মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে অনাবাদী জমি এখন তরমুজের ক্ষেত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রযুক্তিতে অনাবাদী জমি এখন তরমুজের ক্ষেত

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির): সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে এক সময় আমন পরবর্তী সময়ে শতশত হেক্টর জমি অনাবাদী পড়ে থাকত। কিন্তু সেই চিত্র এখন বদলে দিয়েছে পাঁচ শতকের ‘মিনি পুকুর’ প্রযুক্তি। বর্ষার বৃষ্টির পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে তরমুজ খেতে সেচ দেওয়ার এই কৌশলটিই এখন আশাশুনি ও শ্যামনগরের প্রান্তিক চাষিদের ভাগ্য বদলের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে লোনা জমিতে তরমুজ চাষে সফল হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় ৪৭১ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলায়। লোনা পানির প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ‘ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন’ প্রকল্পের আওতায় খনন করা মিনি পুকুরগুলোই এখন এসব উপজেলায় সেচের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করছে।

উপকূলের কৃষকদের কাছে এই মিনি পুকুর মূলত একটি ‘মিষ্টি পানির প্রাকৃতিক ব্যাংক’। এটি সাধারণত চাষযোগ্য জমির এক কোণে নিদিষ্ট একটি জায়গাজুড়ে খনন করা গভীর একটি বিশেষ জলাধার। বর্ষা মৌসুমে যখন উপকূলে বৃষ্টিপাত হয়, তখন সেই পানি প্রাকৃতিকভাবেই নিচু এই পুকুরগুলোতে গিয়ে জমা হয় এবং পুকুরগুলো মিষ্টি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। পরে শুষ্ক মৌসুমে এই জমানো মিষ্টি পানিই হয়ে ওঠে চাষিদের একমাত্র সম্বল। কৃষকরা পুকুরের এক কোণে ছোট সোলার পাম্প অথবা ডিজেল চালিত পাম্প বসিয়ে ফিতা পাইপের মাধ্যমে পানি ক্ষেতে নিয়ে যান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপকূলের লোনা জমিতে এখন সারি সারি তরমুজের খেত। অথচ স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, আগে এসব অঞ্চলের বিলগুলোতে আমন ধান কাটার পর বছরের লম্বা একটি সময় জমিগুলো পতিত পড়ে থাকত। মাটির ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে যেখানে পানির সেচ সংকট বেশি সেখানকার চাষিরা এই সময়ে বোরো আবাদে সাহস পান না। মূলত বোরো ধানের জন্য যে বিপুল পরিমাণ মিষ্টি পানির প্রয়োজন হয়, শুষ্ক মৌসুমে তা পাওয়া দুষ্কর। অন্যদিকে, তরমুজ একটি লবণসহিষ্ণু ফসল এবং এতে বোরোর তুলনায় পানির প্রয়োজন অনেক কম। ফলে মিনি পুকুরে জমানো সামান্য বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে বোরোর ঝুঁকি না নিয়ে চাষিরা এখন তরমুজকেই লাভজনক বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, তরমুজ স্বল্পমেয়াদী ফসল হওয়ায় এটি তোলার পর জমি ফেলে না রেখে আরও একটি ফসল ফলানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। চৈত্র বা বৈশাখের শুরুতে তরমুজ বাজারজাত করার পর চাষিরা সেই জমিতে আউশ ধান, পাট বা গ্রীষ্মকালীন সবজি আবাদের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এতে করে উপকূলের এক ফসলি জমিগুলো এখন নিবিড় চাষাবাদের আওতায় আসছে।

বড়দল ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সত্যরঞ্জন বৈরাগী জানান, গত বছর তরমুজে কৃষকদের ব্যাপক লাভ হতে দেখে এবার তিনি নিজেও ১০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর আমাদের এলাকার অনেক কৃষক বিঘা প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করেছিলেন। সেই আগ্রহ থেকেই এবার বড়দলের বিলগুলোতে তরমুজের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এবার মজুরি, সার ও বীজের দাম কিছুটা বেশি, তবুও ফলন ভালো হওয়াতে আমরা সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব।

আর্থিক লাভের ক্ষেত্রে জামালনগর গ্রামের আফছার গাজীর গল্পটি এখন এলাকার কৃষকদের মুখে মুখে। গত মৌসুমে তিনি ১৬ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। তার মোট খরচ হয়েছিল ৩ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা এবং তিনি প্রায় ১২ লক্ষ টাকার বেশি তরমুজ বিক্রি করেন। এক মৌসুমে ৮ লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করায় তাকে দেখে এলাকার অনেক চাষি এখন নিজ উদ্যোগে মিনি পুকুর খনন করছেন।

আফছার গাজী বলেন, লবণাক্ততার কারণে আগে এসব জমিতে কিছুই হতো না। কিন্তু মিষ্টি পানির ব্যবস্থা হওয়ায় এখন লোনা মাটিতেও সোনা ফলছে।

বড়দল ইউনিয়নের আরেক বড় চাষি মাসুম সরদার এবার ৭০ বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন। তিনি জানান, বিঘা প্রতি তরমুজের গড় উৎপাদন ৭০০ থেকে ৮০০টি। বর্তমানে প্রতি বিঘা জমিতে উৎপাদন খরচ হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ফলন ও বাজার দর ভালো থাকলে প্রতি বিঘা তরমুজ ৭০ হাজার টাকার বেশি বিক্রি হয়। এ থেকে একজন কৃষক বিঘা প্রতি প্রায় ৪০ হাজার টাকা লাভ করতে পারেন।

