শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রবন্ধ/আহমদ ছফা: আমাদের সক্রেটিস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
প্রবন্ধ/আহমদ ছফা: আমাদের সক্রেটিস

ড. রাশিদ আসকারী
আহমদ ছফা বাঙালির বুদ্ধিবৃত্তি চর্চার ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম। এক বহুমাত্রিক মনীষা। তাঁর সুবিশাল সৃষ্টিধনুতে যুক্ত ছিল অনেকগুলো রজ্জু: প্রবন্ধ, কবিতা, উপন্যাস, আড্ডা, প্রতিভা অন্বেষণ, সাহিত্য-সমাজ ও রাজনীতি ভাবনা এবং আরো অনেক কিছু। স্বীকার করি, তাঁর সকল রজ্জুই সমান দীপ্তি
ছড়াতে পারেনি। কিন্তু সেটি নিতান্তই গৌণ বিষয়। আমাদের সাহিত্যের প্রধান পুরুষদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। রবীন্দ্রনাথের হাত দিয়ে কি করে “বৌঠাকুরাণীর হাট” লেখা হলো তা এখনোও অনেকের বিস্ময়। নজরুলের উপন্যাস “বাঁধন হারা”, “মৃত্যুক্ষুধা” কিংবা “কুহেলিকা” কি তাঁর গান ও কবিতার মতো এতো মূল্যবান হয়ে উঠতে পেরেছে? যাই হোক, মহাত্মা ছফার কীর্তির মৌল বিষয় দুটি: প্রথমত-কুসংস্কার, ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ উপদ্রুত ও প্রথা-পীড়িত বাঙালি মুসলমান সমাজে এক উদার, যুক্তিবাদী, মুক্তচিন্তার
পরিবেশ গড়ে তোলার বৌদ্ধিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যার উদ্দীপনা নব্য স্বাধীন দেশে একধরনের গণমানুষের রেনেসাঁ সৃষ্টি করেছিলো। দ্বিতীয়ত- দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্যবাদী, উপনিবেশবাদী, ইউরোকেন্দ্রিক ভাবনাভুবন যা প্রতীচী ঔপনিবেশিকতার ধুম্রজাল দিয়ে ব্রিটিশ বঙ্গে বাঙালির চিন্তাজগতকে যুগ যুগ ধরে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো, ভেঙে দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের এক প্রান্তিক জনপদে বি (উত্তর) ঔপনিবেশিক চিন্তার জানালা খুলে দিয়ে বাঙালি মুসলমানের মনজগতকে ডিকলোনাইজ করার প্রচেষ্টা চালানো। উপনিবেশিত
মানবমনের বিউপনিবেশায়নের এই প্রচেষ্টা উত্তর-ঔপনিবেশিক যুগের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ এবং জগতবিখ্যাত কেনিয় লেখক ও বুদ্ধিজীবী নগুগি ওয়া থিয়ঙ্গো তাঁর সাড়াজাগানো “উবপড়ষড়হরংরহম ঃযব গরহফ” গ্রন্থে এ বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। দক্ষিন আমেরিকার বিউপনিবেশায়ন বিশ্বের প্রবক্তা যেমন গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, মারিও ভার্গাস লোসা, অক্টাভিও পাজ, হোসে মার্টি; কিংবা আফ্রিকার যেমন চিনুয়া অ্যাচেবে, ওলে সোইংকা ও নগুগি ওয়া থিয়ঙ্গো; বাঙালি মুসলিম সমাজের বৌদ্ধিক ভাবনার
বিউপনিবেশায়নের অন্যতম পথিকৃৎ তেমনি আহমদ ছফা। তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ “বাঙালি মুসলমানের মন” ও “বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস” কিংবা উপন্যাস “ওঙ্কার” ও পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ” ঔপনিবেশিক, খুদে-ঔপনিবেশিক, কর্তৃত্ববাদী, আধিপত্যবাদী ভাবনার কারাগার থেকে মুক্তির মহা ইশতেহার।
