রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তি কি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তি কি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত হিসেবে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার দাবিতে অটল থাকবেন। রবিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে দুই নেতার মধ্যকার ফোনালাপের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া এবং ইরানি ভূখণ্ড থেকে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবিতে তিনি আলোচনায় অবিচল থাকবেন। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে তিনি কোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না।’

তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স এবং তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফরের পর শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে’ এবং এখন শুধু তা আনুষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এর পরেই মূলত পারমাণবিক বিষয় নিয়ে এই ভিন্নধর্মী তথ্য সামনে এলো।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার বলেছেন, পারমাণবিক বিষয়টি প্রাথমিক কোনও রূপরেখার অংশ ছিল না। এটি পরবর্তী পর্যায়ে ‘পৃথক আলোচনার বিষয়’ হিসেবে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত করা ইসরায়েল এখানে একটি চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার ভূমিকা নিতে পারে। এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের পারমাণবিক নথিপত্র মার্কিন প্রশাসনের দেখভালের পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির মধ্যে কোনও যোগসূত্র তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ‘প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘোষণা করা হবে, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘এই ব্যবস্থার অধীনে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ইসরায়েলও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

ইরানি গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে যে, তেহরান প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক বা এক ধরনের রূপরেখা চুক্তি তৈরি করতে চায়, যার পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে। তবে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা মনে করে যে ‘ইরানিরা মূলত সময়ক্ষেপণ করছে এবং ৬০ দিন পর তেহরান কোনও ধরনের ছাড় দিতে তাদের অনীহার কথা জানিয়ে দেবে।’

এই পরিস্থিতির মধ্যেই, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রগতির খবরের মধ্যে রবিবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের বৈঠক বসার কথা রয়েছে বলে কেএএন জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ওয়াশিংটন চলমান আলোচনা সম্পর্কে তেল আবিবকে প্রতিনিয়ত অবহিত রাখছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার রাতে ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইসরায়েল ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যেকোনও হুমকির বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখবে।’

এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে চুক্তিটি গড়ে উঠছে তা অত্যন্ত ‘খারাপ’। সূত্রটি চ্যানেলটিকে বলে, এটি মূলত এই বার্তাই দেয় যে হরমুজ প্রণালি হলো ‘ইরানের হাতে থাকা একটি অস্ত্র, যা কোনও পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে কম কার্যকর নয়’।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চুক্তির খসড়ায় শর্ত রাখা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরান বা তার মিত্রদের ওপর আক্রমণ করবে না এবং এর বিনিময়ে ইরানও তাদের ওপর কোনও আগাম বা প্রতিরোধমূলক হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ বেনি গান্তজ বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত ভুল হবে, যেখানে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও তেল আবিব এখনও বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই সব আলোচনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন যে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফোনালাপ ‘খুব ভালো’ হয়েছে।

আর রবিবার নেতানিয়াহু সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে পারমাণবিক হুমকি দূর করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পারমাণবিক হুমকি দূর করার অর্থ হলো, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা বা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং দেশটির ভূখণ্ড থেকে সব সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া।

তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে তেহরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি।

ওই সূত্র মতে, ‘পারমাণবিক ইস্যুটি মূলত একটি চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় সমাধান করা হবে এবং সে কারণে এটি বর্তমান চুক্তির অংশ নয়। ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার বা স্থানান্তরের বিষয়ে কোনও ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি।’

ততক্ষণে ট্রাম্প আবার নিজের অবস্থান কিছুটা পাল্টে ফেলেছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ‘সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে অগ্রসর হচ্ছে’ বলে দাবি করলেও তেহরানের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের তাড়াহুড়ো না করতে নিজের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি আমার প্রতিনিধিদের চুক্তির জন্য তাড়াহুড়ো না করতে জানিয়ে দিয়েছি এবং সময় এখন আমাদের পক্ষেই রয়েছে।’

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Ads small one

ঈদ উপলক্ষে ৪ বন্দির সাজা মওকুফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ঈদ উপলক্ষে ৪ বন্দির সাজা মওকুফ

