সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কালিগঞ্জ কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জ কৃষকদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগ

পত্রদূত রিপোর্ট: কালিগঞ্জ উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মোঃ রোকনুজ্জামান রোকন এর দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকা-, ব্যাপক চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, সাংবাদিক নির্যাতন, সংখ্যালঘু পরিবারকে উচ্ছেদ ও নানাবিধ অপকর্মের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ভাবমূর্তি। জনপ্রিয় দল বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে বহুল বিতর্কিত রোকনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে দ্রুত সাংগঠনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট লিখিত আবেদন জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. শামীম কবির সুমন।
শামীম কবির সুমন লিখিত অভিযোগে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রোকনুজ্জামান রোকন কালিগঞ্জ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চাঁদাবাজি, মাছের ঘের, মার্কেট ও বাড়িঘর দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে। আর এসব বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে হুমকি-ধামকি প্রদর্শন ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন রোকনুজ্জামান রোকন ও তার পোষা সন্ত্রাসী বাহিনী।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব কর্মকা-ের অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কৃষক দল তাঁর আহ্বায়ক পদ স্থগিত করেছিল। তবে পরবর্তীতে সাতক্ষীরা-৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন এবং জেলা বিএনপির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব হোসেন মুকুলের সুপারিশে তাঁর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
পদ ফিরে পাওয়ার পর রোকনুজ্জামান রোকন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তাঁর কর্মকা-ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। অভিযোগে জানানো হয়, ২০২৬ সালে ১৬ জুন বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সনাতন ধর্মাবলম্বী জগদাস বন্ধুর বাড়িতে দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর, বাড়িঘর দখল এবং বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া ১৮ জুন জেলা বিএনপি ও জেলা কৃষক দলের পক্ষ থেকে রোকনুজ্জামান রোকনকে কারণ দর্শানোর জন্য ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে নোটিশ প্রদান করলেও অজ্ঞাত কারণে পরবর্তীতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। এতে জেলা নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
লিখিত আবেদনে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগসমূহের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার, ভুক্তভোগী সংখ্যালঘু পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ছাত্রশিবির থেকে অপকর্মের কারণে বিতাড়িত হয়ে কৃষকদলে যোগ দেওয়া রোকনুজ্জামান এখন বিএনপির জন্য বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও বিভিন্ন অপকর্মের জন্য সে গড়ে তুলেছে একটি বাহিনী। রোকনুজ্জামান রোকন এখন দলের সিনিয়র নেতাদের সম্পর্কে তুচ্ছতাচ্ছিল্যমূলক কথাবার্তা বলার পাশাপাশি চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন। এর ফলে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নষ্ট হচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, ছাত্রশিবির থেকে বিতাড়িত হয়ে বিএনপির আশ্রয়ে এসে রোকনুজ্জামান এখন আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা শামীম উসমান এর মতো ভয়ঙ্কর আচরণের মাধ্যমে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন। মামলাবাণিজ্য ও বিভিন্ন অপকর্ম করে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা যা সুষ্ঠু তদন্তে বেরিয়ে আসবে। দলের বৃহত্তর স্বার্থে বহুল বিতর্কিত রোকনুজ্জামান রোকন এর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য রোকনুজ্জামান রোকনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি কল রিসিভ না করায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় মানবাধিকার পরিষদের দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মানবাধিকার পরিষদের দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে এমএসপি ও এমএনপি সদস্যদের দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘স্বদেশ’ সংস্থার বাস্তবায়নে এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্র, সুইজারল্যান্ড দূতাবাস, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ প্রোগ্রামের অধীনে এ সভার আয়োজন করা হয়। শিবপুর মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক ফরহাদ আমিন সিয়াম ও মানবাধিকার নারী পরিষদের আহ্বায়ক খাদিজা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নারী-শিশু পাচার, বাল্যবিয়ে, জন্মনিবন্ধন ও সাইবার অপরাধসহ সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।