সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সাতক্ষীরা তালা কলারোয়া আশাশুনিতে জামায়াতের প্রস্তুতি সভা

পত্রদূত রিপোর্ট: গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আগামী ২০ জুন খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানে অনুষ্ঠিতব্য ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উপজেলায় প্রস্তুতি সভা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার এসব সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এসব সভার বক্তারা বলেন বলেন, জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে এই বিভাগীয় সমাবেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সমাবেশ সফল করতে সব স্তরের নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার কর্মপরিষদ সদস্যসহ সব ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যাতায়াত ব্যবস্থা, লিফলেট বিতরণ ও সাংগঠনিক প্রচারণা জোরদার করার বিষয়ে চূড়ান্ত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।


সাতক্ষীরা সদর: উপজেলা জামায়াতের আমীর ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা সেক্রেটারি ও জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর শেখ নুরুল হুদা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ওবায়দুল্লাহ এবং জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহাদাত হোসাইন।
কলারোয়া: উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাঃ কামারুজ্জামান এতে সভাপতিত্ব করেন। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মো. ওসমান গনী ও জেলা ইউনিট সদস্য অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম। এছাড়া উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা মো. আব্দুল হামিদ, অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক শাহজাহান কবীরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমীর, সেক্রেটারি ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রচার-প্রচারণা জোরদার ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
আশাশুনি: আশাশুনিতে লিফলেট বিতরণ করেছে জামায়াতে ইসলামী। শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় আশাশুনি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রচারণাকালে সড়কের যাত্রী, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে লিফলেট বিতরণ এবং সমাবেশ সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা হয়।


লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন আশাশুনি সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ আব্দুল্লাহ, সহ-সম্পাদক এস এম শহিদুজ্জামান বাবলু, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম, ওয়ার্ড সম্পাদক হাফেজ আব্দুল করিম, শ্রমিক নেতা রুহুল আমিন এবং আবুল কাশেমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‎তালা: ‎“খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ” সফল করার লক্ষ্যে তালায় লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামির উদ্যোগে তালা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম, প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারে লিফলেট বিতরণ করা হয়। ‎লিফলেট বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান রেন্টু, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, তালা সদর ওয়ার্ড সেক্রেটারি অহিদুজ্জামান রিপনসহ দলীয় অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতৃবৃন্দ আগামী ২০ জুন শনিবার বেলা ২টায় খুলনার সার্কিট হাউস ময়দানের সমাবেশ সফল করার জন্য তালা উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

Ads small one

সংস্কৃতির জাতীয় বাতিঘর : শিল্পকলা একাডেমির ইতিহাস ও সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিক জাগরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
সংস্কৃতির জাতীয় বাতিঘর : শিল্পকলা একাডেমির ইতিহাস ও সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিক জাগরণ

শেখ সিদ্দিকুর রহমান

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি কেবল একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নয়, এটি স্বাধীন বাংলাদেশের আত্মপরিচয়, মননশীলতা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের এক জীবন্ত মহাকাব্য। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের রক্তাক্ত পথ বেয়ে যে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছিল, তার মূল চালিকাশক্তি ছিল বাঙালির সুদীর্ঘ সাংস্কৃতিক আন্দোলন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বাঙালি সংস্কৃতিই স্বৈরাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।

 

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে পুনর্গঠনের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের ঐতিহাসিক প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছিল। পাকিস্তানি শাসনামলে বাঙালির হাজার বছরের লোকজ ঐতিহ্য, সংগীত, নাটক এবং চারুকলাকে অবদমিত ও বিকৃত করার যে সুগভীর ষড়যন্ত্র চলেছিল, স্বাধীন স্বদেশে তার অবসান ঘটিয়ে একটি প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও সৃষ্টিশীল সমাজ বিনির্মাণ ছিল সময়ের দাবি। এই মহান জাতীয় ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপলব্ধি করেছিলেন যে, একটি স্বাধীন জাতির পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক চর্চার কোনো বিকল্প নেই।

