সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঘটিগরম: স্বাদে-স্মৃতিতে এক ঐতিহ্য/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
ঘটিগরম: স্বাদে-স্মৃতিতে এক ঐতিহ্য/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

এক সময় গ্রামের হাট, শহরের স্কুলের গেট, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড কিংবা বিকেলের পার্কÑযেখানেই মানুষের ভিড়, সেখানেই শোনা যেত এক পরিচিত ডাকÑ”ঘটিগরম… ঘটিগরম!” এই ডাক শুধু একটি খাবারের আহ্বান ছিল না, ছিল এক টুকরো শৈশব, এক চিলতে আনন্দ আর পথচলার সঙ্গী। আজ আধুনিক ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও অনলাইন খাবারের ভিড়ে সেই ঘটিগরম বিক্রেতার কণ্ঠস্বর যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।ঘটিগরম মূলত একটি ঝাল-মশলাদার মিশ্রণ।

 

ভাজা ছোলা, চানাচুর, মটর, বাদাম, মুড়ি, চিঁড়া, চানাচুর, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা, শসা, টমেটো, লেবুর রস, বিট লবণ ও সরিষার তেলÑসবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হয় এর অনন্য স্বাদ। বিক্রেতার হাতের দ্রুত মিশ্রণ আর মশলার পরিমিত ব্যবহারই ঘটি গরমকে অন্য সব খাবার থেকে আলাদা করে তোলে। এক সময় স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত খাবারের তালিকায় থাকত ঘটিগরম। হাতে দুই বা পাঁচ টাকা থাকলেই কাগজের ঠোঙায় ভরে মিলত এক ঠোঙা আনন্দ।

 

বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্যে ছিল অন্যরকম উচ্ছ্বাস। কেউ বেশি ঝাল চাইত, কেউ আবার বেশি লেবু। বিক্রেতাও ক্রেতার পছন্দ বুঝে মুহূর্তেই তৈরি করে দিতেন কাক্সিক্ষত স্বাদের ঘটিগরম।গ্রামের সাপ্তাহিক হাটেও ঘটিগরম ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাজার করতে এসে কিংবা মেলা ঘুরতে ঘুরতে অনেকেই এক ঠোঙা ঘটিগরম খেয়ে নিতেন। শিশু থেকে বৃদ্ধÑসব বয়সের মানুষের কাছে এটি ছিল সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। দাম ছিল কম, স্বাদ ছিল বেশি, আর পেটও কিছুটা ভরত।ঘটিগরমের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর সহজলভ্যতা।

 

খুব বেশি পুঁজি ছাড়াই একজন মানুষ এই ব্যবসা শুরু করতে পারতেন। একটি টিনের বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র, কয়েক ধরনের শুকনো উপকরণ, কিছু সবজি আর একটি ছোট স্ট্যান্ডÑএই ছিল মূল পুঁজি। তাই অনেক নি¤œআয়ের পরিবারের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন ছিল ঘটিগরম বিক্রি।এই পথ খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক ধরনের সামাজিক সম্পর্কও। নিয়মিত ক্রেতাদের পছন্দ-অপছন্দ বিক্রেতারা মনে রাখতেন। কেউ ঝাল কম খেতেন, কেউ বাদাম বেশি চাইতেন, আবার কেউ বাড়তি লেবু ছাড়া খেতেন না।

 

এই আন্তরিক সম্পর্ক আজকের যান্ত্রিক খাদ্য সংস্কৃতিতে খুব একটা দেখা যায় না।তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটি গরমের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে। এর অন্যতম কারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন। নতুন প্রজন্ম এখন বার্গার, পিজ্জা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবও এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক পথ খাবার বিক্রেতা খোলা পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করেন। ধুলাবালি, মাছি কিংবা বিশুদ্ধ পানির অভাবের কারণে অনেক সচেতন মানুষ এসব খাবার এড়িয়ে চলেন। যদিও সব বিক্রেতা একই রকম নন, তবুও কয়েকজনের অসচেতনতা পুরো পেশাটির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

 

অন্যদিকে, প্রশাসনের বিভিন্ন সময়ে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান কিংবা নির্দিষ্ট জায়গার অভাবে অনেক ঘটিগরম বিক্রেতা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় নতুন মানুষও আর তেমন আসছেন না। তবুও আশার কথা হলো, এখনো দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ হাটে ঘটিগরমের দেখা মেলে। বিশেষ করে মেলা, ধর্মীয় উৎসব, খেলাধুলার আয়োজন কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই খাবারের চাহিদা এখনো রয়েছে। অনেকেই নস্টালজিয়ার টানে এক ঠোঙা ঘটিগরম কিনে পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনেন।

 

বর্তমানে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ঘটিগরম পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে এর জনপ্রিয়তা আবারও বাড়তে পারে। পরিচ্ছন্ন পোশাক, ঢাকনাযুক্ত পাত্র, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যকর উপকরণ ও পরিবেশ বান্ধব কাগজের ঠোঙা ব্যবহার করলে ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তারাও এই ঐতিহ্যবাহী খাবারকে আধুনিক উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। বাংলাদেশের পথ খাবারের ঐতিহ্যে ঘটিগরম একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। এটি শুধু একটি খাবার নয়; এটি আমাদের শৈশব, সংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সংগ্রামের প্রতীক।

 

একটি ঠোঙা ঘটিগরমে যেমন থাকে ঝাল, টক ও মশলার অনন্য সমন্বয়, তেমনি থাকে অসংখ্য মানুষের স্মৃতি, আবেগ ও জীবিকার গল্প। আধুনিকতার এই সময়ে আমাদের উচিত দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পথ খাবারগুলোর প্রতি নতুন করে নজর দেওয়া। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পরিবেশন করা গেলে ঘটিগরম আবারও মানুষের প্রিয় খাবারের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে। কারণ স্বাদের সঙ্গে যখন স্মৃতি মিশে যায়, তখন একটি সাধারণ খাবারও হয়ে ওঠে একটি সময়ের জীবন্ত ইতিহাস। ঘটিগরম সেই ইতিহাসেরই এক সুস্বাদু, প্রাণবন্ত এবং চিরচেনা অধ্যায়।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

 

Ads small one

দেবহাটায় পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ প্রবাসীর, সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় পৈতৃক জমি দখলের অভিযোগ প্রবাসীর, সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: দেবহাটায় কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক প্রবাসী। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা মো. শরিফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
লিখিত বক্তব্যে শরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দেবহাটার বালিথা মৌজার ‘ধাপার ঘের’ এলাকায় তাঁদের ৮.১৫ একর পৈতৃক জমি রয়েছে। ২০১৮ সালে স্থানীয় রওশন আরা রুবি ও তাঁর ছেলে জায়েদ বিন কাদেরসহ কয়েকজন উক্ত জমি জবরদখল করে মৎস্য চাষ শুরু করেন। জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ও প্রশাসনের মাধ্যমে একাধিকবার সালিশ-বৈঠকের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত পক্ষ তা এড়িয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রওশন আরা রুবি জানিয়েছেন, শরিফুল ইসলাম তাঁর দেবর। ২০০২ সালে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় প্রতিপক্ষ পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে রেখেছিল। পরবর্তীতে সন্তানরা বড় হলে তিনি আইনি প্রক্রিয়ায় জমি উদ্ধার করেন। বালিথা মৌজার ওই জমি নিয়ে নি¤œ আদালত থেকে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলায় শরিফুল ইসলামের পরিবার হেরে গিয়ে এখন ভিত্তিহীন ও মনগড়া অভিযোগ তুলছে বলে দাবি করেন তিনি।

ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগপ্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জেলা নাগরিক কমিটির

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগপ্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি জেলা নাগরিক কমিটির

