শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ঘুরে এলাম সাদা পাথর আর দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ, নিয়ে এলাম জলবায়ু পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
ঘুরে এলাম সাদা পাথর আর দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ, নিয়ে এলাম জলবায়ু পরিবর্তনের অভিজ্ঞতা

আসাদুজ্জামান সরদার: শ্রীহট্ট, দুই পাতা এক কুঁড়ির দেশ কিংবা হযরত শাহজালাল (রহ.) ও শাহ পরান (রহ.)-এর পুণ্যভূমি-যে নামেই ডাকি না কেন, সবাই একনামে চেনে সুরমা পাড়ের পাথুরে সিলেটকে। দক্ষিণ-পশ্চিমের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা থেকে উত্তর-পূর্বের জেলা সিলেটের দূরত্ব ৪৬০ কিলোমিটার। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর থেকে সিলেটের তামাবিল স্থলবন্দর পর্যন্ত বাইসাইকেল চালিয়ে অতিক্রম করার অভিযানকে অনেক সাইক্লিস্ট ‘ক্রসকান্ট্রি’ নাম দিয়েছেন। তবে আমাদের যাত্রার প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।

পাহাড়-মেঘ, নদীর স্বচ্ছ জলরাশি, পাথর আর সবুজের মেলবন্ধনে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকনের মাধ্যমে সুন্দরবন অঞ্চলের সাথে সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য খুঁজতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করতে এবং প্রকৃতির অভিজ্ঞতা নিতে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের উদ্যোগে তরুণ সাংবাদিকদের ১৪ জনের একটি দল সম্প্রতি ঘুরে এলাম সিলেটে। এর আগে প্রায় ৯-১০ বছর পূর্বে একবার এখানে আসার সুযোগ হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর এসে যেমন প্রকৃতির সৌন্দর্য মুগ্ধ করেছে, তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন ও অবহেলার ছাপ দেখে কিছু বিষয়ে হতাশও হতে হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব যে শুধু সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায় সীমাবদ্ধ তা নয়, পাহাড় আর সবুজে ঘেরা সিলেটেও তার স্পষ্ট ছাপ পরিলক্ষিত হয়। এবার সাতক্ষীরায় যখন ভারী বৃষ্টিতে চারপাশ তলিয়ে গেছে, সিলেটে এসে আমরা বৃষ্টির দেখা পর্যন্ত পাইনি।

ভ্রমণের যাত্রা শুরু: সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড় থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় মামুন পরিবহনের বাস ছেড়েছিল সিলেটের উদ্দেশ্যে। রাত সাড়ে ৮টায় যশোরের মনিহার সিনেমা হলের সামনে হালকা বিরতি, এরপর গোপালগঞ্জের দাসের হাটে “এভারগ্রীন হাইওয়ে ইন”-এ রাতের খাবার শেষ করে বাস ছুটে চলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। রাতের অন্ধকারে পদ্মা সেতু পার হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডের আলো এবং ভোরের আলোয় হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন মিনারযুক্ত মসজিদ ও ওভারব্রিজ পার হয়ে আমরা প্রবেশ করি সিলেটে।

সিলেটে ঢোকার মুখেই সুরমা নদীর সৌন্দর্য এবং নদীর ওপর নির্মিত লন্ডনের নকশায় সুরমা দক্ষিণ বাস টার্মিনাল নজর কাড়ে সবার। হোটেলে উঠে আধঘণ্টা পরে আমাদের মূল ভ্রমণ শুরু হয়।

প্রথমে সিলেট শহরের একটি হোটেল থেকে হালকা নাস্তা সেরে সকাল ৯টায় আমরা রওনা হই লালাখালের উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে নৌকা নিয়ে লালাখালের উদ্দেশ্যে রওনা হই।
এরপর প্রথমেই নৌকায় করে লালাখালের সৌন্দর্য উপভোগ করি। লালাখালের স্বচ্ছ নীল জলধারা, পাহাড় ও আশেপাশের চা বাগানের সবুজ সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করে। এর আগে একবার লালাখাল গেলেও সন্ধ্যা নামার কারণে আমরা অল্প একটু গিয়ে ফিরে আসি। এবার আমরা লালাখালের বাংলাদেশী শেষ প্রান্তে নেমে পাহাড়ি চা বাগান দেখতে যাবো, তখন আমাদের আগে যাওয়া পর্যটকরা যেতে নিষেধ করেন। কারণ সেখানে নাকি অনেক জোঁক আছে। আমরা তাদের নিষেধ অমান্য করে সেখানে যাই। সাংবাদিক রাহাত রাজার পায়ে জোঁক লাগবে এমন সময় আমি টের পেয়ে যাই। সে অল্পের জন্য রক্ষা পেলো। কিন্তু আমাদের সাথে থাকা একমাত্র আইনজীবী সাংবাদিক বিপ্লব ভাই জোঁকের হামলার শিকার হন। ছোট ভাই ইব্রাহিম খলিল, হোসেন আলী এবং মিলনসহ বেশ কয়েকজন সহকর্মী চা বাগানের উপর পর্যন্ত উঠেছিল। আমি আর হাবিবুল হাসান ভাই মালতী দেবী নামের একজন পাহাড়ি নারীর বাড়িতে গেলাম, তিনি আমাদের ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছিলেন। ভারতীয় বিএসএফ বাহিনী টহল দিচ্ছে সেটাও দেখান। সেখান থেকে ফেরার পথে দেখা হয় হরি মাস্টার নামে একজনের সাথে। হরি মাস্টারের চা পান করি এবং স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি শুনেছিলাম। তিনি সিলেট সরকারি কলেজ থেকে পাস করে লালাখাল এলাকার একটি স্কুলে পড়াতেন, এখন অবসর নিয়েছেন, চা বিক্রি করেন। সেখান থেকে তপ্ত দুপুরে ফিরে উঠে পড়ি আমাদের রাঙ্গা ভাইয়ের চার চাকার যানে, রওনা হই জাফলং ও ডাউকি সীমান্তের দিকে।
জুম্মার নামাজের বিরতি শেষে আমরা যাই গোয়াইনঘাটের বিখ্যাত জাফলং-এ। তবে গোয়াইন নদীতে পানি অনেক কম থাকায় হেঁটেই নদী অতিক্রম করতে হয়। গতবার নদীতে পানি ছিল, নৌকায় করে গিয়েছিলাম, সেই জায়গায় এবার হেঁটে যেতে হলো। গতবারের তুলনায় পাথর নেই বললেই চলে। এটা দেখে রীতিমতো হতাশ হয়েছিলাম।

খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি ও পাথুরে সৌন্দর্য উপভোগ করেন সাংবাদিকরা। ডাউকি সীমান্তের কাছে ভারতীয় বর্ডার গার্ডের (বিএসএফ) উপস্থিতি সত্ত্বেও স্বচ্ছ পানিতে গোসল করার আনন্দ মিস করিনি আমরা।

ফেরার পথে আগুন পাহাড় মিস করিনি আমরা। আমাদের যাত্রায় সবচেয়ে সিনিয়র পার্সন মোশারফ ভাই আগুন নিয়ে খেলেছিলেন।

সন্ধ্যায় আমরা আধ্যাত্মিক নগরীর মহান সাধক হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করে সেখান থেকে হোটেলে ফিরি। সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও বাংলা নিউজের বিভাগীয় প্রতিনিধি নাসির উদ্দীন ভাইয়ের আপ্যায়নে মুগ্ধ হই। আমাদের ভ্রমণ সফল হওয়ার ক্ষেত্রে তার অনেক বড় অবদান ছিল। পরে রাতে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যাই এবং জিয়ারত করি। হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে ঐতিহ্যবাহী জালালী কবুতর, দীঘির গজার মাছ এবং খ্যাতনামা চলচ্চিত্র অভিনেতা প্রয়াত সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) কবর প্রত্যক্ষ করি। রাতের আহার শেষে শেখ তানজির আহমেদ, বিপ্লব হোসেন, হাবিবুর রহমান সোহাগ, রাহাত রাজা, রেজাউল করিমসহ আমরা ৬ জন দুই রিকশায় বেরিয়ে পড়ি ঐতিহাসিক কিন ব্রিজ ও আলী আমজাদের ঘড়ির উদ্দেশ্যে। রাত ১০:৪৫-এর দিকে সুরমা নদীর তীরে চাঁদনীঘাটের ঐতিহাসিক আলী আমজাদের ঘড়ি এবং ১৯৩৬ সালে নির্মিত স্টিলের ঐতিহ্যবাহী ‘কিন ব্রিজ’ পরিদর্শন করে প্রথম দিনের মতো হোটেলে ফিরি।

দ্বিতীয় দিনে ভোলাগঞ্জ ‘সাদা পাথর’ ও সোয়াম্প ফরেস্ট ‘রাতারগুল’ ভ্রমণ:
ভারতের মেঘালয় রাজ্য ও শিলং পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ধোলাই নদীর তীরে অবস্থিত ভোলাগঞ্জ ‘সাদা পাথর’। ট্রলারে চেপে সাদা পাথরে গিয়ে দেখা গেল এক অপূর্ব দৃশ্যÑএকপাশে সবুজ পাহাড়, আকাশে মেঘের খেলা, আর নিচে সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানির ধারা। পানির তলদেশ পর্যন্ত স্পষ্ট দেখা যায়। জাফলংয়ের পানি দেখতে না পাওয়ার দুঃখ দূর হয় সবার। কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানির ধারা আর নিচের পাথর দেখে কেউ বসে থাকতে পারেনি। সবাই গোসলে নেমে পড়েন। আমরা সেখানে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা গোসল করি এবং মেঘালয় রাজ্যের শিলং পাহাড়ের সাথে মেঘের মিতালী উপভোগ করতে থাকি। আমাদের ভ্রমণসঙ্গী আলী মুক্তাদা হৃদয়ের আহ্বানে সাড়া দেওয়া তার সহকর্মী কালের কণ্ঠের ডিজিটাল বিভাগের সিলেট ব্যুরো প্রধান কবির হোসেনের আতিথেয়তা আমাদের সকলকে মুগ্ধ করে।

পরে বিকেলে আমরা যাই দেশের একমাত্র জলজ বন বা সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুলে। তবে রাতারগুল ভ্রমণকালে তীব্র গরম ও অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে জলবায়ু পরিবর্তনের স্পষ্ট প্রভাব চোখে পড়ে। ছবি বা ভিডিওতে যেমন দেখা যায়, তার কোন কিছুই চোখে পড়েনি।

ফিরে আসার পালা: ভ্রমণ শেষে আমরা দেশের প্রথম চা বাগান ‘মালনীছড়া’ পরিদর্শনে যাই এবং সিলেটের বিখ্যাত ‘পানসী’ রেস্তোরাঁয় ভূরিভোজ সেরে মামুন পরিবহন কাউন্টারে এসে আমাদের ব্যাগ রেখে আমি, রাহাত রাজা, রেজাউল এবং হোসেন আলী বেরিয়ে পড়ি সিলেট দক্ষিণ সুরমা বাস টার্মিনাল দেখতে। রাজার ড্রোন দেখে অনেকেই ঘিরে ধরে তাকে, তাদের কাউন্টার কেমন দেখা যাচ্ছে পাখির চোখে সেটা দেখতে। তবে তাদের টার্মিনাল সম্পর্কে কেউ কথা বলতে রাজি হচ্ছিল না, কারণ কিছুদিন আগে দুই গ্রুপের মারামারি হয়েছে সে কারণে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাস টার্মিনালটি নজর কেড়েছে আমাদের। পরে সন্ধ্যা ৬টায় সাতক্ষীরায় উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সকাল ৭টায় সাতক্ষীরায় পৌঁছাই।

সফরকারী দলে নেতৃত্ব দেন সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আহসান রাজীব (এখন টিভি/জাগোনিউজ), সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হোসেন আলী (এনপিবি/ঢাকাটাইমস), নির্বাহী সদস্য (অর্থ) বিপ্লব হোসেন (মানবজমিন), মোশারফ হোসেন (কালের কণ্ঠ), তানজির কচি (বাংলানিউজ), আসাদুজ্জামান (বাংলা ট্রিবিউন), রাহাত রাজা (গ্লোবাল টিভি), হাবিবুর রহমান সোহাগ (স্বদেশ প্রতিদিন), রিজাউল করিম (দ্য এডিটরস), ইব্রাহিম খলিল (ঢাকা পোস্ট), মিলন রুদ্র (টাইমস টুডে), মৃত্যুঞ্জয় রায় (বার্তা ২৪), আলী মুক্তাদা হৃদয় (হৃদয় বার্তা) ও হাবিবুল হাসান (পত্রদূত)।

ভ্রমণকালে সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সদস্য ও স্থানীয় সাংবাদিকদের পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সিলেটের কৃষি সম্ভাবনা নিয়ে নানা মতামত উঠে আসে:
সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আহসানুর রহমান রাজিব বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তন এখন দেশজুড়ে রূপ ধারণ করেছে। ৫-১০ বছর আগে এখানকার পাহাড়ি ঝিরি ও নদ-খালে যে প্রাকৃতিক পানির ধারাবাহিক প্রবাহ ছিল, স্থানীয়দের মতে এখন তা নেই। এখন বর্ষা মৌসুমেও আগের মতো নিয়মিত পাহাড়ি ঢল নামে না; হঠাৎ পানি এসে আবার হঠাৎ নেমে যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া শ্রাবণ-ভাদ্রের বর্ষা মৌসুমেও এখানে গ্রীষ্মকালের চেয়ে তীব্র তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে। পর্যটকদের ছাতা মাথায় দিয়ে স্পটগুলোতে ঘুরতে হচ্ছে। পর্যটন স্পটগুলোতে ছায়াদার বৃক্ষরোপণ এবং বসার ভালো ব্যবস্থা করলে পর্যটকদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে।”
তিনি আরো বলেন, কয়েক বছর আগের তুলনায় এবার এসে দেখলাম পর্যটন স্পটগুলোর তিন ভাগের দুই ভাগ পাথরই গায়েব হয়ে গেছে, অল্প কিছু পাথর অবশিষ্ট আছে। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সংস্কার কাজ চলায় বেশ কিছু স্থানে বড় গর্ত ও খানাখন্দের কারণে যাতায়াতে বেশ ভোগান্তি হয়েছে। সড়কটি দ্রুত উন্নত হলে পর্যটন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তবে দক্ষিণ উপকূলের লবণাক্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে সিলেটের মিষ্টি পানি, পাহাড়ি ঝিরি ও এখানকার বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি এক ভিন্ন আমেজ ও ভালো লাগা উপহার দেয়।

সাতক্ষীরা সাংবাদিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, সাতক্ষীরার মতো কৃষিপ্রধান অঞ্চলের মানুষের চোখে সিলেটের বিপুল পরিমাণ অনাবাদি জমি এক বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। সিলেটে সারা বছর প্রাকৃতিক মিষ্টি পানির উৎসের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার একর জমি পতিত পড়ে আছে। উপকূলের লবণাক্ততার আগ্রাসনের সাথে তুলনা করলে সিলেটে সুপেয় পানির প্রাচুর্যকে কাজে লাগিয়ে ব্যাপক ‘কৃষি বিপ্লব’ ঘটানো সম্ভব। পতিত জমিগুলোকে পরিকল্পিত সেচের আওতায় এনে ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে একদিকে যেমন এই অঞ্চলের খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা বাড়বে, তেমনি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় সিলেট বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।”
সাংবাদিক তানজির আহমেদ বলেন, “সফরকারীদের জেলা সাতক্ষীরার মানুষের জীবন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। সেই উপকূল থেকে সিলেটের পাহাড়, নদী ও জলাবনের ভিন্ন পরিবেশে এই সফর সাংবাদিকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।

তিনি আরো বলেন, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরে সবুজ পাহাড়, মেঘ আর স্বচ্ছ জলধারার যে মেলবন্ধনÑতা দেখলে মনের সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। এখানে শত শত মানুষের উল্লাস-উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। পানির স্বচ্ছতা এতই বেশি যে তলের প্রতিটি পাথর গুনে নেওয়া যায়।
বাংলানিউজ২৪-এর সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি নাসির উদ্দীন বলেন, “প্রাচীন জনপদ সিলেট কেবল ‘শ্রীহট্ট’ বা ‘জালালাবাদ’ নামে নয়, এটি একটি আধ্যাত্মিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরান (রহ.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার স্মৃতি বিজড়িত এই মাটিতেই রয়েছে শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতিধন্য তীর্থস্থান।

পাহাড়ি টিলা আর দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগান সিলেটকে সবুজে ঢেকে রেখেছে। সুরমা নদীর ওপর কিন ব্রিজ, চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি ও আলী আমজাদের ঘড়িকে কেন্দ্র করে তো সেই বিখ্যাত আঞ্চলিক প্রবাদটি আজও লোকমুখে ফেরেÑ’চাঁদনীঘাটের সিঁড়ি, আলী আমজাদের ঘড়ি, বঙ্কুবাবুর দাড়ি, জিতুমিয়ার বাড়ি’। মরমী কবি হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, আরকুম শাহ, দূরবীন শাহ ও শাহ আব্দুল করিমের গানের সুর আজও সিলেটের আকাশে-বাতাসে ভেসে বেড়ায়।”