 

তাঁরই দূরদর্শী নির্দেশনায় এবং অনুশাসনে ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে “বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আইন, ১৯৭৪” পাস করা হয়। এই ঐতিহাসিক আইন পাসের মাধ্যমে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের প্রথম এবং একমাত্র স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই একাডেমি বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতি, নাটক, সংগীত, নৃত্য, চারুকলা, আবৃত্তি এবং আবহমান বাংলার অমূল্য লোকজ ঐতিহ্যকে সুসংগঠিতভাবে রক্ষা, বৈজ্ঞানিক উপায়ে চর্চা ও আধুনিক প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার এক মহান ব্রত গ্রহণ করে। এটি কোনো সাধারণ সরকারি দপ্তর বা কেবলই প্রশাসনিক ভবন নয়, বরং এটি হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ এবং সৃজনশীলতার এক অনন্য জাতীয় বাতিঘর।

শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার মূল দর্শন ও উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় উজ্জীবিত। ঢাকাকেন্দ্রিক উচ্চবিত্তের বিনোদনের গ-ি পেরিয়ে শিল্প-সংস্কৃতিকে দেশের আপামর জনসাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং লোকসংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। দেশের নিজস্ব শিল্প ও সংস্কৃতির সামগ্রিক বিকাশ ঘটানো, বিলুপ্তপ্রায় গ্রামীণ লোকজ ঐতিহ্য যেমন বাউল গান, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, পালাগান, গম্ভীরা, লাঠিখেলা, পুতুলনাচ সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

 

এর পাশাপাশি নাটক, সংগীত, নৃত্য, চারুকলা ও চলচ্চিত্রের প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা বৃদ্ধি করা, তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তোলা, নতুন নতুন প্রতিভাবান শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হাজার বছরের গৌরবময় সংস্কৃতিকে অত্যন্ত মর্যাদার সাথে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই প্রতিষ্ঠান নিরলস কাজ শুরু করে। মূলত দেশের সমস্ত সৃজনশীল মাধ্যমকে এক ছাতার নিচে এনে একটি সমন্বিত “জাতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র” হিসেবে এই একাডেমিকে কল্পনা করা হয়েছিল, যা আজ বাস্তবে রূপ লাভ করেছে।

রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থল সেগুনবাগিচার এক মনোরম ও ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক জোনে এই একাডেমির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত। বর্তমানে এটি এক বিশাল ও দৃষ্টিনন্দন আধুনিক কমপ্লেক্সে রূপান্তরিত হয়েছে, যা দেশের স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। এই বিশাল শিল্পকলা কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে গড়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক মানের জাতীয় নাট্যশালা, সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র, জাতীয় চিত্রশালা, আধুনিক পরীক্ষণ থিয়েটার হল, উন্নত সেমিনার কক্ষ, বিশাল উন্মুক্ত মঞ্চ, সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার, মহড়া কক্ষ, অত্যাধুনিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী সুবিধা এবং প্রশাসনিক ভবন।

 

যদিও স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিষ্ঠাকালীন ভবন নির্মাণের সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব একক নথিতে সহজলভ্য নয়, তবে এটি স্পষ্ট যে বিভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ধাপে ধাপে এই বিপুল অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। প্রথমে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে এর যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারের আমলে জাতীয় নাট্যশালা ও আধুনিক আর্ট গ্যালারি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এর পরিধি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে পুরো শিল্পকলা কমপ্লেক্সটি কয়েক একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত, যার আনুমানিক পরিমাপ প্রায় ৪ থেকে ৫ একরেরও বেশি।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য শুরু থেকেই বেশ কয়েকটি বিশেষায়িত বিভাগ গড়ে তোলা হয়েছে। এই বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ, সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ, চারুকলা বিভাগ, গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগ, লোকসংস্কৃতি বিভাগ, শিশু নাট্য ও প্রশিক্ষণ বিভাগ এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময় বিভাগ। এই বিভাগগুলোর মাধ্যমে সারা বছর ধরে দেশজুড়ে অসংখ্য জাতীয় উৎসব, উচ্চতর কর্মশালা, দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের আধুনিক নাট্য আন্দোলনের বিকাশে এবং গ্রুপ থিয়েটার চর্চাকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করতে জাতীয় নাট্যশালা এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে।

