বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিজিটাল অপচ্ছায়া: কিশোর মনস্তত্ত্ব, কুসংস্কার ও প্রতারণার বিস্তৃত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল অপচ্ছায়া: কিশোর মনস্তত্ত্ব, কুসংস্কার ও প্রতারণার বিস্তৃত

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

জামালপুরের এক নিভৃত গ্রামে মাটির নিচে পুঁতে রাখা প্রায় ৬৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার উদ্ধারের ঘটনাটি নিছক একটি অপরাধের খবর নয়; এটি আমাদের সময়ের এক গভীর সামাজিক সংকটের নির্মম প্রতিফলন। ঘটনাটির কেন্দ্রে রয়েছে এক অষ্টম শ্রেণির কিশোরী-যে তার পরিবারে ভালোবাসার ঘাটতি অনুভব করে এক অদৃশ্য ভার্চুয়াল জগতের ফাঁদে পা দেয়। আর সেই ফাঁদের নাম-ডিজিটাল তান্ত্রিক প্রতারণা। এই ঘটনাটি আমাদের সামনে কয়েকটি অস্বস্তিকর কিন্তু জরুরি প্রশ্ন ছুড়ে দেয়: আমাদের কিশোররা কার কাছে নিরাপদ? পরিবার, সমাজ, না কি অ্যালগরিদম-নিয়ন্ত্রিত ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে? বয়ঃসন্ধিকাল এমন একটি সময়, যখন একটি শিশুর মন সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল, প্রশ্নমুখর এবং ভঙ্গুর থাকে।

 

মনোবিজ্ঞানে ‘অনুভূত অবহেলা’ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাস্তবে অবহেলা না থাকলেও কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় নিজেদের অবহেলিত মনে করে। জামালপুরের কিশোরীর ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে। সে ভেবেছে, তার মা-বাবা ছোট ভাইবোনদের বেশি ভালোবাসে। এই অনুভূতি থেকেই জন্ম নেয় এক ধরনের অভিমান, যা ধীরে ধীরে রূপ নেয় বিচ্ছিন্নতায়। কারণ-যখন পরিবারে কথা বলার জায়গা থাকে না, তখন কিশোররা কথা বলতে যায় অজানা মানুষের সাথে। যখন বাস্তব জগতে স্বীকৃতি মেলে না, তখন তারা খোঁজে ভার্চুয়াল প্রশংসা এবং ঠিক এই জায়গাতেই প্রবেশ করে প্রতারক চক্র। ভার্চুয়াল জগত: নিরাপদ আশ্রয় না ডিজিটাল ফাঁদ? স্মার্টফোন আজ বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গেছে।

 

শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই এখন কিশোরদের হাতে ইন্টারনেট। কিন্তু প্রশ্ন হলো: আমরা কি তাদের শিখিয়েছি-কাকে বিশ্বাস করতে হবে? ফেসবুক, টিকটক, ইমু-এসব প্ল্যাটফর্মে তৈরি হচ্ছে এক বিকল্প বাস্তবতা। এখানে পরিচয় যাচাই নেই, দায়িত্ব নেই, কিন্তু প্রভাব আছে বিশাল। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে “তান্ত্রিক”, “হুজুর”, “জিনের বাদশাহ”, “আল্লাহর দান”-এসব পরিচয়ে অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্ট সক্রিয়। তারা মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, ভয়, ভালোবাসা এবং দুর্বলতাকে ব্যবহার করে। জামালপুরের কিশোরীও এমনই এক “ডিজিটাল তান্ত্রিক”-এর শিকার।বাংলাদেশের সমাজে আধ্যাত্মিকতা ও ধর্মীয় বিশ্বাস গভীরভাবে প্রোথিত।

 

এই বিশ্বাস মানুষকে শক্তি দেয়, আবার কখনো কখনো দুর্বলতাও তৈরি করে। তারা বলে-“তোমার পরিবার তোমাকে ভালোবাসবে না, কারণ তোমার ওপর খারাপ প্রভাব আছে” “এই স্বর্ণ দান করলে সমস্যা দূর হবে” “গোপনে কাজ করতে হবে, না হলে বিপদ হবে” এগুলো এক ধরনের মানসিক নিয়ন্ত্রণ কৌশল-যাকে বলা হয় psychological manipulation। এই কৌশলে শিকারকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করা হয়, ভয় দেখানো হয়, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে নিজের সম্পদ হস্তান্তরে বাধ্য করা হয়। ডিজিটাল পেমেন্ট ও প্রতারণার নতুন অর্থনীতি এই ঘটনায় বিকাশের মাধ্যমে লেনদেনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ, নগদ-এসব আমাদের অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। কিন্তু এর সাথে যুক্ত হয়েছে নতুন ধরনের ঝুঁকি। বিশেষ করে-অপ্রাপ্তবয়স্কদের বড় অংকের লেনদেন, সন্দেহজনক একাধিক ট্রানজ্যাকশন, ভুয়া পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, এসব ক্ষেত্রে নজরদারি এখনো দুর্বল। যদি রিয়েল-টাইম মনিটরিং এবং অ্যালার্ট সিস্টেম আরও শক্তিশালী হতো, তাহলে হয়তো এই প্রতারণা আগেই ধরা পড়ত। এই ঘটনার অন্যতম ভয়াবহ দিক হলো-অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন “কনটেন্ট ক্রিয়েটর”।

 

আজকের তরুণ প্রজন্মের কাছে “ভাইরাল হওয়া” একটি বড় লক্ষ্য। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার প্রতিযোগিতা অনেককে নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত করছে। কিছু মানুষ কনটেন্ট তৈরির আড়ালে-ভুয়া পরিচয় তৈরি করছে, অনুসারীদের আস্থা অর্জন করছে, এবং পরে সেই আস্থাকে ব্যবহার করছে প্রতারণার জন্য, এটি এক নতুন ধরনের “ডিজিটাল বিশ্বাসঘাতকতা”। এই ঘটনায় তদন্তকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি দেখায়-বাংলাদেশের আইনকৃঙ্খলা বাহিনী প্রযুক্তিগতভাবে এগোচ্ছে। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়: প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী? সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং কতটা কার্যকর? শুধু অপরাধের পর ব্যবস্থা নিলেই হবে না, অপরাধ ঘটার আগেই তা ঠেকাতে হবে।

 

জাতীয় সংকট: বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বৃহত্তর প্রবণতা জামালপুরের ঘটনা একা নয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়-লটারি প্রতারণা, বিদেশে চাকরির প্রলোভন, তান্ত্রিক চিকিৎসা,জিন-পরীর গল্প, এসবের মাধ্যমে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে।-যার শিকড় সমাজ, অর্থনীতি, শিক্ষা এবং প্রযুক্তির মধ্যে ছড়িয়ে আছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ। সন্তানের সাথে প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট কথা বলা, বিচার না করে শোনা, ডিজিটাল ব্যবহারে নজর রাখা, ডিজিটাল লিটারেসি বাধ্যতামূলক করা, কিশোর মনস্তত্ত্ব বিষয়ে কাউন্সেলিং চালু করা, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা সভা, সন্দেহজনক আচরণে প্রতিবেশীদের সক্রিয় ভূমিকা।

 

সাইবার ক্রাইম ইউনিট শক্তিশালী করা, ডিজিটাল লেনদেনে এআই-ভিত্তিক নজরদারি, ভুয়া কনটেন্ট নির্মাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, প্রযুক্তির সাথে মানবিকতার ভারসাম্য জামালপুরের সেই মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা সোনা উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু একটি কিশোর মনের ভাঙন-তা কি এত সহজে সারানো যাবে? আমরা আমাদের সন্তানদের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিচ্ছি, কিন্তু তাদের হাতে কি তুলে দিচ্ছি-সচেতনতা? নৈতিকতা? নাকি নিঃসঙ্গতা? “স্মার্ট বাংলাদেশ” কেবল প্রযুক্তির উন্নয়ন নয়; এটি একটি মানবিক সমাজ গঠনের অঙ্গীকারও।

 

যেখানে-কোনো কিশোরী ভালোবাসার অভাবে অচেনা কারো কাছে আশ্রয় খুঁজবে না, কোনো প্রতারক ধর্মের নামে মানুষকে ঠকাতে পারবে না, এবং কোনো পরিবার সন্তানের অভিমান বুঝতে ব্যর্থ হবে না। মনির হোসেনদের শাস্তি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কিন্তু তার চেয়েও জরুরি-প্রতিটি ঘরে ভালোবাসা, সচেতনতা এবং সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা। কারণ, ডিজিটাল অন্ধকারকে হারানোর সবচেয়ে শক্তিশালী আলো এখনো মানুষ-তার পরিবার, তার সমাজ, তার মানবিকতা।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট, আশাশুনি, সাতক্ষীরা

Ads small one

আশাশুনিতে কৃষি কর্মকর্তার বিভিন্ন বাজারে সারের দোকান পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে কৃষি কর্মকর্তার বিভিন্ন বাজারে সারের দোকান পরিদর্শন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান বিভিন্ন বাজারে সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বাজারের গাজী এন্টারপ্রাইজ, তৃষা এন্টারপ্রাইজসহ তিন দোকান ও আশাশুনি সদরের দুই দোকানসহ উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। কৃষকদের মাঝে সঠিক মূল্যে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পরিদর্শন পরিচালনা করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি উপজেলার বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি সারের দোকান ঘুরে দেখেন, সারের স্টক রেজিস্টার যাচাই করেন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের মাঝে সার বিক্রির নির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় সারের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং কোনো ধরনের অনিয়ম পেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় এবং ডিলারদের স্বচ্ছতা বজায় রেখে সার বিতরণে সজাগ থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা।

সাতক্ষীরায় শফিকুল ইসলাম শফিকের ‘খোলপেটুয়া’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শফিকুল ইসলাম শফিকের ‘খোলপেটুয়া’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় সুন্দরবন থিয়েটারের পরিচালক ও কবি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক রচিত ‘খোলপেটুয়া’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সঞ্চয় সমিতি ও ঋণদান প্রকল্পের সহ-সভাপতি গৌরাঙ্গ সরকার।

বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি, লেখক ও সৃজনশীল সংগঠক শেখ সিদ্দিকুর রহমান। তিনি ‘খোলপেটুয়া’ কাব্যগ্রন্থের বিষয়বস্তু, কবির সাহিত্যচর্চা এবং সাতক্ষীরার সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিমন্ডলে এ ধরনের প্রকাশনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি জনপদের নদী, প্রকৃতি, মানুষ, জীবন-সংগ্রাম ও অনুভূতির সঙ্গে সাহিত্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ‘খোলপেটুয়া’ নামের মধ্যেও সাতক্ষীরার নদী-প্রকৃতি ও জনজীবনের একটি নিজস্ব আবহ ফুটে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্রের নৃত্যশিল্পী এইচ কে হাসান এবং আরিফুল ইসলামসহ অন্যরা। বক্তারা কবি মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন এবং ‘খোলপেটুয়া’ কাব্যগ্রন্থের সাফল্য কামনা করেন।

বক্তারা বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা মানুষের মননশীলতা বিকাশের পাশাপাশি সমাজের অসংগতি, মানুষের সুখ-দুঃখ এবং জীবনবাস্তবতাকে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের নতুন এই কাব্যগ্রন্থ পাঠকদের মধ্যে সাড়া ফেলবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে কবি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের পেছনের ভাবনা ও সাহিত্যচর্চার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাস। সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সপ্তাহের ৬ দিন বন্ধ ওটি, নামে তালপুকুর-ঘটি ডোবেনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সপ্তাহের ৬ দিন বন্ধ ওটি, নামে তালপুকুর-ঘটি ডোবেনা

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় সপ্তাহের ছয় দিনই বন্ধ থাকছে অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রসূতি ও জরুরি অস্ত্রোপচারের রোগীরা। জটিল পরিস্থিতিতে রোগীদের প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে খুলনা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় ও ঝুঁকি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ডা. জহিরুল ইসলাম। তবে তিনি সংযুক্তিতে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে ৪ দিন এবং কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ দিন দায়িত্ব পালন করেন। পাইকগাছায় তিনি সপ্তাহে মাত্র ১ দিন দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ওই দিন ছাড়া অন্য ৬ দিন হাসপাতালে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকে। প্রতিদিনই অস্ত্রোপচারের জন্য রোগী আসেন। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে।

গত জুলাই মাসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রসূতি বিভাগে ১৫৫ জন রোগী ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের স্বাভাবিক প্রসব এবং ১১ জনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়। চলতি আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত ১২৫ জন প্রসূতি ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের স্বাভাবিক প্রসব এবং ৮ জনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়েছে। জুলাই মাসে জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৬৯৭ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। দৈনিক গড়ে রোগী ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৬৮ জন। আগস্টের ২৪ তারিখ পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪১৫ জন। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৫৯ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আগে এই হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ৩০টি অস্ত্রোপচার হতো। অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের সংকটে বর্তমানে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) সাকিলা আফরোজ বলেন, এখানে প্রতিদিন অপারেশনের জন্য অনেক রোগী আসেন। কিন্তু অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় আমাদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়।

অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি পাইকগাছা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান অসুস্থ। এ কারণে খুলনা শহরের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি পরিচালকের কাছে আবেদন করেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁর আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এরপরও তাঁকে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে ১ দিন করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম এই হাসপাতালে পদায়িত থাকলেও সংযুক্তিতে ফুলতলা হাসপাতালে ৪ দিন কাজ করছেন। তিনি পাইকগাছায় ১ দিন ও কয়রায় ১ দিন দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালে সার্বক্ষণিক একজন অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু এ উপজেলার মানুষ নয়, আশপাশের কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি ও তালা উপজেলার অনেক মানুষও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই দ্রুত একজন নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক পদায়ন করে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।