তিনি আরো বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আমাদের এখানেও পড়েছে। বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রা ৩৫-এর নিচে নামে না। হঠাৎ রোদ-বৃষ্টি তো আছেই। জলবায়ুর পরিবর্তন আর কিছু প্রশাসনিক উদাসীনতা সত্ত্বেও সিলেটের রূপ ও মাধুর্য আজও অনন্য। তবে প্রাকৃতিক সম্পদ ও পাথর রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটালে দুটি পাতা একটি কুঁড়ির এই দেশ দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য আরও আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।”

Ads small one

মোহাম্মদপুরে চার্চ থেকে দেড় মণ ওজনের ঘণ্টা কীভাবে চুরি হলো

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
মোহাম্মদপুরে চার্চ থেকে দেড় মণ ওজনের ঘণ্টা কীভাবে চুরি হলো

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদ অ্যাভিনিউয়ে সেইন্ট ক্রিস্টিনা চার্চের দোতলার খোলা জায়গা থেকে পিতলের একটি ভারী ঘণ্টা চুরি হয়েছে। চার্চ কর্তৃপক্ষের হিসাবে এর ওজন ৫৫ থেকে ৬০ কেজি, পুলিশের হিসাবে প্রায় ৭০ কেজি। চুরির কয়েক ঘণ্টা পর জাকির হোসেন রোডের একটি ডাস্টবিনের পাশে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চার্চে গিয়ে বিষয়টি প্রথম বুঝতে পারেন পাল-পুরোহিত ফাদার কাজল জোয়াকিম গোমেজ। তিনি দেখতে পান, সামনের ছোট গেটটি তালাবিহীন ও ভেড়ানো অবস্থায়। উপরে তাকিয়ে দেখেন দোতলায় থাকা ঘণ্টাটি নেই।

ফাদার কাজল জোয়াকিম গোমেজ বলেন, পরে চার্চের সবকিছু পরীক্ষা করে দেখা যায়, সিসিটিভি ক্যামেরায় রাত ১২টার পর আর কোনও রেকর্ড নেই। এরপর তারা মোহাম্মদপুর থানায় যোগাযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত ১২টা ৩ মিনিটের পর কোনও একসময় চোর বা চোরেরা ঘণ্টাটি নিয়ে যায়। ওই সময়ের পর চার্চের সিসিটিভি রেকর্ডিংও বন্ধ ছিল। ঘটনাস্থলের সরাসরি ফুটেজ না পাওয়ায় আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা পর্যালোচনা শুরু করে পুলিশ।

পুলিশের একাধিক দল অভিযান শুরু করার পর চোরেরা ঘণ্টাটি ফেলে পালিয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে জাকির হোসেন রোডের একটি ময়লার ডাস্টবিনের পাশে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় ঘণ্টাটি পাওয়া যায়। এটি এখন থানার হেফাজতে রয়েছে।

 

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তদন্ত ও গ্রেফতারের স্বার্থে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হালিম  বলেন, ‘জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। চার্চ কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা করেছে। সিসিটিভি রেকর্ডিং কেন বন্ধ ছিল, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। চার্চের কেউ এটি বন্ধ করেছে, নাকি অন্য কেউ করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

ঘণ্টাটি কীভাবে চুরি করা হয়েছে, তার কিছু চিহ্নও পেয়েছে চার্চ কর্তৃপক্ষ। চার্চের কেয়ারটেকারের দায়িত্বে থাকা এক তরুণ জানান, চোরেরা দেয়াল টপকে ভেতরে ঢোকে। সামনের তালা ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তারা একদিক দিয়ে উপরে ওঠার চেষ্টা করলেও সেখানে তালা থাকায় অন্যদিক দিয়ে বারান্দায় ওঠে।

ওই তরুণের ভাষ্য, উপরে ওঠার জায়গায় হাতের ছাপ ও কাদার দাগ পাওয়া গেছে। এরপর চোরেরা ঘণ্টাটি যেখানে রাখা ছিল সেখানে যায়। ঘণ্টাটি অনেক উঁচুতে বাঁধা ছিল। সেটি নামাতে তারা ঘণ্টার জন্য রাখা মোটা দড়ি ব্যবহার করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফাদার কাজল জোয়াকিম গোমেজ বলেন, এত ভারী ঘণ্টা এত উপর থেকে নামানো সহজ নয়। তার ধারণা, তিন-চার জন না হলে চোরেরা এটি নামাতে পারতো না। ঘটনাস্থলে হাতের ছাপও পাওয়া গেছে।

চার্চে থাকা ওই তরুণ বলেন, ঘণ্টাটি পুরোপুরি পিতলের এবং ওজন প্রায় ৭০ কেজি। এত উঁচু জায়গা থেকে কীভাবে সেটি নামানো হয়েছে, তা নিয়ে তারা অবাক হয়েছেন।

সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংগৃহীত আলামত ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সম্পাদকীয়/ সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় উদ্যোগ ও প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় উদ্যোগ ও প্লাস্টিক ব্যবস্থাপনা

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা লোকালয় ও বাজারগুলোতে প্লাস্টিক দূষণ এখন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের নীলডুমুর বাজারে ব্যবসায়ীদের মাঝে বেসরকারি সংস্থা সিসিডিবির সহায়তায় ৪০টি ডাস্টবিন বিতরণের উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও প্রশংসনীয়। ‘প্লাস্টিক বর্জ্য ডাস্টবিনে ফেলি, সুন্দরবনকে রক্ষা করি’Ñএই মূলনীতিকে সামনে রেখে নেওয়া এ পদক্ষেপ উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় এক ইতিবাচক বার্তা দেয়।

ভৌগোলিক ও পরিবেশগত দিক থেকে নীলডুমুর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। সুন্দরবন ভ্রমণে আসা পর্যটক এবং স্থানীয় নদীভিত্তিক অর্থনীতির একটি বড় কেন্দ্র এটি। প্রতিদিন এখানকার দোকানপাট ও পর্যটনভিত্তিক ব্যবসাগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ একক ব্যবহারের প্লাস্টিক বোতল, পলিথিন ও মোড়কজাত বর্জ্য তৈরি হয়। এতদিন সুনির্দিষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা না থাকায় এসব ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্য সরাসরি নদী-নালা ও খালের পানিতে গিয়ে পড়ত, যা জোয়ারের তোড়ে ভেসে প্রবেশ করে সুন্দরবনের গহিন জলাভূমিতে। প্লাস্টিক বর্জ্যের এমন অনিয়ন্ত্রিত প্রবাহ ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূল ঢেকে দেয়, জলজ প্রাণীর প্রজনন ও খাদ্যশৃঙ্খলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায় এবং মাটি ও পানির দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিসাধন করে।

এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের কাছে ডাস্টবিন পৌঁছে দেওয়ার অর্থ শুধু পাত্র দেওয়া নয়, বরং একটি সচেতনতাভিত্তিক অভ্যাসের চর্চা শুরু করা। বাজার সমিতি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা যদি সততার সঙ্গে ডাস্টবিনগুলো ব্যবহার করেন এবং গৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়মিত সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা যায়, তবেই এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে। বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্ব হবে এই বর্জ্য যেন ডাস্টবিন উপচে আবার নদীতে না পড়ে, তার সঠিক অপসারণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

তবে কেবল একটি বাজারে ডাস্টবিন বিতরণ করেই দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। উপকূলীয় অঞ্চলের সার্বিক পরিবেশ সুরক্ষায় এটি হতে পারে সূচনা মাত্র। শ্যামনগরসহ সুন্দরবনসংলগ্ন সব বাজার ও ঘাট এলাকায় সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা জরুরি। পাশাপাশি সিঙ্গেল ইউজ বা একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ ও কার্যকর করা ছাড়া সুন্দরবনকে পলিথিনমুক্ত করা সম্ভব নয়।

পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনসম্পৃক্ততার কোনো বিকল্প নেই। নীলডুমুর বাজারের এ উদ্যোগ যেন কেবল একদিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে; ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং সাধারণ মানুষকে নিজ উদ্যোগে সুন্দরবন বাঁচানোর এ লড়াইয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, সুন্দরবন বাঁচলেই উপকূলের অস্তিত্ব টিকবে।

বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন

দেশের অন্যতম শীর্ষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন (ইন্না…রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৫৯ বছর।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার (বাংলাদেশ সময়) দিকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বিডিনিউজের এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তার সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, তিনি কিছু দিন আগে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে হোটেল কক্ষে তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান। পরে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সময় ৭টার দিকে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী ২০০৬ সাল থেকে নিজ মালিকানাধীন বাংলাদেশি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম বিবিসিতে উপস্থাপক, প্রযোজক এবং সম্পাদক পদে কাজ করেন।

খালিদী ডিসেম্বর ২০১৭ সালে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ উন্নয়নে ‘বিশেষ স্বীকৃতি ও সম্মাননা’ হিসেবে জাতীয় আইসিটি পুরস্কার অর্জন করেন।