রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি উপজেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি উপজেলা

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 43;

এস এম হাবিবুল হাসান: সাতক্ষীরায় জাঁকজমকপূর্ণ জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আশাশুনি উপজেলা দল। তারা কালিগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর মেঘা ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা দল বনাম কালিগঞ্জ উপজেলা দলের মধ্যে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে নির্ধারিত সময় আশাশুনি উপজেলা দল ১-১ কালিগঞ্জ উপজেলা দল গোলের সমতায় শেষ হয়। নির্ধারিত সময়ে আশাশুনি উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলা দল বিজয়ী না হওয়ায় রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেয়। টাইব্রেকারের প্রথম শর্ট নিতে আসে আশাশুনি উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় বেনজামা। টাইব্রেকারে বেনজামার গোলে এগিয়ে যায় আশাশুনি উপজেলা দল। পরে কালিগঞ্জের হয়ে টাইব্রেকারে শর্ট নিতে আসে আল আমিন। আল আমিনের শর্ট আশাশুনি উপজেলার গোলকিপার শান্ত দক্ষতার সাথে সেভ করলে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে দর্শক পরিপূর্ণ সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামের পুরো গ্যালারী।পরে আশাশুনি উপজেলা দল টাইব্রেকারে বাকি ৪টা শর্ট সরাসরি গোল করে। অপর দিকে টাইব্রেকারে কালিগঞ্জ উপজেলা দল বাকি ৩টা শর্টে গোল করলে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়ে। ফলে আশাশুনি উপজেলা দল জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল কালিগঞ্জ উপজেলা দলকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
এর আগে, জমকালো আয়োজনে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ক্রীড়ামোদী দর্শকদের উপচে পড়া ভীড় আর রৌদ্রোজ্জল বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়াম পরিনত হয় জনসমুদ্রে। প্রথমার্ধের শুরুতেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ আর উভয় দলের সমর্থক ও দর্শকদের মহুর মহুর করতালিতে জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল খেলাটি হয়ে ওঠে প্রানবন্ত ক্রীড়া উৎসব। প্রথমার্ধের ৯ মিনিটের মাথায়আশাশুনি উপজেলা দল ৯ নাম্বার জার্সিধারী সবিজের গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায়। ১-০ গেলের লিড নিয়ে আশাশুনি উপজেলা দল আরও আক্রমাত্মক খেলতে থাকে। উপর দিকে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে কালিগঞ্জ উপজেলা দল পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে।
গোল পরিশোধের মরিয়া হয়ে আক্রমণের ধার ও খেলার ধরন পরিবর্তন করে প্রতি মুহূর্তে কালিগঞ্জ উপজেলা দল। কালিগঞ্জ উপজেলা দল শুরুতে ৪-৪-২ পজিশন থেকে গোল খেয়ে ৪-৩-২-১ পজিশনে খেলতে থাকে। অপর দিকে আশাশুনি উপজেলা দল আক্রমণের সান বাড়িয়ে ৪-২-২-২ পজিশনে খেলতে থাকে। প্রথমার্ধের শেষে আর কোন অঘটন না ঘটায় আশাশুনি উপজেলা দলের সজীবের একমাত্র গোলে ১-০ তে লিড নিয়ে বিরতি যান উভয় দল।
ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা দল ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতি থেকে ফিরে আরও আক্রমাত্মক খেলতে থাকে। অপর দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা দল গোল পরিশোধের মরিয়া হয়ে সর্বোচ্চ আক্রমাত্মক ভাবে খেলতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটের মাথায় কালিগঞ্জ উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় ১১ নাম্বার জার্সিধারীর ডি-বক্সের মধ্যে একা পেয়ে নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা করে আশাশুনি উপজেলা দলের গোলরক্ষক জি কে শান্ত।
গোলকিপার শান্তর একক প্রচেষ্টায় এ যাত্রায় রক্ষা পায় আশাশুনি উপজেলা। খেলায় আশাশুনি উপজেলা ১-০ কালিগঞ্জ উপজেলা দল। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধের ৮৫ মিনিটের মাথায় কালিগঞ্জ উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় ১০ নাম্বার জার্সিধারী আল আমিনের গোলে ১-১ সমতা নিয়ে ফেরে। ফলে আশাশুনি উপজেলা ১-১ কালিগঞ্জ উপজেলা দল। খেলার ৮৮ মিনিটের মাথায় আবারও আক্রমণে আশাশুনি উপজেলা দল। সজীবের শর্ট সেভ করেন কালিগঞ্জ উপজেলা দলের গোলকিপার নাঈম। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোন গোল না হওয়ায় ১-১ গোলের সমতা নিয়ে রেফারি বাঁশি বাজিয়ে শেষ করেন। নির্ধারিত সময়ে কোন দল জয়ী না হওয়ায় রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেয়। টাইব্রেকারের ফলাফল
আশাশুনি উপজেলা দল -১+১+১+১+১=৫। উপর দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা দল -০+১+১+১+-=৩
এর আগে ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মধ্যবিরতিতে দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আয়োজক কমিটি।
ডিসি কাপ ফুটবলের ফাইনালে রেফারি হিসেবে মাঠ পরিচালনা করেন তরুন প্রজন্মের অন্যতম আইকন আবু সুফিয়ান। সহকারী নাসির উদ্দীন  ও জাহাঙ্গীর কবির। চতুর্থ রেফারি হিসেবে ছিলেন মিজানুর রহমান। ম্যাচ কমিশনার আতাউর রহমান। এছাড়া মাঠে ধারা বিবরণীতে ছিলেন ওলিউর রহমান, ইসমাইল হোসেন মিলন ও আশরাফ হোসেন।

