সাজা শুনে আদালত থেকে পালালেন আসামি
সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার চেক জালিয়াতির মামলায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে কৌশলে পালিয়ে গেছেন আব্দুর জলিল নামে এক আসামি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার আরবিট্রেশন আদালতের বিচারক ইসরাত জেনিফার জেরিনের আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যুক্তিতর্কের সময়ও আসামি কাঠগড়ায় ছিলেন। পরে কোনও একসময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি আদালত থেকে বেরিয়ে যান।
আইনজীবী জানান, সাড়ে ১৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগে ২০২০ সালে আব্দুর জলিলের বন্ধু আক্তার হোসেন মামলা করেন।
তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দীন ইসলামের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, আব্দুর জলিলের হ্যান্ডরাইটিং সংক্রান্ত বিষয়ে ঢাকার সপ্তম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে রিভিশন করা হয়েছিল। সেটি নামঞ্জুরের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার জন্য কয়েকদিন সময় চাওয়া হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। এরপর তিনি আদালত থেকে চলে যান।
দীন ইসলাম বলেন, পরে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানিতে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কনস্টেবল কাদের ফোন করে তাকে জানান, তার আসামি আদালত থেকে চলে গেছেন এবং বিচারক তাকে ডেকেছেন। পরে কয়েকজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বিচারকের সঙ্গে দেখা করেন।
তার ভাষ্য, পরে আসামির সঙ্গে ফোনে কথা হলে আব্দুর জলিল জানান, সময়ের আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি আদালত থেকে চলে গেছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, আসামির আদালত থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিচারক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে পারেন।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী খায়রুল কবীর বলেন, চেক ডিজঅনার মামলার মূল উদ্দেশ্য অর্থ উদ্ধার; সাজা দেওয়া মামলার অন্যতম বিষয় হলেও অর্থ উদ্ধারের বিষয়টিই মুখ্য। এ কারণে এ ঘটনায় নতুন মামলা হবে না বলেও তিনি জানান।
মামলার নথি সম্পর্কে জানতে চাইলে আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ইসমাইল বলেন, নথি বিচারকের কাছে রয়েছে। রবিবার আসতে হবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী দীন ইসলাম জানান, দুই বন্ধু ধামরাইয়ে একটি অ্যাগ্রো ফার্ম করার জন্য টাকা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে ওই লেনদেনকে কেন্দ্র করেই মামলা হয়। তবে মামলায় সাড়ে ১৫ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের অভিযোগ করা হয়েছিল।
সম্প্রতি মো. শরিফুল ইসলাম নামে হত্যা মামলার আসামিকে হাজতখানায় নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশের হাত থেকে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শরীফুল এ নিয়ে দুইবার পালিয়েছে।