 

এই মঞ্চেই নিয়মিতভাবে পরিবেশিত হয়ে আসছে কালজয়ী সব মঞ্চনাটক, ঐতিহ্যবাহী লোকনাট্য, আন্তর্জাতিক নাট্যোৎসব, শিশু নাট্যোৎসব, জাতীয় আবৃত্তি অনুষ্ঠান এবং দৃষ্টিনন্দন নৃত্যনাট্য। দেশের শত শত নাট্যদল ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এই একাডেমিকে কেন্দ্র করেই তাদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও একাডেমি এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল পাঠানো এবং বহির্বিশ্বের প্রখ্যাত শিল্পীদের বাংলাদেশে এনে যৌথ প্রদর্শনীর মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের এক অনন্য সাংস্কৃতিক কূটনীতি পরিচালনা করছে।

এই মহান প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃত্ব প্রদানে ১৯৭৪ সালের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দেশের বহু বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ ও নাট্যজন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একাডেমির গৌরবময় বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছেন।

 

১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রথম মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব মোস্তফা মনোয়ার। তাঁর পর একে একে এই গৌরবময় পদে আসীন হন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও নাট্যজন ড. মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও সংগঠক মোস্তফা মনোয়ার (দ্বিতীয় মেয়াদে), বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আশরাফ সিদ্দিকী, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ ড. আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সংস্কৃতিজন কামরুল হাসান, বিশিষ্ট অভিনেতা ও নাট্যজন মমতাজউদ্দীন আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যব্যক্তিত্ব ইনামুল হক, সংস্কৃতিজন আতাউর রহমান, বরেণ্য নাট্যকার ও নির্দেশক মামুনুর রশীদ, বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব লিয়াকত আলী লাকী, খ্যাতিমান নাট্যনির্দেশক ও শিক্ষাবিদ সৈয়দ জামিল আহমেদ। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে কবি ও লেখক রেজাউদ্দিন স্টালিন এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত ও পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী গুণীজনদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ মেধা ও মনন দিয়ে একাডেমিকে আজকের এই মহিরুহে পরিণত করেছেন।

জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ও সাংবিধানিক অঙ্গীকার ছিল সংস্কৃতিকে ঢাকা কেন্দ্রিকতার বাইরে নিয়ে গিয়ে জেলা ও প্রান্তিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া। ১৯৭৪ সালের মূল আইনেই জেলা ও মহকুমা পর্যায়ে শিল্পকলা পরিষদ গঠনের সুস্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৬ সালে জেলা শিল্পকলা পরিষদের সুনির্দিষ্ট গঠনতন্ত্র অনুমোদিত হওয়ার পর সারা দেশে জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে শুরু করে।

 

বর্তমানে দেশের ৬৪টি জেলাতেই জেলা শিল্পকলা একাডেমি অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। সাধারণত প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক পদাধিকারবলে এই পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং একজন সার্বক্ষণিক কালচারাল অফিসার অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এর প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম তদারকি করেন। জেলা পর্যায়ের এই একাডেমিগুলো জেলাভিত্তিক সংগীত শিক্ষা, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য শিক্ষা, আবৃত্তি প্রশিক্ষণ, নাট্যচর্চা, চিত্রাঙ্কন, লোকসংগীত সংরক্ষণ, জাতীয় দিবসসমূহের যথাযোগ্য উদযাপন এবং শিশু-কিশোরদের মাঝে সৃজনশীল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে গ্রামীণ ও মফস্বল অঞ্চলের সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সজীব ও প্রাণবন্ত রাখছে।

