সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাটকেলঘাটায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় প্রাথমিক বিদ্যালয় ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ২ টি কেন্দ্রে বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৪৮ জন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৪৪২ জন। ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণীর বৃত্তি পরীক্ষা পাটকেলঘাটার দুটি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাটকেলঘাটা কুমিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি ভেনুতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২৮০ জন। এরমধ্যে ১৭৮ জন পরীক্ষার্থী বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। পাটকেলঘাটা থানার ১ নাম্বার নগরঘাটা ইউনিয়ন ২ নম্বর ধানদিয়া ৩ খলিশখালী এই তিনটি ইউনিয়নের মোট ৫১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর পরীক্ষার্থীরা এ বৃত্তি পরীক্ষা অংশগ্রহণ করেছে।
কুমিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র সফরে দায়িত্ব পালন করেন কলাপাতা প্রাথমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান এবং কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন কুমিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম।
তালা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার সন্তোষ কুমার কেন্দ্রে পরিদর্শন করেছেন এবং মেডিকেল অফিসার হিসেবে ডাক্তার সুব্রত কুমার দে পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে।
কুমেরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রের অল সচিব মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার সকাল ১০ টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় এই দুটি সাবজেক্টের ৫০ প্লাস ৫০ মোট ১০০ মার্কের দুটি বিষয় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে কুমিরা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় প্রাথমিক বিদ্যালয় এর বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৬৪ জন। এর মধ্যে অংশগ্রহণ করেছে ২২৪ জন।
কুমিরা বালিকা বিদ্যালয় হল সাফারের দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষা অফিসার ইমান উদ্দিন। অন্যদিকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব পালন করেন কুমিরা পাইলট মা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস।
এ কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন তালা ইসলাম কাটি উপস্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা অফিসার রনি কুমার মন্ডল। কুমিরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কুমিরা পাইলট বালিকা বিদ্যালয় এ দুটি কেন্দ্রের সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কুমড়া পাইলট বালিকা বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক কেন্দ্র সদস্য সচিব গৌতম কুমার দাস এ প্রতিবেদককে বলেন সরকার এ বছর সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে সিসি ক্যামেরার ব্যবস্থা করেছে।

Ads small one

টানা বৃষ্টির ধাক্কায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
টানা বৃষ্টির ধাক্কায় নিত্যপণ্যের বাজারে অস্বস্তি

এম শফিকুল ইসলাম

শ্রাবণের টানা বৃষ্টির প্রভাবে নিত্যপণ্যের বাজারে আবারও দেখা দিয়েছে অস্বস্তি। সাতক্ষীরার শহর ও গ্রামাঅঞ্চলের হাট-বাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজি, কাঁচা ঝাল, পেঁয়াজ, মাছ, ডিম ও মুরগির দাম বেড়েছে। কোথাও কোথাও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি পণ্যের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ১০০ টাকা। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ হাটবাজারে পেঁপে, পটল, চিচিঙ্গা, ঢেড়স, ও ঝিঙে ছাড়া অধিকাংশ সবজি ৮০ টাকার নিচে মিলছে না। কাঁচা ঝালের দাম বেড়েছে ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা কেজি। সোমবার গ্রামাঞ্চলের হাট -বাজার ঘরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

 

ভোমরা বন্দর বাজারে সপ্তাহের ব্যবধানে সবজের দাম সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে। বেগুন ১১০ টাকা, শসা ৫০ থেকে ৭০ টাকা, টমেটো ২০০ থেকে ২২০ কোটি টাকা, গাঁজর ৭০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৬০ টাকায় উঠেছে। আলু বিক্রি হচ্ছে ২৮ টাকা ৩০ টাকা কেজি দরে। পদ্মা শাঁখরা, মাহুদপুর, ভারুখালী ও ঘোনা বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। কাঁচা ঝাল ২৩০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোমরা পুরাতন হাটখোলা সবজির বাজারে পটল ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, চিচিঙ্গা ও ধুন্দাল ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকা এবং বেগুন ৮০ টাকা থেকে ৯০ টাকায় কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে বিভিন্ন জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে বাজারের সবজিসহ কৃষিপণ্যের সরবরাহ কমেছে।

 

একই সঙ্গে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে তার প্রভাব পড়েছে। ভোমরা বাজারের সবজি বিক্রিতা জিয়াদ আলী জানান, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে হু হু করে সবজির দাম বেড়েছে। দাম বাড়ায় আমাদের বেচা কেনাও অনেক কমে গেছে। ক্রেতারা আগে বেশি করে বেশাতি করলেও এখন অল্প করে কিনছেন। আরেক বিক্রেতা সুশান্ত সরকার বলেন, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ভোমরা বন্দর সবজির বাজারে অর্ধেকের বেশি দাম বেড়েছে। যে সবজি ৪০ টাকা ছিল, সেটিই এখন ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা ঝাল ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২২০ টাকায় উঠেছে।

 

বাজারের এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন নি¤œ আয়ের মানুষ। শুধু সবজি নয়, মুরগি ও ডিমের বাজারেও স্বস্তি ফেরেনি। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৭০ টাকা ২০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৯০ টাকা থেকে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে নিত্যপণ্যের বাজারের দূরত্ব স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দামও কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। লেখক: নাট্যকর্মী

 

প্রকৃতি ও প্রজন্মের মেলবন্ধন: টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
প্রকৃতি ও প্রজন্মের মেলবন্ধন: টেকসই ভবিষ্যতের সন্ধানে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

সাকিবুর রহমান বাবলা

আমাদের অস্তিত্বের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা হলো এই ধরিত্রী। বাতাস গ্রহণ থেকে শুরু করে যে জল পান করে আমরা বেঁচে আছি, তার প্রতিটি ফোঁটার উৎস এই প্রকৃতি। আবহমানকাল থেকেই মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক ছিল পরিপূরকÑ একটি অচ্ছেদ্য সখ্য। কিন্তু আধুনিকতার ছদ্মবেশে অপরিকল্পিত নগরায়ন, যান্ত্রিকায়ন এবং অতিরিক্ত ভোগের মানসিকতা আজ এই সুপ্রাচীন ভারসাম্যকে তীব্র সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। প্রতি বছর ২৮ জুলাই পালিত ‘বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস’ আমাদের সেই নির্মম সত্যটিই নতুন করে মনে করিয়ে দেয়: প্রকৃতি বাঁচলেই কেবল মানবজাতি বেঁচে থাকবে।

১৯৭২ সনে সুইডেনের স্টকহোমে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ‘মানব পরিবেশ সম্মেলন’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিবেশ রক্ষার দাবির প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এই ঐতিহাসিক সম্মেলন থেকেই বৈশ্বিক নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ প্রকৃতি সুরক্ষার দিকে আকৃষ্ট হয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ ইউনিয়ন এবং সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে দিনটি প্রকৃতি সংরক্ষণের বার্তা প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

আজ পৃথিবীর বুকে মানুষের সংখ্যা আট বিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে এবং তা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিশাল জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ পড়েছে নজিরবিহীনভাবে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের বহু অঞ্চল তীব্র পানিসংকটের মুখোমুখি হতে পারে।

 

বিশ্বের বহু উষ্ণম-লীয় বনাঞ্চল দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে, ফলে কার্বন শোষণের প্রাকৃতিক সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে দেখা দিচ্ছে রেকর্ড ভাঙা দাবদাহ, আকস্মিক বন্যা এবং দীর্ঘস্থায়ী খরা। আইপিবিইএস-এর বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ১০ লক্ষ প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বাস্তুতন্ত্রের এই ধস মানবজাতির খাদ্য নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের জন্য সরাসরি হুমকি।

আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চিরকালই প্রকৃতিকে মায়ের আসনে বসিয়েছে। আবহমান বাংলার লোকায়ত জীবন ও ঐতিহ্যে নদী, বৃক্ষ এবং প্রান্তর কেবল জীবিকার উপাদান নয়, বরং গভীর শ্রদ্ধার বস্তু। গাছকে জীবনদাতা এবং নদীকে মাতৃসম গণ্য করার এই দর্শন আমাদের আত্মস্থ করতে হবে। প্রকৃতি ধ্বংস করা মানে নিজের শেকড় কেটে ফেলাÑএই উপলব্ধিই হতে হবে আমাদের সব কাজের নৈতিক মানদ-। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম। উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ এবং ক্রমবর্ধমান তাপপ্রবাহ আমাদের জন্য প্রকৃতি সংরক্ষণকে বিলাসিতা নয়, বরং টিকে থাকার অপরিহার্য শর্তে পরিণত করেছে।

২০২২ সালে গৃহীত কুনমিং-মন্ট্রিয়ল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক-এর মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি পুরোপুরি থামানো ও তা পুনরুদ্ধার করা। চলতি ২০২৬ সাল এই বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার ঠিক মাঝামাঝি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দিবসটির বার্তা মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেÑগাছ লাগানোর পাশাপাশি নদী ও জলাভূমি সংস্কারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত বাস্তুতন্ত্রকে পুনরুজ্জীবিত করা; জলবায়ু পরিবর্তনের চরম আঘাত মোকাবিলা করার সক্ষমতা অর্জন করা; এবং ব্যক্তি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বর্জ্য হ্রাস ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করা।

প্রকৃতি রক্ষা কেবল রাষ্ট্রীয় নীতিমালা বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনের খাতায় আটকে থাকার বিষয় নয়; এটি শুরু হতে হবে আমাদের নিজ নিজ ঘর থেকেই। দৈনন্দিন জীবনে কিছু সহজ অভ্যাস পরিবর্তন করেই আমরা বড় পরিবর্তন আনতে পারি: একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জন—পলিথিন ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পাটের ব্যাগ, কাপড় বা কাগজের ব্যবহার বাড়ানো।

 

সম্পদের সদ্ব্যবহার—’আর’ (জবফঁপব, জবঁংব, জবপুপষব) নীতি মেনে চলা এবং পানির কল বন্ধ রেখে বা বিদ্যুৎ অপচয় রোধ করে প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়নÑনিজের আঙ্গিনায়, ছাদবাগান বা স্থানীয় বনায়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা।

প্রকৃতি আমাদের কোনো সম্পত্তি নয়, বরং এটি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি মূল্যবান আমানত। বিশুদ্ধ বাতাস, উর্বর মাটি আর নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা পেতে হলে প্রকৃতির সাথে লড়াই নয়, বরং তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলার বিকল্প নেই। বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবসের এই শুভলগ্নে আমাদের পণ হোক—অযথা সম্পদ নষ্ট না করে, আসুন আমরা প্রকৃতিকে পুনরুদ্ধার করি, যাতে আমাদের আগামী দিনগুলো হয় আরও নিরাপদ, সুন্দর ও প্রাণবন্ত।

রিজিকে বরকত কমে যাওয়ার পেছনে যে ভুল আমরা প্রতিদিন করছি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ
রিজিকে বরকত কমে যাওয়ার পেছনে যে ভুল আমরা প্রতিদিন করছি

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা, রিজিকের প্রশস্ততা এবং জীবনে বরকত এ তিনটি বিষয়ই মানুষের চিরন্তন প্রত্যাশা। তবে ইসলাম স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয়, প্রকৃত সমৃদ্ধি কেবল অর্থ-সম্পদের প্রাচুর্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং হালাল উপার্জন, আল্লাহভীতি, পিতা-মাতার সন্তুষ্টি এবং মানুষের অধিকার যথাযথভাবে আদায় করার মধ্যেই নিহিত রয়েছে বরকতময় জীবনের প্রকৃত ভিত্তি।

 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, “তোমার রব নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।” (সূরা আল-ইসরা: ২৩)। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতের নির্দেশের পরপরই পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের আদেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ইসলামে পিতা-মাতার মর্যাদা ও তাঁদের সন্তুষ্টির গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “আল্লাহর সন্তুষ্টি পিতার সন্তুষ্টির মধ্যে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি পিতার অসন্তুষ্টির মধ্যে।” (জামে তিরমিজি)।

 

তাই যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সঙ্গে পিতা-মাতার সেবা করে, তাঁদের সম্মান করে এবং তাঁদের দোয়া অর্জনের চেষ্টা করে, আল্লাহ তাআলা তার জীবনে রহমত ও কল্যাণ দান করেন। অপরদিকে, মানুষের ওপর জুলুম করা, অন্যের অধিকার হরণ করা, লেনদেনে প্রতারণা করা কিংবা অসৎ উপায়ে সম্পদ অর্জন করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, “তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।” (সূরা আল-বাকারা: ১৮৮)।

 

রাসূলুল্লাহ কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।” (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ, যে সম্পদ অন্যায় ও অসততার মাধ্যমে অর্জিত হয়, তাতে বাহ্যিক প্রাচুর্য থাকতে পারে, কিন্তু প্রকৃত বরকত থাকে না। আজকের সমাজে অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক অশান্তি এবং জীবনে বরকতহীনতার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে।

 

অথচ আত্মসমালোচনা করলে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রেই আমরা মানুষের হক আদায়ে অবহেলা করি, লেনদেনে সততা বজায় রাখি না, অন্যের সম্পদের প্রতি অন্যায়ভাবে হাত বাড়াই কিংবা পিতা-মাতার যথাযথ খেদমতে শৈথিল্য প্রদর্শন করি। এসব অনৈতিক আচরণ ব্যক্তি ও সমাজ উভয়কেই আল্লাহর রহমত ও বরকত থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা