এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা ও জেল-জরিমানার পরেও মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে ঘের ব্যাবসায়ীদের বৈরি আচারণে শতাধিক কাচা-পাকা গ্রামীণ সড়ক এখন হুমকির মুখে, জনমনে তৈরী হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতার শঙ্কা।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, এ উপজেলায় ৪ হাজার ৬৫৮ টি মৎস্য ঘের রয়েছে। এসব ঘেরের মালিকরা শতাধিক সরকারি সড়ক মাছের ঘেরের ভেড়ি (বাঁধ) হিসেবে ব্যবহার করায় গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি খাল ও পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করে এসব মাছের ঘের গড়ে তোলায় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় স্থায়ী জলাবদ্ধতা সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।
ফলে কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিলাঞ্চলের হাজার ও নিম্নআয়ের মানুষ জীবিকা সংকটে পড়েতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন ও সুধীজন।
কেশবপুর পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় বিল ও জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে বিল বলদহালি, টেপুর বিল, গরালিয়া বিল, পদ্মবিল, ঘোচমারা বিল, কাদার বিল, মহাদেবপুর বিল, পাঁচপোতার বিল, হাজোয়ার বিল, খুকশিয়া বিল, বোয়ালিয়ার বিল, গঙ্গাধার বিল ও বিষ্ণুপুর বিল উল্লেখযোগ্য।
সূত্রে জানাগেছে, নব্বইয়ের দশক থেকে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি বিল, খাল ও নদীর অববাহিকায় মাছ চাষ শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা সরকারি রাস্তা ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। ফলে বিলভিত্তিক মৎস্যসম্পদে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার কমে যায় এবং জেলে সম্প্রদায়ের জীবিকা সংকুচিত হয়ে পড়ে।
অভিযোগ রয়েছে, অনেক ঘের মালিক সরকারি খালের পানি প্রবাহের পথ বন্ধ করে ব্যক্তিগতভাবে কালভার্ট নির্মাণ করেছেন। এতে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে উপজেলার নিন্মাঞ্চল স্থায়ী জলাবদ্ধতা শুরু হয়। যা দিনে দিনে প্রকট আকার ধারণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে রয়েছে যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়ক, কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়ক, কেশবপুর-ভেরচী সড়ক, কেশবপুর-ফতেপুর সড়ক, কলাগাছী-চুকনগর সড়ক, মঙ্গলকোট-হিজলডাঙ্গা সড়ক, মঙ্গলকোট-পাঁচপোতা সড়ক, বাকাবর্শি-গড়ভাঙ্গা সড়ক, মজিদপুর-লক্ষীনাথকাটি সড়ক, কেশবপুর-চিংড়া সড়ক, কেশবপুর-ত্রিমোহিনী সড়ক, মনোহরনগর-বাকডাঙ্গা সড়ক, ব্যাসডাঙ্গা-ইমাননগর সড়ক, গোলাঘাটা বাজার-মঙ্গলকোট সড়ক, শ্রীফলা-মঙ্গলকোট সড়ক ও সাবদিয়া-সরফাবাদ সড়ক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের ফকির রাস্তা এলাকা থেকে কেশবপুর বাস-ট্রাক টার্মিনাল পর্যন্ত অংশ মাছের ঘেরের বাঁধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কেশবপুর-পাঁজিয়া সড়কসহ অন্তত ১০টি পাকা সড়ক এবং আরও শতাধিক গ্রামীণ রাস্তা ঘেরের ভেড়ী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে সড়কের ঢাল, শোল্ডার ও পিচের অংশ ভেঙে গিয়ে যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী এম.এ. জাসির বলেন, ঘের মালিকরা অবৈধভাবে সড়ককে ভেড়ি হিসেবে ব্যবহার করায় সড়কের শোল্ডার ও পিচের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী সড়ক থেকে পৃথক বাঁধ নির্মাণ করে মাছ চাষ করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, মৎস্য ঘের নির্মাণ আইন সম্পর্কে অবহিত করতে বিভিন্ন এলাকা ঘের ব্যবসায়ীদের নিয়ে আলোচনা সভা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেখ সোনা খাতুন বলেন, যাঁরা মৎস্য ঘের নীতিমালা অমান্য করে অবৈধভাবে ঘেরের পাড় হিসাবে সরকারি রাস্তা ব্যবহার করছে উপজেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।