মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী প্রোগ্রাম সম্পর্কিত ধারণাপত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞান প্রকল্প এবং উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী প্রোগ্রাম সম্পর্কিত ধারণাপত্র

এসএম শহীদুল ইসলাম

বর্তমান যুগ জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগ। এই পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী, উৎপাদনমুখী এবং সময়োপযোগী করে গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রথাগত মুখস্থনির্ভর শিক্ষা পদ্ধতি আজ আর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য পুরোপুরি তৈরি করতে পারছে না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন (পার্সোনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট) নিশ্চিত করা এবং আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভরতার বৃত্ত থেকে বের করে তাদের মধ্যে গঠনমূলক সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা এবং প্রায়োগিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীন ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ (এসইডিপি)-এর আওতাভুক্ত এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘পারফরমেন্স বেজড গ্র্যান্টস ফর সেকেন্ডারি ইনস্টিটিউশনস’ (পিবিজিএসআই) স্কিম-এর বিশেষ আয়োজনে দেশব্যাপী একটি মেগা প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই প্রোগ্রামের মূল শিরোনাম হলোÑ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং ফর সেকেন্ডারি লেভেল স্টুডেন্টস অ্যান্ড টিচার্স’। দেশব্যাপী মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক উৎসবটি আয়োজিত হবে।
এই প্রোগ্রামের প্রধান লক্ষ্য হলো তরুণ শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করা, যাতে তারা শুধু তত্ত্বীয় শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব জীবনের নানা সমস্যার বৈজ্ঞানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান খুঁজতে পারে।
এই বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির যেকোনো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একটি নির্দিষ্ট দল বা টিম গঠন করতে হবে। এই দলটির গঠন প্রণালী হবেÑ

শিক্ষার্থী সংখ্যা: প্রতি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষক সংখ্যা: শিক্ষার্থীদের সার্বিক দিকনির্দেশনা, সমন্বয় এবং মেন্টরিং প্রদানের জন্য ২ জন শিক্ষক।
এই সমন্বিত টিম বা দলটি ক্রমান্বয়ে উপজেলা, জেলা এবং জাতীয় পর্যায়ে আয়োজিত মূল প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। এই আয়োজনে প্রতিযোগিতার বিষয়বস্তুকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: ১. স্টার্টআপ, ২. বিজ্ঞান প্রকল্প (সায়েন্স প্রজেক্ট) এবং ৩. ইনোভেশন আইডিয়া (উদ্ভাবনী ধারণা)। নিচে এই তিনটি উপাদানের বিস্তারিত ধারণাগত কাঠামো আলোচনা করা হলো।

১. স্টার্টআপ: সহজ ভাষায়, স্টার্টআপ বলতে এমন একটি নতুন ব্যবসা বা বাণিজ্যিক উদ্যোগকে বোঝায়, যা সাধারণত সমাজের কোনো একটি সুনির্দিষ্ট ও জটিল সমস্যার অভিনব উপায়ে সমাধান করে এবং একটি নতুন বাজার বা ভোক্তা গোষ্ঠী তৈরি করে। এই ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত ছোট পরিসরে বা প্রাথমিক আইডিয়া নিয়ে শুরু হলেও এর পেছনে একটি বিশাল ও টেকসই বাণিজ্যিক সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। আজকের দুনিয়ার বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি জায়ান্ট যেমন—গুগল, ফেসবুক কিংবা অ্যামাজনের মতো বড় বড় কোম্পানিগুলোও একসময় অত্যন্ত সাধারণ মানের স্টার্টআপ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল।

এই প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের এমন কিছু ব্যবসায়িক বা সেবাধর্মী আইডিয়া উপস্থাপন করতে হবে, যা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত এবং যা সমাজের কোনো চলমান সংকটের সমাধান করে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা সম্ভব।

