সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মামলায় গ্রেফতার হলেন গাজী নজরুল, এমপি পদ থাকবে কি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ
মামলায় গ্রেফতার হলেন গাজী নজরুল, এমপি পদ থাকবে কি

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ স্পিকারকে জানিয়ে মরিয়মের বাবার করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।

এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এই সংসদ সদস্যের পদ থাকবে কি না, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে—এমন সরাসরি বিধান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে নেই।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। সেখানে দল থেকে বহিষ্কারের কথা উল্লেখ নেই। ফলে দল থেকে বহিষ্কারের করার পরও তার সংসদ সদস্য পদ টিকে আছে।

অন্যদিকে, সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনও ব্যক্তি নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্তত দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে নির্দিষ্ট শর্তে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

যদিও শুধু মামলা হওয়া বা গ্রেফতার হওয়া সংসদ সদস্য পদ হারানোর সমার্থক নয়। আদালতে দণ্ডিত হওয়ার মতো বিষয় থাকলে তখন সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের অযোগ্যতার বিধান প্রাসঙ্গিক।

গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক তদন্ত করে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটি জানিয়েছিল, তদন্তে তার ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হয়েছে। পরে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠিও দেয় জামায়াত। তবে জাতীয় সংসদ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে নির্বাচন কমিশনকে কোন চিঠি দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি নিজে থেকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের কারণ হয়ে যায় না। কারণ ওই অনুচ্ছেদে নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে আদালতের দণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

সংবিধানের ৬৬(৪) অনুযায়ী, কোনও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ৬৬(২)-এর কোনও অযোগ্যতায় পড়েছেন কি না বা ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার আসন শূন্য হয়েছে কি না—এ নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানোর বিধান রয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তই এ বিষয়ে চূড়ান্ত। তবে জাতীয় সংসদ থেকে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের শিশু পাঠানো হয়নি।

ফলে গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখন দুটি বিষয় আলাদাভাবে সামনে এসেছে। একদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনি প্রক্রিয়া চলছে; অন্যদিকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে সাংবিধানিক ও নির্বাচনি প্রশ্ন রয়েছে।

পুলিশ এরই মধ্যে জানিয়েছে, মামলায় গাজী নজরুলকে গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হচ্ছে এবং স্পিকারকে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে মামলায় গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন।

Ads small one

কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান হাফিজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান হাফিজ

সংবাদদাতা: যশোরের কেশবপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন চৌকস ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান হাফিজ।

এর আগে তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানা, শ্যামনগর থানা ও কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালনকালে পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহলে তিনি পরিচিত।

তালায় সরকারি কর্মকর্তা ও তৃণমূল নারীদের সম্মেলন : উঠে এলো বৈষম্য ও সম্ভাবনার চিত্র

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
তালায় সরকারি কর্মকর্তা ও তৃণমূল নারীদের সম্মেলন : উঠে এলো বৈষম্য ও সম্ভাবনার চিত্র

তালা প্রতিনিধি: প্রান্তিক দলিত নারীদের উন্নয়নের মূল স্্েরাতে সম্পৃক্ত করতে এবং সরকারি সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সাতক্ষীরার তালায় এক ব্যতিক্রমী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তৃণমূল সংগঠনের সদস্যদের মুখোমুখি হয়েছেন সরকারের ১১টি দপ্তরের কর্মকর্তারা। শুনেছেন তাদের দুঃখ-দুর্দশা, বঞ্চনা আর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে তালা শিল্পকলা একাডেমি হলরুমে এ সম্মেলনের আয়োজন করে বেসরকারি সংস্থা ভূমিজ ফাউন্ডেশন। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এবং ‘সমতার জন্য লড়ি (সজল)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তৃণমূল নারী নেত্রী সরস্বতী দাস। সঞ্চালনা করেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অচিন্ত্য সাহা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মাসুম বিল্লাহ, কৃষি অফিসার হাজিরা খাতুন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাব্বির হোসেন, সিনিয়র মৎস্য অফিসার তারিক ইমাম, সমাজসেবা অফিসার আরিফুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার, আইসিটি অফিসার মোতাহার হোসেন, যুব উন্নয়ন অফিসার আশুতোষ কুমার বিশ্বাস এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একাডেমিক সুপারভাইজার প্রভাষ কুমার দাস। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ভূমিজ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শাহীদুল ইসলাম।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক রেজাউল ইসলাম, উইমেন জব ক্রিয়েশন সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক আশরাফুল নাহার আশা, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, পানি কমিটির সাধারণ সম্পাদক মীর জিল্লুর রহমান, তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ার্দার, সাংবাদিক জুলফিকার রায়হান, মিজানুর রহমান প্রমুখ।

সম্মেলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল দলিত নারীদের কণ্ঠস্বর। সোমা সরকার, ঋতু সরকার, টুম্পা বিশ্বাসের মতো নেত্রীরা জানান, এখনও সমাজে তাদের জাতপাতের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হয়। সরকারি ভাতা, ভিজিডি কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা কৃষি প্রণোদনা পেতে গিয়ে তারা নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন। অনেক সময় তথ্য না জানার কারণে তারা সেবা থেকে বঞ্চিত হন।

তবে হতাশার পাশাপাশি সম্ভাবনার গল্পও উঠে আসে। সজল প্রকল্পের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার পর তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়েছেন। নিজেরা সঞ্চয় করছেন, হাঁস-মুরগি পালন ও সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

প্রধান অতিথি ইউএনও জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বলেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে বিশ্বাস করে। কোনো নাগরিক যাতে সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য প্রশাসন কাজ করছে। তিনি উপস্থিত সকল কর্মকর্তাকে দলিত জনগোষ্ঠীর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ণ
আত্মহত্যায় প্ররোচনা: এমপি গাজী নজরুল ৪ ও স্ত্রী ১ দিনের রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে একদিনে রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

 

সোমবার বিকালে শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।

 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম এ আদেশ হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। দুপুর ২টা ২২ মিনিটের দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ আসামিদের আদালতে নিয়ে আসে। তাদের ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। শুনানিকালে তাদের এজলাসে তোলা হয়।

 

পাঁচ কারণ দেখিয়ে তাদের রিমান্ড আবেদন করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—

 

> মরিয়ম গলায় ফাঁস দিয়ে মারা যাওয়ার সময় আসামিরা বাসায় ছিল। আত্মহত্যায় তাদের প্ররোচনা আছে কি না;

> তারা ভুক্তভোগীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উস্কানি, মানসিক চাপ, ভয়-ভীতিপ্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় ধাবিত করেছেন কি না;

 

> পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার অবস্থান শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

> অচেনা আসামি জড়িত আছে কি না তা শনাক্তসহ গ্রেপ্তার;

 

>মামলার মূল রহস্য উদঘাটন।

 

রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আর্জি জানান।

 

উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে।

 

রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

 

রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

 

এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে এদিন দুপুরে শেরেবাংলা নগর থানা থেকে দুই আসামিকে আদালতে নেওয়া হয়।

 

গত ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে এমপি নজরুলের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে প্রথমে জামায়াতের নেতাকর্মীরা এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন।

 

পরে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ফেইসবুকে পোস্টে ওই তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। বিরোধী দল এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে পরে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।