শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

মেলানিয়ার একক মধ্যস্থতায় এক শহরে যুদ্ধবিরতিতে রাজি রাশিয়া-ইউক্রেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫১ অপরাহ্ণ
মেলানিয়ার একক মধ্যস্থতায় এক শহরে যুদ্ধবিরতিতে রাজি রাশিয়া-ইউক্রেন

খাদ্য সংকটে থাকা ইউক্রেনের রুশ-নিয়ন্ত্রিত শহর ওলেশকিতে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। আগামী ২৯ অক্টোবর থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে শুক্রবার জানিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউস। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের একক মধ্যস্থতায় এই চুক্তিটি অর্জিত হয়েছে।

রুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে তেলবাহী জাহাজরুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে তেলবাহী জাহাজ
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রুশ বাহিনীর দখলে থাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় এই শহরের বাসিন্দারা চরম খাদ্য সংকট মোকাবিলা করছেন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে জানানো হয়, মানবিক ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করতে এবং নির্দিষ্ট নিরাপদ করিডোর দিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে উভয় দেশ ওলেশকিতে সব সামরিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছে।

ইউক্রেনের শীর্ষ আলোচক ডেভিড আরাখামিয়া টেলিগ্রামে জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেই মানবিক কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, মেলানিয়া ট্রাম্প এবং পোপ লিও-র দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ফলে এই চুক্তিটি সম্ভব হয়েছে।

অন্যদিকে ক্রেমলিন এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে কয়েক দিন সময় লাগবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিস্তারিত বিষয়ে আলোচনা করেছেন জানিয়ে এতে মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকা প্রশংসিত হয়।

এক বিবৃতিতে মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, ওলেশকির পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। যুদ্ধক্ষেত্রের সীমান্তবর্তী এই শহরটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এখানে যেসব মানুষ রয়ে গেছেন তাদের অধিকাংশই বয়স্ক, যাদের জরুরি চিকিৎসা, ওষুধ, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি প্রয়োজন।

তিনি আরও জানান, যুদ্ধবিরতির ফলে উভয় দেশের বেসামরিক প্রতিনিধিদল ঘরে ঘরে গিয়ে চিকিৎসা ও যাতায়াত সমন্বয় করতে পারবে এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্স একচেটিয়াভাবে পুরো বিষয়টি প্রচারের অনুমতি পাবে। সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দারা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী রাশিয়া কিংবা ইউক্রেনে যেতে পারবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, কখোভকা বাঁধ ধ্বংসের পর ৯০ শতাংশ প্লাবিত হওয়া এই শহরে বর্তমানে ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার প্রবীণ নাগরিক ও প্রায় ৫০ জন শিশু বসবাস করছে; যা যুদ্ধপূর্ব ২৪ হাজার জনসংখ্যার তুলনায় অত্যন্ত কম।

 

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।