সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় সৌদির জোটে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ২:৩৫ অপরাহ্ণ
সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় সৌদির জোটে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ

লোহিত সাগর, বাব আল-মান্দেব প্রণালি ও গালফ অব এডেন অঞ্চলে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশকে নিয়ে নতুন একটি বহুজাতিক সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করাই নতুন এই জোটের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছে রিয়াদ।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই নৌপথ ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকির মুখে পড়ায় বিশ্বব্যাপী পণ্য পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং জ্বালানি বাণিজ্যের ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন এই জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।

জোটে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে নতুন এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ যুক্ত হয়েছে। সদস্য দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।

ভৌগোলিক অবস্থান ও কৌশলগত গুরুত্বের দিক থেকে এসব দেশের অনেকগুলোই লোহিত সাগর, আরব সাগর, গালফ অব এডেন এবং বাব আল-মান্দেব অঞ্চলের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত। ফলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব দেশের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত এই জোটের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সমুদ্রপথে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই জোটের প্রধান লক্ষ্য হলো বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং গালফ অব এডেন এলাকায় নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতেও সদস্য দেশগুলো একসঙ্গে কাজ করবে।

এ লক্ষ্যে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

জোটের আওতায় যৌথ সামরিক মহড়া পরিচালনার পাশাপাশি সমুদ্রপথে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিলে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত সমন্বয় করে পরিস্থিতি মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ জোটের সামরিক কাঠামো, নেতৃত্বের ধরন এবং সদস্য দেশগুলোর নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

‘কোনো দেশকে লক্ষ্য করে নয়’

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, নতুন এই বহুজাতিক সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোট সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক। এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি।

সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অন্য দেশগুলোও চাইলে এই জোটে যোগ দিতে পারবে।

এতে ধারণা করা হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জোটটির সদস্য সংখ্যা আরও বাড়তে পারে এবং লোহিত সাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় এটি একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

হুথি হামলায় বেড়েছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিরাপত্তা উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা। গাজা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হুথিরা ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে আসছে।

এসব হামলার কারণে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী অনেক জাহাজকে বিকল্প দীর্ঘ সমুদ্রপথ ব্যবহার করতে হয়েছে। এতে জাহাজ চলাচলের সময় ও ব্যয় বেড়েছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এর প্রভাব ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার বাণিজ্য ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে।

বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ

লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহনে এই নৌপথের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে চলাচলকারী বহু বাণিজ্যিক জাহাজকে বাব আল-মান্দেব প্রণালি অতিক্রম করতে হয়। ফলে এ অঞ্চলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবহনের ক্ষেত্রেও লোহিত সাগর ও আশপাশের নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

সদর দপ্তর হবে সৌদি আরবে

সৌদি আরব জানিয়েছে, নতুন এই বহুজাতিক সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোটের সদর দপ্তর সৌদি আরবেই স্থাপন করা হবে। তবে সদর দপ্তরের নির্দিষ্ট অবস্থান এবং জোটের প্রশাসনিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এ ছাড়া সদস্য দেশগুলো কী ধরনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে এই জোটে অংশ নেবে, কতসংখ্যক যুদ্ধজাহাজ বা বিমান মোতায়েন করা হবে কিংবা যৌথ অভিযানে কোন দেশের কী ধরনের ভূমিকা থাকবে—এসব বিষয়েও এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জোটটি কার্যকরভাবে পরিচালিত হলে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হতে পারে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন সমীকরণ

সৌদি আরবের নেতৃত্বে ১৪ দেশের এই নতুন সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোট মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন একটি সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের মতো কৌশলগত নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে জোটটির বাস্তব কার্যক্রম, সামরিক সক্ষমতা এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও বাস্তবসম্মত সমন্বয়ের ওপর।

এদিকে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশের অংশগ্রহণ নতুন এই উদ্যোগকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো সমুদ্রনির্ভর বাণিজ্যিক দেশের জন্য আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই জোটের কার্যক্রম ভবিষ্যতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সামুদ্রিক নিরাপত্তায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেদিকে নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহলের।

Ads small one

লালন শাহের মাজার থেকে পেট্রোল ও টাইম বোমা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ
লালন শাহের মাজার থেকে পেট্রোল ও টাইম বোমা উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক: কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের মাজারের ভিতরে মূল ফটকের পাশ থেকে একটি সাদা ব্যাগে রাখা ২টি বোতলভর্তি পেট্রোল ও টাইম বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাজার ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

 

রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে লালন শাহের মাজারের মূল ফটকের পাশ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সাদা ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।

অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মাজার এলাকা ফাঁকা করে দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাজারে প্রবেশের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশ, র‍্যাব ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দিবাগত রাতে মাজার কমপ্লেক্সের মূল প্রবেশদ্বারের পাশে একটি সাদা ব্যাগে মোড়ানো সন্দেহজনক বস্তু পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় সাধুরা। পরে তারা সেখানে দায়িত্বে থাকা কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিনকে বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগের ভেতরে পেট্রোল ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো কিছু দেখতে পান তিনি। এরপর বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানানো হয়।

পরে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে ব্যাগটি পাহারায় রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ সুপারের মাধ্যমে ঢাকায় যোগাযোগ করা হলে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের ৪ সদস্যের একটি দল সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়ায় পৌঁছায়। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যাগের ভেতরে দুটি বোতলভর্তি পেট্রোল ও একটি টাইম বোমা থাকার বিষয়টি শনাক্ত করা হয়।

 