এই দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক বিস্তারের ইতিহাসে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরার অবদান এবং সেখানকার জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার ইতিবৃত্ত অত্যন্ত গৌরবময়, বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং এক অনন্য ঐতিহাসিক অধ্যায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ১৯৭৪ সাল থেকেই দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো সাতক্ষীরাতেও সীমিত পরিসরে এবং সাময়িকভাবে বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক কর্মকা- শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে যেখানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন ওখানে একটি টিনশেডে শিল্পকলা একাডেমির কাজ পরিচালিত হতো।

 

তবে দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরার স্থানীয় সংস্কৃতি কর্মী, নাট্যজন এবং সাধারণ মানুষের দাবি ছিল একটি স্থায়ী ও সুর্দশন শিল্পকলা ভবন নির্মাণের। সেই স্বপ্ন পূরণের ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণটি আসে ২০০১ সালের দিকে। এ সময় জেলা শিল্পকলা ভবন নির্মাণের জন্য বাজেট এলেও স্থানাভাবে বাজেটের টাকা ফিরে যাবার উপক্রম হয়। এ সময় সাতক্ষীরার সংস্কৃতিজনরা একত্রে বসে একটি সুন্দর স্থান হিসেবে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের পূর্ব দিকের স্থানটি নির্ধারণ করেন। যেহেতু স্থানটি পৌরসভার, সে কারণে পৌরসভা হতে জায়গাটি স্থায়ীভাবে বরাদ্দ না পেলে শিল্পকলা ভবন নির্মাণ সম্ভব নয়।

সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমির আধুনিক ও স্থায়ী ভবন নির্মাণের ইতিহাসে যাঁদের অবদান সবচেয়ে অগ্রগণ্য, এবং যাঁরা পৌর চেয়ারম্যান বরাবর ০৮.০১.২০০২ সালে শিল্পকলা ভবনের জন্য জায়গা চেয়ে আবেদন করেছিলেন তাঁরা হলেন সৈয়দ ইফতেখার আলী, মুনসুর আহমেদ, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, শেখ আজাদ হোসেন বেলাল, মোস্তফা নুরুল আলম, আনিছুর রহিম, অধ্যাপক মোজাম্মেল হোসেন, সরদার আমজাদ হোসেন, নাসরীন খান লিপি, শেখ মমিনুর রহমান, আমজাদ হোসেন, সৈয়দ এখলেছার আলি বাচ্চু, আবু আফফান রোজবাবু, মঞ্জুরুল হক প্রমুখ। এঁদেরই অক্লান্ত পরিশ্রম, আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং সুদৃঢ় সাংস্কৃতিক নেতৃত্বের ফলে সাতক্ষীরায় স্থায়ী শিল্পকলা ভবন নির্মাণের পথ সুগম হয়।

 

২০০২ সালের দিকে তৎকালিন সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র শেখ আশরাফুল হকের পক্ষ থেকে এবং তাঁর আন্তরিক সহযোগিতায় সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে শিল্পকলা ভবনের জন্য জমি বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়। এই জমি গ্রহণের ক্ষেত্রে তৎকালীন স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য তথা জামায়াতে ইসলামীর সদর আসনের এমপি আব্দুল খালেক মন্ডল মহোদয়ের বিশেষ অনুমতি এবং আনুষ্ঠানিক সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। ১১.০২.২০০২ তারিখে আইন-শৃঙ্খলা মিটিং এ প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু’র উপস্থিতিতে পৌরসভার চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন সেই মর্মে চেয়ারম্যান তার সকল কাউন্সিলরদের নিয়ে ১৮.০২.২০০২ মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে ২৫.০২.২০০২ তারিখে ০.৩৩ শতক (এক বিঘা) জমি জেলা প্রশাসক/ সভাপতি বরাবর দানপত্র দলিল করে দেন।

