রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় ছাত্রদল নেতাকর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলায় আহত ১০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ছাত্রদল নেতাকর্মীর ওপর সন্ত্রাসী হামলায় আহত ১০

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এতে অন্তত ১০ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। তাদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দলীয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সদর উপজেলার ঘোনা ইউনিয়নের শ্রীডাঙ্গা এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় রাত সাড়ে ১০ টার দিকে একদল ব্যক্তি তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসী হামলায় কমপক্ষে ১০ জন ছাত্রদলের নেতাকর্মী আহত হয়। হামলায় কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

গুরুতর আহতরা হলেন, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মনজুরুল আলম বাপ্পি এবং ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানসহ তিন জন। তবে আহতদের সবার নাম পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানসহ ৩ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত নেতাকর্মীদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলার খবর শুনে রাতেই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এ সময় সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ ও সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু সহ নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পৃথকভাবে তাকে হাসপাতালে দেখতে যান জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রউফ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমাদের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের সবাইকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, রাতের আঁধারে ছাত্রদল নেতাদের ওপর এমন বর্বর ও কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি, ছাত্রদল ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং অনতিবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে তিনি বলেন, ছাত্রদলের অনেকে আহত হয়েছে। কিন্তু কারা তাদের ওপর মামলা করেছে এ ব্যাপারে এখনো কিছু জানতে পারিনি। তদন্ত করে জানানো হবে।

Ads small one

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার ভূমিহীন নেতারা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় দেবহাটা-কালিগঞ্জের ভূমিহীন জনপদের নেতা মো. আলমগীর হোসেন, মো. বায়োজিদ হোসেন সবুর গাজী, জেলা ভূমিহীন পরিবারের সভাপতি মো. কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম রেজাউল করিম রেজা, দপ্তর সম্পাদক স্বপন কুমার সানা এবং ভূমিহীন নেতা আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের দীর্ঘদিনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে বাবরবাদ ঘের ও জমির বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও পরে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই আন্দোলনের সময় ঐতিহাসিক সখিপুর কলেজ মাঠে এসে ভূমিহীনদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় তিনি ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকান্ডের বিচার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৭ জনকে জমির দলিল প্রদান করেন। এরপর তাঁরা সেখানে ভূমিহীন হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক ওই আন্দোলন এবং ভূমিহীনদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভূমিহীনদের অধিকার রক্ষার নামে কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারেন, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ব্যক্তিস্বার্থে কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারেন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। সাতক্ষীরায় এখনো অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। সরকারি খাসজমি থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, সরকারি জমি না থাকলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়। তবে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো যাতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

 

 

 

কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): আষাঢ় শ্রাবণ মাস বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রে বর্ষাকাল। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষকের জন্য আমন ধানের চারা রোপনের সুবর্ণ সময় এই বর্ষাকাল। তাই বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেশবপুরের কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে।

বৃষ্টির মৌসুম শুরুতে একটু বৃষ্টি কম হলেও বর্তমান যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল বিল ডোবা নালা পানিতে পরিপুর্ণ হয়ে গেছে। তাই কৃষকরা উচু-ডোবা জমি থেকে আগাম পাট কেটে সেই জমিতে আমন ধান রোপন শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকেরা আগাম পাট চাষ করে থাকে। সেই পাট কেটে রোপা আমন ধানের আবাদ করে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কেশবপুরে এবার পাটের আবাদ কম হলেও ফলন ভাল হয়েছে। পুকুর ও ডোবা নালায় যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষকদের ক্ষেতের পাট কেটে পঁচন দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাই তারা পাটকেটে পচন দিয়ে সেই জমিতে আমন আবাদ শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে এখন চলছে আমন ধানের চারা রোপনের মহোৎসাব। অন্য বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি ও কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে কেশবপুরের প্রায় ৮০টির বেশী গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ার কারণে আমন আবাদ ব্যহত হলেও এবার কৃষকরা কপোতাক্ষের রাহু গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তাই এসব জমিতে এখন কৃষকরা মনের আনন্দে ধানের চারা রোপন করছে।

এবিষয়ে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, কেশবপুরে এবার ৮হাজার ৫’শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকল থাকলে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

 

 

 

কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে মসজিদে মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালালো চোর। তথ্য সূত্রে জানা গেছে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পৃথক দুটি বাড়িতে হানা দিয়ে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৭টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। আলতাপোল (বারোইপাড়া) গ্রামের কুমারের ৪টি এবং মঙ্গলকোট গ্রামের রবিউল ইসলাম রবির ৩টি গরু নিয়ে যায় তারা। গরুর মূল্য হবে ১০ থেকে ১২ লাখ।

চোরেরা সুকুমারের গরুগুলো বাড়ির পাশের একটি বাগানে এবং রবির গরুগুলো যশোর-চুকনগর সড়কের আলতাপোল চারেরমাথা এলাকার একটি মেহগনি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, পরে পিকআপে তুলে গরুগুলো নিয়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা।

কিন্তু ফজরের আজানের সময় বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদের মাইকে গরু চুরির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণা শুনে চোরেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। রেখে যায় চুরি করা ৭টি গরু। পালানোর সময় তারা গরু বাঁধা বাগানে একটি গামছা ও পানির বোতলও ফেলে যায়।

ঘটনাটির আরও একটি বেদনাদায়ক দিক রয়েছে। রবিউল ইসলাম রবির ছোট ভাই মাত্র শুক্রবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবারটির শোক এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা নিঃসন্দেহে তাদের জন্য নতুন করে দুর্ভোগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে বৃষ্টির পানিতে কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন, অন্যদিকে কৃষকের শেষ সম্বল গবাদিপশুও নিরাপদ নয়-এ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা বলছে রাতের পুলিশি টহল কতটা কার্যকর?

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন আমাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি তবে বিষয়টা আমাদের জেনেছি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।