Ads small one

গুরুত্বপূর্ণ ‘ডিভাইস’ সরাতেই কি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
গুরুত্বপূর্ণ ‘ডিভাইস’ সরাতেই কি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য। র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে থাকা মামলায় জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালও জব্দ করে। এসব ডিভাইস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ২০০৭ সাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য, সার্ভার ও মুছে ফেলা ফাইল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের দাবি, উদ্ধার করা তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। আর সেই জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া একটি বক্তব্য সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

‘আগামীকাল গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটতে যাচ্ছে’

প্রসিকিউটর তানভীর হোসেন জোহার ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে একজনের কাছ থেকে পাওয়া বক্তব্যে জানা যায়—তৎকালীন র‍্যাব প্রধানের ড্রাইভে দায়িত্ব পালন করা এক ব্যক্তিকে হত্যাকাণ্ডের আগের দিন বলা হয়েছিল, ‘আগামীকাল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে’ এবং প্রয়োজন হলে তাকে ভোরে উপস্থিত থাকতে হবে। যার পরদিনই জানা যায় সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের খবর।

তবে ওই ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আগে থেকে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছিলেন কিনা, কিংবা ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি কোনও সম্পৃক্ততা ছিল কিনা— তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাই প্রসিকিউশনও বিষয়টিকে তদন্তে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবেই দেখছে।

ডিভাইসে কী পাওয়া গেল?

প্রসিকিউটর তানভীর হোসেন জোহা জানান, জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সার্ভারে দীর্ঘ সময়ের বিপুল তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু ফাইল মুছে ফেলা হলেও সেগুলোর একটি অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। আবার কিছু তথ্য ও নথি আগে থেকেই প্রিন্ট করা অবস্থায় ছিল। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা তিন থেকে চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বলেও জানান তিনি।

জোহার বক্তব্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের মধ্যে আরও কিছু সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে বিডিআর কিংবা তৎকালীন সরকারের কোনও স্পর্শকাতর নথি বা তথ্য-উপাত্ত ডিস্ক, টেপ বা মেমোরি-সংক্রান্ত ডিভাইসে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তির কাছে আরও কিছু ডিভাইস থাকার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তদন্তকারীদের ধারণা, এসব ডিভাইস ও তথ্য সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের হাতে গেলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।

যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বা বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রয়েছে কিনা তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১৯৭৩ সালের আইনের ৩ ধারায় কোন কোন অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার বা তদন্তের আওতাভুক্ত, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড একটি বাসায় সংঘটিত সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হলে সেটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কিনা, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে চাননি তিনি। তবে কোনও অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা পড়লে সেটি গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর

‘অন্য কোনও ঘটনার সূত্র ধরে ক্লু পাওয়া যেতে পারে’

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিম বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত করছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরে অন্য কোনও ঘটনার সঙ্গে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্রের তথ্য সামনে আসতে পারে।

তানভীর জোহার দেওয়া তথ্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে এমন একটি ক্লু পাওয়া গেছে, যেখানে কোনও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সামরিক কর্মকর্তা কিংবা র‍্যাব কর্মকর্তার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে তদন্তে উঠে আসা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, যদি বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়— তাহলে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের চলমান তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে সেই তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে।

আবেদন করলে কী করবে ট্রাইব্যুনাল?

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হলে, তা সরাসরি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান না করে আইনগতভাবে যাচাই করা হবে—এমন অবস্থান জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আবেদনটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়লে সেটি গ্রহণ করা হবে। আর এখতিয়ারের বাইরে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন রুনীর ভাই

সাগর-রুনী হত্যা মামলার বাদী ও রুনীর ভাই নওশের আলী রোমান জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে যেসব মামলার বিচার চলছে, সেগুলোর সঙ্গে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচারিক এখতিয়ার কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে এটি দীর্ঘদিনের আলোচিত ও অমীমাংসিত মামলা এবং নিহত দুজনই সাংবাদিক হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি দেখবে—এমন প্রত্যাশা তাদের রয়েছে।

এসময় সাংবাদিক দম্পতির একমাত্র সন্তান মাহির সারওয়ার মেঘ উপস্থিত থেকে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে হত‍্যাকাণ্ডটির সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মামলার বিবরণী অনুসারে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী নিহত হন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্যের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

এনবিআরে একসঙ্গে ৩৬ অতিরিক্ত কর কমিশনার বদলি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪২ অপরাহ্ণ
এনবিআরে একসঙ্গে ৩৬ অতিরিক্ত কর কমিশনার বদলি

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিসিএস (কর) ক্যাডারে বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। একযোগে ৩৬ জন অতিরিক্ত কর কমিশনারকে বদলি করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে কর অঞ্চল, কর আপিল অঞ্চল, আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, কর পরিদর্শন পরিদদফতরসহ এনবিআরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পরিবর্তন করা হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের কর প্রশাসন-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রথম সচিব ওয়াকিল আহমদ সই করা প্রজ্ঞাপনে বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দীপক কুমার চক্রবর্তীকে কর আপিল অঞ্চল-চট্টগ্রামের আপিলাত রেঞ্জ-১ থেকে চট্টগ্রাম কর আপিল অঞ্চল-২-এর আপিলাত রেঞ্জ-১-এ বদলি করা হয়েছে। মোহাম্মদ আব্দুল্লাহকে কর পরিদর্শন পরিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-১১-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ পাঠানো হয়েছে।

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে ঢাকা কর অঞ্চল-২২-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-৪-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ এবং মোহাম্মদ মঈনুল হাসানকে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-১-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইভানা আফরোজ সাঈদকে উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট থেকে কর পরিদর্শন পরিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, মুরাদ আহমেদকে যশোর কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-৩-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এবং মো. শহিদুল ইসলামকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৩ থেকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ পদায়ন করা হয়েছে।

মাসুদুল করিম ভূঁইয়াকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৮ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-২-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ, হাছিনা আক্তারকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৬ থেকে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে এবং রিগ্যান চন্দ্র দেকে ঢাকা কর অঞ্চল-৬-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৩-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ বদলি করা হয়েছে।

ফারজানা নাজনীনকে ঢাকা কর অঞ্চল-১-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-১-এর আপিলাত রেঞ্জ-২-এ এবং সুলতানা হাবীবকে ঢাকা কর অঞ্চল-২২-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে একই অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ বদলি করা হয়েছে।

অপরদিকে কামরুল হাসানকে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৮-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ এবং শেখ মো. কামরুজ্জামানকে কর পরিদর্শন পরিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৬-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ পাঠানো হয়েছে।

আরিফুল হককে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-১-এর আপিলাত রেঞ্জ-২ থেকে এনবিআরের প্রথম সচিব (কর) পদে পদায়ন করা হয়েছে। তানিয়া সুলতানাকে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-৩-এর আপিলাত রেঞ্জ-২ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-২২-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ এবং মো. মারুফ উল আবেদীনকে ফরিদপুর কর অঞ্চল থেকে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-৩-এর আপিলাত রেঞ্জ-২-এ বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া মো. তানভীর মোর্শেদকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-২ থেকে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটে, তাছলিমা ইসলাম ও মুহা. রাশেদুল হাসানকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-২-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২ থেকে একই অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ এবং মো. সাইফুর রহমান রাসেলকে ঢাকা কর অঞ্চল-১ থেকে এনবিআরের আন্তর্জাতিক কর ইউনিটে বদলি করা হয়েছে।

মুসতবা ইশতিয়াক আহমদকে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট থেকে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-২-এর আপিলাত রেঞ্জ-১-এ এবং দীপক কুমার পালকে কর পরিদর্শন পরিদফতর থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-৬-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২-এ পাঠানো হয়েছে।

তরঙ্গ কুমার মণ্ডলকে ঢাকা কর অঞ্চল-৫ থেকে নারায়ণগঞ্জ কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ এবং ফারহানা শেখকে কর পরিদর্শন পরিদফতর থেকে উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া অমিত কুমার দাসকে উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট থেকে এনবিআরের প্রথম সচিব (কর), মো. ফারজানুল ইসলামকে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের যুগ্ম পরিচালক পদ থেকে কর পরিদর্শন পরিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং সোনালী বিশ্বাসকে ঢাকা কর অঞ্চল-২৪ থেকে ঢাকা কর অঞ্চল-৯-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২-এ বদলি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রণব সরকারকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৭ থেকে রংপুর কর আপিল অঞ্চলের আপিলাত রেঞ্জ-১, মো. আবুল কালাম আজাদকে ঢাকা কর অঞ্চল-১৫ থেকে যশোর কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এবং মোহাম্মদ দাউদ হোসেনকে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট থেকে ঢাকা কর আপিল অঞ্চল-৬-এর আপিলাত রেঞ্জ-১-এ বদলি করা হয়েছে।

মো. এনামুল কবিরকে কুমিল্লা কর অঞ্চল থেকে ঢাকা বিসিএস (কর) অ্যাকাডেমির পরিচালক, বাপন চন্দ্র দাসকে নোয়াখালী কর অঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৩-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১, মহিদুল ইসলামকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-২ থেকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৪-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-১ এবং মো. শফিউল ইসলামকে ঢাকা কর অঞ্চল-২ থেকে চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-৬-এর পরিদর্শী রেঞ্জ-২-এ বদলি করা হয়েছে।

এস এম গালিব ফারুককে ময়মনসিংহ কর অঞ্চল থেকে পাবনা কর অঞ্চলের পরিদর্শী রেঞ্জ-১-এ পদায়ন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি করা কর্মকর্তারা বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব যথাযথভাবে হস্তান্তর করে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেবেন। যেসব কর্মস্থলে এসব কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে, সেখানে আগে থেকে কেউ অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।

সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:২৯ অপরাহ্ণ
সাবেক সেনাপ্রধান শফিউদ্দিনকে দুদকে তলব

বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টায় তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের সই করা নোটিশে বলা হয়েছে, এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ‘বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ’ অনুসন্ধান করছে কমিশন।

অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদকের পরিচালক আবুল হাসনাতকে দলনেতা এবং উপপরিচালক মোজাম্মিল হোসেনকে সদস্য করে দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে শফিউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য শোনা ও গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ জন্য নির্ধারিত দিনে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিসহ তাকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে।

দুদকের নথি অনুযায়ী, শফিউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর।

জেনারেল (অব.) এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ ২০২১ সালের ২৪ জুন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিন বছর সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০২৪ সালের ২৩ জুন অবসরে যান।

সেনাপ্রধানের দায়িত্বে থাকার সময় তিনি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।