শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাজায় টানা তৃতীয় বছরেও ফিলিস্তিনিদের ‘ঈদ নেই’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
গাজায় টানা তৃতীয় বছরেও ফিলিস্তিনিদের ‘ঈদ নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বছরের এই সময়টাতে সাধারণত পবিত্র ঈদুল আজহার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন মাজেন আল-জেরজাউই। কোরবানির পশুর খোঁজে গাজাবাসী যখন এদিক-ওদিক ছুটতেন, তখন তিনি নিজের খামারে লালন-পালন করা শত শত ভেড়া ও ছাগল বিক্রি করতেন।

তবে সেই দিন এখন শুধুই অতীত। গাজার অন্যতম শীর্ষ পশু খামারি হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি এখন কেবল একটি ছোট রেস্তোরাঁ চালান। যেখানে ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় আসা হিমায়িত মাংসের ওপর নির্ভর করতে হয় তাকে।

গাজা সিটির বাসিন্দা জেরজাউই বলেন, ‘বছরের এই সময়ে আমি প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করতাম। আজ আমার কাছে একটিও পশু নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় কোনও জীবন্ত পশু একেবারেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। ইসরায়েল গাজার মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করছে যেন তারা এখানে সাময়িকভাবে বসবাস করছে এবং যা কিছু অনুমতি দেওয়া হচ্ছে তা কেবল ন্যূনতম স্তরে কোনও রকমে টিকিয়ে রাখার জন্য।’

ঈদুল আজহা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। এই উৎসবে সামর্থ্যবান মুসলমানরা ঈদের নামাজের পর ভেড়া, ছাগল, গরু বা উট কোরবানি দেন এবং সেই মাংস পরিবার, প্রতিবেশী ও অভাবীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়।

যুদ্ধ শুরুর আগে, কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে গাজা প্রতি বছর ঈদের আগে ৪০ হাজার থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও বাছুর আমদানি করত। কিন্তু ইসরায়েলের চলমান গণহত্যা ও অবরোধের কারণে গাজার ফিলিস্তিনিরা টানা তৃতীয় বছরের মতো এই উৎসবের প্রধান ঐতিহ্য পালন করতে পারছে না।

বিলুপ্তির পথে গাজার গবাদিপশু

গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলা এবং পণ্য ও কৃষি সরঞ্জাম চলাচলের ওপর বিধিনিষেধের কারণে গাজার গবাদিপশু খাতের ৯০ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় পশু উৎপাদন ধ্বংসের পাশাপাশি গাজায় জীবন্ত পশুর প্রবেশও বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল, যা এই ভঙ্গুর সাপ্লাই চেইনকে আরও সংকটে ফেলেছে।

এর ফলে পশুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে গাজায় একটি ভেড়ার দাম ছিল সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার। এখন হাতেগোনা যে কয়েকটি পশু অবশিষ্ট রয়েছে, তার একেকটির দাম ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত উঠছে।

জেরজাউই বলেন, ‘আমি ভেড়া বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছি কারণ গাজায় গবাদিপশু অত্যন্ত দুর্লভ হয়ে পড়েছে।’ তিনি জানান, প্রবাসে থাকা ফিলিস্তিনিরা এখনও গাজায় তাদের আত্মীয়দের পক্ষ থেকে কোরবানি দেওয়ার জন্য পশু কিনতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, কিন্তু তিনি তাদের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেন।

জেরজাউই বলেন, ‘আমি তাদের বলি যে, একটি ভেড়ার পেছনে এত টাকা খরচ না করে ৫০ কেজি হিমায়িত মাংস কেনা অনেক ভালো। একটি ভেড়ার জন্য ২০ হাজার শেকেল (৭ হাজার ডলার) খরচ করার চেয়ে এই টাকা দিয়ে একটি দম্পতির বিয়ের খরচ চালানো সম্ভব।’

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসের মধ্যেই গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল যুদ্ধের কারণে মারা গেছে বা হত্যা করা হয়েছে। একসময় যা ছিল গাজার তাজা মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের শেষ নির্ভরযোগ্য উৎস, সেই গবাদিপশু খাত এখন কার্যত নিশ্চিহ্ন। এর ফলে গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা আরও তীব্র হয়েছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞ শুধু পশুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। খামার, গোয়ালঘর, পশুখাদ্যের গুদাম ও পশু চিকিৎসা ক্লিনিকগুলো বারবার ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পশুখাদ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি এই খাতকে সম্পূর্ণ ধসের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

জেরজাউই বলেন, ‘পশুগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা পাস্তা এবং যা পেয়েছি তা-ই খাইয়েছি। কিন্তু পাশের একটি বাড়িতে বোমা হামলার পর আমার অনেকগুলো ভেড়া মারা যায়। গাজার বেশির ভাগ পশু মালিকের ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটেছে; বিমান হামলার কারণে আমরা আমাদের পশু হারিয়েছি।’

তিনি জানান, বারবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাটি এই খাতের ওপর শেষ আঘাত হেনেছে। বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যাওয়ার সময় পরিবারগুলো তাদের পশুর যত্ন নিতে পারেনি এবং অনেক সময় বাধ্য হয়ে যে দামে পাওয়া যায় সেই দামেই পশু জবাই বা বিক্রি করে দিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উচ্ছেদ আদেশের সঙ্গে সঙ্গে গাজায় গবাদিপশুর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। আমি যখন বাস্তুচ্যুত হই, তখন বোমার আঘাতে যেন মারা না যায় সেজন্য তড়িঘড়ি করে পশুগুলো জবাই করতে বা বিক্রি করতে বাধ্য হই। একসময় আমার মালিকানাধীন সব পশু এভাবেই বিক্রি হয়ে যায়। অত্যন্ত চড়া দামে আটা ও মৌলিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য আমি যে দামে পেরেছি এগুলো বিক্রি করেছি। শেষ পর্যন্ত, একজন মানুষ নিজের স্ত্রী ও সন্তানদের রক্ষা করার চেষ্টা করার পাশাপাশি কীভাবে গবাদিপশুর যত্ন নেবে?’

‘নেই কোনও ঈদ’

গাজার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অবরুদ্ধ এই উপত্যকায় ভেড়া ও ছাগলের সংখ্যা যুদ্ধপূর্ব সময়ের প্রায় ৬০ হাজার থেকে কমে আজ মাত্র ৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আর বাছুর ও গরু তো প্রায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাফাত আসালিয়া বলেন, ‘এখনও যে অল্পসংখ্যক ভেড়া ও ছাগল বেঁচে আছে, তা যাযাবর রাখালদের কাছে রয়েছে এবং সেগুলো ঈদের মৌসুমে বিক্রির জন্য পাওয়া যাচ্ছে না।’ তিনি আরও জানান, পানির কূপগুলো সচল করতে না পারায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে, যার ফলে এই খাতের পুনরুদ্ধারের আর কোনও বাস্তব উপায় বা সম্ভাবনা অবশিষ্ট নেই।

আসালিয়া বলেন, ‘এটি এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যা হাজার হাজার পরিবারকে ঈদের কোরবানি দেওয়া থেকে বঞ্চিত করছে।’

গাজার অনেক ফিলিস্তিনির কাছে এই উৎসবটি এখন প্রায় অচেনা হয়ে পড়েছে। গাজা সিটির একজন স্কুলশিক্ষক মুহাম্মদ আবু রিয়ালা আগে প্রতি বছর কোরবানি দিতেন। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমরা তিন বছর ধরে ঈদ উদযাপন করি না। কোরবানির সেই আচার এবং অন্যের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার আনন্দ বিলীন হয়ে গেছে। কোরবানি ও ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্য না থাকলে সেখানে কোনও ঈদ নেই।’

আবু রিয়ালা জানান, জীবন্ত পশুর অনুপস্থিতি সংকটের একটি অংশ মাত্র, অনেক পরিবার এখন মৌলিক খাদ্য জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘কোনও জীবন্ত পশু নেই, আর বেশির ভাগ পরিবারের কোনও কিছু ভাগ করে নেওয়ার সামর্থ্যও নেই। অনেকে কোনও রকমে দৈনিক খাবার জোগাড় করছে এবং কেউ কেউ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত মাংসও খায়নি। গাজায় যা প্রবেশ করে তা সীমিত এবং তা সম্পূর্ণভাবে সীমান্ত ক্রসিং বা পারাপারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে, যার অর্থ দাম অত্যন্ত চড়া থাকে।’

জাতিসংঘ সমর্থিত ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি)-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ নাগাদ গাজার জনসংখ্যার প্রায় ৭৭ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ১৬ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি ছিল। যুদ্ধবিরতি হওয়া সত্ত্বেও মানবিক সহায়তা এবং বাণিজ্যিক পণ্যের ওপর ইসরায়েলের কঠোর ও প্রায়শই অননুমেয় বিধিনিষেধ এবং বারবার সীমান্ত বন্ধের কারণে এই সংকট আরও খারাপের দিকে গেছে। এর ফলে মৌলিক খাদ্যসামগ্রী প্রায়শই বাজার থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যায় এবং গাজায় কী পণ্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে দামের তীব্র ওঠানামা ঘটে।

আবু রিয়ালা বলেন, গবাদিপশুর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা গাজার হাজার হাজার পরিবারকে টিকিয়ে রাখা একটি সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যদি গাজায় গবাদিপশু প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো, তবে এটি অনেক পেশাকে বাঁচিয়ে রাখত, যেমন- পশু চিকিৎসক, পশু খামারি, গোবর বা জৈব সারের ওপর নির্ভরশীল কৃষক, কসাই এবং রেস্তোরাঁ মালিকরা এর সুবিধা পেতেন। কিন্তু ইসরায়েল তা চায় না। তারা সমাজকে পঙ্গু করে দিতে চায় এবং একে স্বাবলম্বী হওয়া থেকে বিরত রাখতে চায়।’

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Ads small one

খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা

তালা প্রতিনিধি: খুলনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তালা প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এক যৌথ বিবৃতিতে তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ার্দ্দার ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংগঠনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজ ও রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি সরাসরি আঘাত।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগরীর শান্তিধাম জাতিসংঘ পার্কসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। এতে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নির্মাণকল্পে এডহক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নির্মাণকল্পে এডহক কমিটি গঠন

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মোড় কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নিদিষ্ট স্থানে নির্মাণ কল্পে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর কুলিয়া কাঁচা বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ মোড় চত্বরে মসজিদ নির্মাণ কল্পে এক জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুলিয়া কাঁচা বাজারে ও ইউনিয়ন পরিষদে আসা বহু মুসল্লি উক্ত মসজিদে নামাজ পড়ত। মসজিদটি ভেঙে দেওয়ার কারণে মুসল্লীদের নামাজ পড়তে দুভোর্গে পড়তে যাচ্ছে। সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে পাকা না হলেও এখনি একটি টিন সেটের মসজিদ নির্মাণ করার দরকার। মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্যে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুঠিত হয়।

সভায় বক্তব্যে রাখেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সবুজ, কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. জাহাঙ্গীর কবির বাবু, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন বাবলু, জামায়াত নেতা মাছুম খান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডাঃ অহিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকন, মোসফিকুর রহমান, রুহুল আমিন, রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইয়াকুব আলী প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদ নির্মাণ কল্পে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আমিনুর রহমানকে আহবায়ক ও অন্যান্য সদস্যরা যথাক্রমে মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান সবুজ, মাসুম খান চৌধুরী, মাওলানা রুহুল আমিন, দেলোয়ার হোসেন বাবলু, সাংবাদিক রুহুল আমিন, আব্দুস সামাদ গাজী, সিরাজুল ইসলাম মোড়ল,এ্যাডঃ আল আমিন, রওশন সরদার, আবুল কাশেম ও মাওলানা ইয়াকুব আলী।

 

 

 

বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের প্রথম এবং ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বাঙালি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাড়ুলী গ্রামে অবস্থিত।

খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক রাড়ুলী গ্রাম। ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তাঁরও জন্মের ১১ বছর আগে ১৮৫০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুধু তাইনা, এটি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মের প্রায় ৩০ বছর আগের ঘটনা।

দেশের প্রথম ও ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বাঙালী নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়। তৎকালীন সময়ে একবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রাড়ুলী গ্রামে বেড়াতে আসেন। তিনি তখন আচার্য পিসি রায়ের বাবা হরিশ চন্দ্রকে নারী শিক্ষার উন্নয়নে একটি আলাদা নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য তাগিদ দেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় হরিশ্চন্দ্র নিজ গ্রাম রাড়ুলীতেই তাঁর স্ত্রীর নামে ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি বিদ্যালয়ে প্রথম ছাত্রী হিসেবে তাঁর স্ত্রী ভুবন মোহিনীকেই ভর্তি করেন। এটিই বাংলাদেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন অনেক জ্ঞানী গুণি মানুষ।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুই শ এর উপরে জন ছাত্রী, ১৫ জন শিক্ষক- শিক্ষিকা এবং ৪জন কর্মচারী রয়েছেন। ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা জাতীয়করণ হয়নি। এটি জাতীয়করণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।

ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার ঘোষ, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদ মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও জাতীয়করণ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যালয়টি তার গৌরবময় ইতিহাসকে ধারণ করে দেশের নারী শিক্ষায় আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।