যশোরের শার্শায় মাদ্রাসা ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব, শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
এম এ রহিম. বেনাপোল (যশোর): যশোরের শার্শা উপজেলার একটি ফাজিল মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক (সুপার) এর বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বুধবার (১ জুলাই) ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে শার্শা থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার সামটা ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার এক ছাত্রীকে একই প্রতিষ্ঠানের সুপার মমিনুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী ভয়ে দীর্ঘদিন পরিবারের কাছে কিছু বলতে পারেনি। পরে অভিযুক্তের আচরণ অসহনীয় হয়ে উঠলে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তের প্রস্তাবে রাজি না হলে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়া, বিভিন্ন ভাবে ক্ষতি করার হুমকি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এমনকি গত ১৮ জুন রাতে অভিযুক্ত অভিযোগকারীর বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। এতে পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তিনি জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং ছাত্রীর হাত চেপে ধরে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া ২৯ জুন অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপার ছাত্রীর বাবার হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দিয়ে তার মেয়েকে প্রতিষ্ঠান থেকে টিসি (স্থানান্তর সনদ) দিয়ে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে বলে জানান। এরপর থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে একই সুপারের বিরুদ্ধে নিজ প্রতিষ্ঠানের দুই ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। নতুন করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের ঘটনায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে।












