তোমার হাসি
জহুরুল হক জুলু
তোমার হাসি আসে ভোরের সূর্যের মতো,
অন্ধকার ভেঙে আলো হয়ে নামে।
চোখের ভেতর জমে থাকা হাজার কান্না
গলে যায় এক নিমিষেÑ
যেন অদৃশ্য কোনো হাত
নীরবে ছুঁয়ে যায় হৃদয়।
তোমার হাসির শব্দে
শহরের সব কোলাহল যেন থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য থেমে থাকে সময়।
অবাক হয়ে আমি ভাবিÑ
কীভাবে সময়কেও তুমি
এত সহজে বন্দি করো!
আমি দেখিÑ
দেয়ালে ঝুলে থাকা পুরোনো ক্যালেন্ডার
হঠাৎ জীবন্ত হয়ে ওঠে।
দিন-তারিখের বিবর্ণ পাতার ভেতর
ফুঁড়ে ওঠে ভবিষ্যতের আলোকরেখা।
ক্লান্ত শরীরে তোমার হাসি
এক ফোঁটা বৃষ্টির মতো,
যেন মরুভূমির তৃষ্ণার মাঝে
হঠাৎ জন্ম নেয় স্বচ্ছ জলধারা।
পাথরের রুক্ষতা মুছে যায়,
মন ভরে ওঠে অচেনা ফুলের গন্ধে।
রাত গভীর হলে
জানালার ওপারে বাতাসের গুঞ্জন,
তবুও শুনি তোমার হাসির প্রতিধ্বনিÑ
যেন ভাঙা কাচে রোদের প্রতিফলন,
টুকরো টুকরো হয়েও
যে আলো ছড়িয়ে দেয় চারদিকে।
তুমি কি জানোÑ
তোমার হাসি শুধু ঠোঁটের বাঁক নয়,
এ যেন এক মহাবিশ্বের ভাষা,
যে ভাষা অচেনাকেও
এক মুহূর্তে করে তোলে আপন।
প্রতিটি শ্বাসে তোমার হাসি শুনি,
প্রতিটি নিঃশ্বাসে মন থমকে যায়।
ব্যস্ত শহরের কোলাহলের মাঝেও
মনে হয়, পৃথিবীর সব পথ
এক মুহূর্তের জন্য
তোমার দিকেই ফিরে যায়।
তোমার হাসিÑ
আমার অন্তহীন যাত্রার মানচিত্র,
ভাঙা আত্মার পুনর্গঠনের স্বপ্ন,
অদৃশ্য গন্তব্যের
একটি নীরব চাবি।
যখন বাতাস হালকা হয়ে আসে,
জলরাশিতে দেখি তোমার প্রতিচ্ছবি।
পথহারা ছায়াগুলো কেঁপে কেঁপে
চুপচাপ যেন বলেÑ
“এখানেই তো তুমি আছ।”
তোমার হাসি স্রোতের মতো,
বাঁকে বাঁকে মুছে দেয় দুঃখ,
নদীর মতো বয়ে চলে
হৃদয়ের গভীর ভেতর,
অজানা গন্তব্যের পথে
আলো ছড়িয়ে যায় নিরন্তর।
সকালের রোদ হোক
অথবা গভীর রাতের নিঃশ্বাস,
তোমার হাসি থেকে যায় জীবন্তÑ
যেন প্রতিটি মুহূর্তকে
নতুন রঙে এঁকে দেয়,
প্রতিটি নিঃশ্বাসে
গড়ে তোলে নতুন সকাল।
তোমার হাসিটা সত্যিই সকালের রোদ,
যা প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয়Ñ
অন্ধকার কখনো চিরস্থায়ী নয়।
তোমার হাসির আলোয় ভেসে থাকে
আমার সমস্ত নিঃশ্বাস,
আমার সমস্ত পথ,
আমার ফিরে পাওয়ার সমস্ত সকাল।