 

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মানবিক বিবেচনায় চার বন্দির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করে তাদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

রবিবার (২৪ মে) কারা অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের আওতায় চারজন কয়েদির অবশিষ্ট সাজা মওকুফ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শিগগিরই তারা কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন।

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বন্দিরা হলেন— ফরিদপুর জেলা কারাগারের নাঈম শিকদার, খুলনা জেলা কারাগারের মো. ইসলাম শেখ, রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারের পলাশ বড়ুয়া এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের আব্দুল মালেক।

কারা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের আওতায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।

লবণাক্ততার আগ্রাসন ও দুর্যোগ: উপকূলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
লবণাক্ততার আগ্রাসন ও দুর্যোগ: উপকূলে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে একসময় মাটির তৈরি দেওয়াল আর খড়ের ছাউনির ঘরই ছিল সাধারণ মানুষের প্রধান আশ্রয়। কৃষি-নির্ভর এই জনপদে যুগ যুগ ধরে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে মিশে এই মাটির ঘরেই বাস করত। তবে ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’র পর থেকে মাটির ঘর নির্মাণ এ অঞ্চলে নেই বললেই চলে। আইলার পর বুলবুল, আম্পান, ইয়াসের মতো একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপকূলের মাটি ও মানুষের জীবনকে ওলটপালট করে দিয়ে গেছে। জলোচ্ছ্বাসের লোনা পানি বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় সংকুচিত হয়েছে কৃষিজমি, আর তাতেই হারিয়ে যেতে বসেছে উপকূলের চিরচেনা এই মাটির ঘর।
স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলের বেলে-দোঁয়াশ ও এঁটেল মাটি মিশিয়ে ম- তৈরি করা হতো। এরপর হাতের সুনিপুণ কারুকাজে মাটির ‘চাফ’ (দলা) কেটে ধাপে ধাপে তৈরি হতো ঘরের মজবুত দেওয়াল। কিন্তু ক্রমাগত প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাটির দেওয়াল ধসে আসবাবপত্র নষ্ট হওয়া এবং শিশুসহ মানুষ চাপা পড়ার ঘটনার পর থেকে এই ঘরের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমতে থাকে। এর ওপর বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাটির সংকট। চিংড়ি ঘেরের কারণে লোনা পানি ঢুকে টপ-সয়েলের (মাটির উপরিভাগ) বুনট নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে ঘর তৈরির উপযোগী আঠালো মাটি এখন আর পাওয়াই যায় না।
উপকূলের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের পূর্বকালিনগর গ্রামে এখনো কোনোমতে টিকে আছে একটি মাটির ঘর। ঘরের কারিগর কৃষক শ্যামাপদ বৈদ্য বলেন, “এখন আর মাটির ঘর চোখেই পড়ে না। অথচ ২০-২৫ বছর আগে পৌষ থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত মাটির দেওয়াল তৈরির কাজে আমাকে দিন-রাত ব্যস্ত থাকতে হতো। এই ঘরগুলোতে খরচ কম, আরাম বেশি। বাইরে ঝড়-বৃষ্টি হলেও ভেতরে সহজে টের পাওয়া যেত না। এখনকার বেড়ার ঘরে সামান্য বাতাসেই বুক কাঁপে। আগেকার মাটির উঁচু ঘর চোর-ডাকাতদের থেকেও নিরাপদ ছিল।”
শ্যামাপদ বৈদ্যের স্ত্রী কৃষ্ণা রানী বৈদ্য বলেন, “আইলার আগে আমাদের তিনটি মাটির ঘর ছিল, সব ভেঙে গেছে। এবার খরচ ও পরিশ্রম কমাতে শুধু গোয়ালঘরটা আবার মাটি দিয়েই তৈরি করছি। বছরে একবার গোবর-মাটি দিয়ে লেপে দিলেই এক বছর চলে যায়।”
স্থানীয় শিক্ষক মনোজিৎ কর্মকার বলেন, “আগে গ্রামে প্রায় সব ঘরই ছিল মাটির। মানুষ তখন শান্তিতে থাকত, রোগবালাই কম ছিল। মাটির ঘর তৈরির জন্য গ্রামে কিছু লোকায়ত জ্ঞানসম্পন্ন প্রবীণ মানুষ ছিলেন। বছরের শুরুতে পৌষ-মাঘ মাসে কৃষিজমির বিশেষ মাটি তুলে ঘর বাঁধার প্রস্তুতি নেওয়া হতো। মাটি পেটানো, শুকানো আর ধাপে ধাপে দেওয়াল তুলতে তিন-চার মাস সময় লেগে যেত।” তিনি আফসোস করে বলেন, মাটির ঘরের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী মাটির হাঁড়ি, পাতিল, কলসের ব্যবহারও এখন বিলুপ্তির পথে।
বেসরকারি একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিভাগীয় সমন্বয়কারী শাহিন ইসলাম এই পরিস্থিতিকে ‘সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার নীরব বিপ্লব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, “উপকূলে মাটির ঘর ছিল প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের ঐতিহ্য। একান্নবর্তী পরিবারগুলোতে থাকার ঘর, গোয়াল ঘর, খড় রাখার ঘরÑসবই মাটির তৈরি হতো। এগুলো ছিল প্রকৃতির সঙ্গে মিলেমিশে বেঁচে থাকার প্রতীক। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ভূগর্ভস্থ এবং উপরিভাগের পানি ও মাটি অতিরিক্ত লবণাক্ত হয়ে পড়েছে, যা মাটির স্বাভাবিক আঠালো বুনট নষ্ট করে দিয়েছে। মাটি ও পানির সংকটে এ অঞ্চলের কুমারদের পেশাও বদলে যাচ্ছে।”
শাহিন ইসলাম আরও বলেন, উপকূলে লবণ পানির এই আগ্রাসন ও জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রুখতে না পারলে শুধু মাটির ঘরই নয়, প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রাণবৈচিত্র্যকেও টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কোন আবেদন ফুরিয়ে যায় না, জানালেন অপু বিশ্বাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
কোন আবেদন ফুরিয়ে যায় না, জানালেন অপু বিশ্বাস

