বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

শ্যামনগরে হুমকি দিয়ে একদিন পর চিংড়িঘেরের মাছ লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে হুমকি দিয়ে একদিন পর চিংড়িঘেরের মাছ লুট

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে আহাদ আলী ও তার ছেলেরা গোলাম আজম নামে এক ব্যবসায়ীর চিংড়িঘেরের মাছ লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার দুপুরের দিকে মাছ লুটের হুমকি দিয়ে মঙ্গলবার সকালে তারা দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঐ লুটপাট চালিয়েছে বলে অভিযোগ। এঘটনায় ভুক্তোভোগী ব্যবসায়ী শ্যামনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

গোলাম আজম জানান, তিনি ২০১৫ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত উপজেলার রমজাননগর ইউনিয়নের ভৈরবনগর মৌজার সাড়ে বিঘা জমি ইজারা নিয়ে চিংড়িঘের পরিচালনা করছেন। স্থানীয় রফিকুল ইসলাম ও মনিরুল ইসলামকে চার বছরের অগ্রিম টাকা পরিশোধ করে তিনি সেখানে চিংড়িঘের পরিচালনা করছেন।

 

গোলাম আযমের অভিযোগ জমি মালিকের সাথে বিরোধের জেরে গত ১৩ এপ্রিল আহাদ আলীর ছেলে রাশিদুল ও সিরাজুল তাকে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে বিয়ষটি তিনি লিখিতভাবে শ্যামনগর থানায় অবিহত করেছিলেন। তবে মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানমালা নিয়ে সকলের ব্যস্ততার সুযোগে আহাদ আলী ও তার তিন ছেলে রাশিদুল, শহিদুল ও সিরাজুল সেখানে ব্যাপক লুটপাট চালিয়েছে। লুটপাটে জড়িতদের বিরুদ্ধে তিনি শ্যামনগর থানায় আবারও লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেন।

অভিযুক্ত আহাদ আলী জানান, তিনি আগে রাজনীতি করলেও এখন কোন দল করেন না। তার দাবি উক্ত জমি নিয়ে বিরোধ চলার কারনে আগেভাগে গোলাম আযমকে নিষেধ করা হয়েছিল সেখানে ঘের না করতে। তবে কথা না শোনায় তিনিও কিছু মাছ ছেড়েছিলেন বলে সেখানে আটল দিয়ে কিছু মাছ ধরেছেন।

শ্যামনগর থানায় অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান অভিযোগ পাওয়ার পর একজন কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। সত্যতা মিললে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Ads small one

ভোমরায় নারী ও শিশু পাচার রোধে সমন্বয় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
ভোমরায় নারী ও শিশু পাচার রোধে সমন্বয় সভা

সাতক্ষীরার ভোমরা ইউনিয়নে নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভোমরা মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদ (এমএসপি) ও মানবাধিকার নারী পরিষদের (এমএনপি) দ্বি-মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ভোমরায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এমএসপি সদস্য সৌমেন কুমার ও এমএনপি আহ্বায়ক মধুমালা গাইনের সভাপতিত্বে সভায় শিশুদের জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে আইনি সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় পাচার ও নির্যাতন রোধে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন করার সিদ্ধান্ত নেন। স্বদেশ সংস্থার নাগরিকতা প্রোগ্রামের প্রোগ্রাম অফিসার মো. আজাহারুল ইসলাম ও প্যারালিগ্যাল মো. শরিফুল ইসলাম সভায় কারিগরি সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

শখ থেকে স্বপ্নপূরণ: কলারোয়ায় আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
শখ থেকে স্বপ্নপূরণ: কলারোয়ায় আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

0-4024x1784-0-0-{}-0-12#

শেখ জিল্লু, কলারোয়া: কলারোয়ায় শখের বশে শুরু হওয়া আঙুর চাষ এখন রীতিমতো আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে করা এই চাষেই বাগানে ঝুলছে থোকা থোকা আঙুর। স্থানীয়দের বিস্মিত করে আঙুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন জাহিদ হোসেন নামের এক উদ্যোক্তা কৃষক। কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের ধানঘরা গ্রামে জাহিদ হোসেনের এই আঙুর বাগান দেখতে প্রতিদিনই কৌতূহলী মানুষের আগমন ঘটছে। গত মঙ্গলবার সরেজমিনে আঙুর বাগান ঘুরে কেরালকাতা গ্রামের জাহিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তিনি পৈত্রিকভাবে পাওয়া দুই বিঘা জমি চাষাবাদ করে কোনো রকমে সংসার নির্বাহ করছিলেন। সচ্ছলতা ফেরাতে এর আগে কুল ও ড্রাগন চাষ করেছেন। গত বছর ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে তিনি এই চাষে উদ্বুদ্ধ হন। গত বছরের জুনে আড়াই বিঘার মতো জমি লিজ নিয়ে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন। কারো কোনো পরামর্শ ছাড়া সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর থেকে আঙুর গাছের চারা নিয়ে এসে রোপণ করেন। এরপর জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ, নিয়মিত পানি দেওয়াসহ নেট, বেষ্টনী ও রশির মাচা বানিয়ে চারাগুলো গত ১১ মাস নিবিড় পরিচর্যা করেন। এরপর চলতি মাসে প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় আঙুর ধরেছে। এই বাগানের আঙুরগুলো স্বাদেও অনন্য। সবুজ ও বেগুনি রঙের এই আঙুরগুলো যেনো নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে। আধুনিক কৃষির প্রতি আগ্রহ থেকে স্বল্প পরিসরে আঙুরের চারা রোপণ করেন জাহিদ হোসেন। পরিপাটি এই বাগান ঘুরে দেখা যায়, সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে নজরকাড়া থোকা থোকা আঙুর। প্রতিদিন বাগান দেখতে ভিড় করছেন মানুষ। অনেকেই বলছেন, এই অঞ্চলের মাটিতে আঙুর চাষ সম্ভব-এ ধারণা আগে তাদের ছিল না। জাহিদ হোসেন জানান, প্রথমবার করা এই বাগানে লিজসহ ত ৮ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। তিনি বলেল, এখানে বাগান করার বিষয়টি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর অবগত ছিলো না। পরে জানতে পেরে তারা সবধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার জিয়াউল হক জানান, খুলনা বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা এই আঙুর বাগান পরিদর্শন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম ইতোমধ্যে এই বাগানটি পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে বাগান উদ্যোক্তা জাহিদুল ইসলাম ধানঘরা প্রাইমারি স্কুল থেকে বাগান অভিমুখী রাস্তাটি কাঁচা হওয়ায় তা পাকাকরণের দাবি জানান। এছাড়া এখানে বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি বিদ্যুতায়নেরও দাবি জানান। বাজারে বিদেশি আঙুরের চাহিদা থাকায় দেশীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুরেরও ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। এখকনকার সুস্বাদু এই আঙুর আমদানিকৃত আঙুরের তুলনায় মানগত দিক থেকে যথেষ্ট উৎকৃষ্ট। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও পরামর্শ পেলে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের আশা করছেন জাহিদ হোসেন। শখের বসে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন এলাকার কৃষিতে নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

তিন ম্যাচেই হ্যাটট্রিক বিস্ময়বালিকা আলেয়ার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১০:২৩ অপরাহ্ণ
তিন ম্যাচেই হ্যাটট্রিক বিস্ময়বালিকা আলেয়ার

অনলাইন ডেস্ক: জীর্ণ কুটির থেকে উঠে আসা এক কিশোরীর স্বপ্ন এখন আকাশ ছুঁতে চাইছে। দারিদ্র্য যার নিত্যসঙ্গী, ফুটবল মাঠই সেখানে তার আশার বাতিঘর। নাটোরের লালপুরের প্রত্যন্ত গ্রাম জোতদৈবকির কৃষক পরিবারের সন্তান মোছা. আলেয়া খাতুন প্রমাণ করেছেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো বাধাই পথ রুখতে পারে না।

প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’-এ বল পায়ে জাদুকরী নৈপুণ্য দেখিয়ে লালপুর উপজেলাকে চ্যাম্পিয়ন করার পাশাপাশি নাটোরের ফুটবলে নতুন এক আশার প্রদীপ জ্বালিয়েছেন এই কিশোরী।

মাঠে নামলেই যেন আলেয়ার পায়ে গোলবন্যা ছোটে। টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচেই টানা তিনটি হ্যাটট্রিক করে এক কীর্তি গড়েছেন তিনি।

প্রথম ম্যাচে নাটোর পৌরসভার বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিকে লালপুর জয় পায় ৩-০ গোলে। সাফল্যের সেই ধারা ধরে রেখে দ্বিতীয় ম্যাচে সিংড়া উপজেলার বিপক্ষেও তিনটি গোল করে দলকে ৬-০ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন আলেয়া। আর তৃতীয় ম্যাচে তার অসামান্য নৈপুণ্যে ৪-০ গোলে প্রতিপক্ষ গুরুদাসপুরকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে লালপুর। পুরো টুর্নামেন্টে এমন পারফরম্যান্সের কারণে নাটোর জেলার নারী ফুটবলে সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলেয়া।

লালপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আলেয়ার এই পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। চার বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে বড় হওয়া এই কিশোরীর প্রধান সাহস তার কৃষক বাবা।

বাবার অনুপ্রেরণাতেই নর্থ বেঙ্গল ফুটবল একাডেমির এই খেলোয়াড় কোচ জুয়েলের অধীনে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল মাঠে নিয়মিত ঘাম ঝরিয়ে যাচ্ছেন।

অভাবের চোখরাঙানি এড়িয়ে তার দুচোখ জুড়ে এখন শুধু একটাই স্বপ্ন—লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে একদিন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা ওড়ানো।