দেবহাটার কদমখালিতে অস্ত্রেরমুখে পোল্ট্রি খামারে লুটের অভিযোগ
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পোল্ট্রি খামারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে খামারের মালিকের স্বজনদের জিম্মি করে প্রায় ৬৫০টি সোনালি মুরগি, মুরগির খাবার, ব্যাটারি, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দেবহাটা উপজেলার কদমখালি-শশাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেবহাটা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কদমখালির বাসিন্দা মো. আনছার আলী বিশ্বাস। অভিযোগে ছইল উদ্দিন গাজী (৬০), আবু সুফিয়ান (৩৫), রাজু আহমেদ (৫০), আলফাজ উদ্দিন (২৭), আলেয়া বেগম (৪৫), মোশাররফ মোল্লা (৫০) এর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, রাতের আঁধারে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল পিকআপ নিয়ে খামারে আসে। তাদের কয়েকজনের হাতে দা, লাঠি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। খামারে থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাইরে বের হতে বাঁধা দেওয়া হয়। পরে খামারের মুরগি, খাবার ও বিভিন্ন মালামাল পিকআপে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে তিনি মোটরসাইকেল রেখে ঘেরে যান। রাত আড়াইটার দিকে ফিরে এসে দেখতে পান তার মোটরসাইকেল নেই। ঘটনাস্থলে ৪০-৫০ জন লোক ছিল এবং তারা দা-কুড়াল ও বন্দুক নিয়ে অবস্থান করছিল বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় লক্ষ্মী মন্ডল জানান, রাতে বাড়ির বাইরে হৈচৈ শুনতে পান। পরে রাস্তায় লাঠি ও ধারালো অস্ত্র হাতে অনেক লোককে চলাচল করতে দেখেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে ঢুকে মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
খামারের মালিকের ছেলে সবুজ হোসেনের দাবি, খামারে প্রায় ৬৫০টি সোনালি মুরগি, ২০ বস্তা খাবার, আইপিএস ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল ছিল। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় মোহাম্মদ জিয়াত আলী বিশ্বাস বলেন, রাত ৪টার দিকে তার ভাই তাকে ডেকে জানান, কয়েকজন ব্যক্তি তার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে খামারের সবকিছু নিয়ে গেছে। তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানানোর দাবি করেন। তার অভিযোগ, ঘটনাস্থলে কয়েকজনকে আটকে রাখা হলেও পুলিশ পরে তাদের আটক না করেই চলে যায়।
এদিকে ঘটনাটির সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করে বাবুরাম সরকার জানান, জমিটি তার মায়ের সম্পত্তি থেকে পাওয়া এবং পরে তিনি তা বিক্রি করেন। জমির মালিকানা নিয়ে সোহেল গাজীর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।
বর্তমান জমির মালিক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, তিনি জমিটি ক্রয় করেছেন এবং তার দাদু আনছার আলী বিশ্বাসকে সেখানে মুরগি পালনের জন্য লিজ দিয়েছেন। তার দাবি, জমি কেনার পর পরবর্তীতে মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং বর্তমানে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। সেই বিরোধের জেরেই খামারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সুফিয়ানের পিতা আসাফুর রহমান বক্তব্য না দিলেও বলেন, অপরাধ যে করবে তাকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে হামলা, লুটপাটের বিষয়ে দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল পুলিশ পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।










