বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ ২০২৬: উন্নয়নের পথে এক নবযাত্রার সম্ভাবনা-তিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ২০২৬: উন্নয়নের পথে এক নবযাত্রার সম্ভাবনা-তিন

পরিবর্তন-পর্ব ৩৮

আশরাফ রহিম
পরিবর্তন-পর্ব ৩৭ (জানুয়ারী ৩, ২০২৬)-এ লিখেছিলাম “পরিবর্তন শুরু করতে হবে আমাদের নিজেদের মধ্য থেকেই-চিন্তা, চেতনা ও আচরণে।” আর এর জন্য চাই আলোকিত মানুষ।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ তাঁর বই “বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও আমি”-তে লিখেছেন-
“মানুষ অপরিসীম ক্ষমতাশালী। যাত্রা শুরুর সামান্য পাথেয় পেলে সে বিশ্ব জয় করতে পারে।”
বাংলাদেশের মানুষ ১৯৭১-এ তার প্রমাণ রেখেছে। তবুও আমরা কীভাবে যেন বারবার পথ হারিয়েছি। আমাদের সঠিক পথে ফিরে আসতেই হবে-এর কোনো বিকল্প নেই।

এখন সময় নিজেকে প্রশ্ন করার-
⦁ আর কতবার রক্ত দিলে আমরা সঠিক পথে চলতে শুরু করবো?
⦁ আর কতবার অসৎ রাজনীতি বা বৈশ্বিক পরিস্থিতি আমাদের অর্থনীতিকে সংকটে ফেলবে-আর আমরা হাহাকার করবো?
⦁ অসহায় হয়ে অন্যের সাহায্যের অপেক্ষায় হাত বাড়িয়ে থাকবো?

এই সঠিক পথে এগোতে আমাদের প্রয়োজন অগণিত “আলোকিত মানুষ”-যাদের সততা, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও ত্যাগ অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের দরকার আত্মবিশ্বাসী, উদ্যমী মানুষ-যারা বিশ্বাস করে, আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আমরাই তৈরি করবো।

বিশ্বের সমসাময়িক দুর্যোগ আমাদের দেশের অর্থনীতির উপর কীভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে এবং তার উত্তরণের পথ খোঁজার আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর আলোকপাত করতে চাই। যা আমাদের সবার সফলতায় (একই ভাবে ব্যর্থতায়) ভূমিকা রাখে বলে আমার একান্ত বিশ্বাস।

Reactive বনাম Responsive
চিন্তা-ভাবনা ছাড়া তাৎক্ষণিক আবেগ বা পরিস্থিতির চাপে প্রতিক্রিয়া দেওয়া-Reactive।
আর পরিস্থিতি বুঝে, ভেবে, নিজের লক্ষ্য ও মূল্যবোধ অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেওয়া-Responsive।
এই একটি পার্থক্যই সাফল্যের বড় নির্ধারক।

বাস্তবে দেখা যায়-প্রকৃত সফল মানুষ, বিশেষ করে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, নেতৃত্ব ও ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে-তারা Responsive। Stephen Covey তাঁর “The 7 Habits of Highly Effective People” বইয়ে Habit-1-এ বলেন: Proactive (Responsive)  মানুষ “Circle of Influence”-এ ফোকাস করে। অর্থাৎ-

⦁ যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় → সেখানে কাজ করা
⦁ যা যায় না → সেখানে আবেগ নষ্ট না করা

“Responsibility” শব্দটির অর্থই হলো-response-ability; অর্থাৎ প্রতিক্রিয়া বেছে নেওয়ার সক্ষমতা।
Responsive মানসিকতার প্রভাব

সংক্ষেপে: Proactive (বা Responsive) মানুষ পরিস্থিতির দাস নয়-তারা চিন্তা, মূল্যবোধ ও লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করে। এই একটি পার্থক্যই ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসা এবং রাজনীতিতে তাদের এগিয়ে দেয়।

ব্যক্তিগত জীবনে: তারা আবেগের তাড়নায় তর্কে জড়ায় না; বরং শুনে, বোঝে, তারপর উত্তর দেয়। ফলে সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকে, আস্থা বাড়ে, এবং সংকটও শান্তভাবে সামলানো যায়-যা দীর্ঘমেয়াদে সুখী ও স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তোলে।

