নতুন বাসায় উঠেছেন, ঘর সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। পছন্দের একটি খাট, সোফা বা ডাইনিং টেবিল দেখেই কিনে ফেলতে ইচ্ছা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আসবাব কেনার ক্ষেত্রে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই হবে না। ঘরের আকার, ব্যবহার, বাজেট, স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজন সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একটু পরিকল্পনা করে কিনলেই অপ্রয়োজনীয় খরচ ও পরে ভোগান্তি দুটোই এড়ানো সম্ভব।
নতুন বাসায় ওঠার পর অনেকেই একসঙ্গে বেশ কিছু আসবাব কিনে ফেলেন। কয়েক বছর পর দেখা যায়, প্রয়োজনের তুলনায় আসবাবের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ঘরে চলাফেরার জায়গা কমে গেছে, অথচ দাম দিয়ে কেনা আসবাব সহজে বাদও দেওয়া যাচ্ছে না। তাই অন্দরসজ্জাবিদদের পরামর্শ, আসবাব কেনার আগে শুধু নকশা বা সৌন্দর্য নয়, ব্যবহারিক দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
১. দেখতে সুন্দর হলেই নয়, টেকসই কি না দেখুন
আসবাব কেনার সময় বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর কাঠামো কতটা মজবুত, তা যাচাই করা জরুরি। সোফা কিনলে ফ্রেমের কাঠের মান, জোড়ার কাজ এবং বসার অংশের উপকরণ দেখে নিন। ভালো মানের কাঠের ফ্রেম ও পকেট স্প্রিং থাকলে সাধারণত সোফা বেশি টেকসই হয়।
খাট, ওয়ার্ডরোব বা ক্যাবিনেটের ক্ষেত্রেও কাঠ বা বোর্ডের মান, ফিটিংস ও জোড়ার কাজ ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।
২. ছোট বাসায় বহুমুখী আসবাব বেছে নিন
ঢাকার মতো শহরে অনেকের বাসার জায়গা সীমিত। তাই ছোট ঘরের জন্য এমন আসবাব বেছে নেওয়া ভালো, যা একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়।
যেমন— সোফা-কাম-বেড, যা প্রয়োজন হলে বিছানা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এক্সটেন্ডেবল ডাইনিং টেবিল, যা চারজনের জন্য ছোট রাখা যায় এবং প্রয়োজনে ছয়জনের উপযোগী করা যায়। হাইড্রোলিক স্টোরেজ বেড, যার নিচে অতিরিক্ত কাপড়, বিছানার চাদর বা অন্যান্য জিনিস রাখা যায়। এ ধরনের আসবাব ঘরের জায়গা বাঁচানোর পাশাপাশি গোছানো রাখতেও সাহায্য করে।
৩. মাপ না নিয়ে আসবাব কেনা বড় ভুল
আসবাব কেনার আগে ঘরের মাপ নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। শুধু খাট বা সোফা ঘরে ঢুকবে কি না, তা দেখলেই হবে না। দরজা, সিঁড়ি, লিফট এবং করিডরের মাপও বিবেচনায় নিতে হবে।
অনেক সময় দোকানে দেখে মনে হয় আসবাবটি ঘরে সহজেই রাখা যাবে। কিন্তু বাসায় আনার পর দেখা যায় দরজা দিয়ে ঢোকানোই সম্ভব হচ্ছে না। তাই কেনার আগে মাপজোক নিশ্চিত করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৪. বড় আসবাব বদলানোর বদলে সাজে পরিবর্তন আনুন
খাট, সোফা বা ডাইনিং টেবিলের নকশা খুব বেশি ট্রেন্ডনির্ভর না করে তুলনামূলক সাধারণ রাখা ভালো। এতে কয়েক বছর পরও আসবাবটি পুরোনো মনে হবে না।
ঘরের সাজে পরিবর্তন আনতে চাইলে বড় আসবাব বদলানোর প্রয়োজন নেই। ঈদ, পূজা, পয়লা বৈশাখ বা অন্য কোনো উৎসব কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে কুশন, সোফার কভার, পর্দা, কার্পেট ও অন্যান্য ছোটখাটো ডেকোরেশন বদলালেই ঘরের চেহারায় বেশ পরিবর্তন আনা যায়।
৫. উপকরণ বাছাই করুন প্রয়োজন ও বাজেট বুঝে
কাঠ, ধাতু, প্লাইউড, এমডিএফ, মার্বেলসহ বিভিন্ন উপকরণে আসবাব তৈরি হয়। কাঠের আসবাব দেখতে আকর্ষণীয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হলেও এর দাম তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
তাই শুধু কাঠের আসবাবকেই ভালো মনে না করে বাজেট, ব্যবহারের ধরন ও ঘরের অন্দরসজ্জার সঙ্গে মিলিয়ে উপকরণ নির্বাচন করুন। কোথায় কাঠ ব্যবহার করবেন, কোথায় ইঞ্জিনিয়ারড বোর্ড বা ধাতব কাঠামো ব্যবহার করা যেতে পারে সেটিও পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।
৬. অনলাইনে কিনলে বাড়তি সতর্কতা
অনলাইনে আসবাব কেনার ক্ষেত্রে ছবি দেখে পছন্দ হয়ে গেলেই অর্ডার করা ঠিক নয়। পণ্যের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। আপনার ঘরের জায়গার সঙ্গে মাপ মিলছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন।
পাশাপাশি ডেলিভারি, বাসায় তোলার ব্যবস্থা এবং ইনস্টলেশনের সুবিধা আছে কি না জেনে নিন। আসবাব বাসায় পৌঁছানোর পর সেটি কে, কখন এবং কীভাবে লাগিয়ে দেবে এ বিষয়গুলো আগে থেকেই পরিষ্কার থাকলে পরে ঝামেলা কম হবে।
সবশেষে, আসবাব কেনার সময় একটি বিষয় মনে রাখা ভালো ঘর ভরানোর জন্য নয়, প্রয়োজন মেটানোর জন্য আসবাব কিনুন। পছন্দের পাশাপাশি ব্যবহারিক দিক, মাপ, মান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করলে অযথা খরচ যেমন কমবে, তেমনি ঘরও থাকবে আরামদায়ক ও গোছানো।