সংসদ সদস্যের সেই লিখিত সুপারিশ ও অনুমোদনের প্রেক্ষিতে এবং শিল্পকলা একাডেমির জন্য পৌরসভার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের পূর্ব-দক্ষিণ কোণের সেই নির্দিষ্ট ০.৩৩ একর জায়গার ওপর জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে গতি পায়। পরবর্তীতে সেই নির্ধারিত ভূমির ওপরই আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হয় সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমির বহুতল ভবন, অডিটোরিয়াম এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আজ সাতক্ষীরার শিল্পকলা ভবনটি জেলার সমস্ত নাটক, সংগীত, চারুকলা, সাহিত্য চর্চা এবং প্রগতিশীল সামাজিক আন্দোলনের প্রধান মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তার কেন্দ্রীয় কমপ্লেক্স এবং ৬৪ জেলার শাখাগুলোর মাধ্যমে বছরে অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান অত্যন্ত সফলতার সাথে আয়োজন করে চলেছে। এর মধ্যে প্রতিবছর নিয়মিতভাবে আয়োজিত হচ্ছে জাতীয় নাট্যোৎসব, লোকসংস্কৃতি উৎসব, জাতীয় শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক উৎসব, চারুকলা প্রদর্শনী, জাতীয় চলচ্চিত্র উৎসব এবং রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী।

 

এছাড়াও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসের মতো সমস্ত জাতীয় ও ঐতিহাসিক দিবসে একাডেমি দেশব্যাপী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে নতুন প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আজ কেবল ইট-পাথরের কোনো অট্টালিকা নয়, এটি বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ, মেধা, মনন এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অবিনশ্বর জাতীয় প্রতীক যা যুগ যুগ ধরে বাঙালির আত্মপরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে সমুন্নত রাখছে।

 

জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সচিব ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এ পর্যন্ত যাঁরা দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁরা হলেন :-
বাবু বিজয় দেবনাথ (সার্বিক দায়িত্ব প্রাপ্তি) ১৯৭৬, আব্দুল মোতালেব ১৯৮০, মো আজিজার রহমান ১৯৮১, মীর মুনজুর আলী সাধারণ সম্পাদক, শফিকুল ইসলাম এনডিসি সদস্য সচিব, বাবু পরেশ চন্দ্র রায় এনডিসি সদস্য সচিব, মুস্তফা লুৎফুল্লাহ সাধারণ সম্পাদক, জাকির হোসেন কামাল এনডিসি সদস্য সচিব, দেলোয়ার হায়দার এনডিসি সদস্য সচিব, আবুল হাসান হাদী সাধারণ সম্পাদক, শাব্বির ইকবাল এনডিসি সদস্য সচিব, একেএম আজাদুর রহমান এনডিসি সদস্য সচিব, মো তবিবুর রহমান এনডিসি সদস্য সচিব, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এনডিসি সদস্য সচিব, মো সাদেকুর রহমান এনডিসি সদস্য সচিব, মো আবু নাসার উদ্দীন এনডিসি সদস্য সচিব, খন্দকার মো রেজাউল করিম এনডিসি সদস্য সচিব, বাবু পিন্টু ব্যাপারী এনডিসি সদস্য সচিব, অবদিয় মার্ডী এনডিসি সদস্য সচিব, খন্দকার মো রেজাউল করিম এনডিসি সদস্য সচিব, মো রবিউল হাসান এনডিসি সদস্য সচিব, নূুর আহমেদ মাসুম এনডিসি সদস্য সচিব, শেখ মোসফিকুর রহমান মিলটন সদস্য সচিব ২০.১২. ২০১৩, শেখ মোসফিকুর রহমান মিলটন সাধারণ সম্পাদক ১৯.১০.২০২০ হতে ০৫.০৮.২০২৪ পর্যন্ত।

 

দেশের পট পরিবর্তনের পর অদ্যাবধি জেলা শিল্পকলা একাডেমির কোনো নির্বাহী কমিটি নাই। তবে দেশের বিভিন্ন জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘কালচারাল অফিসার’ নিয়োগ দেওয়ায় তারই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে কালচারাল অফিসার হিসেবে ফাইজা হোসেন অন্বেষাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি প্রায় দু’বছর যাবত সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিক কর্মকা-ের বিকাশ সাধনে যথাযথ দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

লেখক: সাবেক ব্যাংকার, সমাজকর্মী ও গবেষক। সুত্র: নেট, আবু আফফান রোজবাবু ও শেখ মুশফিকুর রহমান মিলটন।

 

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের মাসিক কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত

পত্রদূত ডেস্ক: সোমবার (০৩ আগস্ট ২০২৬) সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স ড্রিল সেডে অফিসার ও ফোর্সদের মাসিক কিট প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কিট প্যারেড পরিদর্শন করেন সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম।

পুলিশ সুপার কিট প্যারেড পরিদর্শন শেষে সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। এসময় তিনি উপস্থিত সকল অফিসার ও ফোর্সদের সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী ইস্যুকৃত সকল কিট সামগ্রী যথাযথভাবে ব্যবহার ও সংরক্ষণের নির্দেশনা প্রদান করেন।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। তাই বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে সর্বদা পরিচ্ছন্ন-পরিপাটি থাকতে হবে এবং বাংলাদেশ পুলিশ ড্রেসরোল যথাযথভাবে অনুসরণ করে নির্ধারিত পোশাক পরিধান নিশ্চিত করতে হবে। পরিদর্শনকালে তিনি সকল সদস্যের কিট বই পর্যালোচনা করে ইস্যুকৃত সামগ্রীর প্রাপ্যতা যাচাই করেন। এছাড়াও দক্ষতা মুল্যায়ন, শারীরিক ফিটনেস ও টার্ন আউট এর উপর ভিত্তি করে চৌকস পুলিশ সদস্যদের পুরস্কৃত করেন।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্), মিথুন সরকার; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি), মোঃ আমিনুর রহমান; সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ), মোঃ ইমরান খান; সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ), শাওন রেজাসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্যবৃন্দ।

সাতক্ষীরায় মামলা বাণিজ্য চলতে দেওয়া যাবে না: সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মামলা বাণিজ্য চলতে দেওয়া যাবে না: সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ

বদিউজ্জামান: সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেছেন, “মামলা বাণিজ্য কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। একটি মামলায় ইচ্ছামতো নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করে পরে বাদী এসে এফিডেভিটের মাধ্যমে বলবে তার কোনো অভিযোগ নেই-এ ধরনের প্রবণতা সমাজ ও বিচারব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।”

রোববার (২ আগস্ট) বেলা ১২টায় নিজ আদালতে একটি মামলার শুনানিকালে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি মামলাকে কেন্দ্র করে কেউ যেন বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা না করে। এ ধরনের কর্মকান্ড বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করে এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যদিও এ ধরনের ব্যক্তির সংখ্যা খুব বেশি নয়, তারপরও সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে।

সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আরও বলেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আদালতের মূল লক্ষ্য। তাই নিরপরাধ ব্যক্তিদের অযথা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার সুযোগ কোনোভাবেই দেওয়া যাবে না।

এ সময় আদালতে উপস্থিত কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, গত বছরের জুলাই-পরবর্তী সময়ে মামলা বাণিজ্যের প্রবণতা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমানে এ ধরনের ঘটনা আগের তুলনায় কমে এলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তারা বলেন, আইনজীবী সমাজও এ ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ড সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হোক-এটাই প্রত্যাশা করে।

আদালতে উপস্থিত আইনজীবীদের মতে, বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আদালত ও আইনজীবী-উভয় পক্ষেরই পেশাগত সততা, নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজের এ পর্যবেক্ষণ বিচারাঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।