এগুলোর মধ্যে প্রকাশ্যে ও প্রতীকী ব্যঞ্জনায় বিধৃত বিউপনিবেশায়নের সকল উপাদানÑ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিউপনিবেশায়নের দেশজ ও স্বনির্ধারিত সুত্র খুঁজে পাওয়া যাবে। এর প্রধান শক্তি শেকড়ের প্রতি সুগভীর অনুরাগ, নৈয়ায়িক শৃঙ্খলা, দৃষ্টিভঙ্গির ঋজুতা ও
মুখোশ উন্মোচনের তাগিদ যা একজন উপনিবেশোত্তর লড়াকু লেখকের প্রধান অস্ত্র। এই অস্ত্র প্রয়োগ করে প্রখ্যাত ইটালীয় মার্ক্সবাদী তাত্ত্বিক অ্যান্টোনিয় গ্রামসি তাঁর “কালচারাল হেজেমনি” তত্ত্ব গড়ে তুলেছেন। গ্রামসি মনে করেন যে শোষক শ্রেণি কেবল বলপ্রয়োগে ক্ষমতা ধরে রাখে না, রকমারি সামাজিক বিশ্বাস সৃষ্টির মাধ্যমেও হেজেমনি সংরক্ষণ করে যাতে তাদের আধিপত্য মানুষের কাছে অত্যন্ত স্বাভাবিক মনে হয় এবং মানুষ তা শর্তহীন আনুগত্যে গ্রহণ করে। গ্রামসির তত্ত্ব আরো দেখায় যে কিভাবে শোষিতেরা নিজেদের অধীনস্থ করার প্রক্রিয়াকে শিক্ষা, মিডিয়া ও ধর্মের মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রহণ করে। আহমদ ছফাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখান কিভাবে আমাদের শিক্ষা ও সমাজব্যবস্থা আমাদের শোষণ ও অধীনস্থকরণ প্রক্রিয়াকে সহনীয় ও পোক্ত করে তুলছে। আর এর থেকে নিস্তারের পথ ছফা দেখিয়েছেন
তাঁর লেখায়।
বিশ্ববিখ্যাত জার্মান সাহিত্যিক যোহান ভন গ্যেটের কালজয়ী কাব্যনাট্য “ফাউস্ট”-এর বঙ্গানুবাদ আহমদ ছফার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি। ১৯৭০ সালে শুরু করে এই কাজ শেষ করতে তাঁর লেগেছে দেড় দশকেরও বেশি সময়। অনুবাদকর্মটি মূলানুগ করার জন্যে তিনি দীর্ঘদিন জার্মান ভাষাও রপ্ত করেন এবং এই মহাকাব্যিক রচনার আঙ্গিক সৌকর্য ও ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করেন। সৃষ্টিকর্মের পেছনে এতো সময়, অধ্যাবসয় ও নিষ্ঠা দিতে এদেশে সচরাচর কাউকে দেখা যায় না। অনুদিত ফাউস্টের শুরুতে ছফার দীর্ঘ ভূমিকা গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক কর্তৃক ইংরেজিতে অনূদিত জাক দেরিদার “অফ গ্রামাটোলোজি”র ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেয়। ছফার এই কষ্টসাধ্য অনুবাদ একদিকে যেমন বঙ্গভূমিতে ফাউস্ট অধ্যয়নে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করে, অন্যদিকে তেমনি এক প্রাতিস্বিক সাহিত্যকর্ম হিশেবেও গণ্য হয়ে ওঠে ছফা আপাদমন্তক একজন গণবুদ্ধিজীবী। প্রখ্যাত ফিলিস্তিনি-মার্কিন বিউপনিবেশায়নের অন্যতম পথিকৃৎ তেমনি আহমদ ছফা। তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ “বাঙালি মুসলমানের মন” ও “বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস” কিংবা উপন্যাস “ওঙ্কার” ও পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গ পুরাণ” ঔপনিবেশিক, খুদে-ঔপনিবেশিক, কর্তৃত্ববাদী, আধিপত্যবাদী ভাবনার কারাগার থেকে মুক্তির মহা ইশতেহার। এগুলোর মধ্যে প্রকাশ্যে ও প্রতীকী ব্যঞ্জনায় বিধৃত বিউপনিবেশায়নের সকল উপাদান- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক ও মনস্তাত্ত্বিক উত্তর-উপনিবেশিক তাত্ত্বিক ও গণবুদ্ধিজীবী এডওয়ার্ড সাইদ তাঁর “রেপ্রেজেন্টেশনস অফ দ্য ইন্টেলেকচুয়াল” গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, গণবুদ্ধিজীবীরা ব্যক্তিস্বার্থে ক্ষমতা বা কর্পোরেশনের করিডরে পা রাখে না, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পক্ষে কথা বলে এবং সমাজ/রাষ্ট্রচ্যুত হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও কায়েমি শক্তির চোখে চোখ রেখে কথা বলে। আহমদ ছফা ঠিক সেই ধরনের একজন বুদ্ধিজীবী যিনি চিরকাল সরকার-প্রশাসন-পাওয়ার সযতেœ পরিহার করেছেন, বঞ্চিত- নিপিড়িতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং কর্তৃপক্ষের চোখে চোখে রেখে কথা বলেছেন। তিনি পাশে না দাঁড়ালে অনেক প্রতিভাই অংকুরেই বিনষ্ট হতো।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, কতিপয় ঘোষিত ছফা-শিষ্য, যারা প্রবলভাবে মানস-সাম্প্রদায়িক, অসাম্প্রদায়িক ছফার দর্শনের স্বত্বাধিকারী সেজে নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্যে গুরুকে যথেচ্ছ ব্যবহার করছেন। এঁদের ছফাবন্দনা প্রয়াত পীরের প্রতি জীবিত মুরিদের অতিরঞ্জিত স্তব ছাড়া আর কিছুই না। পীরকে সবার ওপরে স্থান দিতে গিয়ে তারা লাগামহীনভাবে অন্যদের খাটো করে চলেছেন। প্রকারান্তরে তারা খাটো করছেন তাদের গুরুকেই আর নিজেদের করছেন তামাশাপাত্র। “বাঙালি মুসলমানের মন” এবং “বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস” সুঅনূদিত হয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রকাশিত হলে আহামদ ছফা বাঙালি মুসলমান সমাজে চলমান বিউপনিবেশায়নের অগ্রগণ্য দূত হিশেবে নতুন উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হবেন। প্রাগৈতিহাসিক ভাবনার
ভ- খাদেমরা সর্বচ্চো তাঁকে এক গোষ্ঠীপীরের আসনে বসাতে পারেন, কিন্তু বৈশ্বিক উচ্চতায় উন্নীত করতে পারেন না, যদিয় তাঁর সেই যোগ্যতা আছে। গুরুমারা শিষ্যের কথা আমাদের সবারই জানা। শিষ্য যদি প্লেটোর মতো হয়, তবে গুরু সক্রেটিসের মহিমা প্রকাশে সমস্যা হয় না। কিন্তু যদি জেনোফোন কিংবা অ্যারিস্টোফেনিসের মতো হয়, তাহলেই তো সর্বনাশ আমাদের সক্রেটিস আহামদ ছফার মূল্যায়নে প্লেটোদেরই এগিয়ে আসতে হবে। মোটাবুদ্ধির জেনোফোন গুরুর সত্যিকার বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষ পরিমাপ
করতে পারেন নাই। আবার অ্যারিস্টোফেনিসের বিকৃত মূল্যায়ন গুরুকে মিথ্যে অভিযোগে হেমলকের পাত্র পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলো। আহমদ ছফার সে ধরনের শিষ্যের দরকার নেই। স্বঘোষিত ছফাবাদীদের হাত থেকে ছফাকে বাঁচাতে হবে ।
ড. রাশিদ আসকারী: দ্বিভাষিক লেখক, অনুবাদক, অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ ও প্রাক্তন উপাচার্য,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া, বাংলাদেশ।

Ads small one

ভক্তদের কৌতূহল: সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
ভক্তদের কৌতূহল: সমুদ্রপাড়ে নতুন লুকে দীঘি

অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির নীল জলরাশি, বিস্তীর্ণ বালুচর আর সমুদ্রের নির্মল বাতাস- কক্সবাজারের এমন মনোরম পরিবেশে হঠাৎই দেখা মিলল । সমুদ্র সৈকত থেকে নিজের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতেই ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তবে নিছক ঘুরতে নয়, শুটিংয়ের কাজেই কক্সবাজারে অবস্থান করছেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে দুটি ছবি শেয়ার করেন দীঘি। ছবিতে সমুদ্রের পাড়ে স্বাভাবিক ও ছিমছাম সাজে দেখা গেছে তাকে। সাগরের নীল জল আর বালুচরের আবহে অভিনেত্রীর নতুন লুকও নজর কেড়েছে নেটিজেনদের। ছবির ক্যাপশনে দীঘি লিখেছেন, ‘আমি এসেছি সাগর পাড়ে ‘গো প্লান’-এর সাথে।’ এরপর থেকেই তার কক্সবাজার সফরের কারণ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ভক্তদের মধ্যে। কমেন্ট বক্সে অনেকেই অভিনেত্রীর প্রশংসা করার পাশাপাশি জানতে চেয়েছেন, সেখানে নতুন কোনো কাজের শুটিং করছেন কি না।

দীঘি অবশ্য বিষয়টি এখনই খোলাসা করতে চাইছেন না। জানা গেছে, শুটিংয়ের কাজে বর্তমানে কক্সবাজারে রয়েছেন তিনি। তবে ঠিক কোন প্রজেক্টের জন্য সেখানে গেছেন, সেটি আপাতত গোপনই রাখছেন অভিনেত্রী। নতুন কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে দীঘি বলেন, ‘অপেক্ষা করুন, সময় হলে জানতে পারবেন।’ ফলে তার নতুন কাজটি সিনেমা, ওয়েব কনটেন্ট নাকি অন্য কোনো ধরনের প্রজেক্ট এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিতই নিজের কাজ ও ব্যক্তিজীবনের নানা মুহূর্তের ছবি-ভিডিও শেয়ার করেন দীঘি। এবার কক্সবাজারের সমুদ্রপাড় থেকে প্রকাশ করা ছবিগুলোও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ভক্তদের মধ্যে। ছবির পাশাপাশি নতুন কাজের রহস্যই যেন বাড়িয়ে দিয়েছে তাদের আগ্রহ।

শিশুশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর থেকেই দর্শকের কাছে আলাদা পরিচিতি পেয়েছেন দীঘি। ছোটবেলায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর বড় পর্দায় নায়িকা হিসেবেও নিজের জায়গা তৈরি করেছেন তিনি। এখন নতুন এই কাজ দিয়ে দর্শকদের সামনে কী চমক নিয়ে হাজির হন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

 

ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি

বিপিএল স্থগিত হওয়ায় দেশের ক্রিকেটারদের আয়ে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এক লাফে বড় অঙ্কে বাড়ানো হলো ম্যাচ ফি। তবে বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালের দাবি, এটি শুধু বিপিএল না হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার সাময়িক উদ্যোগ নয়; বরং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আয় দীর্ঘমেয়াদে বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এ ঘোষণা দেন।

নতুন ম্যাচ ফি কাঠামো অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটাররা এখন প্রতিটি প্রথম-শ্রেণির ম্যাচের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ৭০ হাজার টাকা। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তামিম নিজেই এই ফি বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন।

‘লিস্ট এ’ ম্যাচের ফি-ও দ্বিগুণ করা হয়েছে। এখন খেলোয়াড়রা প্রতি ম্যাচের জন্য ১ লাখ টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

নারীদের চার দিনের ম্যাচের ফি ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একদিনের ম্যাচের ক্ষেত্রে তা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