ব্যবসায়: তারা সমস্যায় আটকে না থেকে সমাধানে ফোকাস করে, feedback নেয়, দ্রুত শিখে এবং কৌশল ঠিক করে। ক্লায়েন্ট, টিম ও পার্টনারদের সাথে তাদের আচরণ বিশ্বাসযোগ্য হয়-ফলে সুযোগ বাড়ে, সিদ্ধান্তের মান উন্নত হয়, এবং ধারাবাহিকভাবে গ্রোথ আসে।

রাজনীতিতে: Proactive নেতা আবেগে উস্কানি না দিয়ে বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেয় এবং সংকটে স্থির থাকে। এতে জনগণের আস্থা তৈরি হয়, নীতিনির্ধারণে স্থিতিশীলতা আসে, এবং নেতৃত্ব টেকসই হয়।

মূল কথা: Reactive মানুষ পরিস্থিতি দ্বারা চালিত হয়; Proactive মানুষ পরিস্থিতিকে নিজের লক্ষ্য অনুযায়ী পরিচালনা করে—আর সাফল্য সাধারণত দ্বিতীয়দের দিকেই যায়।

বৈশ্বিক সংকট ও বাংলাদেশের অর্থনীতি
যুক্তরাষ্ট্র/ইসরায়েল-ইরান কেন্দ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আমাদের জন্য অশনি সংকেত।
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং আমদানির খরচ বৃদ্ধি-সব মিলিয়ে এর প্রভাব পড়বে পরিবহন, কৃষি ও নিত্যপণ্যের বাজারে। অর্থাৎ-চাপ পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনে।

সম্ভাব্য প্রভাব
⦁ বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি
⦁ পরিবহন খরচ বৃদ্ধি
⦁ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি
⦁ মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি
রেমিট্যান্স ঝুঁকি
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত লাখো বাংলাদেশি শ্রমিক এই পরিস্থিতিতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। এর ফলে-
⦁ কর্মসংস্থান হ্রাস
⦁ শ্রমিক প্রত্যাবর্তন
⦁ রেমিট্যান্স কমে যাওয়া
এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

চ্যালেঞ্জেই সুযোগ: নতুন শ্রমবাজার
মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা কমিয়ে শ্রমবাজার বৈচিত্র্য আনা সত্যিই একটি কৌশলগত প্রয়োজন-বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো শ্রম-রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা গেলে কয়েকটি উন্নত ও মধ্যম আয়ের দেশে নতুন ও স্থিতিশীল শ্রমবাজার দ্রুত সম্প্রসারিত করা সম্ভব।
নিচে সম্ভাবনাময় কিছু দেশ ও তাদের সুযোগের ধরন দেওয়া হলো:
জাপান: কেয়ারগিভার, নির্মাণ, শিল্পখাত
দক্ষিণ কোরিয়া: EPS* প্রোগ্রামের মাধ্যমে উৎপাদন, কৃষি, মৎস্য
জার্মানি: স্বাস্থ্যসেবা, আইটি, কারিগরি দক্ষতা
কানাডা: হেলথকেয়ার, আইটি, নির্মাণ
অস্ট্রেলিয়া: কৃষি, নির্মাণ, সেবা
সিঙ্গাপুর: আইটি, নির্মাণ, সার্ভিস
মালয়েশিয়া: প্লান্টেশন, ম্যানুফ্যাকচারিং
যুক্তরাজ্য: নার্সিং, কেয়ার, আইটি (NHS* খাত)

⦁ *Employment Permit System (EPS) হলো এমন একটি সিস্টেম, যেখানে কোরিয়ার নিয়োগকর্তারা বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করতে পারেন যখন স্থানীয়ভাবে শ্রমিক পাওয়া যায় না। বাংলাদেশসহ প্রায় ১৫-১৬টি দেশ এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে।

⦁ *NHS বলতে সাধারণত বোঝানো হয় National Health Service (NHS)-এটি যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা

কৌশলগত করণীয়
⦁ আন্তর্জাতিক মানের ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ
⦁ ভাষা দক্ষতা (ইংরেজি ও অন্যান্য ভাষা)
⦁ সার্টিফিকেশনভিত্তিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট
⦁ সরকারি-বেসরকারি যৌথ নিয়োগ উদ্যোগ

উপসংহার
বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে অমিত সম্ভাবনা। এই দুইয়ের মাঝে আমাদের পথ নির্ধারণ করবে আমাদের মানসিকতা-আমরা কি Reactive হয়ে পরিস্থিতির শিকার হবো, নাকি Responsive হয়ে পরিস্থিতিকে নিজের লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করবো?

