নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা যেসব সুবিধা পাবেন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরে সন্ধ্যায় সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে নতুন বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
নতুন পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বনিম্ন ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। মূল বেতন ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
তবে প্রায় পাঁচ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যার ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি এখনও সিদ্ধান্তের পর্যায়ে রয়েছে।
সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনলে তাদের বেতন-ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। কারণ এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তাদের অনুমোদিত গ্রেডের মূল বেতনের শতভাগ এমপিও হিসেবে পেয়ে থাকেন।
বাড়বে মূল বেতন
নতুন পে-স্কেলের আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আনা হলে সবচেয়ে বড় সরাসরি সুবিধা হবে মূল বেতন বৃদ্ধি। তাদের যে গ্রেডে এমপিও রয়েছে, সেই গ্রেডের নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন কার্যকর হলে বর্তমানের তুলনায় বেতন বাড়বে।
এমপিওভুক্ত নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী নির্ধারিত গ্রেডের মূল বেতনের শতভাগ পেয়ে থাকেন। ফলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদ্যমান গ্রেড অনুযায়ী নতুন বেতন নির্ধারণ করা হলে, প্রচলিত এই নিয়মেই তারা নতুন স্কেলের বর্ধিত মূল বেতনের সুবিধা পাবেন।
নতুন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। অন্যদিকে নিম্ন গ্রেডগুলোতে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ।
ফলে কোনও এমপিওভুক্ত শিক্ষককে তার বিদ্যমান গ্রেডের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আনা হলে তার মূল বেতনও সংশ্লিষ্ট নতুন হারে নির্ধারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
বাড়বে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট
মূল বেতন বাড়ার ফলে পরবর্তী সময়ে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের অংকও বাড়বে। অর্থাৎ নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণের পর পরবর্তী ইনক্রিমেন্ট তুলনামূলক বেশি মূল বেতনের ভিত্তিতে হিসাব হবে।
বাড়বে উৎসব ও বৈশাখী ভাতা
মূল বেতনের সঙ্গে সম্পর্কিত উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতার অংকও নতুন মূল বেতন অনুযায়ী বাড়তে পারে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এসব সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন বা পরবর্তী সরকারি সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হবে।
বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতায় সুবিধার সুযোগ
নতুন পে-স্কেলে মূল বেতনের পাশাপাশি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতার কাঠামোও পরিবর্তন করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এসব ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের ক্ষেত্রেও এসব সুবিধা প্রযোজ্য হবে কি না, তা আলাদা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
অবসর সুবিধাতেও প্রভাব পড়তে পারে
মূল বেতন বাড়লে বেতননির্ভর অবসরকালীন ও কল্যাণ সুবিধার হিসাবেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার নির্দিষ্ট কাঠামো অনুযায়ী এ সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, সেটি পরবর্তী সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হবে।
মূল বিষয় এমপিওভুক্তির সিদ্ধান্ত
নতুন পে-স্কেল অনুমোদন হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন পে-স্কেলের অংশ হয়ে যাচ্ছেন না। তাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে সরকারকে আলাদা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে নতুন পে-স্কেলের মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট, উৎসব ও বৈশাখী ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি তাদের নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
অর্থাৎ, নতুন পে-স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হলে তাদের সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে গ্রেড অনুযায়ী নতুন ও বর্ধিত মূল বেতন পাওয়া। এর সঙ্গে মূল বেতননির্ভর অন্যান্য আর্থিক সুবিধাও বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।






