শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

খালের গলায় ফাঁসি, ভোগান্তিতে পুরো জনপদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
খালের গলায় ফাঁসি, ভোগান্তিতে পুরো জনপদ

দীপঙ্কর বিশ্বাস

একটু বৃষ্টি হলেই চারপাশ থৈ থৈ, রাস্তায় হাঁটু জল আর বাসাবাড়িতে নোংরা জলের অনুপ্রবেশ আমাদের চেনা প্রতিচ্ছবি। আমরা ভাবি, বৃষ্টিটাই বুঝি সব নষ্টের মূল। কিন্তু আসল সত্যিটা আমরা অনেকেই এড়িয়ে যাই। আমাদের তৈরি কৃত্রিম বাঁধ ও অবৈধ উপায়ে খাল দখলেই লুকিয়ে আছে এই জলাবদ্ধতার আসল রহস্য।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে খালের পর খালে অবাধে বসানো হচ্ছে আড়াআড়ি বাঁশের খুঁটি। তার সঙ্গে ঝুলছে নিষিদ্ধ কারেন্ট বা বিভিন্ন ধরনের চীনানি জাল। খালের স্বাভাবিক জলপ্রবাহকে পুরোপুরি রুদ্ধ করে চলেছে একদল অসাধু চক্র।

এর ফলে যে অপপূরণীয় ক্ষতিগুলো হচ্ছে, তা কেবল জলাবদ্ধতায় সীমাবদ্ধ নয়:
১. সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহারের ফলে রুই-কাতলার মতো বড় মাছের পোনা থেকে শুরু করে দেশীয় ছোট মাছ (যেমন- পুঁটি, টেংরা, কৈ, বাইন) এবং জলজ কীটপতঙ্গ ও ছোট প্রাণীদের ডিম অবাধে ধ্বংস হচ্ছে। ফলে নদী-খালের স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে।

২. খালের জল সময়মতো নদীতে নামতে পারছে না, আর সেই জমা জল ভাসিয়ে দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের চাষের জমি ও ঘরবাড়ি। অতিরিক্ত জল জমে থাকার কারণে ফসলি জমি দীর্ঘদিন জলের নিচে আটকে থাকে, ফলে ফসল পচে গিয়ে কৃষকরা সর্বশান্ত হচ্ছেন।

৩. খালের তলদেশে জমে থাকা পলি ও ময়লা-আবর্জনা অবৈধ বাঁধের কারণে সরতে পারে না। এতে খালের নাব্য হ্রাস পায় এবং স্বাভাবিক সেচ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

৪. দীর্ঘদিন বাসাবাড়ি ও আশপাশে পচা জল জমে থাকার ফলে মশার উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়। এছাড়া ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও ডেঙ্গুর মতো পানিবাহিত ও মশাবাহিত রোগের মারাত্মক প্রাদুর্ভাব ঘটে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নটা এখানেই উঠে আসে। বিভিন্ন সময় লোকদেখানো কিছু অভিযান বা কয়েকটা জাল বাজেয়াপ্ত করেই কি দায়িত্ব শেষ? অভিযান শেষ হতে না হতেই অলক্ষ্যে আবারও বসে যায় বাঁশের খুঁটি, আবার টানা হয় বিষাক্ত জাল। এই খেলা দিয়ে একটি জনপদকে বছরের পর বছর জলাবদ্ধ করে রাখা যায় না। কেবল চিঠি দেওয়া কিংবা দু-একটি মোটাদাগের অভিযান চালিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। দরকার নিয়মিত মোবাইল কোর্ট বা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা, খালের স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় তদারকি কমিটি গঠন করে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা।

খাল কোনো ব্যক্তি বিশেষের উপার্জনের পৈতৃক জোগান নয়; খাল একটি অঞ্চলের নিঃশ্বাস নেওয়ার স্বাভাবিক ধমনী। আইন অমান্যকারীদের কঠোর হাতে দমন না করলে এবং খালের মুখ থেকে সমস্ত অবৈধ জাল ও বাঁধ স্থায়ীভাবে অপসারণ না করলে আগামী দিনে জলাবদ্ধতার এই নরকযন্ত্রণা ও পরিবেশগত বিপর্যয় থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো দ্বিতীয় পথ নেই।

প্রশাসনের সদিচ্ছা ও কঠোর পদক্ষেপের অপেক্ষায় পুরো এলাকা। খালগুলোকে বাঁচতে দিন, পরিবেশ রক্ষা করুন, মানুষকে একটু শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে দিন।

Ads small one

আশাশুনিতে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতার অনুষ্ঠান সম্প্রচার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ও কল্যাণ ভাতার অনুষ্ঠান সম্প্রচার

আশাশুনি প্রতিনিধি: দেশের বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে আশাশুনিতে। শনিবার আশাশুনি অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু।
আবুল কালাম আজাদ বুলবুলের সঞ্চালনায় এতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফোরাম ও মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির স্থানীয় নেতারাসহ অনেকে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শিক্ষকরা সরাসরি নিজ মোবাইল অ্যাকাউন্টে তাঁদের কল্যাণ ভাতার অর্থ গ্রহণ করছেন।

আশাশুনিতে বিএনপি কার্যালয়ে আগুন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে বিএনপি কার্যালয়ে আগুন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার কুল্যা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড (দাঁদপুর) বিএনপি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৪ আগস্ট দিনগত রাত দুইটার দিকে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে এ আগুন দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অগ্নিকা-ে বিএনপি কার্যালয়সহ পাশের একটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আহসান উল্লাহ জানান, রাতের বেলা স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে খবর দেন। পাশের দোকান মালিক শাহেদ আলীর আরও ৩০ হাজার টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। খবর পেয়ে আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খানের নেতৃত্বে পুলিশ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১০০ কোটি টাকার খেজুর আমদানি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১০০ কোটি টাকার খেজুর আমদানি

এম শফিকুল ইসলাম: ঋতু বৈচিত্র্যের মধুমাসে রসালো ফলের সমারোহ শেষ হওয়ার পর বর্ষা মৌসুমে ফলের বৈচিত্র্য আনতে ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে আধাপাকা (ডাসা) খেজুর। বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১০০ কোটি টাকা মূল্যের ৯২ মেট্রিক টন ডাসা খেজুর আমদানি হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পাওয়া (আইপি) দেশের শীর্ষ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের রাজস্থান থেকে এই খেজুরের চালান নিয়ে এসেছে। দেশীয় ফলের মৌসুম পার হওয়ার পর বাজারে এ খেজুরের চাহিদা বেশ ভালো থাকে।
ব্যবসায়ীরা জানান, হলুদ রঙের এই আধাপাকা খেজুরের স্বাদ ও মিষ্টতা অনন্য। দেশে মৌসুমী ফলের সরবরাহ কমে এলে এর চাহিদা বাড়ে। মূলত বর্ষা মৌসুমে আমদানিকারকেরা এই ফল আনেন। পরবর্তীতে তা স্থানীয় বাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়। খুচরা বাজারে ছড়া ঝুলিয়ে প্রতি কেজি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। অন্যদিকে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দর ২৫০ থেকে ২৭০ টাকা।
স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম জানান, ফরমালিন বা কোনো ধরনের রাসায়নিক ছাড়াই ভারত থেকে সরাসরি এই খেজুর আমদানি করা হয়। গাছে পাকা এই খেজুরের স্বাদ অন্য যেকোনো অঞ্চলের আমদানি করা খেজুরের চেয়ে আলাদা হওয়ায় বাজারে এর বিশেষ কদর রয়েছে।