নীরবতার প্রতিধ্বনি
জহুরুল হক জুলু
চোখের গভীরে ছিল এক অচেনা দিগন্ত,
যেখানে আমার অস্থির স্বপ্নেরা পেয়েছিল আশ্রয়।
নক্ষত্ররা সাক্ষী ছিল সেই নিঃশব্দ উড়ানে,
যেন সময় থেমে গিয়েছিল অদৃশ্য মায়াবন্ধনে।
তুমি কিছুই বলোনিÑ
তবু বাতাসে লেখা হয়েছিল এক অনুচ্চারিত ভাষা।
শব্দের কোনো প্রয়োজন হয়নি,
হৃদস্পন্দনই ছিল একমাত্র ছন্দ।
সেই সুর শুনেছিলাম নীরবে,
অন্ধকারের ভেতর আলো হয়ে।
যেন সমুদ্রের গভীরে ডুবে থাকা মুক্তো
অকথিত প্রেমের দীপ্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে।
পৃথিবী যেন চমকে উঠেছিল,
যখন আমাদের নীরবতা হয়ে উঠেছিল উচ্চারণ।
মানুষ ভাবল, আমরা নিশ্চুপÑ
কিন্তু আকাশ জানত, আমরা কথা বলছি ঢেউয়ের মতো।
অস্তিত্বের সীমানা পেরিয়ে গিয়েছিল সেই সংলাপ,
যেখানে দেহ ছিল দূরে,
কিন্তু আত্মা মিলেছিল সুরের প্রতিধ্বনিতে।
সময়ের ঘড়ি হারিয়ে ফেলেছিল পথ,
কেবল হৃদস্পন্দন গুনছিল অমর প্রেমের স্পন্দন।
আমাদের দৃষ্টি হয়ে উঠেছিল এক মহাকাব্য,
যেখানে প্রতিটি পলক ছিল একটি অধ্যায়।
রাতের নীরবতা ছিল তার সাক্ষী,
দিনের আলো লুকিয়ে রেখেছিল গোপন কাব্য।
আমরা উচ্চারণ করিনি কোনো নাম,
তবু নিয়তির পাতায় লেখা ছিল একে অপরের পরিচয়।
তুমি ছিলে আমার অদৃশ্য স্বপ্নের প্রতিমা,
আমি ছিলাম তোমার অনুচ্চারিত প্রার্থনা।
ভালোবাসা আমাদের ছুঁয়ে গিয়েছিল
নিঃশব্দের অসীম নদীতে।
এভাবেই আমাদের গল্প বেঁচে থাকেÑ
শব্দহীন, অথচ অনন্ত;
নীরবতার গভীরে আজও
প্রতিধ্বনিত হয় সেই অমোঘ প্রেম।






