জেলা প্রশাসকের মহানুভবতায় উচ্ছেদ হওয়া দুই ভূমিহীন ফিরে পেলেন তাদের বাসস্থান
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার ফয়জুল্লাহপুরের দুটি ভূমিহীন পরিবারের উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। রবিবার ভূমিহীন আলাউদ্দিন সরদার ও রমা কুমার ম-লের আবেদনের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা আখতার এ সিদ্ধান্ত নেন। তারই আদেশে রবিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিচ্ছিন্ন করা বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করেছন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
এদিকে রবিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর দুটো পর্যন্ত সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) এর নেতৃত্বে ফয়জুল্লাহপুর মৌজার ঋষিপাড়ায় খাস জমি মাপ জরিপ করা হয়। এসময় কয়েকজন প্রভাবশালী কি পরিমান খাস জমি দখলে রেখেছেন তা চিহ্নিত করা হয়েছে।
ফয়জুল্লাহপুর ঋষিপাড়ার ভূমিহীন আলাউদ্দিন সরদার ও রমা কুমার ম-ল জেলা প্রশাসকের কাছে লেখা আবেদনপত্র ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ সংক্রান্ত নির্দেশনা থেকে জানা গেছে, ছয় বছর আগে শহরের সুলতানপুরের আবু মুছা সরকারি আট ফুট রাস্তা দেখিয়ে ২৫ শতক জমি বিক্রি করেন। ওই জমির পশ্চিম পার্শ্বে ফয়জুল্লাহপুর-ফিংড়ি সড়কের পাশে আলাউদ্দিন সরদার ও রমা কুমার ম-ল প্রায় সাড়ে আট শতক সরকারি খাস জমিতে বসবাস করেন। তাদেরকে অন্যত্র সরাতে না পেরে ২৫ শতক জমি ক্রয়কারী জনৈক ব্যক্তি স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির সঙ্গে পরিকল্পনা করে তাদের দুইজনকে সাবেক জেলা প্রশাসকের সময়ে উচ্ছেদের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একই জায়গায় সায়েম ফার্মসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি হিন্দু মন্দিরের থান বাদ দিয়ে গত ১৫ এপ্রিল লাল বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে তাদের দুটি বাড়িতে ভাংচুর চালানো হয়। চলে যাওয়ার আগে তাদেরকে আগামি সাত দিনের মধ্যে জায়গা ছেড়ে চলে না গেলে বুলডোজার দিয়ে জায়গা খালি করা হবে বলে সতর্ক করা হয়।
বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তারা দুইজন রবিবার জেলা প্রশাসকের কাছে পূর্ণবাসনের আবেদনপত্রসহ দেখা করেন। এ সময় জেলা প্রশাসক সবকিছু শোনেন। একপর্যায়ে তাদেরকে ভেঙে দেওয়া ঘরবাড়ি সংস্কার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে সেখানে বসবাসের মৌখিক অনুমতি দেন। একইসাথে ওই দীর্ঘ কালের বসবাসকারি ভূমিহীন হিসেবে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নিশ্চয়তা দেন। একইভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া তিনটি বৈদ্যুতিক মিটার দ্রুত লাগিয়ে দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে মুঠোফোনে নির্দেশনা দেন। সে অনুযায়ি সন্ধ্যা ৬টায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ স্থাপন করে দেন।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) অফিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ১০টার দিকে সদর সহকারি কমিশনারের উপস্থতিতে ফয়জুল্লাহপুর ঋষিপাড়ায় সরকারি খাস জমির পরিমাপ করা হয়। পরিমাপ শেষে উচ্ছেদের পরিকল্পনাকারীর জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে পাঁচ শতক, বহুল আলোচিত মাইকেলের প্রাচীরের মধ্যে দেড় শতক, সিয়াম ফার্মের মধ্যে চার শতকের বেশি, ভাটি মন্দিরে প্রায় এক শতক ছাড়াও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে খাস জমির পরিমান নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া আলাউদ্দিন ও রমা কুমার ম-লের জমির পরিমান আট শতক বলে নির্ধারণ করা হয়। রমা কুমার ম-ল ও আলাউদ্দিনের খাস জমি ব্যতীত অন্যান্যদের দখলে থাকা খাস জমিসহ অবশিষ্ট জমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে উদ্ধার করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ করে পূনঃরায় বসতবাড়ি সংস্কার করে বসবাস করার সূযোগ দেওয়ায় জেলা প্রশাসক মহোদয়কে মানবিক ও মহানুভব সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন আলাউদ্দিন সরদার ও রমা কুমার ম-ল। এতে মানববতার জয় হয়েছে ও ষড়যন্ত্রকারিদের নৈতিক পরাজয় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।







