বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

বাথরুমে কেন ঘটে স্ট্রোকের ঘটনা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
বাথরুমে কেন ঘটে স্ট্রোকের ঘটনা?

‘অমুক বাথরুমে গিয়ে স্ট্রোক করেছেন’ এমন খবর মাঝেমধ্যেই শোনা যায়। কখনও গোসল করতে গিয়ে, কখনও আবার শৌচকর্মের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কেউ। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, বাথরুমের সঙ্গে স্ট্রোকের ঘটনার কি বিশেষ কোনও যোগ রয়েছে, নাকি এটি নিছক কাকতালীয়?

চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বিষয়টি একটু জটিল। বাথরুমে গেলেই স্ট্রোক হয়, এমন নয়। তবে গোসলের সময় তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন, শৌচকর্মের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া, রক্তচাপের ওঠানামা এবং আগে থেকে থাকা কিছু অসুস্থতা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আবার বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পাওয়াও গুরুতর বিপদের কারণ হয়।

বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা জরুরি। তবে বাথরুমে ঘটে যাওয়া সব আকস্মিক অসুস্থতাকে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক ভেবে নেওয়াও ঠিক নয়। অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া এবং স্ট্রোক এগুলোর কারণ ও লক্ষণ আলাদা হতে পারে।

বাথরুমে স্ট্রোকের ঝুঁকির পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে?

১. হঠাৎ ঠান্ডা পানির সংস্পর্শ: খুব ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে এলে শরীরের রক্তনালি সংকুচিত হতে পারে এবং রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। এতে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর চাপও বাড়ে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানির আকস্মিক প্রভাব এড়ানো ভালো। তবে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলেই স্ট্রোক হবে, এমন প্রমাণ নেই। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ঠান্ডা পানির প্রভাবে রক্তনালির সংকোচন ও রক্তচাপ বৃদ্ধির মতো পরিবর্তন হতে পারে।

২. শৌচকর্মের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া: কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দিতে হলে শরীরে রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্পন্দনের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কারও কারও মাথা ঘুরতে পারে বা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। একে কখনও কখনও ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ বলা হয়। তবে এ ধরনের অজ্ঞান হয়ে যাওয়া আর স্ট্রোক এক বিষয় নয়। মায়ো ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, শৌচকর্মের সময় চাপ দেওয়া অজ্ঞান হওয়ার একটি সম্ভাব্য উদ্দীপক।

৩. ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়া: রাতের ঘুম থেকে উঠে দ্রুত বিছানা ছেড়ে দাঁড়ালে কারও কারও রক্তচাপ সাময়িকভাবে কমে যেতে পারে। একে অর্থোস্ট্যাটিক হাইপোটেনশন বলা হয়। এর ফলে মাথা ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। রাতে প্রস্রাব করতে উঠে এমন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। মায়ো ক্লিনিকের ব্যবাখ্যা অনুযায়ী, প্রস্রাবের সময় বা ঠিক পরেই রক্তচাপ হঠাৎ কমে গিয়ে অজ্ঞান হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।

৪. অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল: খুব গরম পানি বা বাষ্পযুক্ত পরিবেশে থাকলে রক্তচাপ কমে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষত বয়স্ক ব্যক্তি, পানিশূন্যতায় ভোগা মানুষ এবং রক্তচাপ কমানোর ওষুধ গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। তাই অতিরিক্ত গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল না করা এবং গোসলের পর ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ানো ভালো। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক এ বিষয়ে সতর্ক করেছে।

কারা বেশি সতর্ক থাকবেন?

বয়স বাড়ার সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান, হৃদ্‌রোগ এবং আগে স্ট্রোক বা সাময়িক স্ট্রোকের মতো উপসর্গের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণযোগ্য ঝুঁকির কারণ।

বাথরুমে দুর্ঘটনা এড়াতে কী করবেন?

কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং আঁশযুক্ত খাবার খান। শৌচকর্মের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া এড়িয়ে চলুন। ঘুম থেকে উঠে প্রথমে কিছুক্ষণ বসুন, তারপর ধীরে ধীরে দাঁড়ান। খুব ঠান্ডা বা অতিরিক্ত গরম পানির আকস্মিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন। বাথরুমের মেঝে শুকনো রাখুন এবং প্রয়োজনে পিছলে যাওয়া রোধ করে এমন ম্যাট বা হাতল ব্যবহার করুন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগ থাকলে নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং নির্ধারিত ওষুধ নিয়মমতো গ্রহণ করুন।

স্ট্রোকের লক্ষণ চিনবেন কীভাবে?