তামিম ইকবাল বলেন, খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এক দুটি প্রস্তাব এসেছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা আসলে আমি এটাকে দুটি পক্ষ হিসেবে দেখি না। পক্ষ একটাই, আমরা সবাই এক। ক্রিকেটার, ক্রিকেট বোর্ড, পরিচালক, সভাপতি সবাই আমরা এক।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিপিএলে সব মিলিয়ে ৫০, ৬০, ৬৫ বা ৭০ জন স্থানীয় ক্রিকেটার খেলবেন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যদি তাকান ফার্স্ট-ক্লাস, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এখন ঢাকা লিগ থেকে তারা দুই-তিন বছর আগে যে আয় করতেন, তা হয়তো কমে গেছে। তার ওপর, এ বছর বিপিএল অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর ফলে আর্থিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিসিবি সভাপতি বলেন, আমি কখনোই খেলোয়াড়দের জন্য কেবল এক বছরের কোনো সমাধান চাইনি। আমি এমন একটি সমাধান চেয়েছিলাম, যা ক্রিকেটাররা বছরের পর বছর উপকূত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের ফলে ক্রিকেটাররা কেবল বিসিবি-র টুর্নামেন্ট খেলেই আর্থিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারবেন, কারণ তারা মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করবেন।

সাবেক এই ক্রিকেটার মতে, সবকিছুর খরচই ১০০ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছে। আর এর সুফল কী? সেটাই আসল প্রশ্ন। এখন একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার যদি পুরো মৌসুম খেলেন, তবে বেতনসহ আমার হিসাব যদি ভুল না হয় তারা বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করবেন। এটাকে ১২ দিয়ে ভাগ করলে দেখা যায়, একজন খেলোয়াড়ের মাসিক আয় ৩ লাখ টাকারও বেশি হবে। পরিবার চালানোর জন্য তাদের আর কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না বলেই আমার মনে হয়। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, এখন তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পেশাদারিত্ব আশা করছেন।

প্রীতি জিনতা প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা শুটিং করেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
প্রীতি জিনতা প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা শুটিং করেন

ভারতীয় চলচ্চিত্র বলিউডে দীর্ঘ শিফটে কাজ করা নিয়ে একের পর এক বিতর্ক চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। এ নিয়ে দীপিকা পাড়ুকোনসহ বেশ কয়েকজন তারকা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। এই বিতর্কের মধ্যেই বলিউডের ‘ডিম্পল গার্ল’ প্রীতি জিনতা টানা দীর্ঘ সময় শুটিং করে আলোচনায় এসেছেন।

সম্প্রতি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমা দিয়ে প্রায় এক দশকের বিরতি ভাঙেন বলিউডে এক সময়ের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। এবার তাকে দেখা যাবে কুনাল খেমুর পরিচালনায় ‘ভাইব’ সিনেমায়। সিনেমাটির শুটিং করতে গিয়ে প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টার মতো কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই। ২ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে ভাইব’র জমকালো ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠান হয়।

এ সময় বলিউডে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে কথা বলেন প্রীতি। সেখানে তিনি জানান, শুটিং দ্রুত শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের কাছে ফিরতেই প্রতিদিন লম্বা সময় কাজ করেছেন। প্রীতি জিনতার ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইব’র শুটিংয়ের সময় প্রতিদিনই দীর্ঘ শিফটে কাজ করতে হয়েছে। তবে এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। অভিনেত্রী জানান, তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারতে এসেছিলেন।

তাই যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের কাছে ফিরতে চেয়েছিলেন। বলিউডে অভিনেতাদের কর্মঘণ্টা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গত বছর দীপিকা পাড়ুকোনের ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে সরে যাওয়ার খবরের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এমনকি তিনি ‘কালকি’র মতো বড় সিনেমায় বাদ দেন। দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার শর্ত নিয়ে নির্মাতাদের সঙ্গে তার মতবিরোধের খবর প্রকাশ পেয়েছিল।

ভাইব সিনেমাটিতে প্রীতি জিনতার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ‘লাপাত্তা লেডিজ’ খ্যাত স্পর্শ শ্রীবাস্তব, বংশিকা ধীর, যশপাল শর্মা ও দিনেশ লাল যাদব। ড্রঙ্গো ফিল্মসের ব্যানারে কুনাল খেমু ও চিরাগ নিহালানি প্রযোজিত সিনেমাটি অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওসের।