মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

মাসুদ রানা

নদী, প্রকৃতি, ইতিহাস আর সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা দক্ষিণ-পশ্চিমের ঐতিহ্যবাহী জেলা সাতক্ষীরা। আর এই জেলার শিক্ষার আলো ছড়াতে যে প্রতিষ্ঠানটি গত আট দশক ধরে বাতিঘর হিসেবে কাজ করছে, তা হলো সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ। ‘জ্ঞানী শক্তি’-এই মহৎ বাণীকে বুকে ধারণ করে ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই বিদ্যাপীঠটি আজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও জাতীয়করণ:সাতক্ষীরা জেলার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ১৯৪৬ সালে এই কলেজের যাত্রা শুরু হয়। তৎকালীন শিক্ষানুরাগীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই বিদ্যাপীঠটি পরবর্তীতে ১ মার্চ ১৯৮০ সালে জাতীয়করণ করা হয়। জেলা শহরের রাজারবাগান এলাকায় অবস্থিত ৩০ একরের বিশাল এই ক্যাম্পাসটি সাতক্ষীরার শিক্ষার ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।

চোখ জুড়ানো সবুজ ও দৃষ্টিনন্দন ক্যাম্পাস: ৩০ একরের এই বিশাল ক্যাম্পাসে পা রাখলেই মন জুড়িয়ে যায়। কলেজের মূল ফটক বা প্রবেশদ্বার রয়েছে দুটি। প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই ডান পাশে চোখে পড়বে এক বিশাল আকৃতির শিশু গাছ, যা মূল ভবনের সামনের বিস্তৃত খালি জায়গাকে সবসময় মায়াবী ছায়ায় আবৃত করে রাখে। এছাড়া পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে রয়েছে অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছপালা।

ক্যাম্পাসের ভেতরে রয়েছে: মনোরম লেক ও মিঠা পানির পুকুর,যা ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শহীদ মিনার: কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ের ঠিক সামনেই বীর শহীদদের স্মরণে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনারটি অবস্থিত।
আরসিসি ঢালাই রাস্তা: কলেজের মসজিদের পাশ এবং বিজ্ঞান ভবনের সামনে দিয়ে একটি দীর্ঘ ও আঁকাবাঁকা আরসিসি ঢালাই রাস্তা চলে গেছে সরাসরি ছাত্রী হোস্টেলের সামনে।

অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শুধুমাত্র পড়াশোনাতেই নয়, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। ছাত্রদের আবাসিক হোস্টেল ২টি, ছাত্রীদের আবাসিক হোস্টেল ১টি, লাইব্রেরী ও ১টি দৃষ্টি নন্দন মসজিদ, বিস্তৃত ও উন্মুক্ত মাঠ, সুপরিসর সাইকেল ও মোটরসাইকেল শেড।

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে কলেজ অনুমোদিত ডিজিটাল আইডি কার্ড প্রদান করা হয়।

শিক্ষা কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী সংখ্যা: বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১৫,০০০ (পনের হাজার) শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছেন। উচ্চশিক্ষার বিস্তারে এখানে রয়েছে, অনার্স (স্নাতক) কোর্স ১৬টি বিষয়ে,মাস্টার্স (স্নাতকোত্তর) কোর্স ১৫টি বিষয়ে
সহ-শিক্ষা কার্যক্রম ও সংস্কৃতি চর্চা: লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে কলেজটিতে নিয়মিত সহ-শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখানে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এবং রোভার স্কাউট-এর সক্রিয় ইউনিট।

এছাড়াও প্রতি বছর ক্যাম্পাসে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বাঙালির প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ’ বা বাংলা নববর্ষ বরণ
যুগের পর যুগ ধরে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এই অঞ্চলের মেধা ও মননশীলতা গঠনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। জ্ঞানালোক ছড়ানোর পাশাপাশি একটি আদর্শ ও আধুনিক ক্যাম্পাস হিসেবে এই কলেজটি সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের গর্বের প্রতীক হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।

 

 

 

Ads small one

ফ্রান্সের বিপক্ষে আজ সুইডেনের কঠিন পরীক্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৪৪ অপরাহ্ণ
ফ্রান্সের বিপক্ষে আজ সুইডেনের কঠিন পরীক্ষা

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার রাত ৩টায় শেষ ৩২-এ সুইডেনের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিদের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জের অপেক্ষায় গ্রাহাম পটারের দল।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে ফ্রান্স। সেনেগাল, নরওয়ে ও ইরাককে হারানোর পথে ১০ গোল করেছে তারা। ফলে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে তাদের অবস্থান আরও শক্ত হয়েছে।

ফ্রান্সের হয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলে চারটি করে গোল করেছেন। এছাড়া দেজিরে দুয়ে ও ব্র্যাডলি বারকোলাও গোলের দেখা পেয়েছেন। ফলে আক্রমণভাগে ফ্রান্স কতটা ভয়ংকর, তারই প্রমাণ মিলেছে গ্রুপ পর্বে।

অপরদিকে, নিজেদের গ্রুপে নেদারল্যান্ডস ও জাপানের পেছনে থেকে তৃতীয় হয়ে নকআউট পর্বে উঠেছে সুইডেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিলেও পরের ম্যাচে একই ব্যবধানে নেদারল্যান্ডসের কাছে হারে তারা। শেষ ম্যাচে জাপানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে দলটি শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে। তবে এবার তাদের সামনে অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি।

শক্তিশালী ফরাসি দলের বিপক্ষে গোলের দায়িত্ব থাকবে সুইডেনের তারকা ফরোয়ার্ড ভিক্টর জিয়োকেরেস ও আলেক্সান্ডার ইসাকের কাঁধে। তাদের সঙ্গে আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন অ্যান্থনি এলাঙ্গাও।

সুইডেনের জন্য দুশ্চিন্তার বিষয়, দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিফেন্ডার ইসাক হিয়েন হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে গেছেন। ফলে ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণ সামলাতে রক্ষণভাগকে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। পাশাপাশি ভাগ্যও তাদের পক্ষে থাকতে হবে!

 

নতুন গুঞ্জন হাওয়ায়, প্রেম করছেন কেয়া পায়েল!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
নতুন গুঞ্জন হাওয়ায়, প্রেম করছেন কেয়া পায়েল!

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের ব্যক্তিজীবন নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। অতীতেও একাধিকবার তার প্রেমের গুঞ্জন শোনা গেছে। তবে এসব বিষয়ে তিনি কখনোই প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। এবার মালদ্বীপে তার অবকাশযাপনের একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে সামাজিকমাধ্যম।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মালদ্বীপে এক তরুণের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন কেয়া পায়েল। কখনও তাদের গল্প করতে, আবার কখনও একটি রেস্তোরাঁয় ওই তরুণকে নিজের হাতে খাবার খাওয়াতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা—কে এই তরুণ এবং তাঁর সঙ্গে অভিনেত্রীর সম্পর্ক কী?

অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের দাবি, ওই তরুণের নাম প্রাচুর্য। তাদের পরিচয় দীর্ঘদিনের এবং সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। সূত্রগুলোর ভাষ্য, এর আগেও তাদের যুক্তরাজ্যে একসঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেছে।

 

এমনকি ঘনিষ্ঠজনদের মতে, কেয়া পায়েল ও প্রাচুর্য দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কে রয়েছেন এবং বিষয়টি দুই পরিবারও জানে। ভবিষ্যতে বিয়ের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে কোনোপক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।

এদিকে মালদ্বীপের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভক্তদের কৌতূহল আরও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘদিনের গুঞ্জনের পর হয়তো এবার নিজের ব্যক্তিজীবন নিয়ে প্রকাশ্যে আসতে পারেন এই অভিনেত্রী। তবে এখন পর্যন্ত কেয়া পায়েল বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড

জুলাই গণআন্দোলন চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ ও ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১৪ মে এই মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি যে কোনোদিন রায়ের জন‍্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

সেদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশন পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা। অপরদিকে ইনুর পক্ষে যুক্তিতর্ক শেষ করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। মোট ৯ দিন নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। শুনানিতে আসামির পক্ষে বিভিন্ন আইনি দিক তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ইনু সংসদ সদস্য ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়।

মুনসুরুল হক বলেন, “কুষ্টিয়ায় ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় ইনুর কোনও সম্পৃক্ততা নেই। মামলার সাক্ষীরাও স্বীকার করেছেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুষ্টিয়ায় উপস্থিত ছিলেন না।”

প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। তাদের গুলিতে শহীদ হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়। পরে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ এনে ফরমাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) জমা দেয় প্রসিকিউশন।

ইনুর বিরুদ্ধে আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে তিন নম্বর অভিযোগে তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে ৬ ও ৭ নম্বর অভিযোগে এক লাখ করে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং উভয় চার্জে ১০ বছর করে দণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নম্বর অভিযোগে খালাস দেন আদালত।

তবে আলাদা আলাদা দণ্ড হলেও ট্রাইব্যুনাল বলেন, তাকে ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।