এ বিষয়ে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, রাতে সাধুরা পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা একটি ব্যাগ দেখে আমাকে জানালে আমি তাৎক্ষণিক সেখানে গিয়ে ব্যাগ দেখে পুলিশ সুপার মহোদয়কে জানাই। পরে ঢাকা থেকে ৪ সদস্যবিশিষ্ট বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সকালে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তাদের মাধ্যমে জানতে পারি, সেটি টাইম বোমা।

ওসি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। খুব দ্রুতই তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপমাত্রা

অনলাইন ডেস্ক: উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকা পর্যন্ত লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। তবে আগামী পাঁচ দিনে সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে এবং পাঁচ দিন পর বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেসার দেওয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বর্তমানে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত অবস্থান করছে। এর প্রভাবে আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

 

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাতেও আবহাওয়া পরিস্থিতি একই রকম থাকবে। অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

 

বিবাহবিচ্ছেদের পর মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছিলেন চাহাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ
বিবাহবিচ্ছেদের পর মদ্যপানে আসক্তি, ২৬ দিন পুনর্বাসন কেন্দ্রে ছিলেন চাহাল

ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা আর মানসিক চাপ- কঠিন এক সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল ভারতের লেগ স্পিনার যুজবেন্দ্র চাহালকে। ধনশ্রী বার্মার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর উদ্বেগ, প্যানিক অ্যাটাক এবং ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা এবার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন তিনি। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৬ দিন পুনর্বাসন কেন্দ্রেও কাটিয়েছেন এই স্পিনার।

ভারতের সাবেক ওপেনার আকাশ চোপড়ার পডকাস্ট ‘বেইথ অ্যান্ড বল’-এ নিজের কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেন চাহাল। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসমক্ষে আলোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মন্তব্য তার মানসিক অবস্থার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল বলে জানান তিনি। সেই চাপ একপর্যায়ে মাঠের পারফরম্যান্সেও প্রভাব ফেলতে শুরু করে।

৩৬ বছর বয়সী চাহালের ভাষায়, পরিচিত মুখ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ক্রমাগত আলোচনা চলছিল। এসব মন্তব্যে কষ্ট পেতেন তিনি। মানসিক চাপ বাড়তে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাপন ও ক্রিকেটে মনোযোগ ধরে রাখাও কঠিন হয়ে পড়ে।

উদ্বেগের তীব্রতা বোঝাতে গিয়ে প্যানিক অ্যাটাকের সময় নিজের শারীরিক অবস্থার বর্ণনাও দিয়েছেন চাহাল। তার হৃদস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যেত, মুখের পেশি শক্ত হয়ে আসতো। কখনও ঠোঁট একদিকে বেঁকে যেত, এমনকি কথা বলাও কঠিন হয়ে পড়তো।

চাহাল বলেন, ‘প্যানিক অ্যাটাকের সময় আমার মুখটা কুঁচকে যেত। আমি কথাও বলতে পারতাম না।’

এ ধরনের অভিজ্ঞতা তার জীবনে আগে কখনও হয়নি বলেও জানিয়েছেন এই স্পিনার। পরে তিনি বুঝতে পারেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ তার সম্পর্কে কী বলছে, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তাই অন্যদের মন্তব্য নিয়ে পড়ে না থেকে জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ব্যক্তিগত জীবনের এই কঠিন সময় ক্রিকেট থেকেও সাময়িকভাবে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল চাহালকে। তিনি জানান, ওই পর্যায়ে বিরতি নেওয়ার আগে সাদা বলের ক্রিকেটে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছিলেন। মানসিকভাবে প্রতিযোগিতায় নামার মতো প্রস্তুত ছিলেন না বলেই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।

নিজের সেরা অবস্থায় নেই, এমন অনুভূতি হচ্ছিল তার। একই সঙ্গে নিজের সমস্যার প্রভাব যেন দলের ওপর না পড়ে, সেটিও ভাবনায় ছিল। এ কারণে বিসিসিআই’র সাবেক কোষাধ্যক্ষ অনিরুদ্ধ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। চাহালের সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছিলেন অনিরুদ্ধ।

কোরিওগ্রাফার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচিত মুখ ধনশ্রী বার্মার সঙ্গে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে হয়েছিল চাহালের। ২০২৫ সালের মার্চে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। বিচ্ছেদের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, যা সামলানো তার জন্য সহজ ছিল না বলে জানিয়েছেন চাহাল।

পডকাস্টে নিজের জীবনের আরেকটি কঠিন দিকও তুলে ধরেছেন তিনি। বিবাহবিচ্ছেদের সময় ব্যক্তিগত সংকটের মধ্যে তার মদ্যপানের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

আইপিএলে খেলার শুরুর দিকে বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক পরিসরে মদ্যপান করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে। একপর্যায়ে তিনি বুঝতে পারেন, এভাবে চলতে থাকলে জীবনের সবচেয়ে প্রিয় বিষয় ক্রিকেটই হারিয়ে ফেলতে পারেন।

এরপর পেশাদার একজনের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ২৬ দিন একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাটান এই স্পিনার। তার মতে, সেই অভিজ্ঞতা নিজের জীবন ও আবেগের ওপর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে সাহায্য করেছে।

কঠিন সময়ে পরিবার ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুও পাশে ছিলেন বলে জানিয়েছেন চাহাল। তাদের সমর্থন তার ঘুরে দাঁড়ানোর পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এখন মানসিকভাবে অনেক ভালো আছেন বলে জানিয়েছেন ভারতের এই ক্রিকেটার। নিজের ফিটনেস ও ব্যক্তিগত সুস্থতার দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন তিনি। চাহালের কাছে ঘুরে দাঁড়ানোর অর্থ শুধু আবার উইকেট নেওয়া নয়; বরং নিজের জীবনকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা।