বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

জনসেবার উৎকর্ষে রাষ্ট্রের অঙ্গীকার: জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস ও জাতীয় জনসেবা দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ
জনসেবার উৎকর্ষে রাষ্ট্রের অঙ্গীকার: জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস ও জাতীয় জনসেবা দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নাগরিক কল্যাণ অনেকাংশেই নির্ভর করে তার জনসেবা ব্যবস্থার দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও মানবিকতার ওপর। নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন থেকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, বিচার, পরিবহন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনসেবাকর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনগণমুখী করার প্রয়াস থেকেই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস এবং বাংলাদেশে উদযাপিত হয় জাতীয় জনসেবা দিবস।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ২০০২ সালের ২০ ডিসেম্বরের ৫৭/২৭৭ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী প্রতি বছরের ২৩ জুন ‘জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস’ পালিত হয়। ১৯৭৮ সালের এই দিনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সরকারি চাকুরিজীবীদের অধিকারসংক্রান্ত ঐতিহাসিক ১৫১ নম্বর কনভেনশন গ্রহণের দিনটিকে স্মরণ করে ২০০৩ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। জনসেবার গুরুত্ব তুলে ধরা, সরকারি কর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে এই পেশায় আকৃষ্ট করার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী একটি দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তোলা এই দিবসের মূল লক্ষ্য।

বিশ্বব্যাপী সরকারি সেবার গুরুত্ব উপলব্ধি করে জাতিসংঘ প্রতি বছর বিভিন্ন দেশের উদ্ভাবনী ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে ইউনাইটেড নেশনস পাবলিক সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড-এর মাধ্যমে সম্মানিত করে। জাতিসংঘের পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ—আফ্রিকা, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয়, পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং পশ্চিম ইউরোপ ও অন্যান্য দেশ—থেকে নির্বাচিত উদ্যোগগুলোকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। এটি জনসেবা খাতে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। বিশেষ করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ডিজিটাল গভর্নেন্স, নাগরিক অংশগ্রহণ, জেন্ডার সমতা এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অসামান্য উদ্যোগগুলো এই সম্মাননা লাভ করে।

এবারের প্রতিপাদ্যÑ‘জনপ্রতিষ্ঠানগুলোর রূপান্তর: উদ্ভাবন, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নেওয়া’। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এ সময়ে জনসেবার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের পাবলিক সার্ভিস ডে উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, শিক্ষা, সমাজসেবা, বিচার, পরিবহনসহ সব ক্ষেত্রেই জনসেবাকর্মীরা রাষ্ট্র ও সমাজের কার্যক্রম সচল রাখেন। তাঁর মতে, স্বচ্ছতা, সততা ও ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে জনসেবাকর্মীরাই জনগণ ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আস্থা গড়ে তুলে একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

আন্তর্জাতিক এ ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সরকারও সরকারি সেবার মানোন্নয়ন ও উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর ২৩ জুলাই জাতীয় জনসেবা দিবস উদযাপন করে আসছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি একটি রাষ্ট্রীয় ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস। বাংলাদেশের এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, সেবার মান এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতি প্রদান। একই সঙ্গে জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কার্যকর সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করে তোলার বার্তা বহন করে এ দিবস।

দিবসটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হলো ‘জনপ্রশাসন পদক’। সাধারণ প্রশাসন, উন্নয়ন প্রশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সমাজকল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ মোট ১২টি ক্ষেত্রে ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানকে এ পদক প্রদান করা হয়। পদকপ্রাপ্তরা নামের শেষে `BPAA’ (Bangabandhu Public Administration Award) উপাধি ব্যবহার করতে পারেন। এর সঙ্গে থাকে স্বর্ণপদক, সম্মাননাপত্র এবং আর্থিক পুরস্কার।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে গত এক দশকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ই-নথি, অনলাইন ভূমি সেবা, ই-মিউটেশন, ডিজিটাল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্রভিত্তিক সেবা, অনলাইন পাসপোর্ট ব্যবস্থা, সরকারি সেবা পোর্টাল এবং স্মার্ট গভর্নেন্সের নানা উদ্যোগ নাগরিক সেবাকে সহজতর করেছে। এসব উদ্যোগের পেছনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিকল্পনা, শ্রম ও উদ্ভাবনী চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। জাতীয় জনসেবা দিবস সেই অবদানকেই রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করে।

জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস এবং বাংলাদেশের জাতীয় জনসেবা দিবসের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকলেও তাদের মৌলিক লক্ষ্য এক ও অভিন্ন। উভয় ক্ষেত্রেই জনসেবাকে মর্যাদা দেওয়া, উদ্ভাবনী প্রশাসনিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য সরকারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। জাতিসংঘ এ দিবসে আন্তর্জাতিক পরিসরে রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও উৎকর্ষ সাধনের সুযোগ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে জাতীয় জনসেবা দিবস দেশের সরকারি সেবার মানোন্নয়নে প্রণোদনা হিসেবে কাজ করে।

বিশ্বব্যাংকের গভর্নমেন্ট ইফেক্টিভনেস সূচক এবং অন্যান্য বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী—ডেনমার্ক, নরওয়ে, সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড ও এস্তোনিয়ার মতো দেশগুলো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও প্রযুক্তিনির্ভর জনসেবার মাধ্যমে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, সেখানে দক্ষিণ সুদান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের মতো দেশগুলোতে প্রশাসনিক সক্ষমতা ও সেবার মানোন্নয়ন এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।

বাংলাদেশ প্রশাসনিক সংস্কার ও ডিজিটাল নাগরিকসেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি অর্জন করেছে। ভূমি ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল প্রশাসন ও নাগরিকসেবা সহজীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ জনসেবাকে আরও আধুনিক ও জনগণমুখী করেছে। তবে এ অগ্রগতির পাশাপাশি আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, সময়ক্ষেপণ ও দুর্নীতির মতো চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। তাই জনসেবার মানোন্নয়নে ধারাবাহিক সংস্কার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

জনসেবা কেবল সরকারের একক কোনো দায়িত্ব বা ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া কোনো সেবা নয়; বরং এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের যৌথ অংশীদারত্ব। রাষ্ট্র যখন আধুনিক প্রযুক্তি ও নীতিমালার মাধ্যমে সেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়, তখন নাগরিক হিসেবেও আমাদের সচেতন হতে হবে। সেবামূলক কার্যক্রমে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, অধিকার ও কর্তব্যের যথাযথ সচেতনতা এবং গঠনমূলক মতামত প্রশাসনকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে পারে। সরকার এবং জনগণের এই পারস্পরিক আস্থাই একটি উন্নত জনসেবা ব্যবস্থার মূল চাবিকাঠি।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স এবং বিগ ডাটা প্রযুক্তির বিস্তার জনসেবার ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিচ্ছে। আজ জনসেবাকে আরও জনবান্ধব, দুর্নীতিমুক্ত এবং হয়রানিমুক্ত করতে হলে প্রথাগত ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব এবং মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তি এবং নৈতিকতার এই সুষম সমন্বয়ই আগামী দিনের টেকসই ও স্মার্ট জনসেবার পথ প্রশস্ত করতে পারে।

জনসেবার প্রকৃত শক্তি কেবল সেবার পরিমাণে নয়, বরং তার সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় নিহিত। দুর্নীতি যখন জনসেবায় প্রবেশ করে, তখন নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, রাষ্ট্রের প্রতি আস্থা কমে যায় এবং উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে বাধাগ্রস্ত হয়। যে কোনো রাষ্ট্রে উন্নত প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত বাজেট কিংবা দক্ষ জনবল থাকলেও দুর্নীতি থাকলে নাগরিক সেবার কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। তাই জনসেবার উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তোলা সময়ের অন্যতম প্রধান দাবি।

রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি কেবল অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নয়, বরং জনগণের প্রতি সেবার মানে প্রতিফলিত হয়। তাই জনসেবাকে আরও মানবিক, দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে হলে প্রযুক্তির পাশাপাশি নৈতিকতা, পেশাদারিত্ব এবং নাগরিকবান্ধব মানসিকতার বিকাশও সমানভাবে প্রয়োজন। জাতিসংঘ পাবলিক সার্ভিস দিবস এবং জাতীয় জনসেবা দিবস আমাদের সেই বার্তাই স্মরণ করিয়ে দেয়Ñজনগণের সেবাই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব, আর জনসেবার উৎকর্ষই একটি উন্নত, আধুনিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ভিত্তি।

 

Ads small one

তেলসংকটের গুজবে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের পাম্পে বাইকারদের উপচে পড়া ভিড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
তেলসংকটের গুজবে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের পাম্পে বাইকারদের উপচে পড়া ভিড়

আহাদুজ্জামান আহাদ ও এমএ হালিম: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া জ্বালানি তেলের সম্ভাব্য সংকটের গুজবকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে বুধবার সকাল থেকে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ভবিষ্যতে তেলসংকট হতে পারেÑএমন আশঙ্কায় অনেকে আগেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পাম্পে ছুটছেন।
সরেজমিনে শ্যামনগর উপজেলা এবং কালিগঞ্জের নলতাসহ বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেশি। পেট্রলপাম্পগুলোতে তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই আগেভাগে যানবাহনের ট্যাংক ভর্তি করতে আসায় পাম্পগুলোতে কয়েক গুণ বেশি চাপ সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে তেলসংকটের খবর দেখে আগাম জ্বালানি সংগ্রহ করতে এসেছেন বলে জানান অনেক বাইকার।
তেলসংকটের খবর নাকচ করে শ্যামনগর আশা পেট্রলপাম্পের মালিক জানান, পাম্পে নতুন জ্বালানি তেলের চালান আসার পথে রয়েছে। কিছু সময়ের জন্য সরবরাহে সামান্য চাপ তৈরি হলেও বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। গুজব শুনে মানুষ একসঙ্গে তেল নিতে আসায় অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে। তেলসংকট হবে—এমন কোনো সরকারি তথ্য বা নির্দেশনা নেই উল্লেখ করে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি সংগ্রহ করার অনুরোধ জানান তিনি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং জ্বালানি সরবরাহে কোনো আনুষ্ঠানিক সংকটের তথ্য নেই। সরকারের পক্ষ থেকেও জ্বালানি সংকটের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতন মহল বলছে, গুজবের কারণে একসঙ্গে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার প্রবণতা তৈরি হলে কৃত্রিম সংকট ও পাম্পগুলোতে সাময়িক চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এমপি নজরুলের ভিডিও কান্ডে অস্বস্তিতে জামায়াত, চাঙ্গা বিএনপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
এমপি নজরুলের ভিডিও কান্ডে অস্বস্তিতে জামায়াত, চাঙ্গা বিএনপি

Oplus_131072

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া অনৈতিক ভিডিও কা-কে কেন্দ্র করে চরম অস্বস্তি ও লজ্জায় পড়েছেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। গত দুদিন ধরে শ্যামনগরে দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। প্রথম সারির কোনো নেতাকেও প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। ঘটনার শুরুতে এটি ‘এআই’ প্রযুক্তির কারসাজি বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে প্রচার চালানো হয়েছিল, ভিডিওর সত্যতা প্রকাশের পর নেতা-কর্মীরা তাঁদের নিজ নিজ আইডি থেকে সেই পোস্টগুলো সরিয়ে নিয়েছেন।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে ঘিরে পুরোপুরি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে স্থানীয় বিএনপি শিবিরে। বুধবার সকালে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। বিকেলে জামায়াতের পক্ষ থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের খবর পাওয়ার পর বিএনপির কার্যালয়ে নেতা-কর্মীদের মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা যায়। এই আসনে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে নতুন চাঙ্গাভাব ও উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।
ঘটনা সম্পর্কে শ্যামনগরের জামায়াত নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা জামায়াতের দুজন দায়িত্বশীল নেতা হতাশা প্রকাশ করে জানান, একটি উদীয়মান রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পদে না থেকেও একজন সংসদ সদস্য যেভাবে দলকে বিতর্কিত করেছেন, তার মাসুল পুরো সংগঠনকে দিতে হচ্ছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সময়সাপেক্ষ।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ জানান, কেবল দল থেকে বহিষ্কার করাই যথেষ্ট নয়; নীতি ও আদর্শের প্রমাণ দিতে তাঁকে জাতীয় সংসদ থেকেও অপসারণ করা উচিত। একই সঙ্গে বেহালিপনা ও তা ঢাকার চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় আনার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সোলায়মান কবীর উল্লেখ করেন, জামায়াতদলীয় এই এমপির অনৈতিক কর্মকা-ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন তিনি। জাতীয় সংসদ থেকে তাঁর সদস্যপদ বাতিলের উদ্যোগ নিতে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এদিকে জামায়াত থেকে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের ঘোষণা আসার পর বুধবার সন্ধ্যায় সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে শ্যামনগর পৌর সদরে এক আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিএনপি কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

দেবহাটায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় ইয়াবাসহ মাদক কারবারি ও পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা থানা-পুলিশের পৃথক অভিযানে পাঁচ পিস ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি এবং এক পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাহিদুল আলম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হান্নান মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুলিয়া ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের পাকা সড়ক থেকে ৫ পিস ইয়াবাসহ সাইদুল্লাহ গাজী (১৯) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উত্তর পারুলিয়া গ্রামের আফসার আলী গাজীর ছেলে।
অপর অভিযানে পারুলিয়া বাজার এলাকা থেকে একাধিক মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি মেহেদী হাসানকে (২৫) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের আলফার উদ্দীন মোল্ল্যার ছেলে।
দেবহাটা থানা-পুলিশ নিশ্চিত করেছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।