খাল দখল ও নেটপাটায় পানিপ্রবাহ বন্ধ
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাল অবৈধ দখল, নেটপাটা ও বাঁশের বেড়ি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষের কারণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত পরিবার ও কৃষিজমি দীর্ঘদিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় দখলদাররা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
গত ১ আগস্ট জেলা নাগরিক কমিটির জলাবদ্ধতা নিরসনবিষয়ক পরামর্শ সভার সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলি নুর খান বাবলু ও কমিটির অন্যতম সদস্য শেখ সিদ্দিকুর রহমান সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, গাভা স্বাস্থ্যকল্যাণ কেন্দ্রের সামনে কালভার্টের মুখ বাঁশের নেটপাটা দিয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় ঘের মালিক সুকুমার রায় মাছ চাষের স্বার্থে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে রেখেছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দম্ভভরে বলেন, “যারা জলাবদ্ধতার শিকার তারা তো কিছু বলে না, আপনি বলছেন কেন? আমি যা করেছি ঠিকই করেছি।”
এরপর প্রতিনিধি দল জোড়দিয়া কোচের বিল এলাকার সরকারি কোচের খাল পরিদর্শন করে। সেখানে অভিযোগ ওঠে, প্রাক্তন আওয়ামী লীগ নেতার অবৈধ দখলে থাকা সরকারি খালে জোড়দিয়া গ্রামের সদরউদ্দীনের ছেলে রেজাউল ইসলাম কেনা নেটপাটা ও বাঁশের বেড়ি দিয়ে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষ করছেন। স্থানীয়রা জানান, খালে সাদা মাছ ছাড়া থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে উপস্থিত শত শত গ্রামবাসী অভিযোগ করেন, সরকারি খাল অবৈধভাবে দখল করে বছরের পর বছর মাছ চাষ করা হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রতিবাদ করলেও দখলদারদের প্রভাবের কারণে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এ সময় প্রাক্তন ইউপি সদস্য শেখ জাকিরুল হক, প্রাক্তন সদস্য নজরুল ইসলাম, মিন্টুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা খাল দখল ও জলাবদ্ধতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়রা জানান, ২০২৪ সালে একই এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিলে জোড়দিয়ার কোচের খাল ও বোড়ামারা খালের নেটপাটা এবং অবৈধ বাঁধ জনসাধারণ অপসারণ করেন। পরে গাভা গ্রামের মনজুরুল আহমেদ (পিতা: মৃত আলাউদ্দিন মোড়ল) সাতক্ষীরা সদর আদালতে নিরীহ ১০ জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে সি আর-১২৫৭/২৪, তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৪, একটি মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই দখলদার চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে বিভিন্ন স্থানে নেটপাটা ও বাঁধ দিয়ে সরকারি খালে মাছ চাষ অব্যাহত রেখেছে।
বর্তমানে জোড়দিয়া, কোচের বিল ও আশপাশের এলাকায় শত শত বসতবাড়ি এবং বিস্তীর্ণ কৃষিজমি দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত, নেটপাটা ও বাঁধ অপসারণ এবং খাল খননের মাধ্যমে পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে সন্ধ্যায় ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, “গাভায় কালভার্টের মুখ বন্ধ করার ঘটনায় সুকুমারকে একাধিকবার তিরস্কার করা হলেও তিনি তা শোনেননি। জোড়দিয়ার কোচের বিল ও বোড়ামারা খালের নাব্যতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে খাল খনন প্রয়োজন। খাল বন্ধ করে মাছ চাষ করায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কৈখালী-২ স্লুইস গেটের পাট স্থাপনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বহীনতা এবং প্রভাবশালী দখলদারদের প্রতি পরোক্ষ প্রশ্রয়ের কারণেই জলাবদ্ধতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে প্রশাসনের কঠোর অভিযান পরিচালনা করে সরকারি খাল দখলমুক্ত, নেটপাটা ও অবৈধ বাঁধ অপসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 

 

দৈনিক পত্রদূতে খবর প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী আবুবকরের পাশে জেলা প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ
দৈনিক পত্রদূতে খবর প্রকাশের পর প্রতিবন্ধী আবুবকরের পাশে জেলা প্রশাসন

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা সদরের ধূলিহর ইউনিয়নের বেড়বাড়ী গ্রামের শারীরিক ও বাকপ্রতিবন্ধী আবুবকর সিদ্দিক (২৫) ও তাঁর বৃদ্ধা নানি সোনাভান বিবির মানবেতর জীবন নিয়ে পত্রদূতে সংবাদ প্রকাশের পর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের নির্দেশে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন এবং সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম ৩ আগস্ট সোমবার দুপুরে ওই বাড়িতে গিয়ে পরিবারটির হাতে নগদ অর্থ ও দুই বান টিন তুলে দেন।
এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ২৩ বছর লালন-পালন করার পর দুই বছর আগে ক্যানসারে মা মারা গেলে আবুবকর তাঁর নানিকে নিয়ে চরম সংকটে পড়েছিলেন। সহায়তার হস্ত বাড়িয়ে দেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী।