Header Top Small Advertisement

17158135 - online internet banner with text your ad here on a web page web page with all pictures and informations are created by contributor himself
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

জ্বালানি সংকটে ভোমরা বন্দরে ট্রাক সংকট, পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫৫ অপরাহ্ণ
জ্বালানি সংকটে ভোমরা বন্দরে ট্রাক সংকট, পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল
ইব্রাহিম খলিল : জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরে দেখা দিয়েছে পরিবহন সংকট। ডিজেলের স্বল্পতার কারণে ট্রাক চলাচল কমে যাওয়ায় বন্দরে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে। সময়মতো পণ্য গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় পথে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল, বাড়ছে ট্রাকভাড়া ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে প্রতিদিন যেখানে গড়ে ৩০০ থেকে ৩৫০টি ট্রাক পণ্য নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত, বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০টিতে নেমে এসেছে। দূরপাল্লার ট্রাকগুলো সময়মতো ফিরতে না পারায় পরিবহন ব্যবস্থায় ধীরগতি তৈরি হয়েছে। ফলে বন্দরে খালাস হওয়া পণ্য সময়মতো সরানো যাচ্ছে না এবং পণ্যের স্তূপ জমে থাকছে।
ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানিকারক রিপন হোসেন বলেন, দেশে জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রান্সপোর্টগুলো ঠিকমতো গাড়ি দিতে পারছে না। অল্প কিছু গাড়ি দেওয়া হলেও অনেক সময় সেগুলো মাঝপথে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের দিকে যতগুলো গাড়ি পাঠাচ্ছি, তার অর্ধেক পথেই গিয়ে তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। সাতক্ষীরা থেকে স্বল্প পরিমাণ তেল নিয়ে গাড়ি ছাড়লেও তা গন্তব্য পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না। ফলে মাল দেরিতে পৌঁছাচ্ছে এবং কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মাল দেরিতে পৌঁছানোর কারণে অনেক পার্টি কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত কেটে নিচ্ছে। এতে আমরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি। জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান না হলে আমাদের ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
সাতক্ষীরা ভোমরা ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদিন কিরণ বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে ট্রাকভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
তিনি বলেন, আগে এক ট্রাক মাল ঢাকায় পৌঁছাতে ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা খরচ হতো। বর্তমানে সেই খরচ বেড়ে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। অনেক এলাকায় তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে আমরা ট্রাক পাঠাতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, বগুড়া, রংপুর, কিশোরগঞ্জ ও টাঙ্গাইল অঞ্চলে তেল সংকট তীব্র হওয়ায় এসব রুটে ট্রাক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তেল সংকটের কারণে তিন থেকে চার দিন পরপর একটি করে ট্রাক ভোমরায় ঢুকছে। অনেক সময় ফল, আদা ও অন্যান্য কাঁচামাল রাস্তায় তেল ফুরিয়ে পড়ে থাকছে, বলেন তিনি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে বন্দরে খালাস হওয়া বিপুল পরিমাণ পণ্য ট্রাকের অভাবে সময়মতো সরানো যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত সময়ে বাজারে পণ্য সরবরাহ করতে পারছেন না এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ট্রাকচালক বাবু বলেন, ভোমরা থেকে মাল নিয়ে বাইরে গেলে অনেক জায়গায় তেল পাওয়া যায় না। এতে আমাদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং আয়ও কমে যাচ্ছে। আমরা চাই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হোক। আরেক ট্রাকচালক সুমন হোসেন বলেন, আগে যেখানে দুই দিনে একটি ট্রিপ দেওয়া যেত, এখন সেখানে এক সপ্তাহেও একটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, গতকাল রাতে পাম্পে সিরিয়াল দিয়েছি, দুপুর হয়ে গেছে তবুও তেল পাইনি। কখন পাব, তারও নিশ্চয়তা নেই।
ট্রাকচালক আশিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়ায় ঠিকমতো খাওয়া-ঘুমও হচ্ছে না। তিনি বলেন, আগে চট্টগ্রাম ঘুরে আসতে প্রায় ১৮০ লিটার তেল লাগত। এখন অল্প অল্প করে তেল নিতে নিতে মোট প্রায় ২১০ লিটার পর্যন্ত লাগছে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পচনশীল পণ্য। সময়মতো পরিবহন না হওয়ায় কাঁচামরিচ, আদা, ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুসা বলেন, ভোমরা স্থলবন্দর এখন পূর্ণাঙ্গ কাস্টম হাউজে রূপান্তর হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা নানা সুবিধা পাচ্ছেন এবং বাণিজ্য কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ঠিক এ সময় জ্বালানি সংকট আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। পরিবহন সংকটের কারণে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে সরকারকে বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বন্দরের কার্যক্রমে আরও স্থবিরতা নেমে আসতে পারে।

Ads small one

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা ও চান্দুরিয়া বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় ক্যাটাগ্রা ট্যাবলেট ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার কেরাগাছি হতে ৩ লাখ ৯২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, চান্দুরিয়া বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার চান্দুরিয়া হতে ৮৪ হাজার টাকার ভারতীয় ক্যাটাগ্রা ট্যাবলেট আটক করে ।
আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

সাতক্ষীরায় পুলিশের অভিযানে দুটি বন্দুক ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ১৪

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় পুলিশের অভিযানে দুটি বন্দুক ও মাদকসহ গ্রেপ্তার ১৪

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকা হতে ২টি একনলা পুরাতন দেশীয় বন্দুক ও ৯ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা সদর থানার এলাকা হতে ৪০৯ বোতল উইনসেরেক্স কাশির সিরাপসহ ২জন এবং কলারোয়া থানার এলাকা হতে ৫০পিস ইয়াবাসহ ১জনকে আটক করা হয়। জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার রবিবার (১৯ এপ্রিল) মর্ণিং রিপোর্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

মর্ণিং রিপোর্টের তথ্যানুযায়ী সাতক্ষীরা সদর থানায় ৪জন, কলারোয়া থানায় ১জন, শ্যামনগর থানায় ৫জন এবং আশাশুনি থানায় ৪জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

মাদক উদ্ধারের ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

৩০ লাখ শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে, নির্মূল রোগও ফিরে আসার শঙ্কা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
৩০ লাখ শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে, নির্মূল রোগও ফিরে আসার শঙ্কা

দেশে অন্তত ৩০ লাখ শিশু বর্তমানে ১১টি মারাত্মক সংক্রামক রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। মূল কারণ—নিয়মিত টিকা না পাওয়া বা দেরিতে টিকা পাওয়া। এর মধ্যে পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার রোগ একসময় পুরোপুরি নির্মূল হয়েছিল। হাম, রুবেলা, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও রাতকানা রোগ নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে ছিল। এছাড়া যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি এবং নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া টিকার কারণে নিয়ন্ত্রণে ছিল।
সম্প্রতি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত দেড় বছর ধরে দেশের শিশু টিকাদান কর্মসূচি ভঙ্গুর অবস্থায় চলেছে। ফলে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই সংকটের তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:

১. টিকা কেনায় সংকট
২. সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা
৩. স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলনের কারণে মাঠ পর্যায়ে টিকাদান ব্যাহত

হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় টিকার ঘাটতি নিয়ে এখন ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ঠিকমতো টিকা দিতে না পারার কারণেই হাম ফিরে আসছে। তিনি বলেন, “টিকা সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।”

টিকা বিশেষজ্ঞদের মতে, গত চার-পাঁচ বছরে টিকা না পাওয়া শিশুর সংখ্যা প্রতি বছর জন্ম নেওয়া শিশুর সমান বা তারও বেশি হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩৪ লাখ শিশু জন্ম নেয়। সে হিসেবে টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা অন্তত ৩০ লাখে পৌঁছেছে।

জনস্বাস্থ্য ও টিকা বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ইসলাম এ বারী বলেন, “আগে প্রতি বছর দুই থেকে তিন লাখ শিশু টিকার আওতার বাইরে থাকত। গত বছর এ সংখ্যা অনেক বেড়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি চার বছরে অন্তত একটি বড় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে এ ঘাটতি পূরণ করার কথা, কিন্তু তা হয়নি। ফলে অরক্ষিত শিশুর সংখ্যা ৩০ লাখের কাছাকাছি পৌঁছে হাম মহামারি আকার ধারণ করেছে।”

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, টিকা না পাওয়া বা দেরিতে পাওয়ার কারণে আগে নির্মূল হওয়া পোলিও ও নবজাতকের ধনুষ্টংকার আবার ফিরে আসতে পারে। নির্মূলের পথে থাকা ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি ও রাতকানা রোগও বাড়তে পারে। এছাড়া যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস-বি, হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি ও নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়ার মতো রোগও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিন বছরে ২৫ লাখের বেশি শিশু টিকা পায়নি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুসারে:

– ২০২৫ সালে টিকাদানের হার মাত্র ৫৯.৬০ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪১ লাখ ২৮ হাজার ৬২৯ শিশু। ফলে প্রায় ১৬ লাখ ৬৮ হাজার শিশু টিকা পায়নি।
– ২০২৪ সালে টিকাদানের হার ৮৬.৭ শতাংশ, বঞ্চিত শিশু ৫ লাখ ৪৮ হাজার।
– ২০২৩ সালে টিকাদানের হার ৯৩.৬ শতাংশ, বঞ্চিত শিশু ২ লাখ ৬৮ হাজার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লক্ষ্যমাত্রা প্রকৃত শিশুর সংখ্যার চেয়ে কম ধরা হয় বলে শতভাগের বেশি দেখানো হয়। বাস্তবে টিকার কার্যকারিতা সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি বছর আরও প্রায় ৬ লাখ শিশু টিকা নিয়েও অরক্ষিত থাকে।

ইপিআইয়ের সদ্য ওএসডি হওয়া উপপরিচালক ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, ড্যাশবোর্ডের তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি কারণ স্বাস্থ্য সহকারীদের বেতন বকেয়া থাকায় তথ্য আপডেট ব্যাহত হয়েছে। পরবর্তীতে ওই তথ্য ড্যাশবোর্ড থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। তিনি দাবি করেন, ২০২৫ সালে সার্বিক টিকাদানের হার ৯০ শতাংশের বেশি ছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এ দাবিকে অসংগত বলে মনে করেন।

হামের প্রাদুর্ভাব ও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, “বর্তমানে দেশে হামের বড় প্রাদুর্ভাব চলছে। হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত এবং শত শত শিশু মারা গেছে। প্রকৃত সংখ্যা সরকারি তথ্যের চেয়েও বেশি হতে পারে, কারণ অনেকে হাসপাতালে আসে না।”

তিনি বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এর বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা জরুরি। টিকা না পাওয়া শিশুরা শুধু নিজেরাই ঝুঁকিতে থাকে না, বরং অন্যদের মধ্যেও সংক্রমণ ছড়ায়। একজন আক্রান্ত শিশুর থেকে ১৭-১৮ জনের মধ্যে রোগ ছড়াতে পারে।

টিকা কর্মসূচি ব্যাহতের কারণ
– অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অপারেশন প্ল্যান (ওপি) হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
– নতুন প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ ছাড় ও ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব।
– বাজেট ও ক্রয় পদ্ধতির আকস্মিক পরিবর্তন।
– স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলন ও বেতন বকেয়া।
– টিকা সরবরাহ ও মাঠ পর্যায়ে জনবলের অভাব।

ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইনও বন্ধ
এক বছরেরও বেশি সময় ধরে শিশুদের ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন বন্ধ রয়েছে। বছরে দুবার এ ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও গত দুই বছরে মাত্র দুবার হয়েছে। ফলে শিশুদের অন্ধত্ব ও পুষ্টিহীনতার ঝুঁকি বেড়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মঞ্জুর আল মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, “ভিটামিন-এ শিশুদের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ কর্মসূচি ব্যাহত হলে দীর্ঘমেয়াদে পুষ্টিহীনতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়বে।”

সংকটের মধ্যেও টিকার অপচয়

২০২৫-২৬ সালের প্রথম তিন মাসের তথ্য অনুসারে, বিভিন্ন টিকায় ৫ থেকে ২৮ শতাংশ ঘাটতি ছিল। একই সঙ্গে ভায়াল খুলে অপচয়ের হার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বর্তমান চ্যালেঞ্জ
বর্তমানে দেশের অনেক এলাকায় টিকা আছে কিন্তু কর্মী নেই, আবার কোথাও কর্মী আছে কিন্তু টিকা নেই। ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৭ জেলায় স্বাস্থ্য সহকারীদের প্রায় ৪৫ শতাংশ পদ খালি। টিকাকেন্দ্র রয়েছে প্রায় দেড় লাখ, কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভাবে কর্মসূচি পুরোদমে চালানো যাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি পুনরুদ্ধার, ভিটামিন-এ ক্যাম্পেইন চালু এবং টিকাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিশেষ ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন চালানো না হলে দেশে পোলিও, ধনুষ্টংকারসহ বিভিন্ন নির্মূলকৃত রোগ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।