তরমুজ চাষের এই কর্মযজ্ঞ উপকূলীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারী শ্রমিকের কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি করেছে। প্রতিদিন কয়েকশ নারী ৪০০ টাকা মজুরিতে চারা পরিচর্যার কাজ করছেন।

ঝর্ণা রানী নামের এক নারী শ্রমিক জানান, তরমুজ চাষ শুরু হলে এলাকার ৩ থেকে ৪ শত নারী প্রায় দুই মাস কাজের সুযোগ পান। তিনি বলেন, আগে এই সময়ে আমাদের কোনো কাজ থাকত না সে অর্থে। এখন তরমুজের খেতে কাজ করে আমরা সংসারে বাড়তি টাকা দিতে পারছি।

শ্যামনগর উপজেলার চিত্রও একই রকম। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শ্যামনগরে ১৫২ হেক্টর জমি তরমুজ চাষের আওতায় এসেছে। এর মধ্যে কৈখালী ইউনিয়নে ১০৫ হেক্টর, কাশিমাড়ীতে ২০ হেক্টর এবং ঈশ্বরীপুরে ২১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে শ্যামনগরে চাষ হয়েছিল ১০০ হেক্টর জমিতে। জাম্বু গ্লোরি, ড্রাগন, পাকিজা ও ওয়ার্ল্ড কুইনের মতো উচ্চফলনশীল জাতের তরমুজ এখন উপকূলের মাঠে দেখা যাচ্ছে।

শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের চাষি আব্দুল মজিদ জানান, লোনা পানির কারণে এই সময়ে আগে তাদের হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকতে হতো। তিনি বলেন, আগে আমন কাটার পর আমরা বোরো আবাদ করতে পারতাম না, কারণ নদী-খালের পানি তখন বিষের মতো লোনা হয়ে যায়। এখন ছোট পুকুরগুলোতে বৃষ্টির পানি জমিয়ে রেখে আমরা তরমুজ চাষ করছি। এই ফসলটি লোনা মাটি সহ্য করতে পারে এবং ধানের চেয়ে তিনগুণ বেশি লাভ দেয়। তরমুজ তোলার পর আমরা আবার সেই জমিতে আউশ বা সবজি লাগানোর সুযোগ পাচ্ছি।

কাশিমাড়ী এলাকার কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, বোরো ধানে যে পরিমাণ সেচ আর সময় লাগে, তাতে আমাদের উপকূলে লাভ করা খুব কঠিন। কিন্তু তরমুজ লবণসহিষ্ণু হওয়ায় এবার ১৫ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। বাজার ভালো থাকলে বোরোর চেয়ে অনেক বেশি টাকা ঘরে আসবে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, সাতক্ষীরার লোনা মাটি তরমুজের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনা তৈরি করেছে। মাটির লবণাক্ততা সত্ত্বেও ‘ক্লাইমেট স্মার্ট’ প্রযুক্তির মাধ্যমে মিষ্টি পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা লোনা মাটিকেও চাষোপযোগী করে তুলেছে। বিশেষ করে রবি মৌসুমে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে খনন করা মিনি পুকুরগুলোই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।

তিনি আরও জানান,বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় আবাদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় অনেকাংশে বেড়েছে। প্রকল্পের আওতায় আমরা চাষিদের প্রশিক্ষণ, সোলার পাম্প ও সেচ সরঞ্জাম সরবরাহ করছি। সরকারি পর্যায়ে সহজ শর্তে কৃষি ঋণ এবং পচনশীল ফসল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন করা গেলে তরমুজ চাষ এই অঞ্চলের স্থায়ী অর্থনৈতিক ভিত্তি হতে পারে।

Ads small one

প্রধানমন্ত্রীর সাথে অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪২ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সাথে অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে রোববার রাতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী।

শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থার কমিটি গঠন ও নির্বাচন সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থার কমিটি গঠন ও নির্বাচন সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্বচ্ছ, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে সাতক্ষীরার সামাজিক সংগঠন ‘শাপলা প্রতিবন্ধী যুব উন্নয়ন সংস্থা’-এর ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের ২১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন ও নির্বাচন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি এবং সংস্থার সাধারণ সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটিতে মো. সিহাব সিদ্দিকী সভাপতি, আজমিরা খাতুন সহ-সভাপতি এবং মো. রিপন হোসেন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।
কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন-কোষাধক্ষ পাপিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শহীদ হোসেন এবং ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো. হাফিজ।
নির্বাচনী সভায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস. এম. আজিজুর রহমান উপস্থিত থেকে নির্বাচন পরিচালনা ও সার্বিক কার্যক্রমে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সংস্থাসংশ্লিষ্ট মোট ৩০জন সদস্যের উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।

ডিবি গার্লস স্কুলে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩২ পূর্বাহ্ণ
ডিবি গার্লস স্কুলে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

oplus_0

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর-ব্রহ্মরাজপুর (ডিবি) গার্লস স্কুলে অর্ধ-বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ, অভিভাবক সমাবেশ এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) স্কুলের হলরুমে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি সাতক্ষীরা সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হোসেন এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক প্রতিনিধি মো. হাফিজুল ইসলাম, অভিভাবক সদস্য রবীন্দ্র কর্মকার, সিনিয়র শিক্ষক মো. নজিবুল ইসলাম, গীতা রাণী সাহা, শামীমা আক্তার, অরুন কুমার মন্ডল, দেবব্রত ঘোষ, কনক কুমার ঘোষ, মৃনাল কুমার বিশ্বাস, ভানুবতী সরকার, খালেদা খাতুন, আসমাতারা জাহান, আজহারুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করে সিনিয়র শিক্ষক এসএম শহীদুল ইসলাম।