বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

শ্যামনগরে দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে দুস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বিএনপি নেতা ড. মো. মনিরুজ্জামানের পক্ষ থেকে দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলাইমান কবিরের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী শাহআলমের সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মো. মনিরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি নাগরিক দায়িত্ব। সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির এই সহায়তা কিছুটা হলেও মানুষের ভোগান্তি কমাবে।
পরে অতিথিরা উপস্থিত সুফলভোগীদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন। এতে উপজেলা বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

Ads small one

আদালত চত্বর থেকে হ্যান্ডকাফ পরা আসামির পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
আদালত চত্বর থেকে হ্যান্ডকাফ পরা আসামির পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা আদালত চত্বরে পুলিশের হেফাজত থেকে মো. আজমাইন নামের এক আসামির পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বুধবার দুপুরে আশাশুনি থানা থেকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসার সময় তিনি পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা তাঁকে আটক করে। আজমাইন (২৫) আশাশুনি উপজেলার উত্তর গোদাড়া গ্রামের মনিরুল গাজীর ছেলে।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. মঈনুদ্দিন সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট গোদাড়া গ্রামে একটি মারপিটের ঘটনায় আশাশুনি থানায় একটি মামলা হয় (জিআর- ১৫৭/২৬)। ওই মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে আজমাইনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার দুপুর একটার দিকে মহেন্দ্রযোগে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়। দেড়টার দিকে আজমাইনকে গারদে নিয়ে যাওয়ার পথে বারান্দায় তোলার সময় হ্যান্ডকাফসহ পালিয়ে যান তিনি। পরে পলাশপোল বউবাজার এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে আটক করে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

ইটগাছা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ইটগাছা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

 

সংবাদদাতা: “এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই”Ñএই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ইটগাছা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফারুক হোসেন। তিনি সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, সনদ ও শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেন।
বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মুজিতের সভাপতিত্বে এবং প্রধান শিক্ষক শেখ কামাল উদ্দীনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্যে অংশ নেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আবু সাইদ বিশ্বাস, সাবেক সদস্য আব্দুর রহিম, ব্যবসায়ী আইয়ুব হোসেন, সায়েম ফেরদাউস মিতুসহ বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধা ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশে এ ধরনের আয়োজন জরুরি। একটি শিক্ষিত ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গঠনে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তাঁরা।

সম্পাদকীয়/ আইনি ফাঁকফোকর ও প্রশাসনিক দায় এড়ানোর সংস্কৃতিতে ধামাচাপা পড়ছে বাল্যবিয়ে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ আইনি ফাঁকফোকর ও প্রশাসনিক দায় এড়ানোর সংস্কৃতিতে ধামাচাপা পড়ছে বাল্যবিয়ে

উপজেলার দাতিনাখালী গ্রামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ও ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বিয়ে হওয়ার ঘটনাটি আমাদের সমাজ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক নির্মম বাস্তবতাকে উন্মেচিত করেছে। উভয় পক্ষই অপ্রাপ্তবয়স্ক; বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী এটি পরিষ্কার শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অথচ এফিডেভিটের দোহাই দিয়ে এবং প্রশাসনিক দায় ঠেলার অদ্ভুত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই বেআইনি কর্মকা-টি নির্বিঘেœ সম্পন্ন হয়েছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের ভূমিকা। থানার কর্মকর্তা ইনচার্জ (ওসি) বলছেন, অন্য দপ্তর থেকে ‘আনুষ্ঠানিক সাহায্য’ না চাইলে তাদের কিছু করার থাকে না। আবার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কেবল ‘খবর পাঠানো’র মধ্যেই নিজ দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখছেন। প্রশাসনিক এই লাল ফিতার দৌরাত্ম্য ও সমন্বয়হীনতার সুযোগ নিয়েই মূলত অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। পুলিশের এমন নিষ্ক্রিয়তা এবং এক দপ্তর থেকে অন্য দপ্তরে দায় চাপানোর মানসিকতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আরেকটি আশঙ্কাজনক প্রবণতা হলো আদালতের এফিডেভিটকে বাল্যবিয়ে আইনি করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা। ভুয়া বয়স দেখিয়ে কিংবা জাল নথির ভিত্তিতে এফিডেভিট করে বাল্যবিয়ে বৈধ করার এই নোংরা কৌশল বন্ধে উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তা কার্যকর হচ্ছে না। উপরন্তু, বিয়ে না দেওয়ার জন্য আগে থেকে নেওয়া ‘লিখিত অঙ্গীকারনামা’ অমান্য করেও মূল অপরাধীরা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলাজুড়ে গোপনে চলা বাল্যবিয়ের এই প্রথা বন্ধে অবিলম্বে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। শুধু খবর পাঠিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে মহিলা বিষয়ক দপ্তর ও থানা পুলিশকে যৌথভাবে সমন্বিত অভিযান চালাতে হবে। এফিডেভিটের নামে বেআইনি বিয়ে রেজিস্ট্রি করা কাজীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং বিয়েতে সম্পৃক্ত উভয় পক্ষের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। স্থানীয় প্রশাসনিক তদারকি জোরদার না হলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা কখনোই সম্ভব হবে না।
এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিয়ে সরকার কি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে, নাকি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে বাল্যবিয়ের এই কুপ্রথাকে প্রশ্রয় দিয়েই যাবে?