গ্রীষ্মমন্ডল: সম্ভাবনা, সংকট ও আমাদের দায়িত্ব
সাকিবুর রহমান বাবলা
আজ ২৯ জুন আন্তর্জাতিক গ্রীষ্মমন্ডল দিবস। কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলকে গ্রীষ্মমন্ডল বলা হয়। পৃথিবীর মোট ভূখন্ডের প্রায় ৩৫ শতাংশ জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চল জীববৈচিত্র্য, বনসম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল এবং নবায়নযোগ্য মিঠাপানি ৫০ শতাংশের বেশি এ অঞ্চলে। একই সঙ্গে বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ এখানে বসবাস করে।
সরাসরি সূর্যালোক গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল কৃষি, মৎস্য, বনজ ও পানি সম্পদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনও এই অঞ্চল পৃথিবীর অক্সিজেন ভান্ডার। গবেষণা বলছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অধিকাংশ শিশুর জন্ম হবে গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোতে, ফলে বৈশ্বিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে এ অঞ্চলের গুরুত্ব আরও বাড়বে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল কেবল সম্পদ নয়, এটি বিশ্ব অর্থনীতির নতুন ‘মেরুকেন্দ্র’ হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ। জলবায়ু পরিবর্তন, বন উজাড়, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্প কারখানা, দূষণ ও দারিদ্র্য গ্রীষ্মমন্ডলীয় দেশগুলোর জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ এর অন্যতম ভুক্তভোগী। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, উচ্চ তাপপ্রবাহ, খরা ও তীব্র লবণাক্ততার বিস্তার মানুষের জীবন ও জীবিকাকে ক্রমাগত ঝুঁকির মুখে ফেলছে। ফলে এ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ‘জলবায়ু উদ্বাস্তু’ অভিবাসন বাড়ছে।
পবিত্র কোরআনে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষা ও পরিবেশ ধ্বংস না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই প্রকৃতি সংরক্ষণ শুধু উন্নয়নের প্রয়োজন নয়, এটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্বও। বৃষ্টির পানি, প্রাকৃতিক জলাধার ও বন সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং জলবায়ু-সহনশীল কৃষির ব্যাপক প্রসার এখন সময়ের দাবি।
আন্তর্জাতিক গ্রীষ্মমন্ডল দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়-প্রকৃতি রক্ষা মানেই মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ রক্ষা। একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে পরিবেশ সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর পথ।












