শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

রঙের আগে মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
রঙের আগে মানুষ

ইরফানুল আহছান জীম
জন্মের পর প্রথম কান্নাটুকুতে
কেউ জিজ্ঞেস করেনিÑ
শিশুটির গায়ের রং কেমন?
তখন সে শুধু মানুষ,
মায়ের বুকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সন্তান।
কিন্তু একটু একটু করে বড় হতে হতে
শুনতে পায়Ñ
ও তো বেশ কালো!
রোদে এত ঘোরো কেন?
একটু ফর্সা হলে দেখতে ভালো লাগত!
শব্দগুলো তখনও ছোট,
কিন্তু শিশুটির মনে
দাগগুলো বড় হতে থাকে।
স্কুলের অনুষ্ঠানে
ফর্সা মেয়েটি সামনে দাঁড়ায়,
কালো মেয়েটিকে কেউ বলে
তুমি একটু পেছনে দাঁড়াও।
খেলার মাঠে সে-ও দৌড়ায়,
স্বপ্ন দেখে, হাসে, কাঁদেÑ
তবু তার পরিচয়ের আগে
কেন যেন তার গায়ের রংটাই আসে?
বয়স বাড়ে,
স্বপ্নও বড় হয়।
কেউ মঞ্চে উঠতে চায়,
কেউ নাটকে অভিনয় করতে চায়,
কেউ সিনেমার পর্দায় নিজের মুখ দেখতে চায়,
কেউ মডেলিংয়ের আলোয় দাঁড়িয়ে
নিজের গল্প বলতে চায়।
কিন্তু অডিশনের দরজায়
কখনো কখনো প্রতিভার আগে
আয়নায় খোঁজা হয় রং।
চোখের ভাষার আগে
ত্বকের ছায়া মাপা হয়।
অভিনয়ের আগে
মুখের উজ্জ্বলতা নিয়ে কথা হয়।
যেন চরিত্রের প্রয়োজন নেই,
প্রয়োজন শুধু একটি নির্দিষ্ট রং!
তারপর একদিন
বিয়ের প্রস্তাব আসে।
ঘরে চায়ের কাপ সাজে,
মিষ্টির প্লেট আসে,
দুই পরিবার মুখোমুখি বসে।
কেউ জিজ্ঞেস করে
মেয়েটা কী পড়েছে?
কী করতে ভালোবাসে?
মানুষ হিসেবে কেমন?
কিন্তু সব প্রশ্নের আগেই
কারও চোখ গিয়ে থামে তার মুখেÑ
তারপর ফিসফিস করে ওঠে,
“রংটা একটু চাপা না?”
একটি মানুষের
শিক্ষা, স্বপ্ন, সততা, মায়া,
হাসি, হৃদয়Ñ
সবকিছু যেন মুহূর্তেই হারিয়ে যায়
দুটি শব্দের কাছেÑ
“গায়ের রং।”
কী অদ্ভুত এই পৃথিবী!
যে রং নিয়ে এত অহংকার,
সে রং তো আমরা নিজেরা বেছে নেয়নি।
যে রং নিয়ে কাউকে ছোট করি,
সেই রঙও তো আমাদের হাতে আঁকা নয়।
তবু মানুষ মানুষকে মাপে
ত্বকের রঙ দিয়ে;
কেউ সুন্দর হয় বিজ্ঞাপনের ভাষায়,
কেউ সুন্দর হয় আয়নার বিচারে,
আর কেউ সারাজীবন
নিজের স্বাভাবিক রংটাকে
অপরাধ ভেবে বয়ে বেড়ায়।
অথচÑ
একদিন সবাইকে যেতে হবে
একটি অন্ধকার ঘরে।
সেখানে কোনো ক্যামেরা থাকবে না,
মডেলিংয়ের র‌্যাম্প থাকবে না,
সিনেমার পর্দা থাকবে না,
বিয়ের আসর থাকবে না,
কেউ দাঁড়িয়ে বলবে নাÑ
এই মানুষটি ফর্সা,
ওই মানুষটি কালো।
সেখানে
সবাই একই মাটির নিচে,
একই নীরবতায়।
যে মুখের রং নিয়ে
পৃথিবীতে এত বিচার হয়েছিল,
মাটির নিচে সে মুখও
একদিন মিশে যাবে মাটির সঙ্গে।
সেদিন কেউ জিজ্ঞেস করবে নাÑ
গায়ের রং কী ছিল?
হিসাব হবে অন্য কিছুরÑ
কতটা মানুষ ছিলে,
কতটা ভালো ছিলে,
কতটি হৃদয় ভাঙোনি,
কতটি চোখের জল মুছেছিলে,
কতটা ন্যায় নিয়ে বেঁচেছিলে।
তাই, মানুষকে রঙে নয়Ñ
মানুষ হিসেবে দেখো।
কারণ আয়নার সামনে
গায়ের রং হয়তো পরিচয় হতে পারে,
কিন্তু জীবনের শেষে
পরিচয় হবে শুধু একটাইÑ
সে একজন মানুষ ছিল।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।