ইতিহাস বলে-এই দেশের মানুষ অসম্ভবকে সম্ভব করতে জানে। ১৯৭১ তার প্রমাণ। এখন প্রয়োজন সেই আত্মবিশ্বাস, সেই ঐক্য, সেই আলোকিত নেতৃত্ব-যা আমাদের আবারও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।
রাষ্ট্র, নেতৃত্ব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ মানুষ-সবাইকে একসাথে একটি সিদ্ধান্ত নিতে হবে: আমরা আর অপেক্ষা করবো না; আমরা প্রস্তুত হবো, আমরা কাজ করবো, আমরা এগিয়ে যাবো।

কারণ ভবিষ্যৎ কোনো দূরের বিষয় নয়-
এটি তৈরি হয় আজকের চিন্তা, আজকের সিদ্ধান্ত এবং আজকের কাজ দিয়ে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ তাই কারও দয়ার উপর নির্ভরশীল নয়-
এটি নির্ভর করছে আমরা আজ কতটা সচেতন, কতটা দায়িত্বশীল এবং কতটা Responsive হতে পারছি তার উপর। চলবে

আশরাফ রহিম: আমেরিকা প্রবাসি

Ads small one

গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা, ধর্ষণের অভিযোগে আইনের আওতায় আনার দাবি 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা, ধর্ষণের অভিযোগে আইনের আওতায় আনার দাবি 

 

 

সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের (শ্যামনগর) জামায়াত দলীয় এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে শ্যামনগরে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা এমন দাবি জানান। এর আগে পৌরসদরের জেসি কমপ্লেক্স চত্বর থেকে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে একটি মিছিল পৌর সদরের বিভিন্ন সড়ক পরিদ দক্ষিণ করে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এ সময় হাতে ঝাড়ু ও জুতা নিয়ে নজরুল ইসলামের ছবিতে আঘাত করতে থাকে। বিক্ষোভ মিছিল শেষে

উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব সুলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রেসক্লাব চত্বরে আয়োজিত পথসভায় অংশগ্রহণ করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় বক্তারা কাজী নজরুল ইসলামকে ধর্ষক আখ্যা দিয়ে একটা আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে অবাঞ্চিত ঘোষণা করার পাশাপাশি বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান।

বক্তারা বলেন ১৩ তারিখে ঘটনাটি ঘটলেও গাজী নজরুল ইসলাম কৌশলে তা ধামাচাপা দিতে চাইছিল। কিন্তু তার ড্রাইভার দাবিকৃত টাকা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওগুলো ভাইরাল করে দিলে কৌশলের অংশ হিসেবে শুরুতেই এআই প্রযুক্তির সৃষ্টি বলে দাবি করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেক প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিও চিত্রের সত্যতা নিশ্চিত করার পর কাজী নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগীরা ওই তরুণীকে বিয়ের নাটক সাজিয়েছে।

পদে পদে জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে বক্তারা গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে শরীয়ত মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার দাবি করা রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর আদর্শ প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী অ্যাডভোকেট আশেক এলাহী মুন্না, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আবু সাঈদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলু, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন একটা অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন রীতিমতো ধর্ষণের সমান অপরাধ। মহান জাতীয় সংসদের একজন প্রবীণ সদস্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এ ঘটনা পবিত্র সংসদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। মহান জাতীয় সংসদের পবিত্রতা রক্ষা এবং শিশু সুরক্ষা আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রদর্শনের অংশ হিসেবে অবিলম্বে কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় সংসদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে ধর্ষণকাণ্ডের বিচার করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন ১৭ই জুন বিয়ের কথা বলে ২১ তারিখ বিকালে কাবিনের ঘটনা তার জালিয়াতি ও মিথ্যাচারকে প্রমাণ করে ঠিক আছে দিয়েছে। এমতাবস্থায় অবিলম্বে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এছাড়া নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের মাধ্যমে নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে জামায়েত ইসলামীর অবস্থান স্পষ্ট করতে আমিরেৎ জামায়েত ডাক্তার শফিকুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৩:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: ডেঙ্গু সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ

বর্ষার স্থায়িত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলনার পাইকগাছায় হঠাৎ করেই ডেঙ্গু রোগীর প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি দাঁড়িয়েছে। হঠাৎ করে এডিস মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, বাসাবাড়ির আঙিনায় কিংবা আশপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি—যেমন পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ড্রেন ও ডাবের খোসাই এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে কাজ করছে। এ ছাড়া উপজেলার বাইরে থেকেও আক্রান্ত রোগী আসার কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। চিকিৎসকদের বক্তব্য স্পষ্ট—ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং মশারির ব্যবহার প্রাথমিক ও কার্যকর প্রতিরোধক।
তবে বাস্তবতা হলো, কেবল সচেতনতামূলক বার্তা কিংবা পরামর্শ প্রদান করে এমন জনস্বাস্থ্য সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের নিজস্ব সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত সমন্বয় এখানে অত্যন্ত জরুরি।
পাইকগাছার বর্তমান পরিস্থিতি যেন মহামারীর দিকে মোড় না নেয়, সে জন্য অবিলম্বে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তা হলোÑ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোর উদ্যোগে পাইকগাছার প্রতিটি ওয়ার্ডে অবিলম্বে কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ (ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে) শুরু করতে হবে। ড্রেন, বদ্ধ জলাশয় ও জমে থাকা পানির স্থানগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নিতে হবে। জ্বর হলেই যেন রোগীরা হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করান, সে লক্ষ্যে চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য রাখা এবং গ্রামপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের নজরদারি বাড়াতে হবে। কাজের তাগিদে বা ভ্রমণের কারণে যারা বাইরে থেকে উপজেলায় আসছেন, তাঁদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি জটিল রূপ নেওয়ার আগেই সমন্বিত ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনিক তৎপরতা এবং জনসচেতনতাÑএই দুইয়ের সমন্বয় ছাড়া পাইকগাছাকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে জোর দেবেনÑএমনটাই প্রত্যাশা।

​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
​মিরপুরে সাবেক গাড়িচালককে ‘হত্যার চেষ্টা’, এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Oplus_131072

​পত্রদূত ডেস্ক: ​সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অসামাজিক কার্যকলাপের গোপন তথ্য জেনে ফেলার কারণে সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির বিচার দাবি করে এবং নিজের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ওবায়দুর রহমান। আবেদনটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।
​আবেদনে ওবায়দুর রহমান (জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর: ২৩৬৭৪৫০৬৫৩) উল্লেখ করেন, বিগত ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পল্লবী থানার উত্তর কালশীর আলীনগরে অবস্থিত ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২’-এর একটি ফ্ল্যাটে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
​আবেদনকারীর দাবি, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন ব্যক্তি লাঠিসোটা নিয়ে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেন। হামলার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আবেদনে বলা হয়, ওবায়দুরের চিৎকার শুনে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর মা ও ছোট বোন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি প্রাণভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
​হামলার পেছনের কারণ হিসেবে ওবায়দুর রহমান আবেদনে দাবি করেন, তিনি এমপি গাজী নজরুলের দীর্ঘদিনের গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। এই সুবাদে এমপির বিভিন্ন দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং ব্যক্তিগত অসামাজিক কার্যকলাপের তিনি প্রত্যক্ষদর্শী।
​আবেদনে অভিযুক্ত সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এলাকায় জমি ও বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং গ্যাং বা ‘মব’ গঠন করে সন্ত্রাসের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে এমপির বিতর্কিত গতিবিধির কয়েকটি নির্দিষ্ট তারিখ ও সময়ের কথা আবেদনে উল্লেখ করে তা সিসিটিভি ফুটেজ এবং ভিডিও প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানানো হয়। ​এমপি গাজী নজরুলের আদেশে এই হামলা চালানো হয়েছে দাবি করে ওবায়দুর রহমান অভিযুক্ত হামলাকারী এবং নির্দেশদাতার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি লিখিত বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। লিখিত বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের এবং এর পেছনে তাঁর নিজস্ব গাড়িচালকের সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির নীল নকশা রয়েছে।
বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তাঁর প্রথমা স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাঁরা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে তাঁদের কার্যালয়ের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পরই তাঁরা সেখান থেকে রেহাই পান।
ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা। সংসদ সদস্য জানান, তাঁর শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।