সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

তালায় মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটির সাথে সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৩:৫৬ অপরাহ্ণ
তালায় মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটির সাথে সংলাপ সভা অনুষ্ঠিত

তালা প্রতিনিধি: ‎জলাবদ্ধতা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী-কিশোরীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তালা উপজেলা মানবাধিকার সুরক্ষা (সিএসও) কমিটির উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সাথে সংলাপ এবং যৌথ পদক্ষেপ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রিইব’র আয়োজনে, নেটস বাংলাদেশ’র সহযোগীতায় এবং হোপ প্রকল্পের অধিনে রোববার (২৮ জুন ) সকালে তালা উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসের হলরুমে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সিএসও সভাপতি শাহনাজ পারভীনের সভাপতিত্বে সংলাপ সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাজিরা খাতুন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আতিয়ার রহমান, যুব উন্নয়ন অফিসার আশুতোষ কুমার ও মহিলা বিষয়ক অফিসের প্রতিনিধি আলেয়া খাতুন প্রমূখ। ‎অনুষ্ঠানে বিষয় ভিত্তিক মূল বক্তব্য প্রদান করেন হোপ প্রকল্প সমন্বয়কারী খালিদ হাসান।

‎আঞ্চলিক সমন্বয়কারী তাহেরা সিদ্দিকার পরিচালনায় এসময় বক্তব্য রাখেন, মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটির সাধারন সম্পাদক চন্দ্র শেখর দাস, সদস্য গাজী জাহিদুর রহমান, জুলফিকার রায়হান, তারেক সরকার, মনি মোহন হালদার, মিজানুর রহমান, আফজাল হোসেন, ছায়া বিশ্বাস, চায়না রানী দাস, নারায়ণ রায়, হোসনে আরা খাতুন, রীতা বিশ্বাস, কবরি সরকার ও কাকলি দাস প্রমূখ।

‎সভা শেষে পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সিএসও সদস্যদের মধ্যে ফলদ বৃক্ষ চারা বিতরণ করা হয়।

Ads small one

মানহানীর মামলায় পত্রিকা সম্পাদক মোহিত কুমার নাথ ও সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ বেকসুর খালাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
মানহানীর মামলায় পত্রিকা সম্পাদক মোহিত কুমার নাথ ও সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ বেকসুর খালাস

পত্রদূত রিপোর্ট: মানহানির মামলায় দীপ্ত টেলিভিশন, প্রজন্মের ভাবনা ও বাংলা ’৭১ এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি রঘুনাথ খাঁ ও দৈনিক প্রজন্মের ভাবনার সম্পাদক মোহিত কুমার নাথকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস ম-ল এক জনাকীর্ণ আদালতে এ আদেশ দেন। মামলার বাদি আক্তারুজ্জামান বাচ্চু সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ সরদারের ছেলে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৯ জুন রাত ৯টার দিকে সাংবাদিক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু প্রেসক্লাবের সামনে বসে ছিপ দিয়ে পৌরদীঘির মাছ ধরছিলেন। বিষয়টি তাকে সতর্ক করেন পৌরসভার নৈশ প্রহরী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। নিষেধ অমান্য করে মাছ ধরা অব্যাহত রাখলে একপর্যায়ে তাকে আটক করেন পৌরসভার নৈশ প্রহরী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ। এ সময় তার কাছ থেকে আড়াই কেজি তেলাপিয়া মাছ ও একটি ছোট রুই মাছ জব্দ করা হয়।

 

এ ঘটনায় তিনি পৌর মেয়রের নির্দেশনা অনুযায়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৩০ জুন লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগপত্রে মাছ চুরির সময় ঘটনাস্থলে সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম, এম জিল্লুর রহমান, মনিরুল ইসলাম ও শাকিলা ইসলাম জুঁই উপস্থিত ছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় “অবশেষে মাছ চুরি করতে যেয়ে ধরা পড়লেন সাতক্ষীরার বাচ্চু” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ২০১৬ সালের পহেলা জুলাই দৈনিক প্রজন্মের ভাবনা পত্রিকায় সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

 

এতে ক্ষুব্ধ হন আক্তারুজ্জামান বাচ্চু। একপর্যায়ে তিনি ওই বছরের ১৮ জুন সাতক্ষীরার জ্যেষ্ট বিচারিক হাকিম আদালতে দৈনিক প্রজন্মের ভাবনার সাতক্ষীরা প্রতিনিধি রঘুনাথ খাঁ ও সম্পাদক মোহিত কুমার নাথ এর বিরুদ্ধে ৫০৫, ৫০০ ও ৫০১ ধারায় মামলা দায়ের করেন। আদালত বিবাদীপক্ষের বিরুদ্ধে সমন জারির নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে দন্ডবিধির ৫০০ ও ৫০১ ধারায় মামলার অভিযোগ গঠণ করা হয়। মামলায় বাদি পক্ষে সাক্ষী দেন সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনি ও শাকিলা ইসলাম জুঁই।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড, মোসলেমউদ্দিন ও অ্যাড. জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ২৪৫(১) ধারায় সাংবাদিক রঘুনাথ খাঁ ও সম্পাদক মোহিত কুমার নাথকে সোমবার বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। এ সময় বাদি ও আসামী কাঠগোড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

পিটিআই মাঠের কিনারায় পালপাড়ার শেষ চাকার গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
পিটিআই মাঠের কিনারায় পালপাড়ার শেষ চাকার গল্প

আখলাকুর রহমান

খুব সকালে যখন সাতক্ষীরা শহরের পিটিআই মাঠের পাশ দিয়ে হুসহুস করে মোটরসাইকেল, সাইকেল কিংবা যাত্রী বোঝাই ভ্যানগুলো ছুটে চলে, তখন ইঞ্জিনের কর্কশ শব্দের আড়ালে একটা অদ্ভুত চাকার ঘূর্ণন শব্দ ঢাকা পড়ে যায়। চলতি পথে তীব্র গতির এই ব্যস্ত পিচঢালা রাস্তার ঠিক ধারেই হঠাৎ চোখ আটকে যায় সারি সারি সাজানো মাটির সানকি, কলস, আর ছোট ছোট লালচে খেলনা হাঁড়ি-পাতিলের ওপর। চারপাশের আধুনিক কোলাহল আর যানবাহনের এই তীব্র গতির মাঝে জায়গাটা যেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কবি’ উপন্যাসের সেই থমকে যাওয়া কোনো এক আদিম জনপদ। এটি আমাদের চেনা শহরের আড়ালের সেই ঐতিহ্যবাহী কুমোর পাড়া বা পালপাড়া।

 

আজ হয়তো মোটরসাইকেল বা ভ্যানের গতি একটু কমিয়ে জানালার বাইরে তাকালে সেখানে হাতেগোনা মাত্র কয়েকটা ঘর চোখে পড়ে, যারা চরম দারিদ্র্য আর প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের দাপটের মাঝেও বুক দিয়ে আঁকড়ে ধরে রেখেছে তাদের বাপ-দাদার এই আদিম পেশাকে। কিন্তু এই জীর্ণতার পেছনে লুকিয়ে আছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস, যার সূত্রপাত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে, সাতক্ষীরার প্রাণস্পন্দন ‘প্রাণসায়র’ খালের হাত ধরে।

 

উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যখন জমিদার প্রাণনাথ রায়চৌধুরী এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে পলিমাটি কেটে ‘প্রাণসায়র’ খাল খনন করেন, তখন ইছামতি নদী থেকে এই জলপথ ধরে দূর-দূরান্তের বণিকেরা আসত। বিভূতিভূষণের উপন্যাসের কোনো মায়াবী নদীর মতো খালের সেই জোয়ারের জলের টানেই তৎকালীন নদীয়া, চব্বিশ পরগনা এবং খুলনার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দক্ষ মৃৎশিল্পীরা এসে এই খালের কূলে বসতি স্থাপন করেন।

 

মৃৎশিল্পের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল ভালো মানের আঠালো কাঁদা মাটি এবং তৈরি জিনিসপত্র দূর-দূরান্তে সহজে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সুলভ জলপথ। প্রাণসায়রের তীরের এই ভূখন্ডটি ছিল তাদের জন্য এক স্বর্গভূমি, কারণ খালের তলদেশের উর্বর পলিমাটি দিয়ে তৈরি হতো চমৎকার সব তৈজসপত্র, আর খালের ঘাট থেকেই নৌকায় করে তা চলে যেত দূরবর্তী হাট-বাজারে। দেখতে দেখতে পিটিআই মাঠের এই বিস্তীর্ণ এলাকাটি মুখরিত হয়ে উঠেছিল ‘পাল’ উপাধির শত শত কারিগরের কোলাহলে, যা কালের নিয়মে নাম পায় পালপাড়া।

সময় বদলেছে, জোয়ারের সেই প্রমত্তা প্রাণসায়র খাল আজ বদ্ধ, শীর্ণ এক প্রৌঢ়ার মতো নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। প্রকৃতি নিয়মরক্ষা করে দিনে হয়তো দুবার জোয়ার-ভাটা ঠিকই বয়ে নিয়ে আসে, কিন্তু সেই জলে আর আগের মতো লাবণ্যতা নেই, নেই কোনো প্রাণের স্পন্দন। যে খালের বুক চিরে একসময় বড় বড় মহাজনী নৌকা আর ধোঁয়া ওড়ানো স্টিমার দাপিয়ে বেড়াত, আজ সেখানে শুধুই জমাট বাঁধা কচুরিপানার স্তব্ধতা। কোনো এক রূপকথার অভিশাপে যেন এই নৌপথের সমস্ত বাণিজ্যিকতা আজ একদম বন্ধ হয়ে গেছে।

 

খালের জলের সাথে সাথে যেন পালপাড়ার জৌলুসও শুকিয়ে গেছে, শত পরিবারের সেই বিশাল পাড়াটি আজ সংকুচিত হতে হতে মাত্র কয়েকটি ঘরে এসে ঠেকেছে। নতুন প্রজন্ম আর মাটির চাকার পেছনে সময় নষ্ট করতে চায় না, কিন্তু প্রবীণ যে দু-চারজন কারিগর এখনো টিকে আছেন, তাদের কাছে এটি কেবল জীবিকা নয়। এটি তাদের ধমনীতে বহমান বংশানুক্রমিক রক্ত আর ঐতিহ্য। প্রতিদিন ভোরবেলা তারা যখন কাদা মাখানো চাকাটি ঘোরান, তখন চাকার প্রতিটি ঘূর্ণনে যেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে প্রাণসায়রের পুরনো ইতিহাস।

লেখা : আখলাকুর রহমান, উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা : আসিফা

 

 

 

 

 

 

 

সাতক্ষীরায় উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের টাকা মালিকদের নিকট হস্তান্তর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোন ও বিকাশের টাকা মালিকদের নিকট হস্তান্তর

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেলের তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন ও ভুলবশত অন্য নাম্বারে চলে যাওয়া বিকাশের টাকা ফেরৎ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন ২০২৬) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফোন ও টাকা প্রকৃত মালিকদের নিকট হস্তান্তর করেন পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম।

 

চলতি জুন মাসে এসব ফোন ও টাকা উদ্ধার হয়। জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের মধ্যে হতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৩ টি মোবাইল ফোন তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে দেশের বিভিন্ন স্থান হতে উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও জুন মাসে বিকাশ, নগদ ও রকেটে ভুলবশত অন্য নাম্বারে চলে যাওয়া ৪৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারে অধিক সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান এবং সাইবার প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করেন।