহ ইয়ার আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, সাইফুল ইসলাম ৩ এপ্রিল অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমান বলেন, “আদালতের লিখিত আদেশ পাওয়ার পর বিকেলেই দুই আসামিকে কালিগঞ্জ থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ইয়ার আলীর ভাই বাহার আলীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে যশোর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন থানায় সাতটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল।

 

Ads small one

ব্রহ্মরাজপুরে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে টাইব্রেকারে ব্রাজিল সমর্থকেরা বিজয়ী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
ব্রহ্মরাজপুরে প্রীতি ফুটবল ম্যাচে টাইব্রেকারে ব্রাজিল সমর্থকেরা বিজয়ী

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিশ্বকাপ ফুটবলের আমেজকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর ডি.বি. ইউনাইটেড হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যকার এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা যায়।
শত শত দর্শকের উপস্থিতিতে দুই দলের সমর্থকেরা নিজ নিজ দলের জার্সি পরে মাঠে নামেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় দুই দলই মাঠজুড়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলে। নির্ধারিত সময়ে খেলাটি ১-১ গোলে সমতায় শেষ হলে ম্যাচটি টাইব্রেকারে গড়ায়। পরে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলের ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে বিজয় উল্লাসে মাতে ব্রাজিল সমর্থকেরা।
ম্যাচে আর্জেন্টিনা দলের নেতৃত্বে ছিলেন রায়হান হোসেন এবং ব্রাজিলের অধিনায়কত্ব করেন শামসুর আরেফিন রানা। প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেন হোসেন আলী। খেলা শেষে মা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ডি.বি. ইউনাইটেড হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মমিনুর রহমান মুকুল বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সুস্থ বিনোদনের চর্চা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

সাতক্ষীরায় জমকালো আয়োজনে ভাই ভাই ট্রেডার্সের হালখাতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জমকালো আয়োজনে ভাই ভাই ট্রেডার্সের হালখাতা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার অন্যতম ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর বাৎসরিক হালখাতা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সাতক্ষীরা লেকভিউ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রীতিভোজ এবং দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়।
ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আসাদুজ্জামান বাবুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী জায়েদ বিন গফুর, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, ভিআরএম গোল্ডের সিনিয়র কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান, এসএস স্টিলের মো. আক্কাজ আলী, মো. আকবর আলী এবং সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. বেলাল হোসাইন। প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার জাহিদ হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের নির্বাহী সদস্য কাজী জামাল উদ্দীন মামুন ও কামরুজ্জামান।

বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস: সচেতনতা, বিজ্ঞান ও মানবিক দায়বদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস: সচেতনতা, বিজ্ঞান ও মানবিক দায়বদ্ধতা

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ২৮ জুন পালিত হয় আন্তর্জাতিক বজ্রপাত নিরাপত্তা দিবস। প্রকৃতির অমোঘ শক্তির সামনে অসতর্কতা প্রাণঘাতী হতে পারে, তবে সচেতনতা ও বৈজ্ঞানিক প্রস্তুতি জীবন বাঁচাতে একটু হলেও সহায়ক। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে বজ্রপাতের সংখ্যা ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ দিবসের গুরুত্ব অপরিসীম।

বিশ্বের সর্বাধিক বজ্রপাত প্রবণ দেশ হিসেবে ব্রাজিল পরিচিত। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার লেক মারাকাইবো অঞ্চল পৃথিবীর সবচেয়ে বজ্রপাত-প্রবণ এলাকা হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশ আয়তনে ছোট হলেও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বজ্রপাত-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, এ দেশে প্রতি বছর গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ বজ্রপাতে প্রাণ হারান, সেই সঙ্গে আহত হন অনেকে। হতাহতদের একটি বড় অংশই কৃষক, জেলে এবং মাঠে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ। আর পশু পাখি তো অগুনিত।

বিজ্ঞানীদের মতে, বজ্রপাত সাধারণত ভূমির সবচেয়ে উঁচু ও বিদ্যুৎ পরিবাহী বস্তুকে আঘাত করে। এ কারণে তালগাছকে প্রাকৃতিক বজ্রনিরোধক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর দীর্ঘ, সোজা ও দৃঢ় কাঠামো বজ্রপাতকে আকর্ষণ করে এবং বিদ্যুৎকে দ্রুত মাটিতে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে। ফলে উন্মুক্ত মাঠে মানুষ ও গবাদিপশুর ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ ও দুর্যোগ প্রশমনে তালগাছ রোপণ একটি কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ হতে পারে।

বাংলাদেশ সরকার বজ্রপাতকে ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আগাম সতর্কবার্তা প্রদান, জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিরাও এ কাজে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। গবেষণা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞানই আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আবহাওয়াবিজ্ঞান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হবে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, “আর তাঁর নিদর্শনাবলির মধ্যে রয়েছে বিদ্যুতের ঝলক, যা তোমাদের ভয় ও আশার সঞ্চার করে” (সূরা আর-রূম: ২৪)। এই বাণী আমাদের সতর্কতা, জ্ঞানার্জন ও দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা দেয়।

বজ্রপাত সম্পূর্ণরূপে রোধ করা সম্ভব না হলেও সচেতনতা, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং সম্মিলিত সামাজিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব। একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।