হঠাৎ মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশের হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, দৃষ্টিতে সমস্যা, ভারসাম্য হারানো কিংবা অস্বাভাবিক তীব্র মাথাব্যথা এসব স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। উপসর্গ কয়েক মিনিটের মধ্যে সেরে গেলেও অবহেলা করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা মস্তিষ্কের ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সুতরাং, বাথরুমে স্ট্রোকের ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু বাথরুমে যাওয়াই স্ট্রোকের নির্দিষ্ট কারণ এমন নয়। শৌচকর্মের সময় চাপ দেওয়া বা গোসলের সময় রক্তচাপের পরিবর্তনের কারণে মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। অন্যদিকে, স্ট্রোকের মূল কারণ সাধারণত মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া অথবা রক্তনালি ফেটে যাওয়া। তাই বাথরুমে কেউ হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে সেটিকে সাধারণ দুর্বলতা ভেবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই সবচেয়ে জরুরি।

 

তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন ও যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি)।

Ads small one

কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: জয়দেব সভাপতি, কুদ্দুস সম্পাদক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: জয়দেব সভাপতি, কুদ্দুস সম্পাদক

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়দেব চক্রবর্তী (লোকসমাজ) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুহুল কুদ্দুস (ইনকিলাব) নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া সহসভাপতি পদে আব্দুল হাই সিদ্দিকী (নয়া দিগন্ত ও পূর্বাঞ্চল) ও মোতাহার হোসাইন (সমকাল ও গ্রামের কাগজ), যুগ্ম সম্পাদক পদে মশিয়ার রহমান (আলোকিত বাংলাদেশ) ও মেহেদী হাসান জাহিদ (সময়ের খবর), কোষাধ্যক্ষ পদে সিদ্দিকুর রহমান (খোলা কাগজ), দপ্তর সম্পাদক পদে আলমগীর হোসেন (দৈনিক খুলনাঞ্চল), ক্রীড়া ও সাহিত্য সম্পাদক পদে মাসুম বিল্লাহ (প্রতিদিনের কথা), এবং গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে মতিয়ার রহমান (অনির্বাণ) নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী পাঁচ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আজিজুর রহমান (যুগান্তর), নুরুল ইসলাম খান (কালের কণ্ঠ), আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ (দৈনিক কল্যাণ), উৎপল দে (কালবেলা) ও শেখ শাহীনুর ইসলাম (করতোয়া)।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রেস ক্লাবের সদস্য ও ভোটারদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সংবাদ পরিবেশনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লেখনী ধারণ এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী দিনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

‘জলবায়ু অভিঘাত পেরিয়ে গ্রামীণ নারী ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির পথে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নের নারী দলের সদস্যদের আয়োজনে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীর দাতিনাখালি বালুর মাঠে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিডার্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও অ্যাম্বাসি অব সুইডেনের সহযোগিতায় কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি–সিআরইএ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিএম আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও সাংবাদিক হুদা মালী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সমাজসেবক জি এম রুস্তম আলী, ফেইথ ইন অ্যাকশনের জেন্ডার অফিসার নয়মী বিশ্বাস, পিসিআরসিবি প্রকল্প সিসিডিবির সহসভাপতি মিনতি রানী মল্লিক, মেঘনা নারী দলের সভাপতি নার্গিস সুলতানা, দোলন চাঁপা নারী দলের সহসভাপতি জেবুন্নেছা খাতুন এবং লিডার্সের সিআরইএ প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত অধিকারীসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা সুলতা রানী সাহা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

আলো ঝলমলে রাতের গুড়পুকুর মেলা, বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
আলো ঝলমলে রাতের গুড়পুকুর মেলা, বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায় দুপুরের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই আলো ঝলমলে মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়। কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও বিনোদনের আনন্দে মেতে ওঠেন নানা বয়সী মানুষ। মেলা শেষের দিকে চলে আসায় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও জমে উঠেছে। অন্যদিকে, মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেলার ১৫তম দিনে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। গত ১ অক্টোবর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী এ মেলা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও দর্শনার্থীরা আসছেন। মেলায় রয়েছে প্রসাধনী, পোশাক, শিশুদের খেলনা, গৃহস্থালির সামগ্রী ও খাবারের নানা দোকান। রঙিন আলোকসজ্জা আর মানুষের পদচারণায় সন্ধ্যার পর মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

মেলার শেষ পর্যায়ে এসে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মেলার বাকি দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং বিক্রিও ভালো হবে।

ঢাকা থেকে আসা কসমেটিকস ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, “মেলার শেষ দিকে এসে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এভাবে ক্রেতা আসতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

বরিশাল থেকে শিশুদের খেলনা নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আকবর বলেন, “মেলার শেষ সপ্তাহে এসে ক্রেতাদের আনাগোনা ভালো। শিশুদের খেলনার প্রতি ছোটদের আগ্রহ রয়েছে। এখন বেচাকেনা ভালো হওয়ায় আমরা আশাবাদী। মেলার শেষ দিনগুলোতে আরও ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছি।”
মাদারীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন বলেন, “মেলা শেষের দিকে হওয়ায় এখন বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ মেলায় আসছেন, পছন্দের জিনিস কিনছেন। সামনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়লে আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

এদিকে, বৃহস্পতিবার গুড়পুকুর মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম। মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের দায়িত্ব পালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী গুড়পুকুর মেলা সাতক্ষীরার মানুষের কাছে শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং সামাজিক মিলন ও বিনোদনেরও অন্যতম উপলক্ষ। মেলা শেষের দিকে এসে দর্শনার্থীদের আনাগোনা এবং ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসায় আয়োজক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।