শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বিধি বহির্ভুতভাবে পৌরসভার মধ্যেই ইট ভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেসার্স হক ব্রিকস এবং মেসার্স এমবি ব্রিকস নামে ঐ দু’টি ইটভাটা নির্মিত হচ্ছে পৌরসদরের সোনারমোড় এলাকায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের খাতায় উভয় প্রতিষ্ঠান ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করা সত্ত্বেও তারা প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে জিগজ্যাগ প্রকৃতির উক্ত ইটভাটা দু’টি নির্মাণ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ইটভাটা দু’টি স্থাপনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি জমি রক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আমলে নেয়া হচ্ছে না। উল্টো ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩’কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উভয় ইটভাটার নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করেও পরিবেশ অধিপ্তর বা প্রশাসনের টনক নড়ানো যাচ্ছে না।
সরেজিমন যেয়ে দেখা যায়, শ্যামনগর-বংশীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনারমোড় বাজারের পশ্চিম পাশে নির্মিত হচ্ছে মেসার্স হক ব্রিকস নামীয় ইট ভাটা। সড়কের একইপাশে দক্ষিণ অংশে ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে মেসার্স এবি ব্রিকস নামীয় ইট ভাটা নামীয প্রতিষ্ঠানটি। উভয় ভাটার চারপাশ ঘিরে আছে জনবসতিসহ বাজার, মাদ্রাসা এবং একটি কলেজ।
মেসার্স হক ব্রিকস এর নির্মাণ কাজ তদারকিতে থাকা মতিউর রহমান নিজেকে ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন। তার ভাষ্য আগেও উক্ত স্থানে ইটভাটা ছিল। বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নুতনভাবে তারা মটর বা ক্লিন নির্মাণ করছেন।
তার দাবি পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তারা ইটভাটা নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। নির্মাণ কাজ শেষে পরিবেশ অধিপ্তরের থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করবেন। জেলা প্রশাসকের অনুমতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ইট ভাটা নির্মান করা যায় কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আগেও তারা ব্যবসা করেছেন। তাদের সমুদয় কাগজপত্র রয়েছে বলেও দাবি তার।
তবে পৌরসভার মধ্যে ইটভাটা নির্মাণ নিয়ে আপত্তি তুলেছে স্থানীয়রা। পার্শ্ববর্তী বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল আর স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ জনবসতির মধ্যে ইটভাটার বিরোধীতা করে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ইট ভাটা পরিচালনা নীতিমালা লংঘন করে শুধুমাত্র অর্থের জোরে সেখানে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে।
নির্মাণাধীন হক ব্রিকস এর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত মাহমুদ গ্রামের আবু তাহেরের ভাষ্য উক্ত ইটভাটা পুনরায় চালু হলে পাশে থাকা তাদের ফসলী জমি আবাদের অযোগ্য হয়ে পড়বে। ইটভাটার ছাই-ভস্মে পাশের বাড়িঘর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এমনকি ভাটার মাত্র পা ফেলা দুরতে অবস্থিত হাফেজী মাদ্রাসার ১৮০ জন শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ ফজলুল হক এমসি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীরা চরম বেকায়দায় পড়বে।
সোনারমোড় ফুলতলা গ্রামের গৃহবধু শাহানারা বেগম জানান, জনবসতির মধ্যে ইটভাটা থাকার দরুণ আগেও তারা শ্বাসকষ্টসহ নানান শাররীক জটিলতায় ভুগেছেন। প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেও ইটভাটার ছাই থেকে বাড়িঘর রক্ষা করা যায়নি। বসতভিটার উপর লাগানো গাছ-গাছালীড়গুলো মরে মুরভুমি হয়ে গেছিল। পুনরায় উক্ত স্থানে ইটভাটা চালু হলে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হবে- উল্লেখ করে তিনি পৌরসভার মধ্যে নির্মাণাধীন ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানান।
পৌরসভার মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিপ্তরের সাতক্ষীরা অঞ্চলের পরিচালাক সৌমেন মিত্র জানান পৌরসভার মধ্যে থাকা দু’টি ইটভাটা আগে থেকেই কালো তালিকাভুক্ত। উক্ত দুই অবৈধ ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
পৌরসভার প্রশাসক ওমর ফাহাদ শরীফ জানান, ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী ইটভাটা পরিচালিত হতে হবে। আইন বিরোধী কোন কাজ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পৌরসভার মধ্যে অবৈধভাবে কেউ ইটভাটা পরিচালনা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।