সম্পাদকীয়/ভাঙনের মুখে আমুরকাটা-বয়ারঝাপা সড়ক: দরকার দ্রুত ও টেকসই পদক্ষেপ
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা থেকে বয়ারঝাপাগামী ইটের সোলিং সড়কটির ক্রমবিকাশমান ভাঙন স্থানীয় জনজীবনের জন্য এক চরম দুর্ভোগ ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমুরকাটা স্লুইসগেটসংলগ্ন খালের অতিরিক্ত জোয়ার-ভাটার তীব্র স্রোতে রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে খালে বিলীন হতে বসেছে। হালকা যানবাহন চলাচল ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে, আর এলাকার পাঁচ-ছয়টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই ভাঙনের রেষ এসে লেগেছে সড়কের কোল ঘেঁষে থাকা স্থানীয় ‘আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর ওপর। অতিদ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে যে কোনো সময় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভবন ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে।
দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় নদী ও খালের স্রোতে সড়ক বা বাঁধ ধসে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে আমুরকাটা এলাকার সংকটটি যেভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে, তা প্রশাসনিক উদাসীনতারই ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো প্রতিষেধক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিটি জোয়ারের পর ভাঙনের পরিধি আরও বিস্তৃত হচ্ছে। কৃষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের প্রতিদিন সীমাহীন কষ্টে দিনপাত করতে হচ্ছে; বিশেষ করে জরুরি রোগী পরিবহন এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত রীতিমতো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা এলাকাবাসীর তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক আবেদন পেলে তারা ব্যবস্থা নেবেন। প্রশাসনিক এই আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জটিলতায় ফেলে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিদ্যালয় ভবনকে দিন দিন ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। ইউপি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই আবেদনের আশ্বাস দিয়েছেন; তবে কালক্ষেপণ না করে এই আবেদনের পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মনে রাখা প্রয়োজন, ভাঙনকবলিত এলাকায় কেবল ওপরের ইটের সোলিং বা নামকাওয়াস্তে মাটি ফেলে সাময়িক সংস্কার করলে কোনো লাভ হবে না। প্রাক্কলন তৈরি করে খালের পাশে শক্তিশালী পাইলিং, গাইড ওয়াল অথবা উপযুক্ত তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা ছাড়া এই সড়ক রক্ষা করা সম্ভব নয়। সড়কটি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে পরবর্তীতে তা পুনর্র্নিমাণ করতে সরকারের বহুগুণ বেশি অর্থ ও সময় ব্যয় হবে।
তাই পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ সমন্বয়ে অতিদ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে টেকসই ও স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করা হোকÑএমনটাই প্রত্যাশা এলাকার সর্বস্তরের মানুষের।








