সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ড. ইউনূসকে করের ৬৬৬ কোটি টাকা দিতে বলা হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ
ড. ইউনূসকে করের ৬৬৬ কোটি টাকা দিতে বলা হাইকোর্টের রায় প্রকাশ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে বলা হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক রায় দুটি প্রকাশিত হয়েছে।

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারিকৃত রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন ও ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা দেওয়ার রায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রত্যাহার করেন। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়।

পরে নতুন বেঞ্চে মামলাটি শুনানির জন্য পাঠানো হয়। পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে প্রদেয় কর দাবি ঘিরে গ্রামীণ কল্যাণ ২০১৭ সালে পৃথক দুটি রিট দায়ের করা হয়। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রায় রুল দেন। সে রুল খারিজ করে রায় ঘোষণা করলেন হাইকোর্টের নতুন এ বেঞ্চ।

ফলে রিট খারিজ হওয়ায় আয়কর বাবদ গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে ওই অর্থ আদায় করতে পারবে এনবিআর—বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

Ads small one

সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, উপকারভোগী হবেন ৪০ লাখ নারী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ শুরু, উপকারভোগী হবেন ৪০ লাখ নারী

এসএম বিপ্লব হোসেন: নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় পরিবারগুলোর তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৪৫ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করে অনলাইন ডেটাবেইজ তৈরি করা হবে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে নতুন করে ৪০ লাখ নারী পরিবারপ্রধানকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

সোমবার সাতক্ষীরায় ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বাস্তবায়ন বিষয়ে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পাইলটিং পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রক্সি মিন্স টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা ভাতা বাবদ ব্যয় করা হবে। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, আর্থসামাজিক অবস্থা বিবেচনায় পিএমটি স্কোরের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

তথ্য সংগ্রহের জন্য দেশব্যাপী ৬৬ হাজার ৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৬ হাজার ৬৮১ জন সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বিশেষায়িত ট্যাবলেট ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সরাসরি অনলাইন ডেটাবেইজে যুক্ত করবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, সব নারী পরিবারপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে প্রথম তিনটি শ্রেণিভুক্ত দরিদ্র ও অপেক্ষাকৃত অসচ্ছল পরিবারের নারীপ্রধানেরা ভাতা পাবেন। পর্যায়ক্রমে আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে যোগ্য সব নারী পরিবারপ্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফ্যামিলি কার্ডে ডুয়াল চিপ, কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) প্রযুক্তি থাকবে। সরকারের টাকাপে পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত এ কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগীরা ব্যাংকের এটিএম বুথ, বিপণিবিতানের পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) এবং মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (এমএফএস) মাধ্যমে ভাতার টাকা তুলতে পারবেন।

সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুতে এক দিনে ভর্তি ১২, সতর্ক থাকার পরামর্শ সিভিল সার্জনের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুতে এক দিনে ভর্তি ১২, সতর্ক থাকার পরামর্শ সিভিল সার্জনের

ইব্রাহিম খলিল: সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৪১ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫২ জন। এ সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১২ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে দুজন রয়েছেন। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঁচজন, সদর হাসপাতালে একজন, দেবহাটায় একজন ও কলারোয়ায় তিনজন ভর্তি হয়েছেন। বাকি দুজন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৮৪১ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৬৮ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে ২০ জনকে। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই। তবে চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতালভিত্তিক হিসাবে, বর্তমানে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৮ জন, সদর হাসপাতালে চারজন, দেবহাটায় সাতজন, কালিগঞ্জে ১২ জন, কলারোয়ায় তিনজন, শ্যামনগরে তিনজন এবং বেসরকারি হাসপাতালে পাঁচজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আশাশুনি ও তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে কোনো ডেঙ্গু রোগী ভর্তি নেই।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুস সালাম। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

বাড়ির ফুলের টব, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

জ্বরসহ ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

আশাশুনি সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনি সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি সরকারি কলেজে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ৩৭৪ নবীন শিক্ষার্থীকে বরণ করে নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) কলেজের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিকতায় নতুন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো হয়। এ উপলক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে কলেজজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম এবং নবীনবরণ কমিটি-২০২৬-এর আহ্বায়ক এস এম হাবিবুল্লাহ বাহার।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে বিএমটি বিভাগে ৪২ জন, মানবিক বিভাগে ৩৩৪ জন, বিজ্ঞান বিভাগে ২৫ জন এবং বাণিজ্য বিভাগে ১৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে চার বিভাগে নতুন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭৪ জন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কলেজজীবন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ সময় নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শুধু ভালো ফলাফল অর্জন নয়, দেশ ও সমাজের কল্যাণে অবদান রাখার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্যও নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।

বক্তারা আরও বলেন, উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং দায়িত্বশীল আচরণ শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পথ সুগম করে। শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে অধ্যবসায়ের সঙ্গে এগিয়ে গেলে ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কলেজ কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ নবীনবরণের মধ্য দিয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের কলেজের শিক্ষা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের মধ্যে উচ্চশিক্ষার প্রতি আগ্রহ, শৃঙ্খলাবোধ ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
এ সময় কলেজের শিক্ষক, নবীন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।