শিক্ষার্থীদের জন্য স্টার্টআপের গুরুত্ব
শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের অবসর সময়, চিন্তন দক্ষতা এবং অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সহজেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হতে পারে। এটি তাদের স্বাবলম্বী হতে এবং দলগত কাজের (টিমওয়ার্ক) গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে। এই প্রক্রিয়ায় দলের শিক্ষকগণ সমন্বয়কারী এবং নির্দেশক হিসেবে গাইডলাইন প্রদান করবেন। স্টার্টআপ মানে কেবল বড় কোনো বহুজাতিক কোম্পানি গড়ে তোলা নয়, বরং এটি হলো যেকোনো স্থানীয় সমস্যার একটি টেকসই ও অর্থনৈতিকভাবে টেকসই সমাধান পদ্ধতি।

স্টার্টআপের পরিকল্পনা তৈরিতে বিবেচ্য প্রশ্নসমূহ
একটি সফল স্টার্টআপ আইডিয়া দাঁড় করাতে শিক্ষার্থীদের মনে মূলত নি¤œলিখিত প্রশ্নগুলো রাখতে হবে:
মূল সমস্যাটি আসলে কী?
এই সমস্যাটি কাদের এবং কারা এর ভুক্তভোগী?
এর সম্ভাব্য এবং সবচেয়ে সহজ সমাধানটি কী হতে পারে?
এই সমাধানটি কীভাবে বা কোন প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানো হবে?
মানুষ কেন প্রচলিত অন্য পদ্ধতি ছেড়ে এই নতুন সমাধানটি ব্যবহার করবে?
এই পুরো প্রক্রিয়ায় খরচ কেমন হবে এবং সেই খরচ জোগানোর আর্থিক উৎস কী?
কীভাবে এই উদ্যোগটি দীর্ঘমেয়াদে একটি লাভজনক ও স্বাবলম্বী প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে?

স্টার্টআপের কিছু বাস্তবমুখী উদাহরণ
কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন: হাওর অঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে শ্রমিক সংকটের কথা বিবেচনা করে স্থানীয় কাঁচামাল ও রিসোর্স ব্যবহার করে সাশ্রয়ী কোনো ডিভাইস, গ্যাজেট বা সমন্বিত উদ্যোগ তৈরি করা, যা কৃষকের ধান দ্রুত ঘরে তুলতে এবং সরাসরি বাজারে বিপণন করতে সহায়তা করবে।

শিক্ষা অ্যাপ: এক ক্লাসের পঠিত বা পুরোনো বই অন্য ক্লাসের নতুন শিক্ষার্থীর কাছে সহজে ও কম মূল্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি ডিজিটাল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) তৈরি করা।

পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: প্লাস্টিক বর্জ্য পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কোনো প্রয়োজনীয় পণ্যে রূপান্তর করার বাণিজ্যিক উদ্যোগ। অথবা সমন্বিতভাবে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সরবরাহ করা।

দৈনন্দিন জীবন: বৃষ্টির পানিকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণ, পরিশোধন ও পানযোগ্য করে বাজারজাত করার উদ্যোগ কিংবা রান্নার জন্য নতুন কোনো জ্বালানি সাশ্রয়ী পদ্ধতি তৈরি করে তা ডিস্ট্রিবিউশন করা। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে ই-কমার্স বা সরাসরি ডিজিটাল কৃষি বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

২. বিজ্ঞান প্রকল্প: বিজ্ঞান প্রকল্প বা সায়েন্স প্রজেক্ট হলো বিজ্ঞানের কোনো কঠিন সূত্র বা তত্ত্বকে শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের পাতায় পড়ে মুখস্থ না করে, নিজের হাতে-কলমে একটি মডেল, পরীক্ষা বা ব্যবহারিক কাঠামোর মাধ্যমে তার সত্যতা প্রমাণ করা। সহজ কথায়, প্রকৃতি ও প্রযুক্তির পেছনে বিজ্ঞান কীভাবে কাজ করছে, তা একটি দৃশ্যমান প্রজেক্টের মাধ্যমে বিচারক ও সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ফুটিয়ে তোলাই হলো বিজ্ঞান প্রকল্প।
এই বিভাগে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবং শিক্ষকদের সক্রিয় সহায়তায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মৌলিক সূত্রগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন কার্যকরী ও বাস্তবমুখী মডেল বা সায়েন্স প্রজেক্ট তৈরি করবে।

বিজ্ঞান প্রকল্পের কিছু বাস্তবমুখী উদাহরণ
স্বল্পমূল্যের পানি শোধন যন্ত্র: নদী, খাল বা পুকুরের দূষিত পানিকে অতি সহজে, প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে এবং অত্যন্ত কম খরচে পানের উপযোগী করার একটি কার্যকর বৈজ্ঞানিক মডেল।

স্মার্ট হোম ও এনার্জি সেভিং সিস্টেম: বাসাবাড়ি বা ক্লাসরুমে কেউ না থাকলে সেন্সরের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাইট ও ফ্যান বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি। অথবা সৌরশক্তি বা রিনিউয়েবল এনার্জিকে আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ীভাবে দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করার কোনো বিশেষ প্রযুক্তিগত মডেল।

স্বয়ংক্রিয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ সতর্কীকরণ ব্যবস্থা: আমাদের দেশে প্রায়শই বন্যা, জলোচ্ছ্বাস কিংবা পাহাড় ধসের মতো ঘটনা ঘটে। এই দুর্যোগগুলোর আগাম পূর্বাভাস দিয়ে কীভাবে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সতর্কবার্তা পাঠানো যায়, তার একটি কার্যকর ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক মডেল তৈরি করা।

৩. ইনোভেশন আইডিয়া: উদ্ভাবন বা ইনোভেশন মানেই নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বা ইনভেনশন নয়। যেকোনো ছোটখাটো বা বড় পরিবর্তন, যা মানুষের দৈনন্দিন কাজের সময়, শারীরিক শ্রম, অর্থ খরচ কিংবা মানসিক কষ্ট কমিয়ে দেয় এবং মানুষের জীবনযাত্রাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও আরামদায়ক করে তোলে—তাহলো ইনোভেশন বা উদ্ভাবন। যদি এই মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের পক্ষে কোনো বড় স্টার্টআপ বা জটিল বৈজ্ঞানিক প্রজেক্ট তৈরি করা সম্ভব নাও হয়, তবুও সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন যেকোনো নতুন, আধুনিক ও সৃজনশীল ধারণাই হলো ইনোভেশন আইডিয়া।

আবিষ্কার এবং উদ্ভাবনের পার্থক্য
বিষয়টি একটি সহজ ঐতিহাসিক উদাহরণের মাধ্যমে বোঝা সম্ভব। আদিমকালে মানুষ যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে কোনো ভারী জিনিস বা বাক্স টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেত, তখন তাদের প্রচুর কষ্ট হতো। কোনো এক বিজ্ঞানী বা চিন্তাশীল মানুষ প্রথম ‘চাকা’ তৈরি করলেন। চাকার এই একেবারে নতুন সৃষ্টিটি হলো ‘আবিষ্কার’ বা ইনভেনশন। চাকা আবিষ্কারের বহু বছর পর কেউ একজন চিন্তা করলেন, “আমরা যে ভারী ট্রাভেল ব্যাগ বা লাগেজ হাতে বহন করি, তার নিচে যদি দুটি ছোট চাকা লাগিয়ে দেওয়া যায়, তবে তো ভারী ব্যাগ টেনে নেওয়া কত সহজ হয়ে যায়!” এই যে ব্যাগের নিচে চাকা জুড়ে দিয়ে মানুষের কষ্ট ও শ্রম দূর করার অভিনব এবং চমৎকার চিন্তা, এটাই হলো ‘উদ্ভাবন’ বা ইনোভেশন।

ইনোভেশন আইডিয়া তৈরির ৩টি মূল স্তম্ভ
বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের চারপাশের পরিবেশ ও নাগরিক সমস্যাগুলো পর্যবেক্ষণ করেই দারুণ সব ইনোভেশন আইডিয়া তৈরি করতে পারে। তবে যেকোনো আইডিয়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মূলত ৩টি জিনিস মাথায় রাখতে হবে:

১. নতুন দৃষ্টিভঙ্গি: আইডিয়া বা কাজের ধরনটি যেন চিরাচরিত বা প্রচলিত নিয়মের চেয়ে একটু আলাদা, বুদ্ধিদীপ্ত এবং আধুনিক হয়।

২. সহজ সমাধান: উদ্ভাবনী ধারণাটি যেন মানুষের বাস্তব জীবনের কোনো একটি সুনির্দিষ্ট সমস্যার সহজ সমাধান দেয় এবং কাজটিকে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলে।

৩. বাস্তবায়নযোগ্যতা: আইডিয়াটি যেন শুধু খাতা-কলম বা কল্পনার মাঝেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং বাস্তবে সেটিকে রূপ দেওয়া বা তৈরি করা যেন পুরোপুরি সম্ভব হয়।

ইনোভেশন আইডিয়ার কিছু বাস্তবমুখী উদাহরণ
শিক্ষা ক্ষেত্রে উদ্ভাবন: পড়ালেখা বা কঠিন কোনো বিষয় সহজে মনে রাখার জন্য কোনো বিশেষ ফ্ল্যাশ-কার্ড গেম বানানো কিংবা ক্লাসরুমের জটিল বৈজ্ঞানিক পড়া সহজে বোঝার জন্য কোনো সাশ্রয়ী থ্রি-ডি (ত্রিমাত্রিক) ভিজুয়াল মডেল তৈরি করা।

স্মার্ট ট্রাফিক ও সড়ক নিরাপত্তা: দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হলো যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনা রোধে বা যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে কোনো অভিনব বা আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) ভিত্তিক আইডিয়া।

প্লাস্টিকের পরিবেশবান্ধব বিকল্প: পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে আমাদের দেশীয় পাট, কচুরিপানা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে শতভাগ পচনশীল, সস্তা ও টেকসই প্যাকেজিং সামগ্রী তৈরির আইডিয়া।

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা: দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বা চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা, জরুরি ওষুধ বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ডিজিটাল মাধ্যমে সহজে পৌঁছে দেওয়ার কোনো উদ্ভাবনী সামাজিক উপায়।

শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ পরামর্শ
প্রতিযোগিতায় কাক্সিক্ষত সাফল্য লাভ এবং যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নি¤œলিখিত বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে:

নিরাপত্তা সবার আগে: প্রজেক্ট তৈরি বা পরীক্ষার সময় বিদ্যুৎ, উচ্চ ভোল্টেজ, আগুন কিংবা যেকোনো ধরনের বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে কাজ করার প্রয়োজন হলে, কোনোভাবেই একা একা তা করা যাবে না। অবশ্যই দলের গাইড শিক্ষক বা অভিজ্ঞ বড়দের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও সাহায্য নিতে হবে।

বর্জ্য ও হাতের কাছের জিনিসের ব্যবহার (রিসোর্স অপ্টিমাইজেশন): যেকোনো বিজ্ঞান প্রকল্প বা আইডিয়া তৈরি করতে বাজার থেকে দামি দামি জিনিসপত্র বা আধুনিক গ্যাজেট কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। নিজের ঘরের, বিদ্যালয়ের বা প্রকৃতির হাতের কাছের অব্যবহৃত উপাদান এবং ফেলে দেওয়া বর্জ্য সামগ্রী ব্যবহার করে প্রজেক্ট তৈরিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা প্রকাশ পাবে।

উপস্থাপনার প্রস্তুতি (প্রেজেন্টেশন স্কিল): প্রতিযোগিতায় প্রজেক্টের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তা বিচারকদের সামনে কীভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তৈরি করা প্রজেক্ট বা আইডিয়াটি ঠিক কীভাবে কাজ করে, এর পেছনের মূল বৈজ্ঞানিক যুক্তি বা তত্ত্বটি কী, এবং এর সাহায্যে সাধারণ মানুষ কীভাবে উপকৃত বা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে পারে—তা যেন খুব সংক্ষেপে ও আকর্ষণীয়ভাবে মাত্র ১ থেকে ২ মিনিটের মধ্যে বিচারকদের বুঝিয়ে বলা যায়, তার জন্য আগে থেকেই দলের সবাইকে চমৎকার মৌখিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে।

‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ কেবল একটি সাধারণ প্রতিযোগিতা নয়, এটি মূলত তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও উদ্ভাবনী চিন্তার এক বিশাল মিলনমেলা। এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের তাত্ত্বিক জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার সুযোগ পাবে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে। শিক্ষকদের সঠিক গাইডলাইন এবং শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীল প্রয়াসের মাধ্যমেই আগামী দিনে দেশের কৃষি, শিল্প, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এই ধরনের সময়োপযোগী আয়োজন ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্মার্ট, দক্ষ এবং বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।

লেখক: শিক্ষক

 

Ads small one

পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বী।

সভায় বক্তৃতা করেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পার্থ প্রতিম রায়, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম এমদাদুল হক, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলতাফ হোসেন, প্রেসক্লাব পাইকগাছার সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান, সাধারণ সম্পাদক এম. জালাল উদ্দীন,পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন, রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি জিএম মিজানুর রহমান, জামায়াত নেতা মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আব্দুস সালাম কেরু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ আলী, দিলীপ কুমার, আজিজুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার শম্পা, প্রভাষক আবু সাবাহ প্রমুখ।

 

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

 

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশানর (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ জিয়াউর রহমান, শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক নবীর হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্বে থাকা রাশেদ হোসাইন জানান মেডিকেল প্রাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী দু’টি প্রতিষ্টানকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ডাঃ ফার্নান্দো মা ও শিশু হাসপাতাল এবং প্রযুক্তি ক্লিনিক দু’টির সরকারি অনুমোদন না থাকাসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত চিকিৎসক না থাকার কারনে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তী এক মাসের মধ্যে যাবতীয় কাগজপত্র নবায়নপুর্বক তা পরিচালনার বিষয়ে স্পষ্ট সতর্ক করা হয়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন, আনন্দ মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন, আনন্দ মিছিল

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ৩১ সদস্যের ঐ কমিটি সোমবার বিকালে অনুমোদন হয়।
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আলহাজ¦ সোলায়মান কবিরকে সদ্য গঠিত কমিটির আহবায়ক ও এ্যাডভোকেট আশেক-ই এলাহী মুন্নাকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।


এছাড়া গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মামুদুল আলম, সাবেক ডাকসু নেতা অধ্যাপক আবু সাঈদসহ কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা এডভোকেট আব্দুস সালাম খান, লিয়াকত আলী বাবু, আমজাদুল ইসলাম, সাদেকুর রহমান সাদেম ও গাজী শহিদুজ্জামান আহবায়ক কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তীতে তিন মাসের মধ্যে পুর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এদিকে নবগঠিত আহবায়ক কমিটি অনুমোদনের খবরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী কর্মী সমর্থকরা তাৎক্ষনিকভাবে শ্যামনগর পৌরসদরে আনন্দ মিছিল করে। উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রধান সড়কসমুহ প্রদক্ষিন শেষে প্রেসক্লাব চত্ত্বরে পথসভায় মিলিত হয়। এসময় পরীক্ষিত নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি দেয়ায় পাটি চেয়ারম্যান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান তারা।

 

বক্তারা বলেন সদ্য ঘোষিত আহবায়ক কমিটি বিগত দিনে রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেয়া নেতাকর্মীদের মুল্যায়ন করবে। একই সাথে উপজেলার সব প্রান্তের নেতাদের কমিটিতে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক ড. মোঃ মনিরুজ্জামানের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ¦ সোলায়মান কবির, অধ্যাপক আবু সাঈদ, লিয়াকত আলী বাবু, গাজী শহীদুজ্জামান শহিদ, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক সফিকুল ইসলাম দুলু, মোঃ নুরুজ্জামান, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ঝুনু খাঁ, সামছুজ্জোহা টুটুল, প্রভাষক মোক্তার আলী, আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।