গ্রাম ও শহরাঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে বেড়েছে চালের দাম
এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরার গ্রামাঞ্চল ও শহরের হাট বাজারগুলোতে পাইকারি বাজারে বিভিন্ন জাতের চালের দাম কেজিপতি ২ থেকে ৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর খুচরা পর্যায়ে কেজি প্রতি চালের দাম ৫ থেকে ৬টাকা বেড়েছে। পাইকারিতে চালের দাম বাড়ায় স্থানীয় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।
এদিকে চালের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সুযোগ বুঝে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। ভোমরা বন্দর ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতীয় চাল আসা কমে গেছে। এলসিও বন্ধের মত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে নতুন করে চাল আমদানির অনুমতি না থাকায় ব্যবসায়ীরা চাল আমদানি বন্ধ রেখেছে। ফলে বাজারের সরবরাহ কমে গেছে। সে কারণেই দাম বেড়েছে।
খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ঈদকে ঘিরে বাজারের সরবরাহ কমে যাওয়ায় তাদেরকেও বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জানান, চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে জেলায় ডিলারের মাধ্যমে ও এম এস (খোলা বাজারে খাদ্যশস্য বিক্রি) কর্মসূচি সচল রাখা হয়েছে। এছাড়া যদি কেউ অবৈধভাবে মজুদ করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।
চালের দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের নতুন করে চিন্তায় ফেলেছে। বিশেষ করে দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে চরম বিপাকে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হওয়াতে নিরব দুর্ভিক্ষে দিনাতিপাত করছে তারা। শহর উপশহর ও গ্রামাঞ্চলের হাট বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ৫০ কেজির বস্তায় ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা দাম বেড়েছে। বাজারে প্রতি কেজি আউশ চাল ৫৫ থেকে ৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৫৩ টাকা থেকে ৫৪ টাকা। মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৬ টাকা থেকে ৭০ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৩ টাকা থেকে ৬৭ টাকা। নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৭২ টাকা থেকে ৭৮ টাকায়, যা আগে ছিল ৬৮ টাকা থেকে ৭০ টাকা। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ঈদুল আযহার পর থেকে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজি ওজনের চালের বস্তা প্রতি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
এতে সাধারণ ক্রেতাদের ব্যয় হারও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। চাল ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের দাবি, মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। ধানের উচ্চমূল্য, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, বিদ্যুতের বাড়তি খরচ এবং ঘন ঘন লোডশেডিং এর কারণে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে বেড়েছে। এসব অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাব শেষ পর্যন্ত পড়েছে চালের বাজারে।
গ্রামের চাল ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম জানান, হঠাৎ পাইকারিতে কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা চালের দাম বেড়েছে। ইরি – বোরো মৌসুমের শেষ দিকে বাজারে ধানের সরবরাহ কমে এসেছে। বর্তমানে যে ধান বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তার বড় অংশই মজুতকারীদের নিয়ন্ত্রণে। বাজেট ঘোষণায় নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, আটা, চিনি ও ময়দার দাম কমানোর কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত বাজারে তার কোন প্রভাব পড়েনি।