ঢালিউড কুইন অপু বিশ্বাস সবসময়ই তার অভিনয় দক্ষতা, ফ্যাশন সেন্স এবং পর্দার উপস্থিতি দিয়ে আলোচনায় থাকেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বেশ সক্রিয়, যেখানে তার প্রতিটি পোস্টই ভক্তদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করে।
সম্প্রতি তিনি নতুন একটি ফটোশুটের একগুচ্ছ ছবি শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনটি ভিন্ন লুকে ধরা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ছবিগুলো প্রকাশের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ফ্যাশনেবল ও স্টাইলিশ উপস্থিতির মাধ্যমে আবারও নিজের জনপ্রিয়তা ও আকর্ষণীয় ইমেজের প্রমাণ দিয়েছেন অপু বিশ্বাস।

ছবিগুলোতে তাকে একদম ভিন্ন রূপে, পরিচ্ছন্ন এবং রাজকীয় ভঙ্গিতে দেখা গেছে। ছবি শেয়ার করে অপু ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘চিরায়ত রূপের আবেদন কখনো ফুরিয়ে যায় না।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় অপু বিশ্বাসের এই ছবিগুলো শেয়ার করার পর থেকেই ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে। অনেকেই তার মন্তব্যের ঘরে প্রশংসার ঝড় তুলেছেন। কেউ লিখেছেন ‘কিউট’, কেউ বা বলেছেন ‘রানী’। তার এই নতুন লুকে তার ভক্তরা পুরোপুরি মুগ্ধ।

প্রসঙ্গত, অপু বিশ্বাস ‘কোটি টাকার কাবিন’ দিয়ে ২০০৬ সালের পরিচিত পান। এর আগে ‘কাল সকালে’ সিনেমায় পার্শ্ব চরিত্র দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু হয় তার। সিনেমাটি পরিচালনা করেন আমজাদ হোসেন। এরপর শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে নিয়মিত হোন অপু বিশ্বাস। অনেকদিন পর এমন নিয়মিত জুটি পায় বাংলা সিনেমা।