শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তি কি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্ভাব্য চুক্তি কি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত হিসেবে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়ার দাবিতে অটল থাকবেন। রবিবার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।

শনিবার রাতে দুই নেতার মধ্যকার ফোনালাপের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া এবং ইরানি ভূখণ্ড থেকে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবিতে তিনি আলোচনায় অবিচল থাকবেন। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে তিনি কোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন না।’

তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা ফার্স এবং তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনও ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক সপ্তাহে দ্বিতীয়বারের মতো তেহরান সফরের পর শনিবার ট্রাম্প বলেছিলেন যে, যুদ্ধ অবসানের জন্য ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি ‘মোটামুটি চূড়ান্ত হয়ে গেছে’ এবং এখন শুধু তা আনুষ্ঠানিক রূপ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এর পরেই মূলত পারমাণবিক বিষয় নিয়ে এই ভিন্নধর্মী তথ্য সামনে এলো।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই শনিবার বলেছেন, পারমাণবিক বিষয়টি প্রাথমিক কোনও রূপরেখার অংশ ছিল না। এটি পরবর্তী পর্যায়ে ‘পৃথক আলোচনার বিষয়’ হিসেবে থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সূত্রপাত করা ইসরায়েল এখানে একটি চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার ভূমিকা নিতে পারে। এর আগে ইসরায়েলি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানের পারমাণবিক নথিপত্র মার্কিন প্রশাসনের দেখভালের পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির মধ্যে কোনও যোগসূত্র তৈরি হতে পারে কি না, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নেতানিয়াহু।

ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছে, ‘প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ঘোষণা করা হবে, যেখানে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে লড়াই বন্ধের ওপর জোর দেওয়া হবে।’ এতে আরও বলা হয়, ‘এই ব্যবস্থার অধীনে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হিসেবে ইসরায়েলও লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

ইরানি গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে যে, তেহরান প্রথমে একটি সমঝোতা স্মারক বা এক ধরনের রূপরেখা চুক্তি তৈরি করতে চায়, যার পরবর্তী ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হবে। তবে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা মনে করে যে ‘ইরানিরা মূলত সময়ক্ষেপণ করছে এবং ৬০ দিন পর তেহরান কোনও ধরনের ছাড় দিতে তাদের অনীহার কথা জানিয়ে দেবে।’

এই পরিস্থিতির মধ্যেই, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনায় অগ্রগতির খবরের মধ্যে রবিবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের বৈঠক বসার কথা রয়েছে বলে কেএএন জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ওয়াশিংটন চলমান আলোচনা সম্পর্কে তেল আবিবকে প্রতিনিয়ত অবহিত রাখছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার রাতে ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপকালে নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইসরায়েল ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যেকোনও হুমকির বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা বজায় রাখবে।’

এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে চুক্তিটি গড়ে উঠছে তা অত্যন্ত ‘খারাপ’। সূত্রটি চ্যানেলটিকে বলে, এটি মূলত এই বার্তাই দেয় যে হরমুজ প্রণালি হলো ‘ইরানের হাতে থাকা একটি অস্ত্র, যা কোনও পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়ে কম কার্যকর নয়’।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, চুক্তির খসড়ায় শর্ত রাখা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরান বা তার মিত্রদের ওপর আক্রমণ করবে না এবং এর বিনিময়ে ইরানও তাদের ওপর কোনও আগাম বা প্রতিরোধমূলক হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

ইসরায়েলি রাজনীতিবিদ বেনি গান্তজ বলেছেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়া ইসরায়েলের জন্য একটি কৌশলগত ভুল হবে, যেখানে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও তেল আবিব এখনও বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে এই সব আলোচনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন যে, নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফোনালাপ ‘খুব ভালো’ হয়েছে।

আর রবিবার নেতানিয়াহু সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে যেকোনও চূড়ান্ত চুক্তিতে পারমাণবিক হুমকি দূর করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পারমাণবিক হুমকি দূর করার অর্থ হলো, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা বা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং দেশটির ভূখণ্ড থেকে সব সমৃদ্ধ পারমাণবিক উপাদান সরিয়ে নেওয়া।

তবে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তিতে তেহরান তাদের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ হস্তান্তর করতে রাজি হয়নি।

ওই সূত্র মতে, ‘পারমাণবিক ইস্যুটি মূলত একটি চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনায় সমাধান করা হবে এবং সে কারণে এটি বর্তমান চুক্তির অংশ নয়। ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার বা স্থানান্তরের বিষয়ে কোনও ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি।’

ততক্ষণে ট্রাম্প আবার নিজের অবস্থান কিছুটা পাল্টে ফেলেছেন। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা ‘সুশৃঙ্খল ও গঠনমূলকভাবে অগ্রসর হচ্ছে’ বলে দাবি করলেও তেহরানের সঙ্গে চুক্তি করার ক্ষেত্রে কোনও ধরনের তাড়াহুড়ো না করতে নিজের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য জানিয়েছেন।

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি আমার প্রতিনিধিদের চুক্তির জন্য তাড়াহুড়ো না করতে জানিয়ে দিয়েছি এবং সময় এখন আমাদের পক্ষেই রয়েছে।’

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Ads small one

খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা

তালা প্রতিনিধি: খুলনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তালা প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এক যৌথ বিবৃতিতে তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ার্দ্দার ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংগঠনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজ ও রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি সরাসরি আঘাত।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগরীর শান্তিধাম জাতিসংঘ পার্কসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। এতে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নির্মাণকল্পে এডহক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নির্মাণকল্পে এডহক কমিটি গঠন

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মোড় কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নিদিষ্ট স্থানে নির্মাণ কল্পে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর কুলিয়া কাঁচা বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ মোড় চত্বরে মসজিদ নির্মাণ কল্পে এক জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুলিয়া কাঁচা বাজারে ও ইউনিয়ন পরিষদে আসা বহু মুসল্লি উক্ত মসজিদে নামাজ পড়ত। মসজিদটি ভেঙে দেওয়ার কারণে মুসল্লীদের নামাজ পড়তে দুভোর্গে পড়তে যাচ্ছে। সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে পাকা না হলেও এখনি একটি টিন সেটের মসজিদ নির্মাণ করার দরকার। মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্যে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুঠিত হয়।

সভায় বক্তব্যে রাখেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সবুজ, কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. জাহাঙ্গীর কবির বাবু, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন বাবলু, জামায়াত নেতা মাছুম খান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডাঃ অহিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকন, মোসফিকুর রহমান, রুহুল আমিন, রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইয়াকুব আলী প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদ নির্মাণ কল্পে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আমিনুর রহমানকে আহবায়ক ও অন্যান্য সদস্যরা যথাক্রমে মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান সবুজ, মাসুম খান চৌধুরী, মাওলানা রুহুল আমিন, দেলোয়ার হোসেন বাবলু, সাংবাদিক রুহুল আমিন, আব্দুস সামাদ গাজী, সিরাজুল ইসলাম মোড়ল,এ্যাডঃ আল আমিন, রওশন সরদার, আবুল কাশেম ও মাওলানা ইয়াকুব আলী।

 

 

 

বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের প্রথম এবং ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বাঙালি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাড়ুলী গ্রামে অবস্থিত।

খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক রাড়ুলী গ্রাম। ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তাঁরও জন্মের ১১ বছর আগে ১৮৫০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুধু তাইনা, এটি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মের প্রায় ৩০ বছর আগের ঘটনা।

দেশের প্রথম ও ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বাঙালী নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়। তৎকালীন সময়ে একবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রাড়ুলী গ্রামে বেড়াতে আসেন। তিনি তখন আচার্য পিসি রায়ের বাবা হরিশ চন্দ্রকে নারী শিক্ষার উন্নয়নে একটি আলাদা নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য তাগিদ দেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় হরিশ্চন্দ্র নিজ গ্রাম রাড়ুলীতেই তাঁর স্ত্রীর নামে ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি বিদ্যালয়ে প্রথম ছাত্রী হিসেবে তাঁর স্ত্রী ভুবন মোহিনীকেই ভর্তি করেন। এটিই বাংলাদেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন অনেক জ্ঞানী গুণি মানুষ।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুই শ এর উপরে জন ছাত্রী, ১৫ জন শিক্ষক- শিক্ষিকা এবং ৪জন কর্মচারী রয়েছেন। ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা জাতীয়করণ হয়নি। এটি জাতীয়করণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।

ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার ঘোষ, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদ মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও জাতীয়করণ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যালয়টি তার গৌরবময় ইতিহাসকে ধারণ করে দেশের নারী শিক্ষায় আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।