মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

নগরঘাটা রহমতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদে ধস, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
নগরঘাটা রহমতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাদে ধস, আতঙ্কে শিক্ষার্থী-অভিভাবক

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৭নং নগরঘাটা ইউনিয়নের রহমতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের অংশ ফের ধসে পড়েছে। সোমবার (২২ জুন) বেলা আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সোমবার শিক্ষার্থীরা সকালের সমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় হঠাৎ করে কক্ষটির ছাদের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে। বিকট শব্দে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্র ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগেও একই শ্রেণিকক্ষের ছাদের অংশ ধসে পড়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শিবানী ব্যানার্জী আহত হয়েছিলেন।

 

ওই ঘটনার পর ভবনটির সংস্কার বা ঝুঁকিমুক্ত করার দাবি উঠলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বারবার ছাদ ধসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ওই কক্ষে পাঠদান করতে অনীহা প্রকাশ করছে। অভিভাবকদেরও উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, “বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেই ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও দুশ্চিন্তা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা শিক্ষা অফিসে লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেছি।”

স্থানীয় অভিভাবকেরা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পাঠদান চলতে পারে না। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত ভবনটির সংস্কার কিংবা বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, “বিদ্যালয় ভবনের ছাদ ধসের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদনও পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভবনটির অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের কমিটি গঠন, উপকূল সুরক্ষায় ১৮ দফা দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের কমিটি গঠন, উপকূল সুরক্ষায় ১৮ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (ক্যাফ)-এর জেলা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা শহরের পানসি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের গঠন ও অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন।

সভায় জলবায়ু সংকট ও উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লিডার্সের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অফিসার বিপাশা অধিকারী। এছাড়া বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাবেক সদস্য সচিব শেখ মোশফিকুর রহমান মিল্টন, অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব, নাট্যকর্মী ও শিক্ষক মাহফুজা লিপি, শিক্ষক নয়ন ভট্টাচার্য্য, লিডার্সের ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আব্দুল্লাহ, আশাশুনি উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন লিংকন, সাধারণ সম্পাদক মো. আকাশ হোসেন, সহ-সভাপতি মিনতি সরকার, শ্যামনগর উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি প্রধান শিক্ষক এস এম আমজাদ হোসেন, গণফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নাগরিক নেতা আলী নুর খান বাবুল, তরুণ জলবায়ু কর্মী হৃদয় মন্ডল, নুত্যশিল্পী তনয়া মেধা সায়নী, যুব জলবায়ু কর্মী সুদীপা বসু, সঙ্গীতশিল্পী মিতু মন্ডল ও নিপমালা সাহা।

লিডার্সের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অফিসার বিপাশা অধিকারী তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক সংকটের মুখোমুখি। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সুপেয় পানির সংকট উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সবচেয়ে বেশি বহন করছে।

আলোচনায় শেখ মোশফিকুর রহমান মিল্টন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় কৃষিজমি ও বসতভিটা হুমকির মুখে পড়ছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। অ্যাডভোকেট এস এম বিপ্লব বলেন, সিডর, আইলা, আম্পান ও রেমালের মতো দুর্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ও জনজীবনে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত সৃষ্টি করেছে।

 

মাহফুজা লিপি বলেন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি কৃষি, সুপেয় পানি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রধান শিক্ষক এস এম আমজাদ হোসেন বলেন, টেকসই বেড়িবাঁধ, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আলী নুর খান বাবুল বলেন, জাতীয় বাজেটে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।

সভা থেকে সভার সভাপতি সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন, উপকূলীয় অঞ্চলকে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নিরাপদ সুপেয় পানির ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সুন্দরবন সংরক্ষণ, জেলে সম্প্রদায়ের সুরক্ষা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিতসহ ১৮ দফা দাবি তুলে ধরেন।

সভায় সর্বসম্মতিতে সাংবাদিক শরীফুল্লাহ কায়সার সুমনকে আহবায়ক ও এডভোকেট এস এম বিপ্লবকে সদস্য সচিব করে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সাতক্ষীরা জেলা কমিটি গঠন করা হয়।

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় পনেরো লক্ষ টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় পনেরো লক্ষ টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: মঙ্গলবার (২৩ জুন ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা, মাদরা, হিজলদী ও চান্দুরিয়া বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার কেড়াগাছি হতে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। মাদরা বিওপির আভিযানে উত্তর ভাদিয়ালি হতে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার ঔষধ আটক করে। হিজলদী বিওপির আভিযানে বড়ালি হতে ৯০ লাখ ৬০০ টাকার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, চান্দুরিয়া বিওপির আভিযানে কাঁদপুর হতে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।
আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ১৪ লাখ ৭০ হাজার ৬০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

কয়রায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ
কয়রায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের বিরুদ্ধে বিএনপির বিক্ষোভ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: কার্যক্রম কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে কয়রা উপজেলা বিএনপি। বুধবার সকাল ১০ টার সময় কয়রা উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে থেকে বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি উপজেলার সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদর্শন করে কয়রা হাইস্কুল মোড়ে এসে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন।

বিএনপি নেতারা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কোনো ধরনের কার্যক্রম বা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের চেষ্টা প্রতিহত করতে তারা মাঠে রয়েছেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ঠেকাতে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।